অ নু স ন্ধা ন

সংবিধান সংস্কার আসলে কে করবে?

মুনির হোসেন | অনুসন্ধান
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫
সংবিধান  সংস্কার আসলে কে করবে?

রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত ছয় কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এসব রিপোর্ট আশুকরণীয়, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি- তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে কমিশনগুলো। সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য গঠনে কাজ করছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ঐকমত্য গঠনের কাজ শুরু হবে। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কাজে হাত দিতে চায় সরকার। তবে কতোটুকু সংস্কার সম্ভব হবে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার কে করবে? অন্তর্বর্তী সরকার, না নির্বাচিত সরকার- সেই প্রশ্ন আসছে সামনে। কারণ সংস্কার কমিশন তাদের রিপোর্টে সংবিধান সংস্কার নিয়ে কোনো আশুকরণীয় দেয়নি। তারা যে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে সবগুলোই দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। অন্য পাঁচটি কমিশনের রিপোর্টে আশু, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে। আশুকরণীয় সরকার নির্বাচনের আগে করতে চায়। এ ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবে সরকার। কিন্তু অন্যসব সুপারিশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই বাস্তবায়ন করা হবে। 
সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারগুলো নির্বাচিত সরকার করবে। সরকার কেবল আশু ও মধ্যমেয়াদি করণীয় সুপারিশগুলো সংস্কার করবে। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, সংবিধান পরিবর্তনে বিএনপি’র দ্বিমত নেই, সেটা সংবিধান পরিবর্তন বা নতুন করে লিখন যাই হোক না কেন? কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কে করবে? এটি করার এখতিয়ার কার? সংবিধান পরিবর্তনের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের। আর জনগণের মালিকানার প্রতিফলন হয় সংসদে। কিন্তু কেউ কেউ বলছেন যে, আমরা করে ফেলবো। আপনারা কারা? আপনাদের ম্যান্ডেট কোথায়? কেউ কেউ বলছেন, জুলাই-আগস্টের ম্যান্ডেট, এটা এভাবে বলা যায় না। সরকারের আইন উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সংবিধান সংস্কার কমিশন কোনো আশুকরণীয় দেয়নি। এ সংক্রান্ত যেসব প্রস্তাব এসেছে সেগুলো রজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হবে কিনা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ প্রস্তাবগুলো নির্বাচিত সরকার করবে। আশুকরণীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের আগে করা হবে। আর মধ্যমেয়াদির মধ্যে কতোটুকু করতে রাজনৈতিক দলগুলো রাজি আছে সেটা দেখতে হবে। 


উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কথায় স্পষ্ট সংবিধান সংস্কার অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য কঠিন। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোরও এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে। আবার ছাত্র আন্দোলনের নেতারা চাইছেন সংবিধান পুরোপুরি মুছে দিয়ে নতুন করে লেখতে। এমতাবস্থায় সংবিধান সংস্কার বা পুনর্লিখন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ছাত্রদের পক্ষ থেকে গণপরিষদের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে সংবিধান সংস্কারের জন্য। যেটির আবার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচিত সরকারই সংবিধান সংস্কার করুক। আবার সংস্কার কমিশন এমন কিছু বিষয়ে সংস্কারের সুপারিশ করেছে যা করতে গেলে বিরোধিতা আসবে রাজনৈতিক দলের বাইরের বিভিন্ন অংশীজন থেকেও। তবে সরকার চাইছে সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে। ৬ কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও গঠন করেছে। যেখানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান প্রফেসর ড. আলী রীয়াজকে এর সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এ কমিশনে সরকারের প্রথম ৬ কমিশনের প্রধানরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। এ ছাড়াও এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে দলগুলোর সঙ্গে সরকারের হয়ে আলাপ-আলোচনা এগিয়ে নিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে একজন বিশেষ সহকারী। সিনিয়র সাংবাদিক মনির হায়দারকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ ‘জনতার চোখ’কে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে। রাজনৈতিক দলগুলো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের সে আলোকে মত দিতে পারবে। তারপর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 


সরকারের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব বর্তাবে নির্বাচিত সরকারের ওপর। কারণ এ মুহূর্তে সরকার সংবিধানের এসব মৌলিক সংস্কার করতে গেলে বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা আসবে। যেই বিরোধিতায় আটকে গেছে জুলাই ঘোষণা ও প্রেসিডেন্টের অপসারণ ইস্যুও। বিএনপি সরকারকে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নে সায় দেবে না বলে দলটির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সংস্কার থেকে নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। দলটির নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যে রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার সম্ভব নয় বলে উঠে এসেছে। সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, দুটো একসঙ্গেই চলতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট চূড়ান্ত করতে হবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের কাছে যাওয়া সম্ভব, জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করে ফেলা অসম্ভব। এজন্য নির্বাচনের ঘোষণাটা তাড়াতাড়ি দরকার। বিগত ১৬ বছর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চেষ্টা হয়নি, আবার চেষ্টাটা চালু করতে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চার সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ দিয়েছে তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রয়োজন। ঐকমত্য ছাড়া এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কিছুদিন আগে সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তবে আমাকে যদি ছাত্রপ্রতিনিধি হিসেবে ধরেন, তাহলে আমি বলতে পারি অবশ্যই অবশ্যই এ সরকারই বাস্তবায়ন করবে। কেন করবে না?


এদিকে সংবিধান সংস্কার কমিশন যে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে সেখানে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতিতে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়াও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দুইবারের বেশি নয়, আইনসভার মেয়াদ ৪ বছর, এনসিসি গঠন, সংবিধান সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, অন্তর্বর্তী সরকার, বিচারবিভাগসহ বেশ কিছু বিষয়ে সুপারিশ দেয়া হয়েছে। সংস্কার প্রস্তাবের সারসংক্ষেপে দেখা যায়, শুরুতে সংবিধানের প্রস্তাবনায় কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। যেখানে এই ভূখণ্ডের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জনযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয় উল্লেখ আছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনকেও গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীনতার আদর্শে ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ লড়াইয়ের উল্লেখ আছে। সংবিধান জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নাগরিকতন্ত্রের বিষয়ে বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে ্তুজবঢ়ঁনষরপ্থ ্তুচবড়ঢ়ষব্থং জবঢ়ঁনষরপ ড়ভ ইধহমষধফবংয্থ শব্দগুলো থাকছে। রাষ্ট্রভাষা ‘বাংলা’। সংবিধানে বাংলাদেশে নাগরিকদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত সকল ভাষা এ দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের কথা বলা হয়েছে। বিলুপ্তের সুপারিশ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি...’। বর্তমান অনুচ্ছেদ ৬ (২) সংশোধন করে বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত হবেন। কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ক এবং ৭খ বিলুপ্তির সুপারিশ করছে। পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন। 


রাষ্ট্রের মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলো বাদ দেয়ার সুপারিশ করছে।
বিদ্যমান সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক সনদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে বিদ্যমান তারতম্য দূর করবে। সংবিধানে কিছু নতুন অধিকার যেমন খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, ইন্টারনেট প্রাপ্তি, তথ্য পাওয়া, ভোটাধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ, গোপনীয়তা রক্ষা, ভোক্তা সুরক্ষা, শিশু, উন্নয়ন, বিজ্ঞান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া, জীবনের অধিকার রক্ষায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, জামিনে মুক্তির অধিকার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং নিবর্তনমূলক আটক সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।


কমিশন একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করেছে। একটি নিম্নকক্ষ জাতীয় সংসদ এবং একটি উচ্চকক্ষ। উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে ৪ বছর। নিম্নকক্ষ গঠিত হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে। ৪০০ আসন নিয়ে নিম্নকক্ষ গঠিত হবে। ৩০০ জন সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। আরও ১০০ জন নারী সদস্য সারা দেশের সকল জেলা থেকে এই মর্মে নির্ধারিত ১০০ নির্বাচনী এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। রাজনৈতিক দলগুলো নিম্নকক্ষের মোট আসনের ন্যূনতম ১০% আসনে তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে প্রার্থী মনোনীত করবে। সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ২১ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২ জন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন, যাদের মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন। একজন সংসদ সদস্য একই সঙ্গে নিম্নলিখিত যেকোনো একটির বেশি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না: (ক) প্রধানমন্ত্রী, (খ) সংসদনেতা এবং (গ) রাজনৈতিক দলের প্রধান। অর্থবিল ব্যতীত নিম্নকক্ষের সদস্যরা তাদের মনোনয়নকারী দলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। আইনসভার স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সবসময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন।


আর উচ্চকক্ষের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষ মোট ১০৫ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে; এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন। রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (চৎড়ঢ়ড়ৎঃরড়হধষ জবঢ়ৎবংবহঃধঃরড়হ-চজ) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের মনোনয়নের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৫ জন আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর সমপ্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবে। অবশিষ্ট ৫টি আসন পূরণের জন্য প্রেসিডেন্ট নাগরিকদের মধ্য থেকে (যারা কোনো কক্ষেরই সদস্য ও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন) প্রার্থী মনোনীত করবেন। কোনো রাজনৈতিক দলকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের যোগ্য হতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১% নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চকক্ষের স্পিকার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। উচ্চকক্ষের একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন যিনি সরকারদলীয় সদস্য ব্যতীত উচ্চকক্ষের অন্য সকল সদস্যের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।
সংবিধান সংশোধনীর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সংবিধানের যেকোনো সংশোধনী উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনী উভয় কক্ষে পাস হলে এটি গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। গণভোটের ফলাফল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। আর আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এমন কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে আইনসভার উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন নিতে হবে।
অভিশংসনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা যাবে। নিম্নকক্ষ অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস করার পর তা উচ্চকক্ষে যাবে, এবং সেখানে শুনানির মাধ্যমে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।


নির্বাহী বিভাগের কথা বলা হয়েছে, আইনসভার নিম্নকক্ষে যে সদস্যের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন আছে তিনি সরকার গঠন করবেন। নাগরিকতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা দ্বারা প্রয়োগ করা হবে। কমিশন প্রেসিডেন্টের কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের কথা সুপারিশ করছে; এই বিশেষ কার্যাবলী কিংবা সংবিধানে উল্লিখিত বিষয় ছাড়া অন্য সকল বিষয়ে প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে কাজ করবেন। কমিশন রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের সুপারিশ করছে। এনসিসি’র সদস্য হবেন: প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, নিম্নকক্ষের স্পিকার, উচ্চকক্ষের স্পিকার, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, বিরোধী দল মনোনীত নিম্নকক্ষের ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দল মনোনীত উচ্চকক্ষের ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধিত্বকারী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের উভয় কক্ষের সদস্যরা ব্যতীত, আইনসভার উভয় কক্ষের বাকি সকল সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তাদের মধ্য থেকে মনোনীত ১ জন সদস্য।


আইনসভা ভেঙে গেলেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শপথ না নেয়া পর্যন্ত বিদ্যমান এনসিসি সদস্যরা কর্মরত থাকবেন। আইনসভা না থাকাকালীন এনসিসি’র সদস্য হবেন- প্রেসিডেন্ট, প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক মনোনীত উপদেষ্টা পরিষদের দুই জন সদস্য। এনসিসি নির্বাচন কমিশনের প্রধান সহ অন্যান্য কমিশনার; অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলগণ; সরকারি কর্ম কমিশনের প্রধানসহ অন্যান্য কমিশনার; দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধানসহ অন্যান্য কমিশনার; মানবাধিকার কমিশনের প্রধানসহ অন্যান্য কমিশনার; প্রধান স্থানীয় সরকার কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার; প্রতিরক্ষা-বাহিনীসমূহের প্রধান; আইন দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কাছে নাম প্রেরণ করবে।
প্রেসিডেন্টের কথা বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ হবে ৪ বছর। প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ দুই বারের বেশি অধিষ্ঠিত থাকবেন না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচকমণ্ডলীর (ইলেক্টোরাল কলেজ) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত হবেন। ইলেক্টোরাল কলেজ গঠিত হবে আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্য প্রতি একটি করে ভোট; প্রতিটি ‘জেলা সমন্বয় কাউন্সিল’ সামষ্টিকভাবে একটি করে ভোট:  প্রতিটি ‘সিটি করপোরেশন সমন্বয় কাউন্সিল’ সামষ্টিকভাবে একটি করে ভোট। রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা যাবে।
আর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আইনসভার নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হবেন। আইনসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে যদি কখনো প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন বা আস্থা ভোটে হেরে যান কিংবা অন্য কোনো কারণে  প্রেসিডেন্টকে আইনসভা ভেঙে দেয়ার পরামর্শ দেন, সে ক্ষেত্রে যদি  প্রেসিডেন্টর নিকট এটা স্পষ্ট হয় যে, নিম্নকক্ষের অন্য কোনো সদস্য সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন অর্জন করতে পারছেন না, তবেই প্রেসিডেন্ট আইনসভার উভয় কক্ষ ভেঙে দেবেন। একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তিনি একাধিক্রমে দুই বা অন্য যে কোনোভাবেই এই পদে আসীন হন না কেন তার জন্য এ বিধান সমভাবে প্রযোজ্য হবে। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং সংসদ নেতা হিসেবে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।


অন্তর্বর্তী সরকারের কথা বলা হয়েছে, আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কিংবা আইনসভা ভেঙে গেলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শপথ না নেয়া পর্যন্ত  একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন পূর্বে অথবা আইনসভা ভেঙে গেলে, পরবর্তী অন্যূন ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা সর্বোচ্চ ১৫ (পনের) সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে কার্য পরিচালনা করবেন। মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯০ দিন হবে, তবে যদি নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হয় তবে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণমাত্র এই সরকারের মেয়াদের অবসান ঘটবে।


প্রধান উপদেষ্টার কথা বলা হয়েছে, আইনসভার সদস্য হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করা হবে। এনসিসি’র ৯ (নয়) সদস্যের মধ্যে ন্যূনতম ৭ (সাত) সদস্যের সিদ্ধান্তে এনসিসি’র সদস্য ব্যতীত নাগরিকদের মধ্য হতে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। অনুচ্ছেদ ৪.১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব না হলে, সকল অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের মধ্য থেকে একজন গ্রহণযোগ্য এনসিসি’র ৯ (নয়) সদস্যের মধ্যে ন্যূনতম ৬ (ছয়) সদস্যের সিদ্ধান্তে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। উপরে উল্লিখিত অনুচ্ছেদ ৪.২ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব না হলে, এনসিসি’র সকল সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।


বিচার বিভাগের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। উচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশের সকল বিভাগে হাইকোর্ট বিভাগের সমান এখতিয়ার সম্পন্ন হাইকোর্টের স্থায়ী আসন প্রবর্তনের সুপারিশ করছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আসন রাজধানীতেই থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন গঠন করা হবে। এর সদস্যরা হবেন প্রধান বিচারপতি (পদাধিকারবলে কমিশনের প্রধান); আপিল বিভাগের পরবর্তী দুজন জ্যেষ্ঠ বিচারক (পদাধিকারবলে সদস্য); হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠতম দুজন বিচারপতি (পদাধিকারবলে সদস্য); অ্যাটর্নি জেনারেল এবং একজন নাগরিক (সংসদের উচ্চকক্ষ কর্তৃক মনোনীত)। আপিল বিভাগের বিচারকদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ জ্যেষ্ঠ বিচারককে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদানকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের একটি বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল থাকবে। তদন্ত ও অনুসন্ধানের জন্য অভিযোগ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে প্রেরণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপ্রধানের পাশাপাশি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন কাউন্সিল, এনসিসি)-এর থাকবে। কমিশন বিচার বিভাগকে পূর্ণ আর্থিক স্বাধীনতা প্রদানের সুপারিশ করছে।


কমিশন অধস্তন আদালত-এর পরিবর্তে স্থানীয় আদালত ব্যবহারের প্রস্তাব করছে। স্থানীয় আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি এবং শৃঙ্খলাসহ সকল সংশ্লিষ্ট বিষয় সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত থাকবে। এই লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে একটি বিচারিক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করছে। সংযুক্ত তহবিলের অর্থায়নে সুপ্রিম কোর্ট এবং স্থানীয় আদালতের প্রশাসনিক কার্যক্রম, বাজেট প্রণয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর এই সচিবালয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।


কমিশন সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং আইন দ্বারা নির্ধারিত সকল কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কার্যকরী স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করছে। জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কর্মসূচির অংশ না হলে, স্থানীয় পর্যায়ে সকল উন্নয়ন কাজের উপর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের (এলজিইডি) সম্পূর্ণ আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তবায়নের কর্তৃত্ব থাকবে। যে সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী এলজিইডি’র কাজে সরাসরি নিয়োজিত তারা এলজিইডি’র জনপ্রতিনিধিদের অধীনস্থ হবে। কমিশন প্রতিটি জেলায়, পারস্পরিক কার্যক্রমের সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি ‘জেলা সমন্বয় কাউন্সিল’ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করছে যা সেই জেলার মধ্যে সকল এলজিইডি’র জন্য একটি সমন্বয় এবং যৌথ কার্য সম্পাদনকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর সদস্য হবেন: প্রতিটি উপজেলা পরিষদ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও দুজন ভাইস চেয়ারম্যান; প্রতিটি পৌরসভা থেকে নির্বাচিত মেয়র ও দুজন ডেপুটি মেয়র; প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব সমন্বয় কাউন্সিল থাকবে। স্থানীয় সরকার কমিশন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করছে যা একজন প্রধান স্থানীয় সরকার কমিশনার এবং ৪ (চার) জন কমিশনার নিয়ে গঠিত হবে।
কমিশন সংবিধানের অধীন একটি স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করছে। সাংবিধানিক কমিশনসমূহের ক্ষেত্রে একটি ভাগ তৈরির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যেখানে প্রতিটি কমিশনের জন্য একটি করে পরিচ্ছেদ থাকবে: এই কমিশনগুলো হচ্ছে মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, স্থানীয় সরকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন। সবগুলো কমিশনের গঠন, নিয়োগ, কার্যকাল এবং অপসারণ প্রক্রিয়া একই রকমের হবে। প্রত্যেকটির মেয়াদ হবে ৪ (চার) বছর।


কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০ (২) বিলুপ্তির সুপারিশ করছে এবং এ সংশ্লিষ্ট ৫ম, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম তফসিল সংবিধানে না রাখার সুপারিশ করছে। কমিশন সুপারিশ করছে যে, কেবলমাত্র এনসিসি’র সিদ্ধান্তক্রমে  প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন। জরুরি অবস্থার সময় নাগরিকদের কোনো অধিকার রদ বা স্থগিত করা যাবে না এবং আদালতে যাওয়ার অধিকার বন্ধ বা স্থগিত করা যাবে না। তাই কমিশন অনুচ্ছেদ ১৪১ খ ও অনুচ্ছেদ ১৪১ গ বাতিলের সুপারিশ করছে। 

অনুসন্ধান'র অন্যান্য খবর