স ম্পা দ কী য়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে দিচ্ছে প্রতিবাদের ভাষাও

কাজল ঘোষ | মতামত
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে দিচ্ছে প্রতিবাদের ভাষাও

এই খবরটি প্রকাশের আগ পর্যন্ত আমার মতো বোধকরি অন্য সবার বিশ্বাস হতো না এটি কি সত্যই ঘটেছে। উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ। পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশোতে বিচিত্র এই ঘটনার আলোচনা তামাম দুনিয়ায়। বিক্ষুব্ধ হলে মানুষ বিক্ষোভ করে। রোবট কি বিক্ষোভ করতে পারে? পোল্যান্ডে বিক্ষোভে নেমেছে ৩০টি হিউম্যানয়েড (মানবাকৃতির) ও চতুষ্পদ রোবট (রোবট কুকুর)। তাদের এই সমাবেশ নজর কেড়েছে বিশ্ববাসীর। এতদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের কারণে চাকরি হারানোর ভয়ে সাধারণত মানুষেরাই রাজপথে বিক্ষোভ করেছে। এবার পোল্যান্ডের রোবটরা নেমেছে মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষায়। পাশাপাশি তাদের দাবি ছিল এআই নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিয়মনীতি তৈরি করা। চলতি সপ্তাহে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে দেশটির ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের সামনে এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে রোবটগুলো।


‘ডেমোক্রেটিজম’ নামের একটি পোলিশ সংগঠন এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এআই-চালিত ‘অ্যাজিবট এ-৩’ মডেলের হিউম্যানয়েডসহ বেশ কিছু রোবট বৃত্তাকারে মার্চ করে এবং প্ল্যাকার্ড ও পতাকা নাড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। রোবটগুলোর সঙ্গে থাকা লাউডস্পিকারে স্লোগান বাজানো হয়- ‘কর্মক্ষেত্র রক্ষা করো’, ‘নিয়ম করার এখনই সময়’ এবং ‘অপেক্ষা নয়, নিয়ন্ত্রণ করো’। এর দ্বারা রোবটগুলো নিজেদেরকেই এবং এআইকে নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান করছিলেন। আয়োজকদের মতে, শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট কীভাবে প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে একটি বৃহত্তর বিতর্ক উস্কে দেয়াই ছিল এই দৃশ্যমান প্রতিবাদের মূল লক্ষ্য। বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক গ্রেগরিজ কুলিশ জানান, মানুষের কাজ, বিশেষ করে বুদ্ধিবৃত্তিক পেশাগুলোতে রোবট ও এআই-এর সম্ভাব্য প্রতিস্থাপন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। 


তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই কর্মীদের সুরক্ষায় কোনো নিয়মনীতি তৈরি না হলে খুব শিগগিরই বড় ধরনের সংকটে পড়বে মানবজাতি। তবে একটি কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, কুলিশ নিজেই ‘ডেল্টা রোবটস’ নামের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক। ফলে অনেকের ধারণা, এটি তার বাণিজ্যিক স্বার্থ বা জনসংযোগের একটি কৌশলও হতে পারে। ঠিক যেভাবে অ্যানথ্রোপিক বা ওপেনএআই-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্যের উন্নত সক্ষমতা বোঝাতে ‘ভয় দেখানোর’ কৌশল ব্যবহার করে থাকে। উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, রাজনৈতিক কোনো বিক্ষোভে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের এটিই প্রথম জানা ঘটনা। রোবট নিয়ে মানুষের উদ্বেগও অমূলক নয়। অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও, যন্ত্রের কারণে মানুষের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। আর সেই শঙ্কার কথা জানান দিতে খোদ যন্ত্র বা রোবটকেই রাজপথে নামিয়ে আনার এই ঘটনা বৈশ্বিক এআই নিয়ন্ত্রণের চলমান বিতর্কে এক নতুন ও নাটকীয় মাত্রা যোগ করেছে।

 

মতামত'র অন্যান্য খবর