কভার স্টোরি

আওয়ামী লীগের ভোট টার্নিং পয়েন্ট

লুৎফর রহমান | এক্সক্লুসিভ
জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
আওয়ামী লীগের ভোট টার্নিং পয়েন্ট

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবার ভোটে নেই। নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতিও নেই দলটির। দলের সভাপতিসহ শীর্ষ নেতাদের অনেকে পালিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন। দেশে থাকা নেতারা হয় আত্মগোপনে না হয় জেলে। আর তৃণমূলের যেসব নেতাকর্মী এলাকায় থাকছেন তারাও আর দলীয় রাজনীতি করতে পারছেন না। ছাত্র-জনতাকে গণহত্যার দায়ে দলটির বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে সরকার। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনও হারিয়েছে একই কারণে। নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন ১৬ বছরের টানা শাসনে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠা দলটির নেতাকর্মীরা। ভোটে না যাওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। নির্বাচনে দলের এই অবস্থান থাকলেও নানা কারণে দলটির কর্মী-সমর্থকদের অনেকে ভোটে যাবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। আর আওয়ামী লীগের এই কর্মী-সমর্থকদের ভোট কোথাও কোথাও টার্নিং পয়েন্টও হতে পারে। এই ভোট কোনো কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে জয়-পরাজয়ও নির্ধারণ করে দিতে পারে। বোদ্ধারা বলছেন, এটি নির্ভর করবে কোন আসনে দলটির নেতাকর্মীরা ভোটে কেমন সাড়া দেন তার ওপর। অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো দলটির জন-সমর্থন নিয়েও নানা আলোচনা আছে। বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই ক্ষমতা ধরে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। এ কারণে দলটির প্রতি জনআস্থার বিশ্বাসযোগ্য কোনো তথ্য কোথাও নেই। এর আগে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ী ভোটের হিসাবে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের ভোট প্রায় কাছাকাছি ছিল। নানা হিসাবনিকাশে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আর আগের মতো নেই। আওয়ামী লীগের জন-সমর্থন কমার কারণেই তারা ২০১৪ সালে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। যে কারণে ওই নির্বাচন অনেকটা বিনা ভোটের নির্বাচনে রূপ নেয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ভিন্ন কৌশল বেছে নিয়েছিল। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কব্জায় রেখে বিরোধীদের চোখে ধুলো দিয়ে রাতেই ভোট করে ক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়। এই দুই নির্বাচনের মাধ্যমে দলটির প্রতি জনআস্থা একেবারে তলানিতে নেমে যায়। যার ফলে পরবর্তী ২০২৪ সালের নির্বাচনও বিরোধী দলকে বাইরে রেখে করার পরিকল্পনা সাজায় দলটি। আমি আর ডামির এই নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখা নিশ্চিত করতে পারলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতির সঙ্গে দেশ থেকে পালাতে হয় দলের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতাদের। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের ভোটার কতো আছে তা সঠিকভাবে বলা মুশকিল। অনেকে বলছেন, আগের তিনটি নির্বাচনে বেশির ভাগ আসনে ১০ থেকে ২০ শতাংশ ভোটার গেলেও তা বাড়িয়ে দেখানো হয়। তাই দলটির জনসমর্থন এর চেয়ে আরও কম হবে। দলটির সমর্থন এবং ভোটার কমে গেলেও এটি ভোটে বড় প্রভাব রাখবে এমনটা মনে করছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলো। আর এ কারণেই এইসব দল আওয়ামী লীগের ভোটারদের বিষয় মাথায় রেখে নির্বাচনী কৌশল ঠিক করেছে। কোনো কোনো দল পতিত সরকারের ভোটারদের বিষয় চিন্তা করে দলীয় প্রার্থীও ঠিক করেছে কোথাও কোথাও। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও ভোট নিয়ে নানা হিসাবনিকাশ করছেন। 
 

দল ভোটে বারণ করলেও স্থানীয় নানা সমীকরণে অনেককে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটে যাওয়া এই সমর্থকদের ভোট কোনো নির্দিষ্ট দলের বাক্সে যাবে- এটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ এই ভোটাররা যেসব হিসাব মাথায় নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন ভোটও সেই হিসাবে দেবেন। এই অবস্থান আসন ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। নির্বাচনের আগেই বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ভিড়েছেন। সেটা এখনো অব্যাহত আছে। দলটির কর্মীরা রুষ্ট হতে পারেন এমন কথাবার্তাও কম বলছে কোনো কোনো দল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর অবস্থানে থাকা দলগুলোও এখন এ নিয়ে আগের মতো সরব নয়। স্থানীয় পর্যায়ে দলটির নেতাকর্মীদের নামে হওয়া মামলার বিষয়ে কোনো কোনো দলের পক্ষ থেকে অযথা হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। যা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য স্বস্তির বিষয়। 
 

ভোটের হিসাবে দেশে চারটি সাধারণ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ হিসেবে ধরা হয়। এর মধ্যে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন রয়েছে। এই নির্বাচনগুলোতে সব দলের অংশগ্রহণ ছিল। ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। ওই চার নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পায় ৩০.০৮ শতাংশ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭.৪৪ শতাংশ, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০.১৩ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৮.০৪ শতাংশ। যদিও এক/এগারোর সরকারের অধীনে হওয়া ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন ছিল। আওয়ামী লীগের এই ভোটের হার পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে নিচে নেমেছে। এটি এখন কোনোভাবেই ২০-এর বেশি নয় বলে মনে করা হয়। সর্বোচ্চ এই সংখ্যাটি ধরলেও দলটির সব ভোটার কেন্দ্রে যাবেন না। ভোট দিতে যাবেন হয়তো এর একটি অংশ। তবে সংখ্যায় অল্প হলেও কোনো কোনো অঞ্চলে এই ভোট বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বরিশাল, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের কিছু আসনে দলটির ভোটের প্রভাব এখনো রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। 
 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়া নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। যেসব প্রার্থী দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন এবং ওই প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি নির্ভরযোগ্য মনে হবে তাদের প্রতি ভোটের ঝোঁকও থাকবে। এ ছাড়া ব্যবসা, পেশা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ বিবেচনায়ও অনেকে ভোটের বাক্স নির্ধারণ করবেন। 
 

যদিও আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে সরাসরি কোনো দলই কিছু বলছে না। বিএনপি এবং জামায়াত জোটের নেতারা বলছেন, দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও নেতাকর্মীদের ভোটে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই তারা চাইলে যে কাউকে ভোট দিতে পারেন। এটি তাদের অধিকার। 
 

আওয়ামী লীগেরও অনেক নেতাকর্মী ভোট দিতে আগ্রহী। কারণ তারাও দলের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত। দলের ফ্যাসিবাদী আচরণ, ’২৪-এর আন্দোলনে নৃশংস বলপ্রয়োগকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না। দলের এই অংশটি শীর্ষ নেতৃত্বের বর্তমান অবস্থানকেও সমর্থন করেন না। এমন নেতাকর্মীরা ভোটে যাবেন এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন- এমনটা ধারণা করা হচ্ছে। 
 

আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে রাখার বিষয়েও কিছু আলোচনা ছিল। রিফাইন আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে রাখার বিষয়ে এক ধরনের চিন্তা থাকলেও পরে অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর প্রতিক্রিয়ায় এই প্রক্রিয়া থেমে যায়। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়েও মত-দ্বিমত ছিল। জামায়াত, এনসিপিসহ অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া অনেক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে জোরালো দাবি তুলে। তবে এক্ষেত্রে বিএনপি ছিল ধীরে চলো নীতিতে। পরে অবশ্য আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে সমর্থন দেয় দলটি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের সহযোগী জাতীয় পার্টি অবশ্য নির্বাচনে আছে। নানা সংশয় নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে নেমেছেন। দলটির নির্বাচনে অংশ নেয়ার পেছনে বড় শক্তি আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি নির্বাচনের বাইরে থাকাকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে তেমনি নির্বাচনে থাকাটাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। কারণ নির্বাচনে না থাকলে বা বর্জন করলে অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো দলটিকে নিষিদ্ধের দাবি তুলবে। এই চিন্তা থেকে নির্বাচনে নামলেও এখনো নেতারা প্রচারণা চালাতে পারছেন না শক্তভাবে। কারণ নেতাদের কেউ কেউ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রকাশ্য সহযোগী ছিলেন। আবার কেউ কেউ দলীয় অবস্থানের কারণে এলাকায় যেতে পারছেন না। অভ্যুত্থানের পর দলটি ভাঙন এবং মতবিরোধে বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের ভোটকেই মাঠে টিকে থাকা এবং নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার একমাত্র উপায় হিসেবে দেখছেন নেতারা। 
 

অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট থেকে চরমোনাই’র পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বের হওয়ার পেছনেও অন্য কারণ দেখছেন কেউ কেউ। দলটি  বেশির ভাগ আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত জোটের বিপরীতে নিজস্ব ভোটে এসব প্রার্থী সুবিধা করতে পারবেন এমনটা দলের নেতারাও ভাবছেন না। বিকল্প না পেলে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কোথাও কোথাও হাতপাখায় ভোট দিতে পারেন বলে আলোচনা আছে। এ ছাড়া শেষ মুহূর্তে কোনো কারণে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে জাপা, ইসলামী আন্দোলন আওয়ামী লীগের ভোটের উপর ভর করে বিকল্প অবস্থান নিতে পারে বলেও আলোচনা আছে। 
 

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের বড় শক্তি এটি অনেক আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। এবারের ভোটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট টানতে দলগুলোও নানা কৌশল নিয়েছে। প্রথম বারের মতো কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যকে দলীয় প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামী। খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হচ্ছেন ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী। যদিও শুরুতে এই আসনে বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর শেখ আবু ইউসুফকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল জামায়াত। অভ্যুত্থানের পর অন্য ধর্মের লোকজনকে নিয়ে জামায়াত কমিটিও করেছে। বিএনপি আগের মতো এবারো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন সদস্যকে দলীয় প্রার্থী করেছে। দলটি বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনে সোমনাথ দে-কে দলীয় প্রার্থী করেছে। তারা দুজনই আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 
 

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোতে ভোটের ব্যবধান অল্প হলেও তা নির্বাচনী ফল গড়ে দেয়। চারটি নির্বাচনেই এমনটি দেখা গেছে। যেমন ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল মোট ৩০.৮ শতাংশ ভোট এবং তারা ১৪০টি আসনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩০.১ শতাংশ ভোট, কিন্তু তাদের প্রাপ্ত আসন ছিল মাত্র ৮৮টি। মাত্র ০.৭ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি আওয়ামী লীগের চেয়ে ৫২টি বেশি আসন পেয়েছিল। 
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩৭.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে। বিএনপি পেয়েছিল ৩৩.৬ শতাংশ ভোট এবং তারা ১১৬টি আসনে বিজয়ী হয়। 
 

২০০১ সালের নির্বাচনেও একই চিত্র ছিল। এই নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল ৪০.৯৮ শতাংশ ভোট এবং তারা ১৯৩টি আসনে জয়ী হয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৪০.২ শতাংশ ভোট। কিন্তু আসন ছিল মাত্র ৬২টি। ভোটের এই জটিল অঙ্ক এবারের নির্বাচনে অবশ্য কার্যকর হবে না। এবার  ভোটের মাঠে লড়াই হচ্ছে এক সময়ের দুই মিত্র বিএনপি এবং জামায়াত জোটের মধ্যে। তাই ভোটের অঙ্কেও নতুন হিসাব। এ হিসাবে আওয়ামী লীগের ভোট দুই পক্ষেরই বড় ভাবনার বিষয়। 

এক্সক্লুসিভ'র অন্যান্য খবর