এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নতুন এক পরিস্থিতি। ৪৩ বছর ধরে দলের জন্য বটবৃক্ষ হয়ে থাকা আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বের কাঁধে দলের ভার। ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে সফল দলটির সামনে এখন দেশের নেতৃত্ব দেয়ার হাতছানি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার কঠিন চ্যালেঞ্জ। ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে জীবন দেয়া সহস্র ছাত্র-জনতার স্বপ্নের বৈষম্যহীন নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে মানুষের পর্বতসম প্রত্যাশা দলটির সামনে। এই প্রত্যাশা আর স্বপ্নের সারথি হয়ে দল হিসেবে সক্ষমতা প্রমাণের সবচেয়ে বড় এবং কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দলটির নতুন নেতৃত্ব। ভবিষ্যৎ স্বপ্নযাত্রার আগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি উৎরাতে হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে উত্তরণের মাধ্যমে। এই নির্বাচনে দল ও জোটের সাফল্য অর্জন করতে সামনের সময়টি বিএনপি এবং তার মিত্রদের জন্য এক বিশাল যুদ্ধক্ষেত্র। ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে অনেকটাই বদলে গেছে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ। ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করা আওয়ামী লীগ এখন পতিত এক রাজনৈতিক দল। ভুল স্বীকার না করে ভিন্ন কৌশলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরতে দলটির চেষ্টা হালে পানি পাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসনের সহযোগী হওয়া দলগুলোও অকূলপাথারে। রাজনীতির ময়দানে মূল্যহীন। এমন এক পরিস্থিতিতে এক সময়ের মিত্র বর্তমানে ভিন্ন দুই রাজনৈতিক শিবির ভোটের মাঠে। বিএনপি ও তার সমমনা দলের নির্বাচনী নেতৃত্ব ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা তারেক রহমানের কাঁধে। এক/এগারোর রাজনৈতিক ঘূর্ণিপাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া তরুণ তারেক রহমান এখন পরিণত এক রাজনীতিক। বিনয়, ব্যক্তিত্ব আর দায়িত্বশীলতায় নিজের সক্ষমতা প্রমাণের প্রাথমিক পর্ব তিনি পার করেছেন অসম্ভব দক্ষতায়। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুরনো রাজনীতির অনেক কিছুই বদলে ফেলতে হবে এমন বার্তা তিনি দিয়ে যাচ্ছেন নিজের কাজ আর নির্দেশনায়। জনসমক্ষে কথামালা দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করার চেয়ে কাজ আর দক্ষতায় মানুষের কাছে যাওয়া যে শক্তিশালী কৌশল সেটিই বোধহয় রাজনীতিক তারেক রহমান রপ্ত করেছেন দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে। গণতন্ত্রের পাদপীঠ খ্যাত বৃটেনের রাজনীতি কাছে থেকে দেখা ব্যক্তি তারেক রহমান দেশের রাজনীতিতে নতুন উদাহরণ তৈরি করে সামনে এগোবেন এমন প্রত্যাশাও দৃঢ় হয়েছে ইতিমধ্যে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও দলীয় সঞ্জীবনী শক্তি। তার নীতি ও আদর্শ শুধু বিএনপি নয় দেশপ্রেমিক রাজনীতির এক অনন্য অধ্যায়। জিয়াউর রহমানের অকালে শাহাদাত বরণের ঘটনায় থেমে যাওয়া বিএনপি’র ত্রাতা হয়ে ওঠা বেগম খালেদা জিয়া অসামান্য এক অধ্যায় রেখে প্রয়াত হয়েছেন। দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর ন্যায়ের প্রতি অটল ও অবিচল থাকা একজন মহীরুহ হয়ে ওঠা খালেদা জিয়ার প্রয়াণ এই দেশের রাজনীতির জন্য বড় শূন্যতা। একই সঙ্গে তার এই প্রয়াণ ইতিহাসে যুক্ত করেছে নবতর এক অধ্যায়। মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার প্রতিদান মানুষ যেভাবে দিয়েছে তা শুধু দেশে নয় পুরো বিশ্বেই বিরল। বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনায় দলমতনির্বিশেষে কোটি কোটি মানুষের প্রার্থনা। বেগম জিয়ার জানাজা ও শেষ যাত্রায় প্রায় পুরো দেশ পাশে থাকার যে নজির তৈরি করেছে তা শুধু বেগম জিয়াকেই নয়, ন্যায়, নীতি এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত আদর্শিক রাজনীতিকেও মহিমান্বিত করেছে। বেগম জিয়ার প্রতি মানুষের এই বিরল সম্মান বিএনপি এবং বিএনপি’র নতুন নেতৃত্বের প্রতিও সমুদ্রসমান দায়িত্ব অর্পণ করেছে। বেগম জিয়া এবং জিয়া পরিবারের প্রতি মানুষের এই সম্মান এবং প্রত্যাশা ব্যক্তি তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে যা তার একার পক্ষে বহন করা অনেকটাই দুঃসাধ্য যদি না তার দল এবং দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী দেশের, মানুষের প্রতি নিজেদের দায় এবং দরদের জায়গাটি উপলব্ধি করতে না পারেন। বদলে দেয়ার বার্তা নিয়ে দেশে ফেরা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে রাজনীতিতে ইতিবাচক হাওয়া বইছে। এতে আশাবাদী হচ্ছে মানুষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বোদ্ধারাও মনে করছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক যুগে প্রবেশ করছে বিএনপি। তার নেতৃত্বে বিএনপি দেশ এবং মানুষের জন্য বড় কিছু করে দেখাতে সক্ষম। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ‘জনতার চোখ’-এর সঙ্গে আলাপে বিএনপি’র সামনে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি চ্যালেঞ্জের বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপি’র সামনে যে চ্যালেঞ্জ আছে এর মধ্যে প্রথমটি হলো- এমন একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা, যেই বয়ান দেশের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য হবে এবং এই বয়ানে মানুষের অনুভূতির প্রকাশ থাকবে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর যারা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন তাদের ক্ষোভ প্রশমিত করা। তৃতীয়ত, বিএনপি দেশের জন্য কী করতে চায় সেটা সহজভাবে বোধগম্য উপায়ে মানুষের কাছে তুলে ধরা।
প্রফেসর মাহবুব উল্লাহ বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপি’র সামনে চতুর্থতম চ্যালেঞ্জ হলো বিএনপি তার প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো নিয়ে কতোটুকু সমালোচনা করবে সেটা পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করা। দেশে যে পরিস্থিতি এবং আধিপত্যবাদের যে চাপ, সে চাপের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ঐক্য খুব প্রয়োজন। সুতরাং এমন কোনো কথা বলা যাবে না যাতে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়। কিন্তু তার পাশাপাশি রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বিষয়ের সমালোচনা থাকবে, যেটা গণতন্ত্রসম্মত। পঞ্চমতম চ্যালেঞ্জ হলো বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। এই কাজটি করতে হবে দায়িত্ব এবং দক্ষতার সঙ্গে। ষষ্টত, গণভোট সম্পর্কে বিএনপি এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো মত দেয়নি। কিন্তু এই মুহূর্তে গণভোট আলোচিত হচ্ছে। গণভোট সম্পর্কে জনগণের করণীয় কী বিএনপি’র পক্ষ থেকে তা পরিষ্কার ও স্পষ্ট করা। যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর, তাই এ বিষয়ে বলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সপ্তম চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রফেসর মাহবুব উল্লাহ বলেন, জনগণের কাছ থেকে, বা পত্র- পত্রিকায় দলের প্রার্থীদের আয়, নির্বাচনী ব্যয়, তাদের জীবন- জীবিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এসবের যুক্তিসঙ্গত এবং বিশ্বাসযোগ্য জবাব দেয়া জরুরি এবং নেতাদের সামনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
এ ছাড়া, বিগত সময়ে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তাদের যে সমস্ত ভুল-ভ্রান্তি বা যেসব কর্মকাণ্ড অসংযত ছিল সেগুলোর ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হতে পারে সময়ের সাহসী এবং মানুষের প্রতি ভবিষ্যৎ দায় প্রকাশের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। দলটির জন্য নবম চ্যালেঞ্জ হিসেবে এই অধ্যাপক বলেন, দুর্নীতিকে কীভাবে হ্রাস করা হবে তা এখনই স্পষ্ট করতে হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এটি দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। এ ছাড়া দেশ রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ রক্ষার জন্য বাহিনীগুলোকে আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে সে উদ্যোগ বিএনপি অব্যাহত রাখবে কিনা সেটা জনগণের কাছে পরিষ্কার করতে হবে।
নিজের বিশ্লেষণে এগারোতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে তাদের বৈরী শক্তি কারা, সে সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা নিজেদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। যার ভিত্তিতে নিজেদের কূটনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর নুরুল আমিন বেপারীর ধারণা, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেক্ষেত্রে তিনি পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কোন পলিসি গ্রহণ করবেন? ভারতের সঙ্গে তার নীতি কেমন হবে? এ নিয়ে কৌতূহল আছে। এটি তারেক রহমান এবং তার দলের সামনে চ্যালেঞ্জ। ‘জনতার চোখ’কে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মি. বেপারী এও বলেন, তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনীতিক বেগম খালেদা জিয়া অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবেন এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।
এই রাষ্ট্র বিজ্ঞানী বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা। বিশেষ করে বিরাটসংখ্যক ব্যাংকের নাজুক অবস্থা এবং গত ১৫ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে নতুন সরকারকে। এ ছাড়া ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করাটাও ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জের হবে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, ভবিষ্যৎ পার্লামেন্ট সুন্দরভাবে চলবে এবং বিরোধী দল সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারবে। ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গণতন্ত্রের গুণগত উন্নয়ন হবে। শুধু বিশ্লেষক নন, দলের নেতাকর্মীরাও দলের জন্য সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ দেখছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে কিছু ঘটনা দলের জন্য বিব্রতকর অবস্থা তৈরি করেছে। অনেকে বলছেন, বিএনপি’র সামনে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখাটা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকা অনেকে বিএনপিতে ভেড়ার চেষ্টা করছেন। দলের দুঃসময়ে পাশে না থাকা অনেককে এখন সুবিধা ভোগের মিছিলে দেখা যাচ্ছে। দল ও নেতার বন্দনার তুফান ছুটিয়ে কেউ কেউ নিজের আখের গোছানোর চেষ্টায় আছেন। মতলবি চিন্তার এই শ্রেণির মানুষরাই অতীতে রাজনীতি এবং সরকারকে কক্ষচ্যুত করে বিপথে চালিত করেছে। রাজনৈতিক দল ও সরকারকে মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। দলের নেতৃত্বের এখন বড় চ্যালেঞ্জ সুযোগসন্ধানী এইসব মানুষদের চিহ্নিত করা এবং দুঃসময়ে মামলা, হামলা, জেল-জুলুম উপেক্ষা করে দলের জন্য মানুষের জন্য কাজ করা নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন করা। আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের পাশে থাকা এবং সম্মান ও মর্যাদা দেয়ার কাজটি চালিয়ে যাওয়াও সামনের সময়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনে করছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশ্য লন্ডনে বসেই এই কাজটি শুরু করেছিলেন। এই কার্যক্রম চালাতে তিনি নিবেদিত কিছু সংগঠনও গড়ে তুলেছেন। ভবিষ্যতে নির্মোহভাবে এসব সংগঠনের কার্যক্রম ধরে রাখাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কিছু নেতা এখনো সক্রিয় রয়েছেন। প্রকাশ্যে বা আড়ালে কাজ করছেন। অবশ্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজের দক্ষতা ও কৌশলে প্রার্থী মনোনয়ন ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এর ফলে দলে এবং সমমনা জোটে যে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হওয়ার কথা বাস্তবে তার সামান্যই হয়েছে। সামনে ভোটের মাঠে দলের নেতাকর্মীদের আরও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তিনি আর কী কী পদক্ষেপ নেন সেটা এখন দেখার বিষয়। ইতিমধ্যে তারেক রহমানের মাঠের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে অনেকটা ‘অরাজনৈতিক’ কর্মসূচি নিয়ে তিনি সফরে বের হচ্ছেন। ২১শে জানুয়ারির পর তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। খুব সম্ভবত বরাবরের মতো পুণ্যভূমি সিলেট থেকে তিনি ভোটের মাঠে নামছেন। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশের নানা প্রান্তে তিনি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে দলীয় ঐক্য ও দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেবেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ক্ষমতায় গেলে একটি জাতীয় সরকার গঠনের কথা আগে থেকেই বলে আসছেন তারেক রহমান। সম্ভাব্য সেই জাতীয় সরকার গঠনের সঙ্গে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আলোচনাও আছে।
এমন অবস্থায় বিএনপি’র সামনে চ্যালেঞ্জ যতটা বড় তার চেয়ে বড় সম্ভাবনাও অপেক্ষা করছে। ২৫শে ডিসেম্বর নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উষ্ণ সংবর্ধনা নিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন তারেক রহমান। লাখ লাখ মানুষের সমাগমে তার এই রাজসিক প্রত্যাবর্তন রাজনীতির জন্য নতুন বার্তাবহ ঘটনা। সেই দিনের সংবর্ধনায় দেয়া বক্তব্যে তিনি মার্টিন লুথার কিং- এর বিখ্যাত উক্তি উচ্চারণ করে বলেছেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বা ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’। অনেকে বলছেন, তারেক রহমান বা তার দলের এই পরিকল্পনাই হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রথম ভিত্তি। আর সেই ভিত্তির শুভ সূচনা করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলটির সামনে ভীষণ কঠিন এক পরীক্ষা। ্ত