৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হলো কংগ্রেসের অতি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। প্রতিটি সরকারের মতো প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে অর্থাৎ দুই বছর পর এ নির্বাচনের দিকে বিশ্বের কড়া নজর ছিল। এর আগের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রতি খুব সম্ভব এতটা বিশ্ববাসীর নজর আকৃষ্ট হয়নি। এর কারণ, এবার ট্রাম্প প্রশাসন, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্ব জুড়ে অজনপ্রিয় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ইরানে যুদ্ধ শুরু করেছেন। গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে সমর্থন দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়। গাজার মানুষকে উচ্ছেদ করে তাদেরকে তৃতীয় কোনো দেশে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন। তারপর সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন কেন্দ্র রিভেরা নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। শুধু তা-ই নয়। জর্ডান, সিরিয়া, ইরান, ইরাক সহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশকে নিয়ে একটি বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, ভূপ্রকৃতিকে পুরো পাল্টে দেয়ার একটি উন্মত্ত পরিকল্পনা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের আছে বলেই মনে হয়। ট্রাম্পের আশকারায় গাজায়, ইরানে, লেবাননে, সিরিয়ায়, জর্ডানের ওপর চোখ রাঙিয়ে কথা বলেন নিজ দেশে ক্ষমতায় নড়বড়ে নেতানিয়াহু। তারা গাজা, ইরান, লেবানন, সিরিয়ায় রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে। লাখ লাখ মুসলিমের রক্তে স্নান করেছেন নেতানিয়াহু। তার পরিণতিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তার হাতে পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে শক্তিশালী এই অস্ত্র ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে জানান দিয়েছে নিজেদের শক্তিমত্তা। কমপক্ষে অর্ধশতবার ‘শিগগিরই যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে’ বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু মার্কিনিরা তার সেই বাণীতে আস্থা রাখতে পারেননি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ, একের পর এক দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, অতি মাত্রায় শুল্ক আরোপ শুধু মার্কিনিদের জীবনকে দুর্বিষহ করেছে এমন নয়। একই সঙ্গে বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে ২০০৮ সালের পর ভয়াবহ এক মন্দা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অবস্থায় নিজ দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড নিচে নেমে আসে। সে অবস্থায় এবারের নির্বাচন ছিল কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জন্য সাধারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনী পরাজয়ের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। এই নির্বাচনে ডেমোক্রে?টদের জোয়ারে এমন অনেক রিপাবলিকান পরাজিত হয়েছেন, যাদের আসন আগে নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হতো। শক্তিশালী ডেমোক্রে?ট ভোটার উপস্থিতির পাশাপাশি রিপাবলিকান ভোটারদের হতাশা- এই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া এমন ফলাফল সম্ভব হতো না। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিঃসন্দেহে এই দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেছে। বিষয়টি ট্রাম্প নিজেও বুঝতে পারছেন।
এ বিষয়ে আটলান্টিক কাউন্সিলের উইলিয়াম এফ. ওয়েক্সলার মনে করেন, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। এর পাশাপাশি নির্বাচনের দিন সকালে তার বিস্ময়কর ঘোষণা- আগামী দুই মাসের মধ্যে ইসরাইলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেবেন। তার এই ঘোষণায় ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমে তার রাজনৈতিক মিত্রদের হতবাক করেছে। তিনি এই ঘোষণা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। এ ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন তার জন্য ডান ও বাম উভয় রাজনৈতিক শিবিরেই একটি জরুরি রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ইসরাইলে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে কাজে লাগিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোট। নির্বাচনের পর ইসরাইলে নতুন সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পাওয়ার কথা রয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা হারানোর আশঙ্কা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। এতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আইজেনকোটের সম্ভাবনাও কিছুটা বাড়তে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, চারটি কারণে রিপাবলিকানরা নির্বাচনে হেরেছেন। এর অন্তত দু’টি কারণ সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি তিনি যুদ্ধ বন্ধ করা, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন আনা এবং ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতি অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। আরও স্পষ্ট ভাষায় তিনি লিখেছেন, ‘কেন আমরা হেরেছি, তা সবাই জানে’ এবং ‘যুদ্ধই আমাদের পরাজয়ের কারণ’। ট্রাম্পের ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রও তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনি আরও লিখেছেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই আমরা ইসরাইলের বন্ধুদের সতর্ক করে আসছি যে, আমাদের দুই দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর সরাসরি কারণ ইসরাইল সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত। সরকারটি কাহানিস্ট রাজনীতিকদের ওপর নির্ভরশীল এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এমন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যেগুলোকে ইসরাইলের ভেতরেও দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইসরাইলের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই উদ্বেগকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। কেউ কেউ মনে করেছেন, এটি কেবল উগ্র বামপন্থিদের সমস্যা। এভাবে ডানপন্থিদের মধ্যেও ইসরাইলবিরোধী মনোভাব ক্রমশ বাড়ছে এ বিষয়টি তারা আমলে নেননি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের জন্য এই কৌশলগত হুমকি ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় কোনো ইস্যু ছিল না। কিন্তু এখন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটিই হতে হবে এক নম্বর অগ্রাধিকার।
নির্বাচনের আগে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করতে পারেন। এ ধরনের অভিযানের জন্য ট্রাম্প ইতিমধ্যে যুদ্ধপরিকল্পনা পর্যালোচনা করেছেন এবং সামরিক বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্যে আগাম মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব সিদ্ধান্তের নিজস্ব গতিশীলতা রয়েছে, যা সহজে থামানো যায় না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে পরাজয়ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা বাড়াতে ট্রাম্পকে উৎসাহিত করতে পারে, এমন ধারণা করা কঠিন ছিল না। গত সপ্তাহে একজন মার্কিন কর্মকর্তা ট্রাম্পের সম্পর্কে বলেছেন, তিনি যদি নিজেকে বিব্রত বা ক্ষমতাহীন মনে করেন, তাহলে বড় কোনো পদক্ষেপ নেবেন।
ইরানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের সম্পর্কে একটি ধারণাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাদের বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের আমলে জিম্মি সংকট, রোনাল্ড রিগ্যানের সময় ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি এবং জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে ইরাক যুদ্ধের সময় তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বলে মনে করে তেহরান। নিঃসন্দেহে ইরানের শাসকগোষ্ঠী এবারের নির্বাচনী ফলাফলকেও ওয়াশিংটনে তাদের নিজস্ব ধরনের ‘শাসন পরিবর্তনের’ আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখবে। ইরানের নেতারা যদি প্রকাশ্যে এমন মনোভাব ব্যক্ত করেন, তাহলে ট্রাম্পকে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করার ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তেহরানের বক্তব্যগুলো উস্কানিমূলক না হয়ে বরং উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে গেছে। দূর থেকে ট্রাম্পের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করা সব সময়ই কঠিন। তবে এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে নির্বাচনী ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর যে তাৎক্ষণিক আশঙ্কা ছিল, তা কমেছে বলে আশা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
তবে এই মুহূর্ত কেটে যাওয়ার পর ঝুঁকি আবারো বাড়তে পারে। ইরানের ভুল হিসাব করার এবং নিজেদের সামর্থ্যের অতিরিক্ত কিছু করতে যাওয়ার নজির রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প ইতিমধ্যে বলেছেন, আমি আগামী দুই বছর শুধু বসে বসে সবকিছুতে ভেটো দিতে চাই না। এর মানে হলো ক্ষমতার বাকি দুই বছর যেকোনো কিছু করতে হলে ডেমোক্রেটদের অনুমোদন নিতে হবে। যদি তিনি তাদের পরিকল্পনা, প্রস্তাবে ভেটো দেন, তাহলে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবও আনতে পারে ডেমোক্রেটরা। এমন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সম্ভবত ট্রাম্প বলেছেন, তাদের সব কিছুতে ভেটো দিতে চান না বা তাদের সঙ্গে মিলে কাজ করতে চান। ডেমোক্রে?টদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ আইন প্রণয়নের কর্মসূচি আটকে দিতে পারে। কিন্তু সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রয়োগে বাধা দেয়ার ক্ষমতা কংগ্রেসের খুব বেশি নেই। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প হয়তো এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন যে, আগামী দুই বছর তাকে তার সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হতে হবে। তাহলো নিজের তৈরি পরিস্থিতিতে ইতিহাসে একজন ‘পরাজিত’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া।
জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নেবেন। কিন্তু ট্রাম্পকে বুঝতে হবে, এ ধরনের যেকোনো চুক্তি মূলত ভ্যান্সের আলোচনায় তৈরি আগের সমঝোতা স্মারকের আদলেই হতে হবে। সমালোচকদের মতে, ওই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল। এ ধরনের একটি চুক্তি বরং এই ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করবে যে, ট্রাম্পের যুদ্ধ ছিল সম্পূর্ণ বিপর্যয়কর। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী সম্ভাবনা এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উত্তরাধিকার- সবকিছুরই ক্ষতি করেছে। তাই ট্রাম্প হয়তো শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন যে, পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো যুদ্ধে জয়লাভ করা। আর সেই হিসাব তাকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করতে প্ররোচিত করতে পারে। তা যদি এখনই না-ও হয়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এমন পদক্ষেপ নেয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
অন্যদিকে বড় এক বিপদের মুখে পড়তে পারে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ সৌদি আরব ও এর শাসকরা। কারণ, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ইরানের ঘোর শত্রু, যদিও তা পরে বন্ধুত্বে পরিণত হয়, যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এর মধ্যদিয়ে তিনি ট্রাম্পের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাছাড়া সম্প্রতি সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতিরা যে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে, তা থেকে রক্ষা পেতে মোহাম্মদ বিন সালমানকে জীবন বাঁচাতে এ প্রাসাদ থেকে ও প্রাসাদে আত্মগোপনে থাকার খবর এসেছে। এমন অবস্থায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার আহ্বান জানান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাকে মুখের ওপর না করে দিয়েছে। এ ইস্যুর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ইরানও। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে ইরানে হামলা চালাচ্ছে মিডিয়ার খবর অনুযায়ী তাতে গোপনে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়েছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। কিন্তু ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ইরান যেভাবে উচ্ছ্বসিত তাতে মোহাম্মদ বিন সালমানের আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর ইরানের ইনকিলাব স্কোয়ারে বিপুল পরিমাণ মানুষ বেরিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তারা উল্লাস করেছেন। তাদের হাতে ব্যানার দেখা গেছে। তাতে দেখা গেছে কাঁটাযুক্ত গদার আঘাতে ট্রাম্পের মুখ, চোখ রক্তাক্ত। এর মধ্যদিয়ে ইরানিদের মনোবল চাঙ্গা হয়ে উঠেছে তা পরিষ্কার। ফলে ইরানও যে এবার আরও শক্তি প্রদর্শন করবে তা নির্দ্বিধায় বলে দেয়া যায়। ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স পরিষ্কার স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের পরাজয় হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জার পরাজয় আর কি হতে পারে!
মূল কথা:
১. রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয় ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ এবং ইসরাইলের প্রতি তার সমর্থনের রাজনৈতিক মূল্য স্পষ্ট করে দিয়েছে।
২. ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের ট্রাম্পের ঘোষণায় দেশটির নতুন সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
৩. নির্বাচনের ফলাফল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলা বিলম্বিত করতে পারে। তবে রাজনৈতিক হতাশা থেকে পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প আরও বড় সংঘাতের পথে যেতে পারেন।
৪. ইরানও মাথা উঁচু করে আগের মতোই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। তারা জানে ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন।
৫. যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত সদস্যরা জানুয়ারিতে শপথ নেবেন। তার আগে পূর্বের কংগ্রেস বহাল থাকবে। এ সময়ের মধ্যে ট্রাম্প এলোমেলো কিছু করলেও করে বসতে পারেন।