এই সময়

হঠাৎ প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, কি বার্তা?

লুৎফর রহমান | এক্সক্লুসিভ
আগস্ট ১, ২০২৬
হঠাৎ প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ, কি বার্তা?

তেইশতম প্রেসিডেন্টের অপেক্ষায় দেশ। দুইদিনের আলোচনার মধ্যেই ২৪শে জুলাই হঠাৎ পদত্যাগ করেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। তাকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও নতুন সরকারের দায়িত্ব নেয়ার প্রথম পাঁচ মাসে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কোনো উদ্যোগ ছিল না। কিছুটা অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। কয়েক দফা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে তিনি অবশ্য নিজের অস্বস্তির বিষয় প্রকাশ করেছিলেন। সরকার চাইলে সরে যেতে চান- এমনটাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু জুলাইয়ের শেষে তার পদত্যাগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। এই সময়ে তাকে কেন সরে যেতে হলো এই প্রশ্নও সামনে এসেছে। বলা হচ্ছে, বিএনপি’র রাজনৈতিক কৌশল থেকেই এই সময়ে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতেই প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেছেন। হঠাৎ এবং দ্রুত সময়ের নোটিশে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পেছনে একটি কারণ সামনে আনা হচ্ছে- আর তা হলো, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভারতের আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ফোনালাপ। যদিও সাহাবুদ্দিন একাধিক গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অভিযোগটি অস্বীকার করেন। সরকারের দিক থেকেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পদত্যাগের একদিন পর অনেকটা নীরবেই সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের বাসায় উঠেন। পদ ছাড়ার পরই তাকে নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সদস্য থাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে থাকার সময়ে অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির অভিযোগে আগেই মামলা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও প্রমাণ হয়েছে। পদত্যাগের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে যা তদন্তের জন্য প্রসিকিউশন টিমের কাছে পাঠানো হয়েছে। বলা হচ্ছে- সাবেক প্রেসিডেন্ট আগের অপরাধের জন্য এখন বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে সেটা হয়তো কিছুটা সময় নিয়ে হতে পারে। কারণ আপাতত নির্ধারিত সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়েই হয়তো তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে সাহাবুদ্দিন অবশ্য বলেছেন, তিনি কোনো ভুল করেননি। সংকটের সময়ে তিনি দায়িত্ব পালন করে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। 
 

প্রেসিডেন্টের হঠাৎ পদত্যাগ ঘিরে ছিল বেশ নাটকীয়তা। একজন প্রবাসী সাংবাদিক প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের বিষয়ে প্রথম তথ্য দেন। এরপর শুরু হয় আলোচনা। সাহাবুদ্দিন কবে, কীভাবে পদত্যাগ করবেন এই আলোচনা দীর্ঘ হওয়ার আগেই বিষয়টি খোলাসা হয়ে যায়। বিদেশ সফরে থাকা স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন। স্পিকার দুপুরে দেশে ফিরলে বিকালেই প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র পৌঁছে তার হাতে। নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গভবনে গেছেন। দ্রুততার সঙ্গে পদত্যাগের বিষয়টি সম্পন্ন হওয়ায় অনেকে বলছেন, সাহাবুদ্দিনকে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব ছেড়েছেন। আবার কেউ বলছেন, সুবিধাজনক সময়ে সরকার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিল। এই সুযোগটি কাজে লাগানো হয়েছে। কারণ নতুন যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন তার  মেয়াদের মধ্যেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ওই নির্বাচনের পরও তিনি কিছুদিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এটি নিজেদের জন্য সুবিধাজনক হবে বলে বিএনপি’র পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে। 
 

’২৪-এর ৫ই আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেয়ার জন্য অনেক আলোচনা ছিল। আন্দোলন হয়েছে, বঙ্গভবন ঘেরাও হয়েছে। কেবল সাংবিধানিক জটিলতা এড়ানোর জন্য তাকে পদে রাখার বিষয়ে একমত ছিল বিএনপি সহ বেশির ভাগ দল। আলংকারিক হলেও সাংবিধানিক শূন্যতার পরিস্থিতিতে এই পদটি যে গুরুত্বপূর্ণ তা সময়ে সময়ে প্রমাণ হয়েছে। এ ছাড়া বিগত সময়ে প্রেসিডেন্ট পদে ‘ভুল’ মনোনয়নের কারণে তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে বিএনপি’র। 
 

৫৫ বছরে ২২ প্রেসিডেন্ট ২৩তম কে? 
 

স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৫ বছরে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে ২২ বার পরিবর্তন হয়েছে। একেক জনের বিদায় হয়েছে একেক ধাঁচের। প্রেসিডেন্ট পদে আসা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ছিলেন রাজনীতিক। দুইজন সামরিক বাহিনী থেকে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এর বাইরে পেশাজীবীও ছিলেন কয়েকজন। কেউ মেয়াদ শেষে স্বাভাবিকভাবে বিদায় নিয়েছেন আবার কেউ বিদায় হয়েছেন অস্বাভাবিকভাবে। মো. সাহাবুদ্দিনের মতো নীরবে বঙ্গভবন ছাড়তে হয়েছে কাউকে কাউকে। হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন দুইজন। এই প্রেসিডেন্ট পদ ঘিরে ঘটেছে নানা ঘটনাও। 
 

সর্বশেষ তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন করে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনিই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি তিনটি সরকারের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের শেষ সময়ে সাহাবুদ্দিনকে প্রেসিডেন্ট করা হয়েছিল একটি ব্যবসায়িক গ্রুপের হস্তক্ষেপে। ওই গ্রুপের হস্তক্ষেপে তিনি ইসলামী ব্যাংকের নীতি নির্ধারণী পর্ষদেও যুক্ত হয়েছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার পদে থাকার সময়ও তার বিরুদ্ধে ছিল এন্তার অভিযোগ। যে ব্যবসায়িক গ্রুপের হস্তক্ষেপে তাকে প্রেসিডেন্ট করা হয়েছিল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি ওই গ্রুপের পক্ষ হয়ে ব্যাংকটির দখল ও লুটপাটে সহযোগিতা করেছিলেন এটি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ নিয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকার সময়েই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। 
 

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগ পর্যন্ত হাফিজ উদ্দিনই এই দায়িত্ব পালন করবেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে বসবাস না করলেও তিনি সেখানে নিয়মিত অফিস করবেন। 
 

হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর  প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।  প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য বলছে, এবার দলের পরীক্ষিত কাউকে এই পদে দায়িত্ব দিতে চাইছে বিএনপি। এ জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পদে দলের সিনিয়র কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে। তবে কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট তা জানতে হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। 
স্বাধীনতার পর শুরুতে প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থায় প্রায় ২০ বছর ছিল দেশ। তখন প্রেসিডেন্টই ছিলেন নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী। ১৯৯১ সাল থেকে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হলে প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষমতা কমে যায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে। তখন তিনি পাকিস্তানে বন্দি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি সংসদ অধিবেশন বসলে, তিনি প্রেসিডেন্টের অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রেসিডেন্ট পদ ত্যাগ করেন। ’৭৫ সালে বাকশাল গঠনের পর তিনি ফের প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনেন এবং নিজে প্রেসিডেন্ট হন। ওই বছরের ১৫ই আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে এক সেনা অভ্যুত্থানে সপরিবারে নিহত হন তিনি। 
 

শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেও তার অবর্তমানে অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল থেকে ’৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।
শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন হওয়ায় ১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। স্বাধীনতার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন। ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে তিনি পদত্যাগ করে মন্ত্রী পদমর্যাদায় বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত নিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরে তিনি মোশ্‌তাক আহমেদের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীও হয়েছিলেন। রাজনীতির বাইরে তিনিই প্রথম এ পদে বসেন। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পদত্যাগ করলে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি ১৯৭৪ সালের ২৪শে জানুয়ারি অস্থায়ী থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ২৭শে জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। মেয়াদ পূরণের আগেই তাকে সরে যেতে হয়।
 

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর ওই সময়ের মন্ত্রিসভার সদস্য খোন্দকার মোশ্‌তাক আহমেদকে প্রেসিডেন্ট পদে বসানো হয়।
১৯৭৫ সালের ৬ই নভেম্বর রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রেসিডেন্ট হন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে মেজর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরের বছরের ২৩শে জুন নির্বাচনে জিয়া প্রথম সরাসরি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কতিপয় সেনাসদস্যের গুলিতে তিনি শাহাদতবরণ করেন।  
এই ঘটনার পর উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার সাংবিধানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ এম এরশাদ একটি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। 
 

ওই বছরের ২৭শে মার্চ জেনারেল এরশাদ আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে প্রেসিডেন্ট পদে অভিষিক্ত করেন। ১৯৮৩ সালের ১১ই ডিসেম্বর এরশাদের চাপে পদত্যাগ করেন আহসান উদ্দিন। এরপর সামরিক শাসক এরশাদ নিজেই প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি নাগাদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়। আন্দোলনের জেরে ডিসেম্বরে এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার পদত্যাগের পর প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
 

তার নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ওই বছরের ২৩শে জুলাই তিনি আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের ১৪ই নভেম্বর মেয়াদ শেষে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।
 

বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ১৯৯১ এর ৮ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ১৯৯৬ সালের ৮ই অক্টোবর মেয়াদ শেষে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।
বিএনপি সরকারের সময় ২০০১ সালের ১৪ই নভেম্বর অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে মেয়াদ শেষের আগেই ২০০২ সালের ২১শে জুন তিনি পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। ওই বছরের ২১শে জুন থেকে ৬ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। তিনি ২০০৬ সালের ২৯শে অক্টোবর প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালের ১২ই জানুয়ারি তিনি এই পদ ত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০০৯ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি তিনি জিল্লুর রহমানের কাছে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। ২০১৩ সালের ২০শে মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিল্লুর রহমানের মৃত্যু হলে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হন তৎকালীন স্পিকার মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। 

 

তিনি প্রথমে ভারপ্রাপ্ত ও পরে ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল পর্যন্ত দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছরের ২৪শে এপ্রিল থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতাদের সবাই হয় দেশ ছেড়েছেন না হয় কারাগারে গেছেন। কেবলমাত্র বঙ্গভবনের আসনে ছিলেন হাসিনা আমলের সংসদে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন। এটিকে অনেকে সাহাবুদ্দিনের সৌভাগ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গত ৫ মাসে তার হাতে রাষ্ট্র ও সরকারের অনেক আদেশ জারি হয়েছে। বিএনপি সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের কেউ কেউ তাকে মীর জাফরের সঙ্গে তুলনা করেন। সাহাবুদ্দিনের বঙ্গভবন অধ্যায় শেষ হওয়ার পর এখন ২৩তম প্রেসিডেন্টের অপেক্ষা। রাজনীতিক না এর বাইরের কেউ এ পদে আসছেন- এই প্রশ্নের উত্তর পেতে উদগ্রীব পুরো দেশ।

 

এক্সক্লুসিভ'র অন্যান্য খবর