খবরটা হঠাৎ করেই। দিনের শেষ প্রহরে। রাতের শুরুতে। সকল প্রকার তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। তাও রেকর্ড বাড়তি। লিটারে বিশ টাকা। রাতেই পাম্পে পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। সকলেই আগের দামে তেল পেতে চায়। এত গেল গাড়ির মালিক আর পাম্পের চিত্র। কিন্তু সাধারণ মানুষের কী অবস্থা? কথা হচ্ছিল বেসরকারি একজন চাকরিজীবীর সঙ্গে। তিনি বললেন, আগস্টেই ১২০ টাকার রুটিতে বেড়েছে ১০ টাকা আর তেলের দাম বাড়ার পর তা দাঁড়িয়েছে দেড়শ’তে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে। কিন্তু আমার তো ভাই বেতন বাড়েনি। তার ওপর সবকিছুর দাম বেড়েছে। মধ্যবিত্ত হওয়ায় আরেক সংকটে আছি, চাইলেই তো নিয়মনীতির কারণে ফ্যামিলি কার্ডের দ্বারস্থ হতে পারবো না। কি যে বিপদে আছি, উপরওয়ালা জানেন। একইরকম মনোভাব একজন সিএনজি চালকের। টিকাটুলি থেকে আসবো তেজগাঁও। ভাড়া নির্ধারিত রেটের চেয়ে একশ’ টাকা বাড়তি। আমি কিছু একটা বলতে যাবো, জানালেন, রাত ১১টায় দাঁড়িয়ে সাড়ে তিনটা বেজেছে গ্যাস পেতে। তাও চাপ কম। বাঁচবো কী করে? এই অবস্থার মধ্যেই আমাদের এক সাংবাদিক ভাই এলপিজি সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ জানিয়ে লিখেছেন, এলপিজি ব্যবহার করেন প্রায় এক কোটি গ্রাহক। মানে এক কোটি পরিবার কিংবা রেস্তরাঁ, বেকারি অথবা যানবাহন, নয়তো শিল্পকারখানা।
এর আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানির যে পরিস্থিতি, তাতে এলপিজি’র অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা সহনীয় হয়ে আসার পর মনে হচ্ছে, এলপিজি সংকট আমাদের ভোগাবে। সময় থাকতে ঝুঁকি এড়ানোর পদক্ষেপ তাই জরুরি। একযুগের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর এই ১২ মাসের মূল্যস্ফীতির মধ্যে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের উপরে। যার চাপটাই পড়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের ওপর। এরমধ্যেই সামনে এসেছে এডিবি’র পূর্বাভাস। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ। সুখবর নেই কোথাও। নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। মর্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি সংকটকে তীব্র করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক নেয়ার ক্ষেত্রে টান পড়েছে। সামনের দিনগুলোতে সুচিন্তিত পদক্ষেপ না নিলে মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে বৈকি।