ক্ষমতার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত কৌশল ছিল-ভিন্নমতাবলম্বী নাগরিকদের অবমাননাকর অভিধায় চিহ্নিত করে তাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা। শাসকের ধারণা ছিল, অপমান মানুষের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয় এবং প্রতিবাদকে দুর্বল করে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর গণ-আন্দোলন দেখিয়েছে, এই কৌশল আর আগের মতো কার্যকর নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে অপমানই প্রতিরোধের শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (ঈঔচ) আন্দোলন এবং বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভারতে ‘তেলাপোকা (Cockroach)’ এবং বাংলাদেশে ‘রাজাকার’-দু’টি শব্দই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অবমাননার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সেই অভিধাগুলোকে আত্মসম্মান, প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রতীকে রূপান্তর করার চেষ্টা করে। এই পুনর্দখল (reappropriation) দেখায় যে, ভাষার অর্থ কেবল ক্ষমতাসীনরা নির্ধারণ করে না; জনগণও সংগ্রামের মধ্যদিয়ে সেই অর্থ নতুন করে নির্মাণ করতে পারে।
ফলে সমকালীন গণ-রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে। রাষ্ট্র বা ক্ষমতাবানদের অবজ্ঞা, বিদ্রূপ কিংবা অপমান আর সবসময় প্রতিবাদকে স্তব্ধ করে না; অনেক সময় তা আরও বৃহত্তর সামাজিক সংহতি ও প্রতিরোধের জন্ম দেয়। অর্থের দম্ভ, ক্ষমতার দম্ভ কিংবা পদমর্যাদার দম্ভ-সবকিছুর চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে জনগণের নৈতিক অবস্থান। যখন নাগরিকরা অপমানকে ভয়ের পরিবর্তে প্রতিরোধের ভাষায় রূপান্তরিত করতে শেখে, তখন ক্ষমতার প্রচলিত মনস্তাত্ত্বিক কৌশল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্র-জনগণ সম্পর্কের একটি নতুন রাজনৈতিক ভাষার জন্ম হয়।
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন এবং বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-দু’টি ভিন্ন রাষ্ট্রের ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার আন্দোলন। তবু একটি তাৎপর্যপূর্ণ মিল লক্ষণীয়। দু’টি আন্দোলনেই ‘তেলাপোকা’ এবং ‘রাজাকার’-এই দু’টি অপমানসূচক শব্দকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব নাগরিক আত্মজাগরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিরোধের নতুন ভাষার জন্ম হয়। অবমাননার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অভিধাগুলোকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ আত্মমর্যাদা, নাগরিক চেতনা ও প্রতিরোধের প্রতীকে রূপান্তর করার চেষ্টা করে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- ভারতের ক্ষেত্রে ‘তেলাপোকা’ অভিধাটি আসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য থেকে, আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘রাজাকার’ অভিধাটি উচ্চারিত হয় তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার বক্তব্যে। ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত এই দু’টি শব্দই পরবর্তীকালে নিজ নিজ দেশে বৃহত্তর জন-আন্দোলনের প্রতীকী ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সিজেপি আন্দোলন এবং বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো।
দুই দেশের দু’টি আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দাবি এবং ফলাফল ভিন্ন। একটি আন্দোলনের সূচনা হয় শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ থেকে; অন্যটি শুরু হয় কোটা ব্যবস্থার বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে। তবে এই পার্থক্য সত্ত্বেও আন্দোলন দু’টির মধ্যে একটি মৌলিক মিল বিদ্যমান। উভয় ক্ষেত্রেই ছাত্র ও তরুণ প্রজন্ম রাষ্ট্রের কাছে কেবল প্রশাসনিক সমাধান নয়, নৈতিক জবাবদিহিতাও দাবি করেছে। ফলে আন্দোলন দু’টিকে কেবল রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বা তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, সমকালীন গণতন্ত্রে জনগণের সার্বভৌমত্বের নতুন ভাষা ও নাগরিক আত্মপ্রকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিব্যক্তি হিসেবে বিশ্লেষণ করা যায়।
ভারতের সিজেপি আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল পরীক্ষা জালিয়াতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে। কিন্তু আন্দোলন যত এগোতে থাকে, ততই একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে আসে-যদি রাষ্ট্র নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই ব্যর্থতার রাজনৈতিক ও নৈতিক জবাবদিহি কোথায়?
বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সূচনাও ছিল একটি নির্দিষ্ট বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই আন্দোলন রাষ্ট্রের বৈধতা, ক্ষমতার কাঠামো, সংবিধান, গণতন্ত্র এবং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা নিয়ে এক বৃহত্তর জাতীয় বিতর্কে রূপ নেয়।
ইতিহাসে বহু গণ-আন্দোলনের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া প্রতিবাদ ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা, রাজনৈতিক কর্তৃত্ব এবং শাসনব্যবস্থার সামগ্রিক পুনর্মূল্যায়নের আন্দোলনে পরিণত হয়।
ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত মে মাসে অভিজিৎ দীপকে CJP (Cockroach Janata Party) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে এটি ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ; কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা শিক্ষা সংস্কার, বেকারত্ব এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে দেশব্যাপী তরুণদের আন্দোলনে রূপ নেয়।
নিজেদের ‘ককরোচ’ পরিচয়ে পরিচিত হাজারো আন্দোলনকারী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত হন। NEET-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে তারা সরকারের কাছে কার্যকর জবাবদিহি দাবি করেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংকট এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করে আন্দোলনকারীরা তার পদত্যাগ দাবি করেন। কয়েক সপ্তাহের টানা বিক্ষোভের পর তিনি পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে না-সরকারের এ ধরনের আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।
সিজেপি আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর বলেন, একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ আন্দোলনের সমাপ্তি নয়; বরং এটি বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি ধাপ। তার ভাষায়, এটা কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টিকে অনেক দূর যেতে হবে।
এই অবস্থান একটি মৌলিক রাজনৈতিক-দার্শনিক সত্যকে সামনে আনে-গণতন্ত্রের প্রকৃত সাফল্য কেবল ক্ষমতার হাতবদলে নিহিত নয়; বরং ক্ষমতার চরিত্রের পরিবর্তন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।
বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও একই ধরনের নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে, তবে আরও বিস্তৃত পরিসরে। সেখানে মৌলিক প্রশ্ন ছিল-রাষ্ট্র কি কেবল বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর ধারাবাহিকতা, নাকি জনগণের পরিবর্তিত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়বোধের প্রতিফলন?
বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আরও গভীরতর একটি প্রশ্ন সামনে আনে। জনগণ সেখানে কেবল সরকারের নীতি পরিবর্তনের দাবি করেনি; তারা রাষ্ট্রের বৈধতার উৎস এবং সাংবিধানিক বন্দোবস্তের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এ কারণেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে Constituent Power-এর একটি রাজনৈতিক প্রকাশ হিসেবে বিশ্লেষণ করার সুযোগ রয়েছে।
দুই আন্দোলনের দুই ভিন্ন বাস্তবতা: সিজেপি’র ৩৬ দিনের আন্দোলনে রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠলেও সেখানে কোনো আন্দোলনকারী নিহত হননি। ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও পৃথক তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার এবং ভয়াবহ। ৩৬ দিনের আন্দোলনের প্রায় প্রতিটি পর্যায়ে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। বহু মানুষ চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন, অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
এই পার্থক্য শুধু রাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের মাত্রার পার্থক্য নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গভীর সংকটকে নির্দেশ করে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিবাদকারীরা রাষ্ট্রের শত্রু নয়; তারা রাষ্ট্রের নৈতিক আয়না। কিন্তু যখন রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নাগরিকের জীবন, দেহ ও মর্যাদার ওপর আঘাত হানে, তখন প্রশ্ন ওঠে-রাষ্ট্র কি জনগণের আকাঙ্ক্ষার রক্ষক, নাকি ক্ষমতা রক্ষার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে?
বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অভিজ্ঞতা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য এক করুণ সতর্কবার্তা। এটি শুধু একটি আন্দোলনের ইতিহাস নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা, নাগরিক অধিকারের মর্যাদা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনের অপরিহার্যতার এক বেদনাদায়ক দলিল। ভারতের আন্দোলন এবং বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, ভারতের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রাণঘাতী সহিংসতার পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের সমপর্যায়ের চিত্র দেখা যায়নি। রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ধরন একটি গণ-আন্দোলনের গতিপথ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেখানে রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগ ব্যাপক মানবিক ক্ষয়ক্ষতির জন্ম দেয়, সেখানে আন্দোলন কেবল রাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মৌলিক পার্থক্য: ভারতের সিজেপি’র আন্দোলন ছিল বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য থেকে নীতিগত সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আন্দোলন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে Accountability Movement বলা যেতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের বৈধতার উৎস, সংবিধান এবং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ফলে এটি কেবল একটি সংস্কারমুখী আন্দোলন নয়; বরং রাষ্ট্ররূপান্তরমুখী একটি constituent movement হিসেবে বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি করে।
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন এবং বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একই ধরনের আন্দোলন নয়; তবে উভয়ই একবিংশ শতাব্দীর গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতাকে সামনে এনেছে। সেই প্রবণতা হলো-রাষ্ট্রের বৈধতা শুধু নির্বাচনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আসে না; জনগণের অব্যাহত আস্থা, নৈতিক সম্মতি এবং জবাবদিহিতার ওপরও সমানভাবে নির্ভরশীল।
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন দেখিয়েছে, সংগঠিত তরুণ সমাজ বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যেই গণচাপ সৃষ্টি করে জবাবদিহিতা আদায় করতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেখিয়েছে, যখন রাষ্ট্র জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছা ও মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করে এবং জবাবদিহির পথ রুদ্ধ করে, তখন জনগণই চূড়ান্ত রাজনৈতিক কর্তৃত্বের উৎস হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতার পুনর্বিন্যাস ঘটাতে সক্ষম হয়।
এই অর্থে দু’টি আন্দোলন একই রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে না; তাদের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য এবং রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। তবু উভয় আন্দোলন সমকালীন নাগরিক রাজনীতির একটি অভিন্ন সত্যকে সামনে নিয়ে আসে-রাষ্ট্রক্ষমতার চূড়ান্ত নৈতিক উৎস জনগণ। জনগণের সংগঠিত আকাঙ্ক্ষা, ন্যায়বোধ ও জবাবদিহির দাবিকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রই স্থায়ী বৈধতা বজায় রাখতে পারে না।
রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল তার আইন, প্রতিষ্ঠান বা বলপ্রয়োগে নয়; বরং জনগণের সম্মতি, আস্থা এবং নৈতিক গ্রহণযোগ্যতার মধ্যেই নিহিত।
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
faraiæees@gmail.com