তীর্যক মন্তব্য

ব্যর্থ নেতৃত্ব স্বভাবতই অনুতপ্ত হবে না

হাসান মামুন | মতামত
জুন ২৭, ২০২৬
ব্যর্থ নেতৃত্ব স্বভাবতই অনুতপ্ত হবে না

গণ-অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলে তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় তাৎক্ষণিকভাবে এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, হাসিনা ও তার পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর আগ্রহী নন। সেই অবস্থান অবশ্য অল্প সময় পরেই বদলে যায়। 
 

অনেকে মনে করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের জন্য সেই অবস্থানই ছিল সঠিক। শেখ হাসিনা ও তার পরিবার যদি আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দায় স্বীকার করে নিয়ে রাজনীতি থেকে অবসর নিতেন, তাহলে হয়তো দলে যারা অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন, তারা নিজেদের সংগঠিত করে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ফিরে আসার প্রয়াস চালাতে পারতেন। গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের ক্ষোভের যে বিপুল প্রকাশ ঘটেছে, এর মর্ম উপলব্ধি করে তাদের পক্ষে ক্ষমা চাইবার মনোবৃত্তিও হয়তো জাগতো। আওয়ামী লীগের গোটা অতীত তো কলুষিত নয়। তার গৌরবময় অতীত রয়েছে। আর এতে রয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে তার অসাধারণ ভূমিকা। তার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর দেশে ফিরে এসে বিভক্ত, দুর্বল আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে পুনরায় যাত্রার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার কৃতিত্বও অনস্বীকার্য। 

 

তা সত্ত্বেও ’৭৫-এর পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে ২১ বছর ব্যয় করতে হয়েছে। 
এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলনের পরিণতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে নির্বাচন আদায় হয়েছিল, তাতে অবশ্য শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের বদলে জয়ী হয় অপেক্ষাকৃত অসংগঠিত ও দুর্বল বিএনপি। তাতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ভূমিকা ছিল বিরাট। এরশাদ সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতায় না গিয়ে আন্দোলনে দৃঢ়তাপূর্ণ ভূমিকার কারণে অর্জিত এ ভাবমূর্তি আমৃত্যু তার সঙ্গে ছিল। পরে উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন হয়, তাতে অর্জিত নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলেও সুশাসন দিতে না পারায় পরবর্তী নির্বাচনে তার দল ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। তা সত্ত্বেও এটা উল্লেখযোগ্য, শেখ হাসিনার সেই সরকার প্রথমবারের মতো স্বাভাবিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। আর আসন অনেক কম পেলেও ভোট কিন্তু প্রায় সমান পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। লোকে তখন ধরে নিয়েছিল, একটি দ্বিদলীয় ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। এটাও প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল, কোনো সরকারের অধীনে সুশাসন না মিললেও মেয়াদ শেষে প্রতিবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অন্তত হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তাতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। 
 

গণতন্ত্র অবশ্য প্রতিদিনের চর্চার বিষয়। আর এটা কেবল সরকারের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করে না; বিরোধী দলকেও সেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন আচরণের মধ্যদিয়ে তার ভূমিকা নিশ্চিত করতে হয়। বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় সরকারটি যে যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছিল, তা বলা যাবে না। সেই সরকারের ভেতর থেকে মেয়াদ শেষে ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারটিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা নেয়া হয়েছিল বলেও মনে করা হচ্ছিল। তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগের ওই অভিযোগ সিংহভাগ মানুষ বিশ্বাস করেছিল। রাজপথে বরাবরই সফল আওয়ামী লীগ তখন এ নিয়ে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তাতে ‘এক-এগারো’র পথ প্রশস্ত হয়। এর কুশীলবদের বিরুদ্ধে আবার ওঠে দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ করতে নানামুখী চেষ্টা চালানোর অভিযোগ। রাষ্ট্র সংস্কারেও কিছু উদ্যোগ তারা নিয়েছিলেন বটে। প্রায় দু’বছর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রেখে দেশ পরিচালনা করলেও তারা ক্ষমতার উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি রোধে ব্যর্থ হন। বিপর্যস্ত অর্থনীতিও সামলাতে পারেননি। অবশেষে তারা যে নির্বাচনের আয়োজন করেন, সেটা নিয়েও পরে কিছু অভিযোগ ওঠে।  
 

তা সত্ত্বেও এর ভেতর দিয়েই দেশ ফিরে আসে নির্বাচিত সরকারের আমলে। কিন্তু বেশিদিন যেতে না যেতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ওঠে আলোচনা এবং সেটি দূর করার নামে ব্যবস্থাটিই বাতিল করে দেয়া হয়। এতে বিচার বিভাগ থেকে যে সহযোগিতা জুটেছিল, সেটাও পরে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছে। বহুল আলোচিত এক সাবেক প্রধান বিচারপতি এখন কারাগারে। বিচার বিভাগের জন্য ঘটনাটি কতোটা বিব্রতকর, সেই বিষয়ে বিস্তারিত না বললেও চলে। শেখ হাসিনার বিগত শাসনামলে সুনাগরিকরাও যথেষ্ট বিব্রত হয়েছিলেন ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের অধঃপতন এবং শাসন ক্ষমতায় তার যথেচ্ছাচার দেখে। তিন-তিনটি কলুষিত নির্বাচনে বিরোধী দলকে কেবল সংসদ থেকে দূরে রাখা হয়নি; রাজপথেও তাদের রাখা হয়েছে কোণঠাসা করে। কায়েম হয়েছে গুম-খুনের রাজত্ব। আর এসবে পুলিশকে এমনই মাত্রায় ব্যবহার করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় বিরক্ত হয়ে আরোপ করে নিষেধাজ্ঞা। ব্যাংক, বিদ্যুৎ খাত ও মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ছাড়িয়ে গিয়েছিল সমস্ত সীমা। রাজনীতিক, আমলা ও ব্যবসায়ীর একটি চক্র কায়েম করেছিল ‘অলিগার্কি’, যার সামনে ছিলেন শেখ হাসিনা স্বয়ং। এ সমস্ত কিছুই তারা করেছিলেন নির্বাচন ব্যবস্থা বিনষ্ট করে অর্জিত রাষ্ট্রক্ষমতাকে সম্ভাব্য সব চ্যালেঞ্জের বাইরে নিয়ে যেতে। 
 

একই কাজ সংসদে তড়িঘড়ি আইন প্রণয়ন করে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশ পরিচালনায় তাকে সফল হতেই হতো, এমন দিব্যি কেউ দেয়নি। শাসক হিসেবে ব্যর্থতা তো অস্বাভাবিক নয়। এতে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা হিসেবে অর্জিত গৌরবও খর্ব হওয়ার নয়। শেখ মুজিবের ব্যর্থতা ওখানে যে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমে গিয়ে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে পূর্ববাংলার মানুষের আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকার যে গৌরব, সেটা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল, স্বাধীন বিচার বিভাগ, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ প্রশাসন এবং সংসদের সার্বভৌমত্বের ধারণার বিপরীতে তিনি অবস্থান নিয়েছিলেন আপন কর্তৃত্ব অটুট রাখতে। বিধিবদ্ধ উপায়ে তাকে অপসারণের সুযোগও তিনি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। চরম বেদনাদায়ক পথে প্রস্থান না হলেও পরবর্তীকালে গণ-আন্দোলনে তার শাসনের অবসান ঘটতো এবং সেটাই ছিল কাম্য। তবে ইতিহাস অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায়েরও জন্ম দিয়ে থাকে আর সেটা অনুসরণ করেই নতুন পথে এগোতে হয়। তার কন্যা শেখ হাসিনাও এটি বিস্মৃত হয়েছিলেন শুধু তা-ই নয়; আগ্রাসী হয়েছিলেন এমনকি বিকশিত অধ্যায়ে এসে জনগণের বর্ধিত প্রত্যাশা বানচাল করে দিয়ে নিজ ইচ্ছা প্রতিষ্ঠা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনবিহীন গণতন্ত্রকে তিনি উন্নয়নের নামে বাধাহীন করতে চেয়েছিলেন। এতে সফল হতে দেশের মধ্যে খুবই অজনপ্রিয় একটি আঞ্চলিক শক্তির নজিরবিহীন সমর্থন নিতেও দ্বিধা করেননি। ফলে গণ-অভ্যুত্থানে একইসঙ্গে পতন ঘটেছে তার, তার নিয়ন্ত্রণাধীন দল, অনুগত প্রশাসন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং সেই আঞ্চলিক শক্তির আধিপত্যের। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী শাসনামলে আওয়ামী লীগের শাসন সমর্থনকারী নাগরিক সমাজের নিরপরাধ অংশের ওপরও চলেছে ‘মব’। এতে অনেক ভুল মানুষও আক্রান্ত হওয়ায় বিবেকবানরা ব্যথিত হয়েছেন। 
 

অবশ্যই ভালো হতো শেখ হাসিনার সরকার অব্যাহতভাবে তিনটি নির্বাচন কলুষিত না করে অন্তত শেষেরটি গ্রহণযোগ্যভাবে সেরে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করে দিলে। তবে সেই সুযোগ সম্ভবত তারা হারিয়ে ফেলেছিলেন ২০১৮ সালেই। ব্যক্তি, দল আর সরকারের সুযোগ হারানোর পরিণতি তো এক হওয়ার নয়। সরকারের শেষ সুযোগ হারানোর পরিণতি কতোটা ভয়াবহ হতে পারে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তার মুখোমুখি হয় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। এর পরও তাদের বোধোদয় হয়নি দেখে আশ্চর্য হতে হয়। যেকোনো সফল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এমনকি নির্বাচনে পরাস্ত হলেও দলের নেতৃত্বে বদল আসাটা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের তো পতন ঘটেছে রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে। এর কার্যকারণ উপেক্ষা করে এ জন্য শুধু ‘ষড়যন্ত্র’কে দায়ী করে পার পাওয়ার প্রবণতা দলটির ব্যর্থ নেতৃত্বে থাকতে পারে; কিন্তু এই দলের ভবিষ্যতের জন্য সেটা প্রচণ্ড ক্ষতিকর। সুদূর অতীতে আওয়ামী লীগের কী ইতিবাচক ভূমিকা ছিল, সেটা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিকট অতীতে তাদেরই শাসনামলে জনগণের বিরূপ অভিজ্ঞতা তো আড়াল করা যাবে না। 
 

শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা দু’জনেই শেষতক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বদলে একে নস্যাৎ করার পথে গিয়েছিলেন কেন; তার কারণ অনুসন্ধান সেইসব আওয়ামী লীগারকেই করতে হবে, যারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রয়োজনীয় মনে করেন। শেখ হাসিনার বেপরোয়া শাসন সিংহভাগ মানুষের অর্থনৈতিক জীবনকেও দুর্বিপাকে ফেলেছিল। গণ-অভ্যুত্থানের অগ্রভাগে যারাই থাকুক, তাদের পেছনে ওই দুর্দশাগ্রস্তদের বিপুল অংশগ্রহণ সবার নজর কেড়েছিল। আর তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনে মানসিকভাবে জর্জরিত মধ্যবিত্তের আলোকপ্রাপ্ত অংশটি। একদা তারা হয়তো ছিলেন আওয়ামী শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিংবা সমালোচক হলেও তাদের সমর্থক। শেখ হাসিনা গং এর বিরাট অংশকে স্থায়ীভাবে হারিয়েছেন বলতে হবে। 
 

তা সত্ত্বেও গ্রাম পর্যন্ত এখনো আওয়ামী লীগের সমর্থন কম নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলে চাপের মুখেও তারা কেমন করতো, সেটা জানার সুযোগ অবশ্য ঘটেনি। অন্তর্বর্তী শাসনামলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর নির্বাচিত সরকারের সময়ও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও আওয়ামী লীগকে সম্ভবত অপেক্ষা করেই থাকতে হবে। অন্তর্বর্তী শাসনামলের প্রায় এক বছর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বিষয়ে কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। মাঠে থাকা প্রধান দল বিএনপিও কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেই সময়ে সুযোগ ছিল শেখ হাসিনা ও তার অনুগতদের রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে আওয়ামী লীগকে নতুন করে গঠিত হতে দেয়ার। নবগঠিত দলটি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের কৃতকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ নিতে স্বভাবতই দ্বিধা করতো না। 
 

এখন দেরিতে হলেও সেই সুযোগ গ্রহণের দিকে আওয়ামী লীগ যাবে কিনা- এর কোনো সদুত্তর নেই। যে নেতৃত্বের কারণে আওয়ামী লীগ তার গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি হারিয়েছে এবং দেশ ছাড়তেও বাধ্য হয়েছে, সেই নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আর কোনো ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে হয় না। বিচার এড়ানোর সুযোগও তাদের নেই। চলমান বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশও তাদের আছে বলে মনে হয় না। গণ-অভ্যুত্থানে পরিবর্তিত বাস্তবতা মেনে নিয়েই আওয়ামী লীগকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। যারা ক্ষমতাসীন, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে অনুতপ্ত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেয়ার। আসছে স্থানীয় নির্বাচনে তাদের নিরপরাধ মানুষজন প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররা কিন্তু ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে কম হারে হলেও অংশগ্রহণে দ্বিধা করেননি। আমাদের সবার আশপাশে, ঘরে ঘরে সেই লীগ সমর্থকরা রয়েছেন; যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। জনগণের এ অংশটিকে গণতন্ত্র বিনষ্টকারী আওয়ামী সংস্কৃতির বাইরে এসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন। 
 

নির্বাচনে বিএনপি তো বটেই; গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের একাংশ নিয়ে গঠিত দল এনসিপিও ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে অগ্রগতি আনার অঙ্গীকার করেছিল। এর বাস্তবায়ন যত দ্রুত সম্ভব করা দরকার। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া বন্ধের সুযোগ নেই। নিছক ধারণার বশবর্তী হয়ে ঢালাও ব্যবস্থা গ্রহণ থেকেও বেরিয়ে আসা জরুরি। এই কাজে ইতিমধ্যে বিলম্ব হয়েছে। সত্য উদ্‌ঘাটন ও পুনরায় বন্ধুত্ব স্থাপন শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়; সামাজিক আর সাংস্কৃতিক জীবনেও আমাদের শৃঙ্খলা, ভারসাম্য ও সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে। 
 

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

মতামত'র অন্যান্য খবর