প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির পুরনো ও মিথ্যা অভিযোগগুলো আবার সামনে আনার চেষ্টা করেছিলেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে তার পরাজয়ের পেছনে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছিল বলে যে ভিত্তিহীন দাবি তিনি করেছিলেন, সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে এ বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তার লক্ষ্য।
কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোটাররা রিপাবলিকানদের এতটাই প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, কয়েক প্রজন্মের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে অন্যতম বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এমনকি কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনও হাতছাড়া হয়েছে তাদের। এই ফলাফলকে নির্বাচনী জালিয়াতির ফল বলে দাবি করার আর কোনো সুযোগই থাকেনি। ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর প্রেসিডেন্ট আবারো এমন কিছু উদ্ভট ও ইতিমধ্যে মিথ্যা প্রমাণিত তত্ত্ব সামনে এনেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে, ডেমোক্রে?টরা ভোট চুরি করতে ভোট গণনার যন্ত্রে কারসাজি করেছে এবং বিপুলসংখ্যক মার্কিনি নন এমন নাগরিক অবৈধভাবে ভোট দিয়েছেন। ডাকযোগে ভোটের সুযোগ সীমিত করতে তিনি ডাক বিভাগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। জর্জিয়ায় ২০২০ সালের নির্বাচনের ব্যালট জব্দ করেছেন। তার প্রশাসন মার্কিন নন এমন নাগরিক বলে সন্দেহ করা ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করে ভোটার তালিকা নিয়ে ব্যাপক তদন্তও শুরু করেছে। কিন্তু আদালত তার সবচেয়ে দুঃসাহসী উদ্যোগের অনেকগুলোই আটকে দিয়েছেন। এমনকি নির্বাচনের আগের দিনও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের একটি উদ্যোগ নাকচ করে দেন। ওই উদ্যোগে ক্যালিফোর্নিয়াকে ২০ হাজার ডাকযোগে আসা ব্যালট আলাদা করে রাখার নির্দেশ দিতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব ব্যালট মার্কিন নন এমন নাগরিকদের দেয়া।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিকেন্দ্রীভূত নির্বাচনব্যবস্থা মোটামুটি নির্বিঘ্নে কাজ করেছে। লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক ভোট দিয়েছেন। এই নির্বাচন আবারো প্রমাণ করেছে, দেশটির গণতন্ত্রের ভিত কতোটা দৃঢ়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। কংগ্রেস এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারে। কিন্তু নির্বাহী বিভাগের জন্য নির্বাচনে কোনো ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়নি। মঙ্গলবারের নির্বাচনী বিজয় দেশটির নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করা ডেমোক্রে?টরা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ নির্বাচনসংক্রান্ত পদে নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠা টেক্সাস ও ওহাইওও রয়েছে। এ ছাড়া পেনসিলভেনিয়া, মিশিগান, অ্যারিজোনা ও উইসকনসিনের মতো অঙ্গরাজ্যের আইনসভাগুলোতেও ডেমোক্রে?টরা ক্ষমতায় ফিরেছেন। এসব অঙ্গরাজ্যে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে ট্রাম্পের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা।
এর অর্থ হলো, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী ফল অস্বীকারকারীদের সংখ্যা কমবে। ডাকযোগে ভোটের সুযোগ সীমিত করা কিংবা নার্সিং হোমের কর্মীদের বয়স্ক ভোটারদের ভোট দিতে সহায়তা করা নিষিদ্ধ করার মতো ভোটাধিকার সীমিত করার আইনও এবার কম অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া হাতে হাতে ভোট গণনার মতো জটিল পদ্ধতি কিংবা নির্বাচনী ফল অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দেয়ার চেষ্টাও কমে আসতে পারে। গত ছয় বছর ধরে নির্বাচনী ফল অস্বীকারকারী এবং তাদের ভিত্তিহীন জালিয়াতির অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা ও ভোটাধিকারকর্মীরা। এখন তারা আশা করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল হয়তো এই আন্দোলনের অবসান ঘটানোর সূচনা করবে। দুই দলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সহায়তায় কাজ করা নির্দলীয় সংগঠন সেন্টার ফর ইলেকশন ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চের প্রধান এবং সাবেক বিচার বিভাগের আইনজীবী ডেভিড বেকার বলেন, আমার মনে হয়, মার্কিন ভোটাররা এসব নিয়ে ক্লান্ত। এসব দাবির পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা একই অভিযোগ করে আসছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং পরাজিত প্রার্থীদের হতাশ সমর্থকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে। কিন্তু ছয় বছর পরও তারা কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এমনকি ডনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, তিনি প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি। মঙ্গলবার রাতে টেলিফোনে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি নিঃসন্দেহে ওই ফলাফল মেনে নিতে প্রস্তুত। মঙ্গলবার ডেমোক্রে?টদের ব্যাপক বিজয় এতটাই বড় ছিল যে, তা অস্বীকার করার সুযোগ ছিল না বলেই মনে হয়েছে।
তবে এ ব্যর্থতা চেষ্টা না করার কারণে আসেনি।
ট্রাম্প যে পুরোপুরি নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ, এই সপ্তাহের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এমন ধারণা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা তিনি আবার করবেন কিনা, তা এখনো দেখার বিষয়। তার প্রশাসন নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত ও হস্তক্ষেপ চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলেই মনে হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নির্বাচন নিয়ে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেন। মঙ্গলবার বিকালে ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুলিন বলেন, এই নির্বাচনের পর আমরা সব তথ্য সংগ্রহ করবো, ভোটের রেকর্ড সংগ্রহ করবো এবং সেগুলো যাচাই করে নিশ্চিত হবো, কোনো অবৈধ অভিবাসী ভোট দিয়েছেন কিনা।
তবে বৃহস্পতিবার ভোটার জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান একজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলন অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধের জেরে পদত্যাগ করেন। মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আইনি কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে মতপার্থক্যও এই বিরোধের অন্যতম কারণ ছিল। আলাস্কার সিনেট নির্বাচন নিয়েও ট্রাম্পের আগ্রহ কমেনি। সেখানে ডেমোক্রে?টদের নিয়োগ করা এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর নাম রিপাবলিকান বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানের নামের সঙ্গে মিলে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন মামলা করে বলেছে, ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান এস সুলিভান হেরে গেলে নির্বাচনের ফল বাতিল করতে হবে। মামলাটি
১লা নভেম্বর খারিজ হয়ে যায়। তবে বিচার বিভাগ এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
মঙ্গলবারের ব্যাপক নির্বাচনী ফলাফলের পরও এটিই এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে ট্রাম্প এখনো নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান জে সুলিভানের পক্ষে দেয়া ভোটগুলো বর্তমান সিনেটর ড্যান এস সুলিভানের পক্ষে গণনা করা উচিত। নির্বাচনী ফল অস্বীকারকারী আন্দোলনের মূল বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই আন্দোলনের সমর্থকরা এমন অনেক তত্ত্ব হাজির করেছেন, যেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তাদের দাবি, বিপুলসংখ্যক মার্কিন নন এমন নাগরিক অবৈধভাবে ভোট দেন, ভোট গণনার যন্ত্রে কারসাজি করা হয়, বাঁশ দিয়ে তৈরি জাল ব্যালট দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল এবং ইতালির স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ভোটের ব্যবস্থা হ্যাক করে ট্রাম্পের বিজয় ঠেকানো হয়েছিল।
নির্বাচনী ফল অস্বীকারের এই আন্দোলন ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকান রাজনীতির সংস্কৃতির মধ্যেও এটি গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে। এ বছর রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ রিপাবলিকান এখনো প্রেসিডেন্টের সেই মিথ্যা দাবি বিশ্বাস করেন যে, ২০২০ সালের নির্বাচন চুরি করা হয়েছিল। এ সপ্তাহে ডেমোক্রে?টদের বড় ধরনের বিজয়, যার পেছনে আংশিকভাবে রিপাবলিকান ভোটারদের ডেমোক্রে?টদের ভোট দেয়ার বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছে, এই দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন এনেছে কিনা, তা এখনো জানা যায়নি।
নির্বাচনী ফল অস্বীকারের আন্দোলনের সবচেয়ে কট্টর সমর্থকদের কয়েকজন ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনে বেশ পুরস্কৃত হয়েছেন। তারা প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েছেন, তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন, তার রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণে সহায়তা করেছেন এবং সারা দেশে এমন একগুচ্ছ নির্বাচনী আইন প্রণয়নে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, যেগুলোর লক্ষ্য ভোট দেয়ার সুযোগ কঠিন করা। এসব আইন অনেক ক্ষেত্রেই রিপাবলিকানদের সুবিধা দেয়। এপ্রিলে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্তত ১১ জন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ইলেকশন ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক নামের একটি রক্ষণশীল সংগঠনের সম্পর্ক রয়েছে। সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়িয়ে এসেছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ক্লেটা মিচেল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও একজন আইনজীবী। ২০২১ সালে ট্রাম্প ও জর্জিয়ার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্র?্যাড রাফেনস্পারগারের মধ্যে যে আলোচিত টেলিফোন কথোপকথন হয়েছিল, তাতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওই ফোনালাপে ট্রাম্প নির্বাচনী জালিয়াতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে জর্জিয়ায় তার পরাজয় পাল্টে দেয়ার জন্য রাফেনস্পারগারকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোট ‘খুঁজে বের করার’ চাপ দিয়েছিলেন।
বুধবার টেলিফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মিচেলকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ট্রাম্পের মতো তিনিও নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন কিনা। প্রশ্নটি শুনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিচেল বলেন, আমি এই প্রশ্নের উত্তর দেবো না। কারণ, এটি একটি বোকা প্রশ্ন। তার আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে টিকে থাকবে কি না, জানতে চাইলে মিচেল বলেন, দেখা যাক। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। এই মুহূর্তেও আমরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জোট গঠন করছি।
নেভাদার ডেমোক্রে?ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিসকো আগুইলার বলেন, ২০২৮ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্রে?টদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আগুইলার বলেন, সবাই প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ে স্বল্পমেয়াদি চিন্তায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু আমাদের দাতা ও ভোটারদের ২০২৮ সালের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করতে হয়েছে। তখনকার আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে অনেক সময় বিষয়টি মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছিল না। আমাদের বার্তা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে কিছুটা সময় লেগেছে। কিন্তু যখন তা পৌঁছেছে, তখন বেশ ভালোভাবেই প্রভাব ফেলেছে। কিছু রিপাবলিকানও আশা করছেন, নির্বাচনী ফল অস্বীকারের আন্দোলনের প্রভাব হয়তো কমে আসছে। জর্জিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েল স্টার্লিং বলেন, নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে মিথ্যা অভিযোগের আধিপত্যের কারণে তার মতো রক্ষণশীলদের জন্য প্রকৃত জালিয়াতি প্রতিরোধের বিষয়টিতে মনোযোগ দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। ভোটার তালিকা পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রকৃত অনিয়ম ঠেকানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে মনোযোগ সরে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, নির্বাচনী ফল অস্বীকারকারীরা নিয়মিত মার্কিন নন এমন নাগরিকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার কথা বললেও, একাধিক অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বৈত ভোট ও একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন ঠেকানোর যে ব্যবস্থা ছিল, সেটি ভেঙে দেয়ার আন্দোলনে তারাই নেতৃত্ব দিয়েছিল। অথচ এ ধরনের অনিয়মই বাস্তবে অনেক বেশি ঘটে।
সিকিউর ডেমোক্রেসি ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো স্টার্লিং ২০২০ সালের নির্বাচনের পরপরই জাতীয় আলোচনায় চলে আসেন। ওই বছর জর্জিয়ায় নির্বাচনী ফল নিয়ে ট্রাম্প যখন একের পর এক মিথ্যা দাবি করছিলেন, তখন তিনি ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকির নিন্দা না করায় প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছিলেন। এ সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে স্টার্লিং বলেন, এই আন্দোলনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, একটি নির্বাচনী চক্র দিয়েই নির্বাচনী ফল অস্বীকারের আন্দোলনের মৃত্যু হয় না। বিষয়টি নির্ভর করে নির্বাচন কতোটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে এবং নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা কতোটা কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তার ওপর। তিনি বলেন, সারা দেশের নির্বাচন কর্মকর্তারা সম্ভবত ষড়যন্ত্রতত্ত্বের বিস্তার ঠেকাতে সহায়তা করেছেন। কারণ, এবারের নির্বাচনের দিন মাত্র কয়েকটি ছোটখাটো সমস্যা ছাড়া ভোটগ্রহণ মোটামুটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। স্টার্লিং বলেন, সবকিছু এত মসৃণভাবে চলছিল যে, আমরা সবাই ভয় পাচ্ছিলাম, পাছে কোনো অঘটন ঘটে যায় কিনা।