ভারতের রাজনীতিকে নতুন সমীকরণে দাঁড় করিয়েছেন জেন-জি প্রজন্ম। তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) নেতারা অমিত শক্তিধর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গদি নাড়িয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে ব্যর্থ সেখানে নিরস্ত্র এই অহিংস আন্দোলনকারীরা একজন শিক্ষামন্ত্রীর উইকেট খেয়ে দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি বাধ্য হয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিতে। এতে সমীকরণের সমাধান হয়ে গেছে বললে ভুল হবে। আন্দোলনে অংশ নেয়া তরুণ-তরুণীদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। এর ফলে আবারো আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন তেলাপোকারা। তারা বলেছেন, বিক্ষোভ স্থগিত করার পর গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া না হলে রাজপথে আবার তেলাপোকার ঢল নামবে। তাদের এই হুমকিকে এখন ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, এরই মধ্যে তেলাপোকারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সেই বিখ্যাত হলিউডি ছবি ‘মমি রিটার্ন ব্যাক’-এর কথা। তেলাপোকারা খোলনলচে খোলস বানিয়ে ফেলতে পারে। তেলাপোকারা শুধু মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে এমন নয়। একই সঙ্গে তারা সরকারের পদলেহনকারী মিডিয়াকে ‘গদি মিডিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আমরা দেখতে পেয়েছি, কীভাবে এই গদি মিডিয়াকে তিরস্কার করেছে তারা। সুতরাং সামনের সময় খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে সরকারকে। এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, তেলাপোকারা কি মোদি সরকারকে উৎখাত করে দেবে? এ প্রশ্ন নিয়ে নানা বিশ্লেষণ। এ নিয়ে অনলাইন চ্যাথাম হাউজ-এ একটি নিবন্ধ লিখেছেন দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো ড. চিতিগজ বাজপেয়ী। তিনি লিখেছেন-
ভারতের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নতুন আন্দোলন- ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ শেষে আপাতত আন্দোলন স্থগিত করেছে। কারণ, আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলোর বেশ কয়েকটি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারত সরকার। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা।
অল্প সময়ের মধ্যেই সিজেপি’র উত্থান বিস্ময়কর। শুরুতে এটি ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফরম। ভারতের প্রধান বিচারপতি এক মন্তব্যে বেকার তরুণদের ‘ককরোচ’ বলে উল্লেখ করেন। তারই প্রতিবাদে এই প্ল্যাটফরমের জন্ম। কিন্তু মে মাসের পর থেকে এটি দ্রুত একটি বাস্তব রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়, যা ভারতের তরুণ সমাজের দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে সংগঠিত করতে সক্ষম হয়।
পরীক্ষা কেলেঙ্কারি থেকে আন্দোলনের বিস্ফোরণ: আন্দোলনের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস। মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী প্রস্তুতি নিয়েছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর পরীক্ষা বাতিল ও পুনঃনির্ধারণ করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবরও প্রকাশ্যে আসে। এর প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে সংসদ ভবনের কাছে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে সিজেপি। তাদের প্রধান দাবি- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। অল্প সময়ের মধ্যেই আন্দোলন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনের বিস্তার: সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জুন মাসে দেশে ফিরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। শুরুতে কয়েকশ’ মানুষের উপস্থিতি থাকলেও পরে তা কয়েক হাজারে পৌঁছে যায়। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন প্রবীণ পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি আন্দোলনের সমর্থনে অনশন শুরু করলে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পুলিশ তাকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়। পরে তরুণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের কঠোর আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে আন্দোলনের প্রতি জনসমর্থন দ্রুত বাড়তে থাকে। বিরোধী রাজনৈতিক দল, চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিত্ব এবং নাগরিক সমাজের অনেকেই আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান। শেষ পর্যন্ত সরকার আন্দোলনের মূল দাবিগুলো মেনে নিলে বিক্ষোভ থেমে যায়।
কিন্তু সমস্যার কি সমাধান হয়েছে?: এক কথায় এ প্রশ্নের উত্তর হলো- না। এই আন্দোলনের জন্ম যে কারণগুলো থেকে, সেগুলো এখনো বহাল রয়েছে। ভারতের তরুণদের অসন্তোষ মূলত তিনটি বড় সমস্যাকে ঘিরে- শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা, জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালেও বড় ধরনের পরীক্ষা জালিয়াতি হয়। শুধু মেডিকেল নয়, পুলিশ, শিক্ষক ও প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষাতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারতের অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার জরুরি। বর্তমানে এসব পরীক্ষা পরিচালনা করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ), যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। ভারতে শিক্ষা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। ফলে পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা নষ্ট হলে তার সামাজিক প্রভাবও ব্যাপক হয়।
অর্থনৈতিক বাস্তবতাও আন্দোলনের গতি বাড়িয়েছে: ভারতের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। অন্যদিকে, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী স্কুল পাস তরুণদের প্রায় ৪০ শতাংশই বেকার। এই বাস্তবতা দীর্ঘদিন ধরেই মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছিল। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন পায়। অনেক বিশ্লেষক এর পেছনে তরুণদের বেকারত্ব ও বৈষম্যকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখেছেন। যদিও বিজেপি টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করে, তবু এবার তাদের জোটসঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে অনেক বেশি।
ইরান সংকটের প্রভাবও পড়েছে: বিশ্লেষকের মতে, সাম্প্রতিক ইরান সংকট ভারতের অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে। রুপির মূল্য দুর্বল হয়েছে এবং বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স করা মুদ্রাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে, যা তরুণদের হতাশাকে আরও তীব্র করেছে।
বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা কিংবা নেপালের মতো কি ভারতেও সরকার বদলাবে?: এ প্রশ্নের জবাবে ড. বাজপেয়ীর মত, তার সম্ভাবনা খুবই কম। শ্রীলঙ্কা (২০২২), বাংলাদেশ (২০২৪) এবং নেপাল (২০২৫)-এ অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অচলাবস্থা, তরুণদের ক্ষোভ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তি সরকার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতেও এসব উপাদানের কিছু মিল রয়েছে। তবে মৌলিক পার্থক্যও আছে।
সিজেপি এখনো কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। তাদের আন্দোলনের লক্ষ্যও ছিল মূলত শিক্ষা সংস্কার। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি এখনো ভারতের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন। ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় থাকা দলটি দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ২২টিতে এককভাবে বা জোটের মাধ্যমে সরকার পরিচালনা করছে। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোটও নেই।
ভারতের রাজনীতিতে আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা: ভারতে গণ-আন্দোলন নতুন নয়। ২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলন কিংবা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন সরকারকে চাপে ফেলেছিল। কিন্তু এসব আন্দোলনের খুব কমই নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ২০১১ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে জন্ম নেয়া আম আদমি পার্টিকে (আপ) একসময় বিজেপি ও কংগ্রেসের বিকল্প হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে দলটি মাত্র একটি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। অর্থাৎ, ভারতের মতো বিশাল গণতান্ত্রিক কাঠামোতে আন্দোলনকে রাজনৈতিক ক্ষমতায় রূপ দেয়া অত্যন্ত কঠিন।
মোদির কৌশল- লাঠি থেকে আলোচনায়: প্রথমে সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। কিন্তু পুলিশি কড়াকড়ি আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হওয়ায় কৌশল বদলে ফেলে। সরকার সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে শাস্তির আওতায় আনে এবং শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও পরে ঘোষণা দেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংসদে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের একটি বিলও উত্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যা পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের সুপারিশ করবে। মোদি বলেছেন, আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: ড. বাজপেয়ীর মতে, সিজেপি ভারতের সরকারকে উৎখাত করতে না পারলেও রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। সরকার এখন বিতর্কিত নীতিগুলো বাস্তবায়নে আরও সতর্ক হতে পারে। যেমন- অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড), সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস। একই সঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে তরুণভিত্তিক নতুন দলগুলোর উত্থানের সম্ভাবনাও বাড়ছে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর নির্বাচনে নতুন দল তামিঝাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) তরুণ ভোটারদের সমর্থনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় বিজেপি টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকবে। তখন ‘মোদি ক্লান্তি’, অর্থনৈতিক চাপ এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
তবে আপাতত সিজেপি’র মতো আন্দোলন সরকারের পতনের চেয়ে বরং বিজেপি’র জনসমর্থন কিছুটা ক্ষয় করার শক্তি হিসেবেই বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করেন লেখক।
সমালোচনামূলক মন্তব্য: ড. চিতিগজ বাজপেয়ীর বিশ্লেষণটি ভারসাম্যপূর্ণ হলেও এতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, তিনি সিজেপিকে মূলত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকটের ফল হিসেবে দেখিয়েছেন। কিন্তু ভারতের তরুণদের অসন্তোষ কেবল পরীক্ষা জালিয়াতি বা বেকারত্বে সীমাবদ্ধ নয়; ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, সরকারি নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপড়েন এবং সামাজিক মেরূকরণও এই ক্ষোভের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
দ্বিতীয়ত, আন্দোলনের তাৎক্ষণিক সাফল্যকে তিনি যথাযথ গুরুত্ব দিলেও এর দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। বাস্তবে ভারতের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর তরুণ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রাজনীতিকে আরও বেশি প্রভাবিত করতে পারে।
তৃতীয়ত, মোদি সরকারের অভিযোজন ক্ষমতার যে প্রশংসা করা হয়েছে, তার পাশাপাশি এটিও মনে রাখতে হবে যে সরকার শেষ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে মূলত তীব্র জনচাপ এবং রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কায়। অর্থাৎ, এই আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে যে- ভারতের মতো শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতাসম্পন্ন সরকারও জনমতের চাপ পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারে না।
সবশেষে বলা যায়, ‘ককরোচ’ আন্দোলন হয়তো আজই ভারতের ক্ষমতার পালাবদল ঘটাবে না। কিন্তু এটি ভারতের তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভবিষ্যতে যদি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নে সরকার কার্যকর সংস্কার আনতে ব্যর্থ হয়, তবে সিজেপি’র মতো আন্দোলন আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে। তাই এই আন্দোলনের তাৎপর্য কেবল একটি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভারতের গণতন্ত্রে নতুন প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ভূমিকার একটি স্পষ্ট সংকেত।