নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এবং চার উপদেষ্টার দৌড়ঝাঁপ

বিশেষ সংবাদদাতা | এক্সক্লুসিভ
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এবং চার উপদেষ্টার দৌড়ঝাঁপ

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব বিশ্বব্যাপী। পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে সোশ্যাল মিডিয়া কোথাও সফল, কোথাও ব্যর্থ। তবে প্রভাব অনেকখানি। মানুষ বিশ্বাস করে, আবার করেও না। মুহূর্তেই আলোড়ন সৃষ্টি করে। ভিত নাড়িয়ে দেয়। তবে সব খবর খবর নয়।  অনেক খবরই থাকে রংচং মাখা, বাস্তবের ঠিক উল্টো। ফলে মানুষ হতাশ হয়। প্রতিক্রিয়া হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাপক। ভুয়া খবরের ছড়াছড়ির মধ্যেও কিছু ভালো খবর থাকে। বেশির ভাগ খবরের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সঠিক খবরের জন্য মানুষ একাধিক সূত্রের শরণাপন্ন হয়। বাংলাদেশেও একই পরিস্থিতি। 


সোশ্যাল মিডিয়া এখন ঘরে ঘরে। মুহূর্তেই সব খবর পৌঁছে যায়।  শুরু থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। যদিও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ধরা যাক সামপ্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা। ভালোমন্দ দু’টাই ছিল। মানুষ উপকৃত হয়েছে। আবার বিভ্রান্তও হয়েছে অনেক। ব্যক্তিগত কুৎসা মানুষকে আহত করেছে। সৃষ্টি করেছে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক বোঝা বড় কঠিন ছিল। দিনের শেষে অবশ্য মূলধারার খবরের পেছনেই মানুষজন ছুটেছেন। তারপরও বলবো, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রয়োজন আছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া ইচ্ছা করলে সমাজের চেহারা পাল্টে দিতে পারে। অনেক খবর মূলধারার মিডিয়াতে আসে না। সোশ্যাল মিডিয়া আগেভাগেই খবরটা দিয়ে দেয়। বিশ্বাসযোগ্যতার কিছু ঘাটতি আছে। 
নির্বাচনী প্রচারণায় এমন সব বিষয় আনা হয়েছে যা কিনা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিল। চরিত্রহনন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। কিছু ইনফ্লুয়েন্সার যেভাবে জনগণকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তা কিন্তু কাজে আসেনি। জনগণ নিজ বিবেচনায় ভোট দিয়েছেন। কারও কথায় প্রভাবিত হননি। 


মানুষের সামনে এমনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া হাজির হয়েছে তাতে বিভ্রান্ত না হওয়াটাই ছিল অস্বাভাবিক। সত্যের আবহে মিথ্যা প্রচারণা ছিল এগিয়ে। জনমত জরিপও কাজে আসেনি। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছিল ব্যতিক্রম। কোনো কোনো সংস্থা বাস্তবের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে তাদেরকে থেমে যেতে হয়। এমনভাবে চরিত্র হনন করা হচ্ছিল তাতে মান-সম্মানের ভয়ে ফেসবুকে অনেকেই জরিপ থেকে বিরত থাকেন। 
এই নির্বাচনে প্রচুর টাকা ব্যয় হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রচারণা ছিল এককেন্দ্রিক। এতে অনেকে আবার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। নির্বাচন ঘোষণার আগে এবং পরে এমনভাবে ফলাফল তৈরি করা হয় যাতে মানুষ অনেক বিভ্রান্ত হয়েছেন। অগ্রিম কিছু খবরের কোনো ভিত্তিই ছিল না। এআই-এর সাহায্যে কিছু ‘তরতাজা খবর’ প্রচার করা হয় যা দেখে মানুষ কিছু সময়ের জন্য উল্লসিত হয়। পরে দেখা যায় খবরটা আসলেই ছিল মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে। গ্রামের দিকে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। অনেকেই, বিশেষ করে মহিলারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া বোধকরি সঠিক খবরই দিচ্ছে। এগুলো  দেখে কিছু মানুষ যে সিদ্ধান্ত নেননি তা কিন্তু নয়। একটি বিশেষ দলের ভোট বেড়েছে। এর পেছনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব ছিল তাও অস্বীকার করা যায় না।  অনেকেই  বিদেশে থেকে এমন সব খবর সৃষ্টি করেন যার কোনো আবেদনই ছিল না। ইউটিউবে মৌলভী সাহেবদের তর্ক যুদ্ধ ছিল প্রাণবন্ত আবার অনেক ক্ষেত্রে বিরক্তিকরও।  অন্তত একজন বিশেষ ইসলামী বক্তা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে এখন নতুন পথ খুঁজছেন। তবে মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেনি। প্রভাবিত হয়নি সোশ্যাল মিডিয়ার সব প্রচারণায়। এখন আবার দেখা যাচ্ছে পুরনো ঘটনা সামনে এনে নতুন করে খবর সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে করে আবার উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নির্বাচন আর কখনো হয়নি। যে নির্বাচনে মৃত্যুর খবর নেই। গুলির কোনো শব্দ শোনা যায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে রাজপথে মারামারির ঘটনা ঘটেনি। গায়েবি ভোটের আয়োজন থাকলেও জনচাপে এবং সচেতনতায় তা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্র দখল হয়নি। এজেন্টদের বের করে দেয়ার ঘটনা খুবই কম ছিল। সরকারের ভেতরের একটা শক্তি অবশ্য নানাভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। অন্তত চারজন উপদেষ্টা গোড়া থেকেই একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য নানা কৌশল গ্রহণ করেন। বিদেশি দূতাবাসগুলোতে তাদের দৌড়ঝাঁপ ছিল লক্ষণীয়।  তারা বিভিন্নভাবে সরকারপ্রধানের ওপর চাপও সৃষ্টি করেন। অন্তত দু’বার ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা হয়। মব সন্ত্রাস উস্কে দেয়ার পেছনেও এদের ইন্ধন ছিল। গণমাধ্যমের ওপর হামলা চালানোর পেছনে তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল- এমনটাই শোনা যাচ্ছে।  ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তারা নানা খেলায় লিপ্ত ছিলেন। ক্ষমতার বাইরের অন্তত দু’জনের তৎপরতা ছিল স্পষ্ট। একটি উগ্রবাদী শক্তির উত্থানও ঘটে তাদের মদতে। একজন বিশেষ সহকারী নির্বাচনের পরপরই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তার বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ।  আরও কয়েকজন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যেকোনো সময় তারা দেশ ছাড়তে পারেন। বেশির ভাগ উপদেষ্টা নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন। এই খবর আসতে শুরু করেছে।  যাই হোক, এই নির্বাচনে অন্যতম চরিত্র সেনাবাহিনী। অতীতের সব গ্লানি দূর হয়েছে।  নিরপেক্ষতার বিচারে সেনাবাহিনী এখন শীর্ষে। সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ থাকলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় এটা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতাকেও খাটো করে দেখা যাবে না। তাদের ভূমিকাও প্রশংসিত হয়েছে। 

এক্সক্লুসিভ'র অন্যান্য খবর