প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

যুদ্ধের পরিণতি কী

মোহাম্মদ আবুল হোসেন | আন্তর্জাতিক
এপ্রিল ৪, ২০২৬
যুদ্ধের পরিণতি কী

যত যা-ই বলুন। যুদ্ধে ইরানের কাছে হেরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কথা হলফ করেই বলা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের এক নম্বর শক্তিধর দেশ ও কথিত পারমাণবিক শক্তিধর মিত্র ইসরাইল যখন ইরানের মতো একটি একক দেশের কাছে নাকানি-চোবানি খাচ্ছে, তখন যুদ্ধের সমীকরণ অন্যভাবে লেখা হচ্ছে। যে ইরানকে কয়েকদিনের মধ্যে উড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু, তারা এই সমীকরণকে উভয়মুখী করে দিয়েছে। ইরানকে একটি কট্টর শাসনের দেশ এবং অনুন্নত ভূখণ্ড হিসেবে দেখছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সেই ইরান জোরালোভাবে প্রমাণ দিয়েছে কোনো শক্তির কাছে মাথানত করবে না। এই যুদ্ধে ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হয়তো হিসাব কষেছিলেন ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুুদ্ধের মতো কয়েকটি বোমা মেরে ইরানকে কাবু করে ফেলা যাবে। কিন্তু তারা ভুল ছিলেন। একইভাবে ট্রাম্পকে, তথা যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু- এ কথাও সত্য। আরও সত্য সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মুসলিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরানকে শায়েস্তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহিত করেছে। ফল হিসেবে পরিণাম ভোগ করছে তারা সবাই। ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব স্বার্থ আছে, ঘাঁটি আছে তাতে হামলা চালাবে। আক্রান্ত হওয়ার পর তারা করেছেও তাই। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের। ৩০শে মার্চ হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির বিষয় বাদ রেখেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করতে পারেন। এরপর ট্রাম্প সে রকমই বলেছেন। তিনি হরমুজ প্রণালিকে উদ্ধারের জন্য ন্যাটো, বৃটেন সহ ইউরোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সেই আহ্বানের ভাষার মধ্যেও আছে হতাশা। ১লা এপ্রিল জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন-২/৩ সপ্তাহের মধ্যে তিনি ইরানকে ধ্বংস করে দেবেন। এরপরই বিজয় ঘোষণা করবেন। তিনি জানান, তিনি বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু কার বিরুদ্ধে তিনি বিজয় ঘোষণা করছেন? ইরান কি পরাজয় স্বীকার করেছে? করেনি। বরং তারা সমুচিত জবাব দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। এর ফলে সামনে প্রশ্ন চলে আসছে- যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানে সফল হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে আপনি কাকে জিজ্ঞেস করছেন প্রশ্নটি তার ওপর। গত সপ্তাহে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এই সংঘাত মোকাবিলার পদ্ধতিকে সমর্থন করেননি। আর ৩৭ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন। এই সংখ্যাগুলো সাধারণভাবে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন, যা ইঙ্গিত দেয় যে, মতামতের বিভাজন মূলত দলীয় অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রতি ১০ জন রিপাবলিকানের মধ্যে ৭ জন এই যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিকে সমর্থন করেন, কিন্তু প্রতি ১০ জন ডেমোক্রেটের মধ্যে মাত্র একজন তা সমর্থন করেন।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণ কতোটা সফল হয়েছে তা দেখার আরেকটি উপায় হলো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। এই মানদণ্ডে এবং এক মাসের সংঘাতের পর দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের অনেক বেশি ক্ষতি করেছে। ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন। ইরানের বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও পিছিয়ে পড়েছে। ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ব্যাপক বোমাবর্ষণের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, ইরান বড় ধরনের স্থায়ী ক্ষতি না করেও গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত ও বাণিজ্য পথ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। এটাই তাদের প্রধান সাফল্য। এমন অবস্থায় প্রশ্ন সামনে আসতে পারে যে, তাহলে কেন মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রে জিতছে কিন্তু সামগ্রিক যুদ্ধে হারছে? এর উত্তর হয়তো প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইরান সরকারের যুদ্ধে টিকে থাকা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আঘাত হানার ক্ষমতা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ যেমন চীন, রাশিয়াকে সুবিধা এনে দেয়া- এসব দেখিয়ে দেয় যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধে টিকে থাকা এবং বিঘ্ন সৃষ্টি করা- এটাই যুদ্ধের ক্ষেত্রে তেহরানের কৌশলগত লক্ষ্য ছিল। অন্যদিকে ট্রাম্পের দৃশ্যমান হতাশা এটাই দেখিয়ে দেয় যে, তিনি যে দ্রুত সফলতা আশা করেছিলেন, তা তিনি পাচ্ছেন না।


এর প্রথম কারণ, কেন যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত হিসেবে দেখা যেতে পারে, তা হলো যুদ্ধের শুরুতে তাদের সর্বোচ্চ উচ্চাকাঙক্ষী লক্ষ্য। ২৮শে ফেব্রুয়ারি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক ভিডিওতে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি শাসন পরিবর্তন চান, পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা শেষ করতে চান, তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করতে চান এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে চান। এসব লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি।
যুদ্ধের শুরুতে কয়েকজন বিশ্লেষক উল্লেখ করেছিলেন যে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক পদগুলোর জন্য আগেই বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত করে রেখেছিল, যাতে সরকার টিকে থাকতে পারে। দেশের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু তারা এখনো ইসরাইল এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তেহরান আগেও দেখিয়েছে যে, কয়েক মাসের মধ্যেই তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠন করতে পারে, যেমনটি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর করেছিল। এই যুদ্ধ শেষ হলেই আবার তা দ্রুত করার সম্ভাবনা রয়েছে। হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়েছে, কিন্তু টিকে আছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সবেমাত্র যুদ্ধে প্রবেশ করেছে। গত সপ্তাহান্তে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো ইরানের কোথাও রাখা আছে। নতুন নেতৃত্ব এবং সম্ভবত আরও প্রতিশোধপরায়ণ নেতৃত্ব সেই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করতে পারে।


দ্বিতীয় কারণ হলো, ইরান বিশ্বে যে বিশাল অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে তা এই যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরে। এ বছর জেট ফুয়েলের দাম ১২০ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক তেলের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একই সময়ে ৮৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর বড় কারণ হলো ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্ব তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। একইভাবে বিশ্বের ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে যায়। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং কাতারের একটি বড় গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইউরোপে এই মাসে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক হিলিয়াম সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের পথ- যা শুধু বেলুন নয়, সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতেও ব্যবহৃত হয় এবং বৈশ্বিক সার বিক্রির এক-তৃতীয়াংশ এখান দিয়ে যায়। এই অবরোধ যত দীর্ঘ হবে, ততই বিশ্ব জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি চিপ ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে পড়বে। এই প্রভাবগুলো মূলত ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বার্তা যে, তারা নীরবে হার মানবে না। জিওপোলের এক জরিপ অনুযায়ী (মিশর, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিচালিত) মাত্র ১৮ শতাংশ মানুষ এই সংঘাত ও এর বৈশ্বিক প্রভাবের জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। বরং ২৯ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে এবং ৩৮ শতাংশ ইসরাইলকে দায়ী করেছে। এর একটি কারণ হতে পারে যে হামলাগুলো এমন সময় ঘটেছে যখন কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচক বলে মনে হচ্ছিল।


তৃতীয় কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক অনুমোদন নেয়ার চেষ্টা করেনি- যা জর্জ ডব্লিউ বুশের ইরাক যুদ্ধের সময় দেখা গিয়েছিল। এবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বা নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কথা বলা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বাস্তব মিত্র এই যুদ্ধে ইসরাইল, যা নিজেও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিচ্ছিন্ন ও অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রথমে ন্যাটো মিত্রদের কাছে সহায়তা চেয়ে পরে সাহায্য না পেয়ে তা অস্বীকার করেন, যা তাকে বিব্রত করেছে। এই যুদ্ধের ফলে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক দুর্বল হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক নেতৃত্বের অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চতুর্থ কারণ হলো, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছে। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরান ও রাশিয়ার ওপর থাকা কিছু তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে তেহরান এখন যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বেশি দৈনিক আয় করছে। একই সময়ে মস্কো প্রতিদিন অতিরিক্ত ১৫ কোটি ডলার তেল থেকে আয় করছে, যা তারা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করবে। চীনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা মিশ্র। তারা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অর্ধেকের বেশি তেল পায়, তাই কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে তাদের পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের মতো জটিল জড়তায় আবদ্ধ নয়। সম্ভবত চীনের সামরিক নেতৃত্ব লক্ষ্য করছে যুক্তরাষ্ট্র কতো দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, যা অন্য অঞ্চলে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।


পঞ্চমত, এই যুদ্ধ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ইরানে চলমান কার্যক্রম চালাতে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার চাওয়ার কথা ভাবছে। কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি। সম্ভবত পর্যাপ্ত সমর্থন পাওয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ন্যান্সি মেস এক গোপন ব্রিফিংয়ের পর বলেন, আমি আবার বলছি: আমি ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর পক্ষে নই- এই ব্রিফিংয়ের পর তো আরও নয়।
যুদ্ধের পূর্ণ মূল্যায়ন কেবল শেষ হওয়ার পরই সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এখনো ইরানের সামরিক অবকাঠামোয় আরও ক্ষতি করতে পারে, যা এই মূল্যায়ন বদলে দিতে পারে। ইতিমধ্যে আমরা কল্পনা করতে পারি, প্রত্যেক পক্ষ কীভাবে ফলাফল ব্যাখ্যা করবে: ইরান বলবে তারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি ও একটি আঞ্চলিক প্রভাবশালী শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইল বলবে তারা শত্রুদের সক্ষমতা ধ্বংস করেছে, যদিও তা সাময়িক। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশাল সামরিক শক্তির প্রদর্শনকে তুলে ধরবে।


তবুও, যদি যুদ্ধ কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হয়, বাস্তবতা হলো- ইরান সরকার যা-ই অবশিষ্ট থাকুক, শুধু টিকে থাকার কারণেই তারা নিজেদের সাফল্য দাবি করবে। তাদের নেতারা প্রতিশোধের মানসিকতায় উজ্জীবিত হবে-  দেশের ভেতরে বা আন্তর্জাতিকভাবে। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এই যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে বুঝবে যে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি করার ক্ষমতাই তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ শক্তি। এর মানে হতে পারে, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তারা দ্রুত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুনর্গঠন করবে। তারা তাদের পুরনো পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে পারমাণবিক বোমাকে নিরাপত্তার প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে পারে,  যেমনটি উত্তর কোরিয়া করেছে। তাহলে এই সংঘাতের উদ্দেশ্য কী ছিল? হয়তো এটি ইসরাইলের কৌশল- এ অঞ্চলে বারবার শত্রুদের দুর্বল করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা হওয়া উচিত নয়। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। সম্ভবত তিনি ইরানের সরকারব্যবস্থা এবং দেশটির ভৌগোলিক ও কৌশলগত জটিলতা ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছেন, যা ভেনেজুয়েলার মতো নয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এক রাতের অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছিল।


এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে থাকা মানুষের কথাও ভাবা উচিত। ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলে মানুষ প্রায় দুই বছর ধরে সাইরেন বাজলেই বাঙ্কারে ছুটে যাচ্ছে। আর উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রবাসী ও অভিবাসী শ্রমিকরা এমন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা তারা দুবাই বা দোহায় আসার সময় কল্পনাও করেনি। যদি এসবের পরিণতি আবার একটি নতুন যুদ্ধ হয়- তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, এসব কিসের জন্য? 

আন্তর্জাতিক'র অন্যান্য খবর