আন্তর্জাতিক

তুরুপের তাস খেলে দিয়েছেন পুতিন

মোহাম্মদ আবুল হোসেন | আন্তর্জাতিক
অক্টোবর ২৪, ২০২৬
তুরুপের তাস খেলে দিয়েছেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সাবেক এই কেজিবি এজেন্টের কৌশলের কাছে কী ধরাশায়ী হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ব্যবসায়ী ডনাল্ড ট্রাম্প! ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পুতিন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব জুড়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই পুতিনের দ্বারস্থ হলেন ট্রাম্প। গত দেড় সপ্তাহে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পররাষ্ট্রনীতিকে পাশ কাটিয়ে প্রকাশ্যেই পুতিনকে আলিঙ্গন করেছেন। ক্রেমলিনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ শিথিল করেছেন। একই সময়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন। অথচ জেলেনস্কিই রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজের দেশকে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। গত ৯ই অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কিনবে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে পুতিনের কাছ থেকে কোনো ছাড় চাওয়া হয়নি। এরপর তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার জন্য ইউক্রেনের ওপর চাপ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। তার অর্থ কোনো ছাড় না দিয়ে তুরুপের তাস খেলে দিয়েছেন পুতিন। 
গত বছরের অক্টোবরে রাশিয়ার দু’টি বৃহত্তম তেল কোম্পানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, এসব আলোচনা ‘কোনো কাজেই আসছে না’। 


আলাস্কায় লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে রুশ নেতাকে স্বাগত জানিয়েও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। বুদাপেস্টে পরিকল্পিত শীর্ষ বৈঠকও ভেস্তে গিয়েছিল। পুতিন হয়তো তাকে কেবল ব্যবহার করছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছাই তার নেই- এমন ধারণা প্রকাশ করতে শুরু করেন ট্রাম্প। এতে ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্কে ফাটল ধরার ক্ষীণ আশাও দেখা দিয়েছিল ইউক্রেনের মধ্যে। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট খেলছিলেন আরও দীর্ঘমেয়াদি এক খেলা।
এখন, তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঠিক এক বছর পর, ইউক্রেন প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়েই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যের এতটা কাছাকাছি আগে কখনো পৌঁছাননি পুতিন।
গত দেড় সপ্তাহে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পররাষ্ট্রনীতিকে পাশ কাটিয়ে প্রকাশ্যেই পুতিনকে আলিঙ্গন করেছেন এবং ক্রেমলিনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ শিথিল করেছেন। একই সময়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন। অথচ জেলেনস্কিই রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজের দেশকে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। গত ৯ই অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কিনবে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে পুতিনের কাছ থেকে কোনো ছাড় চাওয়া হয়নি। এরপর তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার জন্য ইউক্রেনের ওপর চাপ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এই শোধনাগারগুলোতে হামলাই ছিল মস্কোর বিরুদ্ধে কিয়েভের সবচেয়ে কার্যকর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার। এরই মধ্যে ট্রাম্প নিজে যে রাশিয়াবিরোধী নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন, সেগুলোর প্রয়োগও স্থগিত করা হয়। ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘সত্যি বলতে, ইউক্রেন প্রশ্নে রাশিয়া ভালোই করছে।’


যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা ট্রাম্পের ডিজেল কেনার সিদ্ধান্তের অন্যতম রাজনৈতিক হিসাব। তবে এই পদক্ষেপ এবং এর পরবর্তী ঘটনাগুলো পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের স্পষ্ট অনুরাগেরও প্রতিফলন। রাশিয়ার নেতা এই অনুরাগকে যত্নসহকারে কাজে লাগিয়েছেন। একই সময়ে তিনি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন এবং ট্রাম্পকে তার কাঙিক্ষত শান্তির পুরস্কার থেকে বঞ্চিত রেখেছেন। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চুক্তি ও ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করেছে। ইউক্রেনের জন্য সহায়তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে এ বিষয়ে সতর্ক ছিল। পুতিন যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তি না করার ক্ষেত্রে তারা মূলত জো বাইডেন প্রশাসনের নীতি অনুসরণ করছিল।


এখন হোয়াইট হাউস বলছে, এ ধরনের চুক্তি রাশিয়াকে শান্তির সুফল বুঝতে সাহায্য করবে। বুধবার ক্রেমলিন জানায়, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন আগামী মাসে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন। তবে এসব আলোচনায় তুলনামূলকভাবে নিচু পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। একই সঙ্গে একজন রুশ কর্মকর্তা এখনই একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ক্রেমলিনের আগ্রহকে খাটো করে দেখিয়েছেন। নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে মস্কো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সমকক্ষ বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে নভেম্বরে তিন দেশের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তাবও সামনে এনেছে তারা।
পুতিনপন্থি সাংবাদিক মারিনা আখমেদোভা বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে, বিজয় ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভূখণ্ড মুক্ত করেছি, বিষয়টি শুধু তা-ই নয়।’ তিনি ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত ভূখণ্ডের কথা উল্লেখ করছিলেন। তার ভাষায়, ‘বিষয়টি এও যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক রাখছে।’ অনেক বিশ্লেষকের মতে, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশ্নে শুরু হওয়া একটি যুদ্ধের সমাধানে ট্রাম্প যে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দিচ্ছেন, তা ভুল পথ। তবু বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ সফরের সময় উইটকফ বলেন, ডিজেল চুক্তি হলো ‘একসঙ্গে কাজ করে আমরা কী অর্জন করতে পারি, তার আরেকটি উদাহরণ’। পাল্টা পুতিন রাশিয়ার সার বিক্রির বিষয়ে একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। সামনে আরও কয়েকটি সম্ভাব্য চুক্তি রয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি জায়ান্ট লুকঅয়েলের বিদেশি সম্পদ এমন একটি বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছে বিক্রির বিষয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনের আলোচনা হয়েছে, যে গোষ্ঠীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও রয়েছে। এ খবর জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটি আরও জানিয়েছে, ইউরোপে ইউক্রেনের মধ্যদিয়ে পাইপলাইনে সরবরাহ করা বিপুল পরিমাণ রুশ গ্যাসের ক্রয় আবার শুরু করার ধারণাও মার্কিন আলোচকেরা সামনে এনেছেন।


সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকের পর পুতিনের অর্থনৈতিক বিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ‘আরও শক্তিশালী হবে-এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই’। তিনি জানান, উইটকফের সঙ্গে পুতিন শুধু সার বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তি নিয়েই আলোচনা করেননি; বরং ‘ডেটা সেন্টার, জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রকল্প এবং জ্বালানি সহযোগিতার মতো নানা বিষয়’ নিয়েও কথা বলেছেন।
ট্রাম্পের ব্যক্তিকেন্দ্রিক কূটনীতির ধরনকে কাজে লাগিয়ে পুতিন রাশিয়ার জন্য লাভজনক পদক্ষেপগুলোকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি তার ব্যক্তিগত উপকার হিসেবে তুলে ধরছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ডিজেল বিক্রিও এর একটি উদাহরণ। বুধবার মিশিগানের ৭৪ বছর বয়সী শিক্ষক স্টিফেন জেমস হাবার্ডকে মুক্তি দেয়ার ঘটনাটিও একইভাবে সামনে আনা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাবার্ডকে রাশিয়ার হাতে ‘অন্যায়ভাবে আটক’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছিল। ট্রাম্প হাবার্ডের মুক্তিকে তার প্রতি পুতিনের উচ্চ সম্মানের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেছেন। বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে হাবার্ডকে মুক্তি দেয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে তৃতীয় পুরুষে উল্লেখ করে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিময়ে কিছুই দিতে হয়নি।’
তবে বুধবার পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে রাশিয়া হাবার্ডকে মুক্তি দিত না। বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেল চুক্তি এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যবসায়িক চুক্তির সম্ভাবনা এই মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করেছে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর পুতিন যে ধরনের কূটনৈতিক বিজয় চাইছিলেন, এই ঘটনাগুলো তাকে তা এনে দিয়েছে। বার্লিনে কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের পরিচালক আলেকজান্ডার গাবুয়েভ বলেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই সামান্য উদ্যোগও পুতিনকে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের সম্ভাব্য সহায়তাকারী বা সহযোগী হিসেবে নিষ্ক্রিয় করে দিতে বাস্তবিক অর্থেই সাহায্য করেছে।


ডিজেল চুক্তি মস্কোর দীর্ঘদিনের একটি যুক্তিকে আরও জোরালো করেছে। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী পশ্চিমা দেশগুলো সস্তা রুশ জ্বালানি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছাড়া নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে-এমনটাই দাবি করে আসছে মস্কো। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়াকে উপেক্ষা করা যে সম্ভব নয়, তা প্রমাণ করতেই পুতিন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করেছেন। রাশিয়ার যুদ্ধকালীন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে লেখা ‘উই শ্যাল আউটলাস্ট দেম’ বইয়ের লেখক হান্না নোটে বলেন, গত বছর জুড়েই রাশিয়া এই ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধের নিষ্পত্তি না করেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে বিভিন্ন কাজ করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক চুক্তি ছিল না। তারা মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল। আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিল। পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা করতে চেয়েছিল। নোটের মতে, রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা করা যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে দেখা সম্ভব। অর্থাৎ, একদিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করা। যুদ্ধ বন্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসন যে প্রণোদনা দিচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন নোটে।


রাশিয়া-বিষয়ক বিশ্লেষক স্যাম চারাপ, যিনি র‌্যান্ড করপোরেশনে কাজ করেন, এবং অন্য বিশ্লেষকরা বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের উষ্ণতা বৃদ্ধির মধ্যে একটি পরিহাস রয়েছে। একসময় মস্কোর শর্তে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন সেই সমর্থন আর আগের মতো নির্ণায়ক ভূমিকা নাও রাখতে পারে। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপ এখন আরও বড় ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে পুতিনের সঙ্গে ইউরোপের বহু নেতার সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের গবেষণা পরিচালক জেরেমি শাপিরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে পাওয়াটা এখন আর আগের মতো বড় পুরস্কার নয়। দুই বছর আগে এটাই ছিল পুরো খেলা। এখন এটি অনেক ছোট একটি অংশ। শাপিরো বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প আবার তার অবস্থান বদলে ফেলতে পারেন- এ বিষয়টিও ক্রেমলিনের অজানা নয়। তার মতে, রাশিয়ার নীতিনির্ধারকরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ভীষণ অসংগতিপূর্ণ’ বলে মনে করেন এবং রাশিয়ার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধের অভাব রয়েছে।


(তথ্যসূত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস)

আন্তর্জাতিক'র অন্যান্য খবর