ক’দিন ধরেই মন ভালো নেই বাংলাদেশের। দুঃখ ভারাক্রান্ত পুরো দেশ। বৃহস্পতিবার যখন খবর আসে আছিয়া আর নেই। দেশ জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। দেশবাসীকে লজ্জায় ভাসিয়ে না ফেরার দেশে মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশু আছিয়া। পুরো দেশের মানুষের প্রার্থনা আর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টাকে ব্যর্থ করে ছোট্ট আছিয়া হার মেনেছে ভয়ানক পাশবিকতার কাছে। মাগুরায় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার আছিয়ার ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম পাশবিক ঘটনার প্রতিবাদে ঝড় উঠেছে শহর থেকে গ্রামে। রাজপথ উত্তপ্ত হয়েছে মিছিল আর স্লোগানে। একই সঙ্গে তার ফিরে আসার জন্য প্রার্থনাও ছিল প্রতিটি মানুষের। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সিএমএইচ থেকে আসা দুঃসংবাদে স্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা দেশ। শোক আর ক্ষোভে একাকার মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছে মানুষরূপী কুলাঙ্গারদের। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। দিনাজপুরে ইয়াসমিন থেকে মাগুরার আছিয়া। কুমিল্লার তনু, ঢাকায় মুনীয়া। এই বর্বরতা আর পাশবিকতার কি শেষ নেই। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। রাষ্ট্র যেখানে রুখে দাঁড়াবে সেখানে বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। মিছিলে স্লোগানে জানান দিতে হচ্ছে এমন মৃত্যু চাই না আর কারও। আছিয়ার মৃত্যুর পর একজন লিখেছেন, আছিয়া তুমি আমাদের ক্ষমা করো না। আমরা ক্ষমার যোগ্য নই। অন্যজন লিখেছেন, আছিয়ার মৃত্যুর জন্য দায়ী পিশাচদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত জরুরি, আর কোনো আছিয়াকে যেন এমন আতঙ্কে জীবন কাটাতে না হয়। সরকার থেকেও দ্রুত বিচারের কথা বলা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় তদন্ত ও বিচারের সময়সীমা কমাবার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি কার্যকর হওয়া জরুরি। তারচেয়েও বেশি জরুরি, এ যাবৎ যত ঘটনা ঘটেছে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। সরকার আসে, সরকার যায় কিন্তু এইসব নরপিশাচদের বিচার হয় না। এর চেয়ে পরিতাপের আর কী হতে পারে! যতই মত প্রকাশ, মুক্ত চিন্তা, বৈষম্যমুক্ত সমাজের কথা বলে মুখে ফেনা তুলি যখন মানুষ হিসেবে মুক্তভাবে বাঁচার অধিকার আমি পাই না তখন কোনো কিছুই আর অর্থবহ থাকে না।