বিশ্বকাপ হালচাল

ফুটবল রাজনীতি, রাজনীতির ফুটবল

সামন হোসেন | এক্সক্লুসিভ
জুন ২৭, ২০২৬
ফুটবল রাজনীতি, রাজনীতির ফুটবল

বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা অলিম্পিকের মতো মেগা ক্রীড়া আসর দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এখানে খেলোয়াড়রা শুধু ব্যক্তি হিসেবে নয়, নিজেদের দেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে মাঠে নামেন। অনেক সময় খেলাধুলা এমন এক ধরনের অপ্রচলিত কূটনীতির মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে, যা আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনার চেয়েও কার্যকরভাবে সংলাপের দরজা খুলে দেয়। এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে ‘পিং-পং কূটনীতি’। জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপেশাদার দল আকস্মিকভাবে চীন সফর করে, যা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও কমিউনিস্ট চীনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, খেলাধুলা অনেক সময় আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রতিফলনও হয়ে ওঠে। শীতল যুদ্ধের সময় এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল প্রতিযোগিতা বর্জন। ১৯৮০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আক্রমণের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র মস্কো অলিম্পিক বয়কট করে। এর পাল্টা হিসেবে ১৯৮৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন লস অ্যানজেলেস অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেনি। এই ইতিহাসের আলোকে প্রশ্ন উঠছে- ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ কি ফুটবল মাঠে কূটনৈতিক সুযোগ বা শান্তির কোনো নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে? 
 

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সর্বজনীনতা। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতিগত পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শ- কোনোটিই এখানে প্রধান নয়। একজন মুসলমান, খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা ইহুদি একই স্টেডিয়ামে বসে একই দলের জন্য চিৎকার করতে পারে। একজন আফ্রিকান, ইউরোপীয়, এশীয় কিংবা লাতিন আমেরিকান একই আনন্দ উদ্‌যাপন করতে পারে। ফুটবল এমন একটি ভাষা, যার কোনো অনুবাদের প্রয়োজন হয় না। তবে বর্তমান পৃথিবী নানা সংকটে জর্জরিত। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আফ্রিকার গৃহযুদ্ধ, সীমান্ত বিরোধ, বাণিজ্য যুদ্ধ, জাতিগত সংঘর্ষ-মানবসভ্যতা যেন ক্রমাগত বিভক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিশ্বকাপ ফুটবল একটি ভিন্ন শিক্ষা দেয়। শেখায় যে- প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু শত্রুতা নয়; মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ঘৃণা নয়। বিশ্বরাজনীতিও যদি এই সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা নিতে পারতো, তাহলে অনেক সংঘাত হয়তো আলোচনার টেবিলেই সমাধান হতো। বিশ্বকাপ কেবল প্রতিযোগিতার শিক্ষা দেয় না; এটি মানবিক সহাবস্থানেরও শিক্ষা দেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লাখো সমর্থক একই শহরে, একই স্টেডিয়ামে, একই পরিবেশে অবস্থান করে। 
 

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজন করছে, যেখানে ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ, সীমান্ত বিরোধ, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে, তবুও জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত মন্তব্য- ‘খেলাধুলা হলো গুলি ছাড়া যুদ্ধ’- সবসময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ চলমান ছিল। ইরান বিশ্বকাপে খেলবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। ইরানি ফুটবলার থেকে শুরু করে সমর্থক, অনেকের ভিসা দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। তবুও ইরান এসেছে, খেলছেও। ফিফা অনেক সময় কথা বলেছে। কখনো কখনো নিশ্চুপও থেকেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ন্নি ইনফান্তিনো ভিসা ইস্যুতে ‘চিল’ করতে বলে সমালোচনারও জন্ম দিয়েছেন। যদিও ফিফা বরাবরই দাবি করে, ফুটবল একটি নিরপেক্ষ জায়গা। 

 

এটি রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে সব জাতি ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপ এক ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এনেছে। এবারের আসর দেখিয়ে দিলো, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে কারা ভ্রমণ করবে, খেলবে কিংবা প্রতিনিধিত্ব করবে, তা এখনো নির্ধারণ করে ভূ-রাজনীতিই। বিশ্বকাপের শুরুর সপ্তাহগুলোতেই মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে খেলাধুলার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। রেফারিদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডধারী পেশাদারদের ডিপোর্ট করা হয়েছে এবং কর্মকর্তারা ভিসা জটিলতায় পড়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিনিধিদল ইমিগ্রেশনে হয়রানির শিকার হয়েছে এবং সমর্থকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। সবচেয়ে প্রতীকী ঘটনাটি ঘটেছে হাইতির জাতীয় দলের ক্ষেত্রে। ফিফা তাদের জার্সি থেকে ‘ভার্টিয়েরেসের যুদ্ধ’-এর স্মৃতিচিহ্ন বাদ দেয়ার নির্দেশ দেয়। এটি ছিল হাইতিয়ান বিপ্লবের সেই চূড়ান্ত যুদ্ধ, যা ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের বুকে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেছিল। রাজনৈতিক অভিব্যক্তি নিষিদ্ধ করার নীতি দেখিয়ে এ সিদ্ধান্তকে জায়েজ করেছে ফিফা। কিন্তু প্রশ্ন হলো- দাসত্ব ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস কবে থেকে খেলাধুলার জন্য হুমকি হয়ে উঠলো? একদিকে হাইতির ঔপনিবেশিকতাবিরোধী প্রতীক সেন্সর করেছে ফিফা, অন্যদিকে বিশ্বকাপের মূল আয়োজক দেশের চাপিয়ে দেয়া নানা বিধিনিষেধ নিয়ে তারা রহস্যজনকভাবে নীরব। আফ্রিকার অন্যতম সেরা ফুটবল রেফারি সোমালিয়ার ওমর আবদুল কাদির আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

 

 কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে ফেরত পাঠানো হয়। অথচ ফিফা আগেই জানিয়েছিল, ভিসাসংক্রান্ত সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। ফলে এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী দেশগুলোর একটি ইরান। দেশটির প্রতিনিধিদলের ১৫ সদস্যকে ভিসা দেয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে দলটিকে তাদের অনুশীলনের ঘাঁটি অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় নিতে হয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফা’র কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা দলের প্রস্তুতি ব্যাহত করেছে এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যকার সমতার নীতি লঙ্ঘন করেছে। এমনটি স্বাগতিক দেশের ভূরাজনীতির বলি হয়ে ম্যাচের একদিন আগে খেলতে এসে ম্যাচ শেষেই ইরানকে ফিরতে হচ্ছে মেক্সিকোতে। ফিলিস্তিনও ভুক্তভোগী। ফিলিস্তিন ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজৌব ফিফা’র অফিশিয়াল কার্যক্রমে অংশ নেয়ার জন্য ভিসা পেতে বিলম্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাজৌবের মতে, এ আচরণ আয়োজক দেশের প্রতিশ্রুতিকে ক্ষুণ্ন করে এবং বিশ্বকাপের বৈশ্বিক চরিত্রকে নষ্ট করে। এসব ঘটনার মুখে ফিফা’র জবাব ছিল খুবই চেনা ও অনুমিত। তারা জানিয়েছে, অভিবাসন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব এখতিয়ার। তবে এই অজুহাত মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ফিফা যখন প্রয়োজন মনে করে, তখন ঠিকই হস্তক্ষেপ করে। তারা বিভিন্ন ফেডারেশনকে শাস্তি দেয়, রাজনৈতিক বক্তব্য সেন্সর করে, জার্সি নিয়ন্ত্রণ করে এবং আচরণের কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দেয়। অথচ নিষেধাজ্ঞা যখন কোনো বড় পশ্চিমা শক্তির কাছ থেকে আসে, তখন ফিফা’র সেই ‘প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা’ রাতারাতি নিষ্ক্রিয়তায় রূপ নেয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, তথাকথিত ‘ক্রীড়ানিরপেক্ষতা’ প্রায়ই একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রান্তিক মানুষের প্রতীক, স্মৃতি ও কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। অথচ বড় কোনো শক্তি বা তাদের কৌশলগত মিত্রদের স্বার্থের কথা এলে এই নিয়ম অবিশ্বাস্য রকম নমনীয় হয়ে যায়। 
 

ফুটবল কখনোই রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না। বিশ্বকাপ সব সময়ই ক্ষমতার লড়াই, জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্ব ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এ বাস্তবতাকে স্বীকার করায় কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা তখনই হয়, যখন নিরপেক্ষতার বুলি আউড়ে প্রভাবশালী শক্তির অধিকার লঙ্ঘন পার পেয়ে যায়, আর ক্ষমতার চ্যালেঞ্জকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠ রোধ করা হয়। হাইতি থেকে ইরান, ফিলিস্তিন থেকে সোমালিয়া কিংবা ইরাক থেকে পশ্চিম সাহারা- ২০২৬ বিশ্বকাপ একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। ঔপনিবেশিকতা, দখলদারিত্ব, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিকভাবে উপেক্ষিত মানুষগুলো এমন সব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে, যা সবার জন্য সমান নয়। ফিফা যদি সত্যিই দাবি করতে চায় যে, ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে, তবে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে, এই নীতি সব জাতি ও মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। তা না হলে এই বিশ্বকাপ হয়তো শুধু গোল আর ট্রফির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে না। এটি এমন এক টুর্নামেন্ট হিসেবে ইতিহাস হয়ে থাকবে, যেখানে খেলাধুলার সর্বজনীনতা হার মেনেছিল সীমানা, খামখেয়ালি নিষেধাজ্ঞা আর প্রভাবশালী শক্তির ভূরাজনীতির কাছে।  আর সেক্ষেত্রে খেলাধুলা কখনোই শান্তির পথ তৈরি করতে পারবে না। তবে এসবের বাইরে গিয়েও কেপ ভার্দে কিংবা কুরাসাও ভূ-রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে বিশ্বে জাতি হিসেবে নিজেদের চিনিয়েছে। মাত্র  এক লাখ ৬০ হাজার জনগোষ্ঠীর কুরাসাও বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে বলে সেটা সম্ভব হয়েছে। কেপ ভার্দের অখ্যাত গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার বীরত্বে দেশটিকে আজ চিনছে সারা বিশ্ব। 

 

অথচ এই বিশ্বকাপের আগে কারা চিনতো এই দেশ দু’টিকে। জনসংখ্যার দিক থেকেও কেপ ভার্দে তৃতীয় সর্বনিম্ন জনসংখ্যার দেশ, কেবল কুরাসাও এবং আইসল্যান্ডের জনসংখ্যাই এর চেয়ে কম। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের এই দ্বীপপুঞ্জের মোট আয়তন মাত্র ৪,০০০ বর্গকিলোমিটারের কিছু বেশি। দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ৬ লাখ। মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার জনসংখ্যার এক ক্ষুদ্র ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রের নাম কুরাসাও। ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে স্রেফ ৪৪৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কুরাসাও। আজ তাদের নিয়ে কতো না মাতামাতি সারা বিশ্বে। এটা বিশ্বকাপ ফুটবল বলেই সম্ভব হয়েছে। শুধুমাত্র কোনো দেশকে সাপোর্ট করেও যে আলোচনায় আসা যায়, তা দেখিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এই উন্মাদনা একদিনে তৈরি হয়নি। এর শিকড় অনেক গভীরে। বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানো হয়। উদ্বোধনী ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয় দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। ফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাওলো রসি-দিনো জফদের ইতালি। সেই প্রথম দেখায় ফুটবলের প্রেমে পড়ে যায় বাঙালি জাতি। তারপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই বাংলাদেশ একটু একটু করে আবেগের আরও গভীরে ডুবেছে। বাড়িতে পতাকা টাঙানো থেকে শুরু। 

 

এখন সেটি রূপ নিয়েছে বিশাল র‌্যালিতে। রঙিন আলোকসজ্জায়, রাতজাগা উৎসবে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিকভাবেও নেই। কিন্তু তবুও এই দুই দেশ বাংলাদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়ে বসে আছে। যার স্বীকৃতি মিলছে। ফুটবল ভালোবাসায় এদেশে পুনরায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস খুলেছে। ফিফাও নানা ভাবে বাংলাদেশের এসব পাগল দর্শকদের স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় দর্শন সম্ভবত ‘ফেয়ার প্লে’ বা ন্যায্য প্রতিযোগিতা। মাঠে সবাই সমান। বড় দেশ, ছোট দেশ, ধনী দেশ, গরিব দেশ- সবাই একই নিয়মে খেলে। শক্তিশালী দলও হারতে পারে, দুর্বল দলও জিততে পারে। এই নীতিই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। বিশ্বকাপের রেফারিং থেকে নিরপেক্ষতার শিক্ষা নেয়া যায়। এই কারণেই বিশ্বকাপ ফুটবলকে শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বলা যায় না। এটি মানবসভ্যতার এক মহা-উৎসব, বিশ্বসমপ্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক অনন্য পাঠশালা। বিশ্বকাপ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-মানুষের মধ্যে বিভেদের চেয়ে মিল অনেক বেশি, সংঘাতের চেয়ে সহযোগিতা অনেক বেশি শক্তিশালী। ভূ-রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে এবারের বিশ্বকাপে সেটা হচ্ছে কি? 

 

এক্সক্লুসিভ'র অন্যান্য খবর