ইকোনমিস্টের নিবন্ধ

যুদ্ধ থেকে চীন যেভাবে জয়ের আশা করছে

জনতার চোখ ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
এপ্রিল ৪, ২০২৬
যুদ্ধ থেকে চীন যেভাবে জয়ের আশা করছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ তার জন্য এক বিরাট ভুল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রথমে মনে করা হয়েছিল- এই যুদ্ধের মাধ্যমে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও সুসংহত করবেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চীনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি। কিন্তু তেহরানে হামলার এক মাস পর হিসাবনিকাশ পুরো পাল্টে গেছে। যুদ্ধ ব্যয় দেশ ও দেশের বাইরে ট্রাম্পকে দারুণভাবে চাপে ফেলেছে। আমেরিকানরা ইরাক যুদ্ধের মতো এবার আর ট্রাম্প প্রশাসনকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেয়নি। তারা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজের খুব কাছের সামরিক কর্মকর্তার অনেকেই প্রকাশ্যে ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছেন। দেশটির কাউন্টার টেরোরিজমের প্রধান জো কেন্ট তো পদত্যাগই করলেন। স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, এটি ইসরাইলের। এ ছাড়া ট্রাম্পের ইউরোপীয় মিত্ররাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এই যুদ্ধ তাদের নয়। শত চেষ্টা করেও তাদের যুদ্ধে টেনে আনতে পারেননি ট্রাম্প। 
জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া সর্বশেষ ভাষণে ট্রাম্প রীতিমতো নিজেই নিজের প্রশংসায় ভেসেছেন। তার দাবি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে তাদের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। যা মূলত যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করারই ইঙ্গিত। মোদ্দাকথা এই যুদ্ধ যত প্রলম্বিত হচ্ছে ততই ট্রাম্পের ভুলগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আর এ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে চীন। বেইজিংয়ের কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা এই যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুতর ভুল হিসেবে দেখছেন। এক্ষেত্রে তারা নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি নীতিবাক্য উল্লেখ করেছেন, ‘শত্রু যখন ভুল করছে, তাকে থামিও না।’ বিশ্বের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট নেপোলিয়নের এই কথা দিয়েই কভার পোস্টার করেছেন। যেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবির পাশে ট্রাম্পকে ঝাপসা করে দেখানো হয়েছে। ১লা এপ্রিল প্রকাশিত ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণের শিরোনাম করা হয়েছে- ‘হাউ চায়না হোপস টু উইন ফ্রম দ্য ওয়ার।’


সেখানে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে এমন এক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, যা মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র বদলে দেবে। লক্ষ্য ছিল একটি ‘দুর্বৃত্ত’ শাসনকে দুর্বল করা। একই সঙ্গে তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকানো। এই মতের সবচেয়ে জোরালো সমর্থকরা মনে করেছিল, এর মাধ্যমে দেখা যাবে তেল প্রবাহের ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ কীভাবে চীনকে দুর্বল করে তোলে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের সঙ্গে চীনের মিত্রদের রক্ষা করতে অনীহা বা অক্ষমতার তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরে প্রতিরোধ ক্ষমতাও জোরদার হতো।
কিন্তু যুদ্ধ শুরুর এক মাস পর তাদের ওই যুক্তি ভ্রান্ত ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছে। অন্তত বেইজিং থেকে বিষয়টি সেভাবেই দেখা হচ্ছে। দ্য ইকোনমিস্ট চীনের কূটনীতিক, উপদেষ্টা, গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের প্রায় সবাই এই যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুতর ভুল হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষায়, চীন ইচ্ছাকৃতভাবে পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছে। কারণ তাদের নেতৃত্ব নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সঙ্গে যুক্ত একটি নীতিবাক্য বোঝে-যা অস্টারলিটজের যুদ্ধে প্রতিপক্ষ যখন উচ্চভূমি ছেড়ে নামছিল, তখন নেপোলিয়ন বলেছিলেন: ‘শত্রু যখন ভুল করছে, তাকে থামিও না।’
অনেক চীনা মনে করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের পতনকে ত্বরান্বিত করবে। তাদের চোখে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী আচরণ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়ার নীতিকেই সঠিক প্রমাণ করে। তাদের প্রত্যাশা, যখনই শান্তি আসবে, তা চীনের জন্য কাজে লাগানোর মতো নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তবে এর পেছনে এক ধরনের উদ্বেগও রয়েছে। আছে সম্ভাব্য চীনা ভুল হিসাবের আভাস।
প্রথমত, বেইজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নিজস্ব শক্তি কমে আসছে এমন অনুভূতি থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। উনিশ শতকের বৃটেনের মতোই, তাদের শক্তিশালী সামরিক প্রদর্শন স্পষ্ট। কিন্তু এর বিপরীতে উদ্দেশ্যের ঘাটতি ও সংযমের অভাবও চোখে পড়ে।


প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করেছেন। তিনি অস্থির ও চরম হুমকি দিয়েছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমনকি যুদ্ধ থেকে সরে আসার কথাও শোনা যাচ্ছিল। সুস্পষ্ট কৌশলের অভাব যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
চীনা বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের পতন নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরদার করবে। স্থল অভিযান নিয়ে ট্রাম্পের ভাবনা দেখায়, কীভাবে একটি অপরিকল্পিত পদক্ষেপ সহজেই আরেকটির দিকে নিয়ে যেতে পারে। যদি ইরান বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হয়, অথবা বর্তমান শাসন টিকে থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে সংকট মোকাবিলা করতে হতে পারে। আর যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পথে এগোয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারো যুদ্ধে জড়াতে পারে।


এসবই যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ পূর্ব এশিয়া থেকে সরিয়ে দেবে। অথচ চীন চায়, ২১ শতকের রূপ নির্ধারিত হোক সেই অঞ্চলে। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর দেশগুলোকেও উদ্বিগ্ন করবে। তাদের মিত্র শুধু কম নির্ভরযোগ্যই হয়ে ওঠেনি, বরং তার হঠকারী নীতির মূল্য তারা দিচ্ছে ব্যয়বহুল জ্বালানি ও কাঁচামালের মাধ্যমে। ফলে প্রশ্ন উঠছে এশিয়ার দেশগুলো কি চীনকে ক্ষুব্ধ করার বিষয়ে আরও সতর্ক হয়ে উঠবে?
দ্বিতীয়ত, চীনা কর্মকর্তারা মনে করেন, এই যুদ্ধ শি জিনপিংয়ের প্রযুক্তি ও পণ্যে আত্মনির্ভরশীলতা জোরদারের নীতির যথার্থতা প্রমাণ করে। যদিও এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এখনো সম্ভাবনার তুলনায় কম এবং অদক্ষভাবে নিচে অবস্থান করছে।
শি জিনপিং চেষ্টা করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে চীনকে রক্ষা করতে। তিনি প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছেন, যা কয়েক মাসের জন্য যথেষ্ট। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক, সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছেন, তবে দেশীয় কয়লার ব্যবহারও বজায় রেখেছেন। চীন বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েই ইরানের তেল বাণিজ্যকে সহায়তা করছে।
এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শি নিজেও কিছু কৌশলগত ‘চোকপয়েন্ট’-এ বিনিয়োগ করেছেন। গত বছর ট্রাম্প শুল্ক বাড়ানোর পর তিনি ইলেকট্রনিকস ও সবুজ প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য বিরল খনিজ সরবরাহ সীমিত করার হুমকি দেন। যদিও বিকল্প উৎস খুঁজে পেলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এই চাপ কমে যেতে পারে, তবুও শি ইতিমধ্যে নতুন চাপের ক্ষেত্র খুঁজছেন-যার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উপাদান, কিছু চিপ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা। তার লক্ষ্য, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও রোবোটিকসের মতো নতুন প্রযুক্তিতে চীনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।


শেষতক, এই যুদ্ধ নতুন কিছু সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে। উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইরান তাদের পুনর্গঠনের জন্য বড় অঙ্কের লাভজনক টেন্ডার বা চুক্তি আহ্বান করবে। এ ছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে ভবিষ্যৎ অবরোধ নিয়ে অনেক দেশই চিন্তিত। তাই তারা চীনের ‘গ্রিন টেকনোলজি’ বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকবে। এর মধ্যে রয়েছে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো-যাদের সবারই এখন উদ্বৃত্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে।
আমেরিকার নীতি যেখানে অনিশ্চিত এবং অস্থির, সেখানে চীনের স্বার্থকেন্দ্রিক ও বাস্তববাদী আচরণ অন্তত নির্ভরযোগ্য। চীন মনে করছে তারা আমেরিকাকেও নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে। ইরানে অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় ট্রাম্পের সঙ্গে দরকষাকষি করা এখন সহজ হতে পারে।
আগামী মে মাসে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের যে সম্মেলন হওয়ার কথা, সেখানে চীন একটি চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে চায়। এই চুক্তির লক্ষ্য হবে আমেরিকার শুল্ক ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগের একটি পথ বের করা। চীনের জন্য সবচেয়ে আদর্শ হবে যদি ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন যে, আমেরিকা তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিপক্ষে এবং শান্তিপূর্ণ একত্রীকরণের পক্ষে। এটি হবে হেনরি কিসিঞ্জারের সেই পুরনো ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’র নীতি থেকে এক বড় ধরনের সরে আসা।


তবে চীনের এই আশাবাদের সঙ্গে উদ্বেগের বার্তাও আছে। আমেরিকান সশস্ত্রবাহিনী যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করছে, তা দেখে বিশেষজ্ঞরা রীতিমতো অবাক। শি জিনপিং কেন তাইওয়ান আক্রমণে তাড়াহুড়ো করছেন না, এটি তার আরও একটি কারণ। ইরান যেমনটা দেখিয়েছে-যুদ্ধ সবসময়ই অনিশ্চিত। আর আমেরিকা যদি আসলেও পতনের দিকে যায়, তবে চীনের জন্য যুদ্ধ করার প্রয়োজনই পড়বে না।
চীনের অন্যান্য দুশ্চিন্তাগুলো মূলত অর্থনৈতিক। এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে অন্য দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চীনের রপ্তানি বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। চীনের নীতিনির্ধারকরা অত্যন্ত বাস্তববাদী হওয়া সত্ত্বেও তাদের একটি কৌশলগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারা এমন কোনো পরিস্থিতির কথা ভাবতেই চান না যেখানে আমেরিকা নিজেই একটি ‘উচ্ছৃঙ্খল শক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হবে এবং নিজের তৈরি বিশ্বব্যবস্থাকে নিজেই ভেঙে চুরমার করে দেবে।
চীন পশ্চিমা মূল্যবোধ নিয়ে সবসময়ই অভিযোগ করে ঠিকই, কিন্তু আমেরিকার টিকিয়ে রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির অধীনেই চীন সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে। একটি অস্থিতিশীল পৃথিবী চীনের জন্য মোটেও সুখকর হবে না। বিশ্ব জুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে চীনের রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। আর এটি সেই কমিউনিস্ট পার্টির জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয়, যাদের ক্ষমতার বৈধতা টিকে আছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ‘চীনা শ্রেষ্ঠত্ববাদ’-এর ওপর।
আমেরিকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে বিষয়টি নিশ্চিতও নয়। প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুখে আমেরিকা বারবার নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার এক অসাধারণ সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে, চীন অত্যন্ত সতর্ক, তাদের জনসংখ্যা বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে এবং তারা দলীয় আদর্শের বেড়াজালে আবদ্ধ। এ পর্যন্ত দেখা গেছে, আমেরিকা যখনই বিশ্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, চীন সেখানে এগিয়ে আসতে দ্বিধাবোধ করেছে।


চীন বড়জোর এই ধারণার ওপর ভরসা করছে, আমেরিকা নিজেই যে অরাজকতা তৈরি করছে, তার মাঝে তারা টিকে থাকতে পারবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে এমনটিও হতে পারে যে, আমেরিকা এই ওলটপালট পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেবে, আর চীন নিজেকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। সেক্ষেত্রে সেই ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ হয়তো আমেরিকার হাতেই থেকে যাবে। 

আন্তর্জাতিক'র অন্যান্য খবর