ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ চলমান। চলছে হামলা-পাল্টা হামলা। এ যুুদ্ধ দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে। থামানোর উদ্যোগও নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মুখে বললেও কবে নাগাদ যুদ্ধ থামবে তার কোনো ঠিক নেই। তবে যুদ্ধ থামুক বা চলুক এর প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে সর্বত্র। ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনেকটা সামলে উঠলেও এবার ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ জানান দিচ্ছে নতুন এক বার্তা। সেই বার্তা মোটেও সুখকর নয়। বরং বিশ্বব্যাপী নেমে আসছে ভয়াবহ বিপর্যয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব পরিস্থিতি যেমনই হোক, বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোকেও চরম মূল্য দিতে হবে। বিশেষ করে অর্থনীতির ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে রাষ্ট্রগুলোকে সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ‘জনতার চোখ’কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আ. ন. ম. মুনীরুজ্জামান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপরে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুদ্ধের কারণে। তার ভেতরে প্রধানত দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমানে যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আছে সেটা অনেক বেশি নাজুক। এবং দিন দিন তা জটিল হয়ে উঠছে। এখানে শুধু পুরনো যে দ্বন্দ্বগুলো ছিল সেগুলোর ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকছে না বরং নতুন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে আরব বনাম পার্শিয়ান সভ্যতা বা ক্ষমতার ভেতরে যে একটা চিরাচরিত দ্বন্দ্ব ছিল সেটা কিছুটা হলেও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে।
মুনীরুজ্জামানের মতে, যুদ্ধটা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল একপক্ষে এবং ইরান অপরপক্ষে সীমিত নেই। বরং দেখা যাচ্ছে যে, ইরান গালফ অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের উপরে আক্রমণ পরিচালনা করছে। যাদেরকে তারা মনে করছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ হিসেবে কাজ করছে। কাজেই এখানে যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান বা ইসরাইল নয় বরং তা আরও ছড়িয়ে পড়ছে। তার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে যে, ইরানের যে মিত্র শক্তিগুলো বা দেশগুলো আছে তারাও যুদ্ধের সঙ্গে লিপ্ত হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ইসরাইল কর্তৃক লেবানন বিশেষ করে হিজবুল্লাহ’র উপরে আক্রমণ করা শুরু করেছে এবং লেবাননের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জায়গায় তারা আক্রমণ করছে। তার সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি যে, ইয়েমেন বিশেষ করে হুতি গেরিলা যারা আছে তারা ইরানের পক্ষে বিভিন্নরকম সহযোগিতা করার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্টেটমেন্ট দিয়েছে। কাজেই যুদ্ধের পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করছে। জটিলতা বাড়ছে এবং তার কারণে মধ্যপ্রাচ্য সম্পূর্ণভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে শুরু করেছে।
তিনি জানান, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব বৈশ্বিক আকারে নানা জায়গাতে এবং নানাভাবে পড়তে শুরু করছে। তার ভেতরে দেখা যাচ্ছে যে, বর্তমানে যে বিভিন্ন জোট এবং বিভিন্ন দেশের গোষ্ঠীর যে সম্পর্কগুলো আছে সেটার উপরও এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ইউরোপীয় যে মিত্র দেশগুলো আছে তাদের সঙ্গে সম্পর্কের উপরে বড় ধরনের চাপ এসেছে। যেহেতু তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি এ যুদ্ধে সাহায্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে বিভিন্ন জায়গাতে যে ধরনের সহায়তা করে আসছে এতদিন পর তারা এখন বলতে শুরু করেছে যে, এই সহায়তার কোনো নিশ্চয়তা নাও থাকতে পারে। এদিকে, ইরানের পক্ষে রাশিয়া বেশ কিছুটা প্রত্যক্ষভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। চীনের একটা পরোক্ষ সাহায্য বা সমর্থন রয়ে গেছে। কাজেই বৈশ্বিক রাজনীতিতে বা বৈশ্বিক নিরাপত্তা সম্পর্কের উপরেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষণীয়। এই যুদ্ধ অর্থনৈতিকভাবেও সবচাইতে বেশি চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে। এর কারণ হলো ভূরাজনৈতিক বা জিওগ্রাফিক্যাল কারণে ইরান খুব একটা কৌশলগত স্থানে অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে তারা হরমুজ প্রণালিকে তাদের অবস্থানের কারণে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এ পথে যাতায়াত করে। কাজেই এটা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রণালি। এই প্রণালি ইরান কর্তৃক প্রায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যার কারণে বিশ্বের যে জ্বালানি নিরাপত্তা সেটার উপরে বড় ধরনের হুমকি বা চ্যালেঞ্জ। এর কারণে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে এবং জ্বালানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে আমরা ইতিমধ্যে দেখতে পাচ্ছি যে, হুতি গেরিলাদের কাছ থেকে বাব আল মানদেব যে বন্দরটা আছে যেটা রেড সিতে অবস্থিত- সেটা তারা বন্ধ করে দেয়ার বা হামলা করার হুমকি দিয়েছে। রেড সি দিয়ে পৃথিবীর প্রায় ১০ ভাগের উপরে জ্বালানি পারাপার হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন রপ্তানির জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথ।
এখানে যদি এই পথও বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বিশ্বে একটা অচল অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। জ্বালানি ক্ষেত্রে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের উপরে যে আক্রমণটা করা হয়েছে তার ভেতরে তারা উল্লেখ করেছিল- এটার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে যে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা যে পর্যায়ে আছে সেটাকে ধ্বংস করে ফেলা। তবে দেখা যাচ্ছে যে, সেটা সম্পূর্ণভাবে সাধিত হয়নি। ইরান মনে করছে যে, তাদের যে সক্ষমতাটা ছিল সেটা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা এটাকে পুনরায় চালু করার জন্য এখনো তাদের সেই সক্ষমতা রয়েছে। কাজেই এ অঞ্চলে পারমাণবিক শক্তি উদয় হওয়ার যে আশঙ্কা করছিল সে আশঙ্কা এখনো রয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট নানামুখী চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের বাণিজ্যের যে নিরাপত্তা এবং খাদ্যের যে নিরাপত্তা- এ দু’টি এখন আবার নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে। জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বাণিজ্যের উপরে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে যে বাণিজ্য এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যাতায়াত আগের চাইতে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে জাহাজের স্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া সংঘাতের যে বীমা বা কনফ্লিক্ট ইন্স্যুরেন্স সেটা বীমা কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে বৃদ্ধি করে দিয়েছে। কাজেই বাণিজ্যিক যে খরচ সেটাও বৃদ্ধি হয়ে গেছে। যার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যের উপরে যে চাপ আসছে সেটা থেকে বৈশ্বিক একটা মন্দা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিমান চলাচল বিপুল হারে ব্যাহত হয়েছে। যার কারণে বৈশ্বিক আকাশপথের যে যোগাযোগ সেটা বর্তমানে একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে আছে এবং এটার খরচ ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে। বৈশ্বিক আকারে যদি আমরা দেখি তাহলে দেখা যাচ্ছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া এসেছে এবং আরও বড় বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার জন্য ক্ষেত্র স্থাপন হয়ে গেছে। তার ভেতরে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈশ্বিক রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা ব্যবস্থা, বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, ব্যক্তি নিরাপত্তা এবং আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সম্পূর্ণ ক্যানভাসের ভেতরে একটা বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব এবং চ্যালেঞ্জ ইতিমধ্যে চলে এসেছে। যার কারণে এখন থেকে শুরু করে আগামী ভবিষ্যতে এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া চলতেই থাকবে। বিশেষ করে আমরা জানি না যে, যুদ্ধ কখন বন্ধ হবে। যুদ্ধ যদি সহসাই বন্ধ না হয় তাহলে এই সব চ্যালেঞ্জগুলো যেগুলো আমরা উল্লেখ করলাম সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে আরও অনেক বাড়বে এবং যদি কয়েক সপ্তাহের ভেতরে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায় তবু এটার যে চলমান নেতিবাচক প্রক্রিয়াটা সেটার ব্যাপকতা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকবে।
বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্র আছে তাদের জন্য হুমকিটা অনেক বেশি প্রকট বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক আ. ন. ম. মুনীরুজ্জামান। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হচ্ছে যে আমরা জ্বালানির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর। কাজেই আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার উপরে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ এসেছে এবং জ্বালানির স্বল্পতা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে পশ্চিমা বিশ্বের কিছু সংবাদপত্র ইতিমধ্যে তারা উল্লেখ করেছে যে, জ্বালানির স্বল্পতার কারণে বা জ্বালানি তেলের অভাবে বাংলাদেশের পাওয়ার সেক্টরে বড় ধরনের সমস্যা আসবে। একই সঙ্গে আমাদের যে শিল্পকারখানাগুলো আছে সেটার যে কর্মদক্ষতা বা কর্মক্ষমতা সেটা অনেক ক্ষেত্রে হ্রাস পাবে। সেটা যদি হয় তাহলে আমাদের অর্থনীতির উপরে একটা বড় ধরনের চাপ আসবে। দ্বিতীয় অর্থনৈতিক চাপ হচ্ছে যে, আমরা জানি প্রায় এক কোটির উপরে বাংলাদেশের শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্য এবং গালফ অঞ্চলে কাজ করে। এই অঞ্চল যেহেতু অস্থিতিশীল হয়ে গেছে কাজেই এখান থেকে তাদের কাজের নিশ্চয়তা কমে যাচ্ছে। এবং দেখা যাচ্ছে যে, অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এসব দেশে হয়তো তারা যে সংখ্যায় শ্রমিক নিয়োজিত করেছিল সেটা সে সংখ্যায় বজায় রাখতে পারবে না। এক্ষেত্রে যদি বাংলাদেশের শ্রমিকরা তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে বাংলাদেশে ফেরত চলে আসে তাহলে বাংলাদেশের শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে না বরং একটা সামাজিক এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে অভ্যন্তরীণভাবে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স তা না পাঠাতে পারলে আমাদের অর্থনীতির উপরে বড় আকারে চাপ পড়বে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উপর বড় খড়্গ আসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের যে রেডিমেট গার্মেন্টস- আমাদের যে রপ্তানি সে রপ্তানির যাতায়াতের উপরে যে খরচগুলো সেগুলো বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের উপরে একটা বড় ধরনের হুমকি আসছে। তৃতীয়ত, যদি আমাদের রেড সি অঞ্চল ইয়েমেনের কাছ থেকে হুতিরা বন্ধ করে দেয় তাহলে সে অঞ্চল থেকে আমাদের খাদ্যদ্রব্য আমদানি করা হয়। অর্থাৎ গম আমদানিটা ওই পথ দিয়ে আসে। সেখানে আমাদের খাদ্যের নিরাপত্তার উপরে একটা বড় ধরনের চাপ আসবে। এ ছাড়া আমরা সার কিনি ওই অঞ্চল থেকে রাশিয়া, ইউক্রেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসব অঞ্চল থেকে আমাদের সার আমদানি করা হয়। সে সারের আমদানিটা এই লোহিত সাগর অর্থাৎ রেড সি দিয়ে পার হয়। কাজেই সেটা যদি আবার ব্যাহত হয় তাহলে আমাদের কৃষি উৎপাদনের উপরে চাপ আসবে। বাংলাদেশের জন্য যে বিশেষ চাপগুলো আসছে সেটা হচ্ছে আমাদের অর্থনৈতিক মন্দার উপরে হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। বা অর্থনৈতিক চাপ আসছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটা বহুমাত্রিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে মুনীরুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি এখানে জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্যনিরাপত্তা সার্বিক একটা বড় ধরনের চাপের মুখে আমরা পড়তে যাচ্ছি বা পড়তে শুরু করেছি। আপনারা দেখেছেন যে, ইতিমধ্যে ইরানের রাষ্ট্রদূত প্রেস কনফারেন্স করে বলেছেন যে, বাংলাদেশ কেন সম্পূর্ণভাবে তাদের পক্ষে কথা বলছে না। তাই এটা তারা তাদের এক ধরনের ডিস্যাটিসফ্যাকশন এক্সপ্রেস (অসন্তোষ প্রকাশ) করেছে। এর কারণে হয়তো এমন হতে পারে যে, হরমুজ দিয়ে আমাদের জাহাজ চলাচল করতে দেবে না। তাহলে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আরও অধিক চাপ আসবে। বর্তমানে আমাদের জাহাজ চলাচল করতে দেবে বলে তারা বলেছে। কাজেই বাংলাদেশের উপরে একটা বহুমাত্রিক চাপ বা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং এটা সহসাই কমবে বলে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে মনে করি না। বরং এটা বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সব ধরনের ক্ষেত্রে আমাদের আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। যাতে করে আমাদের পরিকল্পনা থাকে। এই পরিস্থিতিগুলো মোকাবিলা করার জন্য আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা বা আমাদের বন্ধুদের কাছ থেকে সাহায্যের সক্ষমতা আমরা এখনই বৃদ্ধি করতে পারি। পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আমাদের সঠিক পরিকল্পনা এখন থেকেই তৈরি করতে হবে।