জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র। গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। আগের মতো কেউ কারও ওপর হামলে না পড়া। প্রশাসনের সব স্তরে দুর্নীতি ও ঘুষের যে মচ্ছব চলছে কঠোরভাবে তা বন্ধ করা। কিন্তু গত দুই বছরে যে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি, সেটাই জানিয়ে দিলেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি। আগে যারা ঘুষ খেতো, তারা ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে। একইভাবে যারা ভালো একটা কাজ আটকে দিতো, তারা এখনো তা আটকে দিচ্ছে। লোকজন ভোল পাল্টাচ্ছে। ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাইযোদ্ধা হয়ে গেছে।’
বিএনপি মহাসচিব প্রশাসনের কথা বলেছেন। বাস্তবে প্রশাসন নয়, সবক্ষেত্রেই অরাজক অবস্থা চলছে। বিশেষ করে রাজনীতির মাঠ আবার গরম হয়ে উঠেছে।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যারা আন্দোলনের অংশীজন ছিলেন তাদের মধ্যে যুদ্ধশেষের প্রাপ্য নিয়ে বাহাস চলছে। সরকার যখন ঢাকায় নানা আয়োজনে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন করছে, তখন সিলেট ও হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মসূচি নিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।
সরকারি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতি যেমন বন্ধ হয়নি, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতারও পরিবর্তন আসেনি। একটি রাজনৈতিক দলের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার কোনো কারণ ছিল না। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বাধা দেননি, হামলা-ভাঙচুর করেননি বলে দাবি করেছেন। তাহলে এসব ঘটনা কারা ঘটালো? সরকারি দল বলেছে, ‘বিক্ষুব্ধ জনতা।’ বিক্ষুব্ধ জনতা সব সময় কি সরকারি দলের পক্ষে থাকে? আওয়ামী লীগ আমলেও বিরোধী দলের ওপর হামলা হলে বলা হতো ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’ করেছে। বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করা প্রয়োজন।
মূল সমস্যা হলো জুলাই অভ্যুত্থানের অংশীজনদের মধ্যে আস্থার সংকট। কোনো বিষয়ে তারা একমত হতে পারছেন না। সংবিধান সংশোধন না সংস্কার- এই বিতর্কে তারা সাড়ে পাঁচ মাস কাটিয়ে দিয়েছেন। বাকি সাড়ে চার বছরেও এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে মনে হয় না।
২
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের ইস্তফা দেয়ার পর যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হলো পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি কবে হবে এবং কেমন করে হবে? বর্তমান সংসদই তাকে নির্বাচন করবে- না, জুলাই সনদ অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠনের পর দুই কক্ষের সদস্যদের ভোটে তিনি নির্বাচিত হবেন। উচ্চকক্ষের বিষয়ে কারও আপত্তি না থাকলেও এর নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক আছে। বিএনপি চায় বর্তমান সংসদের সদস্যরাই উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্য নির্বাচিত করুক। বিরোধী দলের দাবি, ভোটের অনুপাতে হতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১৭ই অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সই হয়, যেখানে সব রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করে। আবার কিছু বিষয়ে তাদের ভিন্নমতের কথাও জানায়। সহমত ও ভিন্নমত নিয়ে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে এখন ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি মুখোমুখি। জাতীয় সংসদ সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের যে কমিটি গঠন করেছে, বিরোধী দল তার বিরোধিতা করেছে। তারা মনে করেন, সংবিধান সশোধন নয়, সংস্কার করতে হবে। সরকারি দল আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তারা কোনো নাম দেয়নি।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে আশা করা যায়।
কিন্তু সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে যে বিরোধ চলছে, তার সমাধান কী করে হবে। জুলাই সনদে কিছু বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো হলে সবাই একমত হয়নি। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন বিএনপি’র যুক্তি হলো যে বিষয়ে আমরা জুলাই সনদে একমত হয়েছি, সেটা আমরা বাস্তবায়ন করবো। কিন্তু যে বিষয়ে একমত হইনি, সেটা বাস্তবায়নে আমরা সায় দিতে পারি না।
জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন বিষয়ে বলা হয়: এই নির্বাচন হবে আইনসভার উভয় কক্ষের (নিম্ন ও উচ্চকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে। এ বিষয়ে ২৮টি দল ও জোট একমত হলেও ইসলামী আন্দোলন আপত্তি জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব ছিল: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ (৩) সংশোধনীর প্রস্তাব করে কারও পরামর্শ ও সুপারিশ ছাড়াই নিজ এখতিয়ারবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত পদে নিয়োগ করতে পারবেন: ১. জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, ২. বাংলাদেশ তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, ৩. বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, ৪. আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, ৫. বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ৬. এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ (এর মধ্যে উল্লিখিত ৫ ও ৬ ক্রমিকে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে)। অর্থাৎ তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গঠনের একক কর্তৃত্ব রাষ্ট্রপতির হাতে দিতে চান না। সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির এ রকম নির্বাহী ক্ষমতা থাকা সমীচীন নয় বলেও কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী এসব দায়িত্ব পেলে যদি স্বৈরাচারী হয়ে যান, রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও তা হতে পারে।
বিএনপি বলেছে, জনগণ তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বা কর্মসূচির ভিত্তিতেই জনগণ তাদের নির্বাচিত করেছে। জনগণের রায়ের বাইরে তারা যেতে পারেন না। বিরোধী দলের বক্তব্য হলো- বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন দল আপত্তি জানিয়েছে। সবার আপত্তি আমলে নিলে তো রাষ্ট্রের কোনো সংস্কার হবে না। বিএনপি যে অবস্থান নিয়েছে, তা গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষকে আলোচনা করে একটি বোঝাপড়ায় আসতে হবে। কোনো পক্ষ অনড় অবস্থান নিয়ে থাকলে সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন কোনোটাই হবে না। এই আলোচনা সংসদের ভেতরে ও বাইরে হতে পারে।
সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, তারা কেউ কারও অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নয়। সংসদে সরকারি দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিরোধী দলের সমর্থন ছাড়াই যেকোনো আইন পাস করতে পারবে।
বিএনপি’র দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিছুটা সময় নিয়ে করার পেছনে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ জুলাই জাতীয় সনদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব যুক্ত হতে পারে। কিন্তু সেসব প্রস্তাবে বিরোধী দল সায় না দিলে সমস্যা থেকেই যাবে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? বিষয়টি পুরোপুরি বিএনপি নেতৃত্বের এখতিয়ার। ওই দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করে নাম ঠিক হবে। ইতিমধ্যে যাদের নাম আসছে, তারা সবাই স্থায়ী কমিটির সদস্য। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মন্ত্রিসভায় নেয়ায় সাংগঠনিকভাবে দল কিছুটা ঝুঁকিতে পড়েছে। সংবাদমাধ্যমে বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মইন খানের নাম এসেছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। এর বাইরে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের কথাও বলছেন কেউ কেউ। বিএনপি’র একজন কেন্দ্রীয় নেতা এ প্রসঙ্গে বললেন, ‘যে নামগুলো সংবাদমাধ্যমে বেশি বেশি আসছে তার বাইরে থেকেও কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে।’
৩
জাতীয় নাগরিক পার্টি সারা দেশে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছে, মূলত তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বেকারদের কর্মসংস্থান। সাভারের অঘটনের পর অন্যান্য স্থানে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালিত হলেও হবিগঞ্জে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
হামলা ও ভাঙচুরের জন্য এনসিপি ক্ষমতাসীন বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলকে দায়ী করেছে। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাদের কোনো নেতাকর্মী হামলা ও ভাঙচুর করেনি। এনসিপি নেতাদের উস্কানিমূলক ও অশালীন বক্তব্যে ক্ষেপে গিয়ে ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’ এই হামলা চালিয়েছে।
হবিগঞ্জে হামলার পর এনসিপি নেতারা কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন। এরপর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার দুই পক্ষ হবিগঞ্জে সমাবেশের কর্মসূচি নিলে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে; যাতে কোনো পক্ষ কর্মসূচি পালন করতে না পারে। পরদিন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে আরেকটি দল হবিগঞ্জে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলেও নেতাদের ভাষা ব্যবহারে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনপরিসরে অশ্রাব্য ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের প্রতিযোগিতা চলছে। এটা যে কেবল বিরোধী দলের নেতারা করছেন তা নয়, সরকারি দলেরও কোনো কোনো নেতা করছেন।
আমরা দেখলাম হবিগঞ্জে এনসিপি’র যাত্রা ঠেকাতে কয়েক শ’ পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তায় আড়াআড়ি ট্রাক রেখে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা এনসিপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলছেন, “আপনাদের চেয়ে আমাদের সংখ্যা বেশি।”
বুধবার হবিগঞ্জের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে চলে যাওয়ার সময় এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে বহন করা গাড়িতে হামলা হয়। গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙে গেছে। তিনি হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন। এনসিপি’র শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শিব্বির আহমদ বলেন, এনসিপি’র সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু ও আতিকুর রহমান মোজাহিদের গাড়ি ও সাত শহীদ পরিবারের সদস্যদের বহন করা দু’টি গাড়িতে হামলা হয়েছে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কাজটি করতে হবে জাতীয় সংসদেই। সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতৈক্য হতে হবে। হ্যাঁ, তারা বলতে পারে, রাস্তায় কর্মসূচি পালন করে তারা সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করবে। কিন্তু যেখানে যেই কর্মসূচিতে নেতাকর্মীর চেয়ে পুলিশের উপস্থিতি বেশি হয়, তাতে সরকার কতোটা চাপ বোধ করবেন- সেই প্রশ্নও উঠবে।
জাতীয় সংসদের দু’টি অধিবেশনে মানুষের মৌলিক সমস্যা নিয়ে কথা কমই হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে অধীনতামূলক চুক্তি করলো অন্তর্বর্তী সরকার, সেসব নিয়েও এনসিপি ও জামায়াতকে কথা বলতে শুনি না। আমরা বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবো, গম কিনবো, বোয়িং কিনবো, আর জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়বে, এটা নিশ্চয়ই জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল না।
জুলাই সনদ বা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন তো আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোর জন্য। হবিগঞ্জের ঘটনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা কি সেই বদলের ইঙ্গিত দেয়?
ইতিমধ্যে পত্রিকায় খবর এসেছে, এনসিপি’র সঙ্গে নানা বিষয়ে জামায়াতের দূরত্ব বেড়েছে। অন্যদিকে জামায়াত নিজেই দুই এমপি নিয়ে বিপদে আছে, যাদের একজনকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ১১ দলীয় জোটের একটি (ইসলামী আন্দোলন) নির্বাচনের আগেই বেরিয়ে গেছে। সমপ্রতি আরও একটি দল বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কওমি ধারার সাতটি দল নিয়ে নতুন ইসলামী জোট গঠিত হচ্ছে। এর অর্থ জামায়াত জোট ছোট হয়ে আসছে।
বাংলাদেশে প্রতিবার আন্দোলন-সংগ্রাম হয়, মানুষ জীবন দেয়, সরকার বদল হয়। কিন্তু ব্যবস্থার বদল হয় না। সেটা থাকে অব্যয়ের মতো।