সময় বড় খরস্রোতা। সে ছুটে চলে তার আপন গতিতে। এই ধেয়ে চলার মাঝেই চলে ভাঙাগড়া। চলে নানামুখী রূপান্তর। সময়ের ধারাপাতে জুলাই ফের দৃশ্যপটে। দু’বছর পেছনে ফিরলে উত্তাল সেই দিনগুলো ইতিহাসের রং বদলের সাক্ষ্য দেয়। আলোচনা হচ্ছে জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে। কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে সরকার পতন আন্দোলন। প্রবলভাবে চেপে থাকা একনায়ক হাসিনা সরকারের বিদায়ে আসে অন্তর্বর্তী সরকার। দেশের আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত হয় একের পর এক কমিশন।
চলে দিনের পর দিন বৈঠক। যেসব ছাত্রনেতা আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন তারাও দল গঠন করেন। ড. ইউনূসের সরকারের সময় একদিকে সংস্কার নিয়ে যেমন ছিল তোড়জোড় তেমনি ছিল তীব্র সুশাসনের অভাবও। পুরো সময়কালে দেশের বিভিন্ন স্থানে মব আতঙ্ক চেপে বসেছিল। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি চলে যায় বেহাল অবস্থায়। আক্রান্ত হয় মিডিয়াও। আসে নির্বাচন। বিএনপি জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু দীর্ঘ সময় হাসিনা আমলের গণতন্ত্রহীনতা আর ইউনূস জমানায় রেখে যাওয়া বেহাল অবস্থা মোকাবিলায় সরকার এখনো শিরদাঁড়া সোজা করতে পারেনি।
অন্তত একটি ইস্যুকে সামনে আনলেই পুরো চিত্র দৃশ্যমাণ হবে। হামের টিকা যথাসময়ে না দেয়ায় শত শত শিশু দুনিয়ার আলো দেখার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। এর দায় তো ড. ইউনূস প্রশাসনের। এ ছাড়াও বহুক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার দৃষ্টান্ত তো রয়েছেই। এই ভূমিধস পরিবর্তনের লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। দুঃখজনক, যারা জুলাই অভ্যুত্থানে ছিলেন তারাই এখন ক্ষমতার রশি টানাটানিতে মত্ত। তাহলে পরিবর্তন কোথায়? চলছে সংস্কার না সংশোধন এ নিয়ে দ্বৈরথ। আমজনতার চাওয়া একটি নিরাপদ দেশ। যেখানে মানুষ দু’বেলা দু’মুঠো খাবে শান্তিতে। ভোটের বেলায় একদিনের রাজা হবে। নিরাপদে নিজের ভোট যেনো দিতে পারে। বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী একটি সত্যোচ্চারণ করেছেন। বলেছেন, তারেক রহমান ছাড়া আর কোনো কিছুই পরিবর্তন হয়নি। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা রয়েছে এই কথায়। মানুষ ইতিবাচক পরিবর্তন চায়। আর তা বাস্তবায়ন এই সরকারেরই দায়িত্ব।