প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

হাসিনার অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ

রাজনৈতিক সংবাদদাতা | বিশেষ রচনা
এপ্রিল ১৮, ২০২৬
হাসিনার অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ

শেখ হাসিনার হাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব এসেছিল অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই। ১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতারা কোন্দলে জড়িয়েছিল। দলের ভেতরে চরম অনৈক্য। অনেকেই দল ছেড়েছেন। যোগ দিয়েছেন খন্দকার মোশ্‌তাকের দলে। মিজান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উপদলের জন্ম হয় ঘটনাপ্রবাহে। বেগম জোহরা তাজউদ্দীন দৃশ্যপটে আসেন। দল সংগঠিত করার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালান। ঢাকার ইডেন গার্ডেনে দলের কাউন্সিল বসে। কিন্তু নেতারা একমত হতে না পারায় বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে শেখ হাসিনার নাম উঠে আসে। শেখ হাসিনা তখন দিল্লিতে ভারত সরকারের মেহমান। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ড. কামাল হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন নেতা ভারতে যান। দোদুল্যমান হাসিনা এই প্রস্তাবে সায় দেন। বলেন, দল যখন চাচ্ছে তখন আমার আপত্তি করার কিছু নেই। তিনি রাজি হন। ঢাকায় খবর আসামাত্র উল্লাসে ফেটে পড়েন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। 
রাষ্ট্রক্ষমতায় তখন জিয়াউর রহমান। ঢাকা-দিল্লি অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন-তারিখ ঠিক হয়।  বিএনপি’র নেতৃত্ব তখন অস্বস্তিতে। কিন্তু জিয়াউর রহমান হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোনো ওজর আপত্তি কানে তুলেননি। ’৮১ সনের ১৭ই মে হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু তার কী পরিকল্পনা সেটা তিনি প্রকাশ করেননি। মাত্র ১৩ দিনের মাথায় এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন হাসিনার ফেরা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারিত হয়। বলা হয়, হাসিনাকে পাঠানো হয়েছিল বিশেষ উদ্দেশ্যে। হাসিনা দলের নেতৃত্ব নেন। অল্পদিনের মাথায় দলে বিভক্তির সুর বেজে ওঠে। আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বাকশাল হয়। পরবর্তীতে ড. কামাল হোসেন গণফোরাম গঠন করেন। এসব ঘটনা ঘটে তিন বছরের মধ্যে। 
 

দলের যে সব নেতা হাসিনাকে সভানেত্রী করার জন্য অগ্রভাগে ছিলেন তাদের বেশির ভাগই হাসিনার রোষানলে পড়েন। হাসিনা দমবার পাত্র নন। প্রতিশোধ তাকে নিতেই হবে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণকে স্বাগত জানান অনেকটা কৌশলে। লোক দেখানো আন্দোলনে শরিক হন। এরই মধ্যে এরশাদের নেতৃত্বাধীন ’৮৬’র নির্বাচনে অংশ নিয়ে সবাইকে অবাক করে দেন। কারণ একদিন আগেই তিনি চট্টগ্রামের এক জনসভায় বলেন, যারা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবে তারা হবে জাতীয় বেঈমান।  নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বেগম জিয়া নির্বাচন বয়কট করেন। জামায়াতে ইসলামী হাসিনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিএনপি’র বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এরশাদ দু’বছরের মাথায় আরেকটা নির্বাচন দিতে বাধ্য হন। সে নির্বাচন বিএনপি-আওয়ামী লীগ বর্জন করে। এরশাদ দু’বছরের মধ্যেই ক্ষমতার দৃশ্যপট থেকে বিদায় নেন। 
 

’৯১ সনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এক অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। ঘটনাবহুল সে নির্বাচনে বেগম জিয়া ক্ষমতার মসনদে আসীন হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা ছিল এক স্মরণীয় নির্বাচন। যে নির্বাচনে কোনো কারচুপি ছিল না। ছিল না ভোট জালিয়াতি। গায়েবি ভোট ছিল অনুপস্থিত। হাসিনা ভেঙে পড়েন। আবার দলে বিভক্তি। হাসিনা দলের নেতাদের কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সন্দেহ আর অবিশ্বাস তাকে গিলে ফেলেছিল। যাই হোক, বিএনপি’র বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। বিএনপি কোনো অবস্থাতেই রাজি হচ্ছিল না। এক পর্যায়ে তৃতীয়পক্ষের মধ্যস্থতায় রাজি হন দুই নেত্রী।  স্যার নিনিয়ানের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরশাদ তখন জেলখানায়। পর্দার আড়ালে নানা খেলা জমে উঠে। বেগম জিয়া নির্বাচন আহ্বান করেন। সে নির্বাচন বর্জন করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। এক পর্যায়ে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারে সম্মত হয়। উভয়পক্ষের সম্মতিতে সংসদে বিল পাস করে খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন। এরপর আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। জেনারেল নাসিমের নেতৃত্বে এক ব্যর্থ ক্যু সংগঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ্বাস শক্ত হাতে তা দমন করেন। নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারপতি হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হন। নির্বাচনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ।  দুই-তৃতীয়াংশ আসন না পাওয়ায় হাসিনা অনেকটা কমপ্রমাইজ করেই নিজেকে শান্ত রাখেন।
 

পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচন। এই নির্বাচনে জয়ী হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। জামায়াত ভোল পাল্টে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে শরিক হয়। জামায়াত নেতাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উঠে প্রথমবারের মতো। যে কারণে বিরোধীদের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিএনপি। মন্ত্রী হন মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। হাসিনা শুরু থেকেই ছিলেন সমালোচনামুখর। টার্গেটে ছিলেন বেগম জিয়া। টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ২১শে আগস্টের ঘটনা অন্যতম। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আয়োজিত এক জনসভায় হাসিনা যখন বক্তৃতা করছিলেন তখনই গ্রেনেড হামলা হয়। এতে ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন।  হাসিনা অল্পের জন্য বেঁচে যান। ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয় এই ঘটনায়। বিএনপি সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয় না। এক জজমিয়া নাটকও রচিত হয়। সময় গড়াতে থাকে। বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে নতুন এক খেলা শুরু হয়। নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যায়। বায়তুল মোকাররমের পাশে প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ খুন করে উল্লাসের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে বিশ্ববাসী। দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রে তখন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিএনপি’র অনেক এমপিও দল ছেড়ে এলডিপিতে যোগ দেন। 
 

এক-এগারো, যা পরবর্তীকালে জরুরি শাসন হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে। কলঙ্কিত এই অধ্যায়ে হাসিনা ছিলেন নেপথ্যের কারিগর। সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। ডিজিএফআই-এর প্রভাবশালী কর্মকর্তা  ব্রিগেডিয়ার আমিনের সঙ্গে তার একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সুধাসদনেও ব্রিগেডিয়ার আমিনের যাতায়াত ছিল। এক পর্যায়ে হাসিনার সম্মতিতে জেনারেল মইন, জেনারেল মাসুদ,  ব্রিগেডিয়ার আমিন ও ব্রিগেডিয়ার বারী ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। ২০০৭-এর ১১ই জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়। ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত সরকার। দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। হাসিনাকে জেলে নেয়া হলেও তখন তার ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। তিনি সেনাকর্মকর্তাদের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি হন। এই সমঝোতার অংশ হিসেবেই হাসিনাকে বিদেশ যেতে দেয়া হয়। যদিও তাকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরতে বাধা দেয় সরকারের ভেতরের একটি অংশ।
 

বিদেশে বসেই হাসিনার সঙ্গে ২০০৮-এর নির্বাচনের পরিকল্পনার ছক তৈরি করা হয়। যে ছকে হাসিনা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান। সে নির্বাচনটি ছিল সাজানো-গোছানো। প্রথমে কেউই টের পাননি কীভাবে নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে। গোড়াতেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বেগম জিয়া। পাতানো এই নির্বাচনে হাসিনাকে ক্ষমতায় আনার জন্যই নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে এই অভিযোগ করেন বেগম জিয়া। আখেরে প্রমাণিত হয়েছে নির্বাচনটি ছিল জালিয়াতিপূর্ণ। খালেদা জিয়া আগেই বলেছিলেন তাকে ৩০টি আসন দেয়া হবে। বাস্তবে ঘটেছিলও তাই। এই নির্বাচন বর্জন  করতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু জামায়াতের আপত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে তিনি বিরত থাকেন। আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ বলেছিলেন, তার কাছে খবর রয়েছে চারদলীয় জোটই ক্ষমতায় আসবে। সম্ভবত খালেদা জিয়া এই জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনের ছক জানতে পেরেছিলেন আগেই বিভিন্ন সূত্র থেকে।
 

নির্বাচনটি যে সাজানো ছিল তার প্রমাণ এখন স্পষ্ট, খোলাসা। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে জাল ব্যালট পেপার ছাপিয়ে মূল নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। জেনারেল মাসুদ ও জেনারেল মামুন খালেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর অনেক চাঞ্চল্যকর খবরই বেরিয়ে আসছে। এই নির্বাচনের অন্যতম আরেক রূপকার ছিলেন ড. গওহর রিজভী। তিনি হাসিনার সঙ্গে সাবজেলে দেখা করতেন ভিন্ন এক পরিচয়ে। ওয়াশিংটন ও দিল্লির সঙ্গে গওহর রিজভীর যোগাযোগ ছিল বেশ গভীর, প্রতিনিয়ত। হাসিনা নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রতিদান হিসেবে গওহর রিজভীকে তার উপদেষ্টাও বানান। প্রতিশোধপ্রবণ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণ করেই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে শুরু করেন। ফাঁসিতে ঝুলান ১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থানে অভিযুক্তদের কয়েকজনকে। মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতাদের ফাঁসিও ছিল এই সময়ের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।  সংসদে বিল এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কবর রচনা করেন। ক্ষমতার পালাবদল আটকে যায় হাসিনার কূটচালে। পরপর তিনটি নির্বাচন কব্জা করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করেন। যা রূপ নেয় ফ্যাসিবাদী শাসনে। হাসিনা অতীত ভুলে নিজেকে স্বৈরশাসক হিসেবেই জাহির করেন। কলঙ্কিত এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে এক জন-অভ্যুত্থানে। যে অভ্যুত্থান জুলাই বিপ্লব হিসেবে সমধিক পরিচিতি পেয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত হন হাসিনা। ফের দিল্লির অতিথি। ওদিকে শুধু হাসিনাই নন, নির্বাসিত হয়েছে তার আওয়ামী লীগও। দলের বেশির ভাগ নেতা জেলখানায়। অনেকে কলকাতা, লন্ডনে দিন কাটাচ্ছেন। অপেক্ষায় রয়েছেন ঢাকায় কিছু ঘটে কিনা! জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে হাসিনা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। নানাভাবে চেষ্টা করেও দলকে সংগঠিত করতে পারেননি। প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী জমানায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার সংসদে এর সিলমোহর দেয়।
 

হাসিনা মাঝে মধ্যে সরব। কখনো ফোনে, কখনো ওয়েবে। তবে এতে কোনো ফল হয়নি। ভারত সরকারও তার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচনের আগে হাসিনাকে কাতার পাঠানোর ব্যাপারে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে এক অঘোষিত সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু হাসিনা তাতে সায় দেননি। ভারত চেয়েছিল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ। সে কারণে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু হাসিনার আপত্তিতেই তা ভেস্তে যায়। একটি বিদেশি সংস্থার জরিপে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অবস্থান কী হতে পারে তার বিস্তারিত উঠে এসেছিল। জরিপে বলা হয়, শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিলে ন্যূনপক্ষে ৩২টি আসন তারা পেয়ে যাবে। এই ফলাফল হতে পারে অঞ্চলভিত্তিক। এসব কারণেই হয়তো ভারত  নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের কথা ভাবছিল। তারা বরাবরই চেয়েছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। ইউনূস সরকারও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের ব্যাপারে একমত হয়েছিল।   বিএনপিরও আপত্তি ছিল না। তবে ঘোরতর আপত্তি ছিল জামায়াতের। কারণ জামায়াত মনে করে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ তাদের অবস্থানকে একেবারে নড়বড়ে করে দেবে। তাই তারা সরকারের ভেতরেও এ নিয়ে সক্রিয় ছিল। যাই হোক, কোনো যুক্তিতেই হাসিনা নির্বাচনমুখী হতে রাজি হননি। দলের অংশগ্রহণের ব্যাপারেও নেতিবাচক ধারণা দেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে বলেননি ঠিক, তেমনি আবার বর্জনেরও ডাক দেননি। এতে হাসিনা দু’কূলই হারিয়েছেন। ওদিকে, হাসিনা সবসময় মনে করেন তার পক্ষেই সম্ভব আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসা। বর্তমান বিএনপি সরকার ব্যর্থ হলেই নাকি তার আসার পথটা খুলে যাবে। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এর কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছেন না। তারা বলছেন, বিএনপি ব্যর্থ হলে জামায়াত আসবে অথবা অন্য কোনো শক্তি। হাসিনা এসব যুক্তি উড়িয়ে দিচ্ছেন। বলছেন, জামায়াতের সম্ভাবনা নেই। কারণ জামায়াতকে দেখা হয়ে গেছে। মানুষও আর জামায়াতের দিকে ঝুঁকবে না। পরবর্তী কোনো পরিবর্তনে তার সম্ভাবনাই বেশি। ঘোলাটে এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঢাকা-দিল্লি বৈঠক হয়ে গেল। দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে হাসিনার প্রসঙ্গ আসেনি। হাসিনার বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা এখন স্পষ্ট হাসিনার আচরণে ভারত যারপরনাই বিরক্ত। দেশ বদলায়, রাজনীতি বদলায়, অনেক কিছুই বদলায়। শুধু হাসিনা বদলাননি। রাজনীতিতে অসম্ভব বলতে কিছু নেই। আজকের শত্রু কালকের মিত্র। এনসিপি নেতাদের আচরণ দেখে এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাই আগামীতে কী ঘটবে তা যেমন বলা সম্ভব নয়, তেমনি হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করাও জুয়া খেলার মতো। হারতেও পারেন, জিততেও পারেন।
 

বিশেষ রচনা'র অন্যান্য খবর