আ ন্ত র্জা তি ক

ভারতে তালেবান কদর আঞ্চলিক রাজনীতিতে কতোটা প্রভাব ফেলবে

মোহাম্মদ আবুল হোসেন | আন্তর্জাতিক
অক্টোবর ২৫, ২০২৫
ভারতে তালেবান কদর আঞ্চলিক রাজনীতিতে কতোটা প্রভাব ফেলবে

যে তালেবানের নাম শুনলে মানুষ একসময় আঁতকে উঠতো, চোখের সামনে ভেসে উঠতো হেরাত শহরে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার দৃশ্য, নারীদের অধিকার বঞ্চিত রাখা, সেই তালেবানের সঙ্গে ভারত এবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে। সম্প্রতি আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি প্রথমবার বিদেশ সফর হিসেবে ভারত সফর করেছেন। কিন্তু তার সফরকালে ১০ই অক্টোবর যখন সংবাদ সম্মেলন করেন, তখন সেখানে কোনো নারী সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এই সফরের সুফল হিসেবে ভারত মঙ্গলবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারত সফরের সময় ঘোষণা করেছিলেন, ভারত তার ‘টেকনিক্যাল মিশন’কে দূতাবাস পর্যায়ে উন্নীত করবে। দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, ভারত কাবুলে নিযুক্ত মিশন প্রধানকে ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ (অর্থাৎ কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রদূত) হিসেবে মনোনীত করবে। পরবর্তীতে একজন পূর্ণ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হবে। একই সঙ্গে তালেবান সরকারও এ বছরের নভেম্বরের মধ্যে দুজন কূটনীতিককে নয়াদিল্লিতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই আফগান কূটনীতিকরা দিল্লির আফগান দূতাবাস থেকেই কাজ করবেন, যদিও ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তান’ (ওঊঅ) নামে পরিচিত তালেবান সরকারের স্বীকৃতি দেয়নি। তবে, কূটনৈতিক সম্পর্কের এই উন্নয়ন দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ভারত এখন আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারবে, যদিও তালেবান সরকারের স্বীকৃতি বিষয়ে ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণই রয়ে গেছে। মুত্তাকির এই ঐতিহাসিক ভারত সফর ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছিল। এমনকি মুত্তাকি তখনও ভারতে অবস্থান করছিলেন। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর ভারত কাবুলে তার দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। তবে ২০২২ সালের জুনে কাবুল সরকারের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার পর ভারত সেখানেই একটি ‘টেকনিক্যাল মিশন’ চালু করে, যা মূলত আফগানিস্তানে ভারতীয় মানবিক সাহায্যের তদারকির কাজ করতো। তালেবান সরকার মুত্তাকির এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে দেখছে। উভয় পক্ষই পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অঙ্গীকার করেছে এবং পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে আঞ্চলিক দেশগুলো থেকে উদ্ভূত সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। তালেবানের এই অবস্থান- বিশেষত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন- পাকিস্তানকে ক্ষুব্ধ করেছে এবং ইসলামাবাদ কাবুলে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ওদিকে তালেবান পাকিস্তানের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাওলাভি মোহাম্মদ ইয়াকুব বলেন, এই অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আমাদের নীতি কখনোই অন্য দেশের বিরুদ্ধে আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করার জন্য নয়। আমরা ভারতের সঙ্গে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখছি এবং জাতীয় স্বার্থের কাঠামোর মধ্যেই সেই সম্পর্ক আরও জোরদার করবো। 
তবে কূটনৈতিক দিক থেকে মুত্তাকির এই সফর আঞ্চলিক রাজনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান নামে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী প্রায়শই পাকিস্তানের ভেতরে নৃশংস হামলা চালায়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পাকিস্তান বার বার আহ্বান জানানোর পরও আফগানিস্তানের তালেবান তেমন সাড়া দেয়নি- এ অভিযোগ পাকিস্তানের। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি হামলা-পাল্টা হামলা হয় ডুরান্ড লাইন বরাবর। এই লড়াই নিয়ে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল দোহায়, তখন আকস্মিকভাবে ভারত সফরে আসেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি। তাকে যে অভ্যর্থনা, সম্মান দেয়া হয়, তা খুব স্বাভাবিক ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সহ পশ্চিমা কোনো দেশই বা সরকারই তালেবান সরকারকে এ পর্যন্ত সমর্থন দেয়নি। তাদের সঙ্গে ভারতেরও অবস্থান একই। কিন্তু যে যুক্তিই দেয়া হোক, সেই বৃত্ত ভেঙেছে ভারত। তারা তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটাই সামনে এগিয়ে নিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন এর মধ্যে আঞ্চলিক রাজনীতি আছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সম্পর্ক এখনো উত্তেজনাকর। একপক্ষের ছায়া অন্যপক্ষ মাড়ায় না। এমন অবস্থায় আফগানিস্তানকে যদি নয়াদিল্লি পাশে পায় তাহলে পাকিস্তানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা যাবে। অনেকে মনে করেন, এ কারণে মুত্তাকির এতটা খাতির দিল্লিতে। এমন প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (আইপিআরআই) গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের একজন নন-রেসিডেন্ট রিসার্চ ফেলো এবং করাচির ডিএইচএ সুফা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলি আহসান একটি বিশ্লেষণ দাঁড় করেছেন। তিনি এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে লিখেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এ বছর চারদিনের এক ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধ পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নেয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তিনি থামিয়ে দেন। এতে ভারতের কমপক্ষে ৫টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে পাকিস্তান। প্রপাগান্ডায় ভারত অনেকটা এগিয়ে থাকে। পাকিস্তানও কম যায়নি। তবে ভারত ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধের স্বীকৃতি দিতে অনীহা করছে। তারা তার দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানই তাদেরকে ফোন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। সে যা-ই হোক, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমানে আফগানিস্তান সমস্যার সমাধানের জন্য দু’টি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হচ্ছে। তার একটি আন্তর্জাতিক এবং অন্যটি আঞ্চলিক।  আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি  গঠিত হয়েছে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক সতর্কবার্তার ওপর ভিত্তি করে। তারা তালেবানকে সতর্ক করেছিল যে, যদি তারা জোরপূর্বক কাবুলে ক্ষমতায় ফিরে আসে, তবে তাদের আন্তর্জাতিকভাবে ‘বহিষ্কৃত রাষ্ট্র’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তালেবান সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না দেয়ার নীতিকে একটি চাপ প্রয়োগের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা বৈশ্বিকভাবে সমর্থন পেয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল কূটনৈতিক স্বীকৃতি আটকে রেখে তালেবানকে আচরণগত পরিবর্তনে বাধ্য করা। তালেবান সরকারের কাছে চারটি মূল বিষয়ে অগ্রগতি আশা করা হয়েছিল। তা হলো- 


মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, বিশেষ করে নারীর অধিকার।
বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য।
৩. সন্ত্রাসবাদ দমন ও 
৪. অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন।
কিন্তু তালেবান এই নীতিকে তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছে। তাদের মতে, এটি ছিল আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র।
ফলে, এই নীতির উল্টো প্রভাব পড়ে। তালেবান সরকার আরও দমনমূলক ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আজ আর কোনো সন্দেহ নেই যে, যদি ‘স্বীকৃতি না দেয়ার নীতি’র উদ্দেশ্য ছিল তালেবানকে নরম করা, তবে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।


অন্যদিকে আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গির নেতৃত্ব দিচ্ছে রাশিয়া ও চীন। আর ভারত এখন তাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। রাশিয়া ইতিমধ্যে তালেবান সরকারকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। আর চীনও সে পথে রয়েছে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফর ও তাকে দেয়া অভ্যর্থনা ইঙ্গিত দেয় যে, দক্ষিণ এশিয়ায় তালেবানকে আংশিক বা পূর্ণ স্বীকৃতি দেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। রাশিয়া ও চীনের এই অবস্থানের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অন্যদিকে, ভারত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘ট্রাম্প ট্রিটমেন্টের’ পর, এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি তিনটি শক্তির কাছেই আকর্ষণীয়। কারণ এটি তাদেরকে আফগানিস্তানের ওপর কিছুটা প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সুযোগ দেয়- যা আন্তর্জাতিক নীতিতে সম্ভব নয়। রাশিয়ার আগ্রহ আসে আইসিসের হামলার অভিজ্ঞতা থেকে- ২০২২ সালে কাবুলে রুশ দূতাবাসে ও ২০২৪ সালে মস্কো সিটি হলে এ হামলা হয়। তাই রাশিয়া মনে করছে, তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করাই আইএস হুমকি মোকাবিলার কার্যকর উপায়।


একইভাবে, চীন তালেবানকে স্বীকৃতি দিয়েছে এমন এক সময়ে যখন পাকিস্তান আফগানিস্তানকে তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) আশ্রয় না দিতে চাপ দিচ্ছিল। চীন চাইলে পাকিস্তানের দাবি সমর্থন করে তালেবানকে শর্ত দিতে পারতো। কিন্তু তারা তা করেনি। কারণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আঞ্চলিকভাবে তাদের বেশি উপকারে আসে। সে তুলনায় চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক নীতির অনুসারী হওয়ার পথ বেছে নেয়।


যুক্তরাষ্ট্রের ‘নন-রিকগনিশন অ্যাপ্রোচ’ বাস্তবে এক ধরনের ‘ওভার দ্য হরাইজন স্ট্র্যাটেজি’ হয়ে দাঁড়ায়। অর্থাৎ দূর থেকে ড্রোন ও আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক হ্রাস করে। কারণ ইসলামাবাদকে তখন অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু মে ২০২৫-এর ভারত-পাকিস্তান চারদিনের যুদ্ধের পর এই নীতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করেছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করবেন। কিন্তু তা ঘটেনি। পরবর্তীতে ট্রাম্প উপলব্ধি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আঞ্চলিক নীতির সঙ্গে একমত নয়। যেমন ইরানের চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ, রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানি, ইউক্রেন ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান, রুশ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনা, ডলারে বাণিজ্য থেকে সরে আসা। ফলস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র এখন কূটনৈতিকভাবে ভারতের থেকে দূরত্ব তৈরি করে পাকিস্তানকে পুনরায় আলিঙ্গন করেছে। এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়- পাকিস্তান বর্তমানে আফগান সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষেই অবস্থান করছে।


আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি তালেবানকে আরও সাহসী করে তুলেছে। কিন্তু পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো- আফগানিস্তান যেন নতুন করে ‘প্রক্সি যুদ্ধক্ষেত্র’ না হয়ে যায়। ভারতের তালেবান-সমর্থন অনেকটা ইরানের হামাস বা হিজবুল্লাহ সমর্থনের মতো, যা মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি যুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল। পাকিস্তান নিশ্চয়ই এই উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে। কারণ এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা মানে বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা।


তাই পাকিস্তানের সেরা সুযোগ হলো- আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক দুই দৃষ্টিভঙ্গিকে একত্রে আনা। ভূগোলগতভাবে পাকিস্তান ইউরেশিয়ার প্রবেশদ্বার এবং যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্বার্থের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ফলে ইসলামাবাদ ঐতিহাসিকভাবে আবারো সেই ভূমিকা নিতে পারে, যা তারা ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় নিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির অন্তর্নিহিত ‘চাপ প্রয়োগের উপাদান’ ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে তালেবানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করবে, যেহেতু ‘স্বীকৃতি না দেয়া’ নীতি ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়ার উচিত যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে তাদের প্রভাব ব্যবহার করা। এর জন্য প্রয়োজন আফগানিস্তানের ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করা এবং ভারতকে আফগান মাটিতে প্রক্সি যুদ্ধ শুরু করা থেকে বিরত রাখা। 

আন্তর্জাতিক'র অন্যান্য খবর