সাফ কথা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র কি আবার পুরনো পথে?

শহীদুল্লাহ ফরায়জী | এক্সক্লুসিভ
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র কি আবার পুরনো পথে?

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি সরকারের পতনের ঘটনা নয়। এটি ছিল রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক পুনঃনির্ধারণের এক ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষা- যেখানে রাষ্ট্র হবে জনগণের, ক্ষমতা হবে জবাবদিহিমূলক, আইন হবে নাগরিকের নিরাপত্তার রক্ষাকবচ এবং কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ঊর্ধ্বে থাকবে না।
 

এই গণ-অভ্যুত্থানের গভীরতম তাৎপর্য এখানেই-জনগণ শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য রাজপথে নামেনি; জনগণ রাষ্ট্রের ক্ষমতার দর্শন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিল। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিল যেখানে ক্ষমতা জনগণের কাছ থেকে আসবে, জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং জনগণের মৌলিক অধিকারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া হবে।
 

অর্থাৎ জুলাই ছিল শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়; জুলাই ছিল রাষ্ট্রের মালিকানা, ক্ষমতার বৈধতা এবং নাগরিকের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। রাষ্ট্র জনগণের জন্য-এই সহজ অথচ বিপ্লবাত্মক সত্যটিই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ও নৈতিক ভিত্তি।
 

সেই কারণেই জুলাই-পরবর্তী রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল-রাষ্ট্র কি পুরনো ক্ষমতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন রাষ্ট্রদর্শনের দিকে এগিয়ে যাবে? অর্থাৎ, শুধু সরকার বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তির পরিবর্তন নয়; ক্ষমতার কাঠামোর পুনর্বিন্যাস, ক্ষমতার উৎস ও বৈধতার পুনঃনির্ধারণ এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাষ্ট্রসংস্কৃতির মৌলিক রূপান্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্র কি জনগণের সার্বভৌমত্ব, অংশীদারিত্ব ও জবাবদিহির নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে?
দুঃখজনকভাবে সামপ্রতিক কিছু রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও আইন সেই প্রশ্নকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
 

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় এখানে প্রথম এবং সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন।
সরকার প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো-গণভোটে জনগণের যে সাংবিধানিক অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তা কোথায়?
 

গণভোট কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়। গণভোট হলো জনগণের প্রত্যক্ষ সার্বভৌম ইচ্ছার প্রকাশ। সংসদ জনগণের প্রতিনিধি; সরকার জনগণের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করে; রাজনৈতিক দল জনগণের কাছে ম্যান্ডেট চায়। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ সিদ্ধান্তকে কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার নিজের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ বা বর্জন করার অধিকার রাখে না।
এখানেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মৌলিক শিক্ষা।
 

জনগণের সার্বভৌমত্ব যদি রাষ্ট্রের বৈধতার উৎস হয়, তাহলে জনগণের প্রত্যক্ষ রায়কে বাস্তবায়নের প্রশ্নে রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া যদি রাজনৈতিক দর-কষাকষি, দলীয় সুবিধা অথবা ক্ষমতার হিসাবনিকাশে আটকে যায়, তাহলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল দর্শনের সঙ্গেই সংঘাত তৈরি হয়।
কারণ জুলাই আমাদের শিখিয়েছে-রাষ্ট্র জনগণের ঊর্ধ্বে নয়; রাষ্ট্র জনগণের কাছ থেকেই বৈধতা পায়।
আর এই জায়গা থেকেই সামপ্রতিক তিনটি আইনকে দেখা জরুরি।
 

এগুলোকে বিচ্ছিন্ন তিনটি আইন হিসেবে দেখলে মূল প্রশ্নটি আড়ালে পড়ে যাবে। বরং তিনটি আইনকে একই রাষ্ট্রদর্শনের তিনটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা দরকার।
প্রথম পরীক্ষা-রাষ্ট্র কি মানবাধিকারের জন্য একটি সত্যিকার স্বাধীন প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে?
 

দ্বিতীয় পরীক্ষা-রাষ্ট্র কি গুমের মতো ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে?
তৃতীয় পরীক্ষা-রাষ্ট্র কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে আবার এমন একটি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনী তৈরি করছে, যার ক্ষমতার ওপর কার্যকর নাগরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে?
এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে তিনটি আইন বিশেষভাবে পর্যালোচনা করতে হবে-
প্রথমত, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬।
 

মানবাধিকার রক্ষার জন্য যে প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বাধীন থাকবে, সেই প্রতিষ্ঠান যদি নিয়োগ, প্রশাসন, অর্থায়ন ও তদন্তের ক্ষেত্রে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়, তাহলে তার সাংবিধানিক ও নৈতিক স্বাধীনতা কতোটা কার্যকর থাকবে-এটি মৌলিক প্রশ্ন।
 

আগস্টে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়ার মতো কিছু ক্ষমতা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আইনটি সংসদে পাস হওয়ার পর বিরোধী পক্ষ ও অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, আগের অধ্যাদেশের তুলনায় স্বাধীনতা ও জবাবদিহির কাঠামো দুর্বল হয়েছে।
 

টিআইবিও তদন্তের স্বাধীনতা, কমিশনের নিয়োগ কাঠামো, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা এবং আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। এগুলো তাদের মূল্যায়ন-কিন্তু প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করার মতো নয়।
মানবাধিকার কমিশনের মূল দর্শন হওয়া উচিত-রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নাগরিকের অধিকার রক্ষার শেষ প্রাতিষ্ঠানিক আশ্রয়। সেই প্রতিষ্ঠানই যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নাগরিক কোথায় যাবে?
দ্বিতীয়ত, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬।
 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নৈতিক দাবি ছিল-রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আড়ালে নাগরিককে অদৃশ্য করে দেয়ার সংস্কৃতির অবসান।
গুম শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়; এটি একজন মানুষের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা, পরিবার এবং আইনের আশ্রয়-সবকিছুর ওপর আঘাত। তাই গুমের বিচার শুধু অপরাধী শনাক্ত ও শাস্তি দেয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির প্রশ্ন সরাসরি যুক্ত।
 

সরকারের প্রস্তাবিত আইনে গুমকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি এবং গুরুতর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু অধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ ছিল-তদন্তের স্বাধীনতা কতোটা নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে তদন্ত করানো হলে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন উঠতে পারে।
এখানে রাষ্ট্রের কাছে মৌলিক প্রশ্ন হলো-অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কি সত্যিকার অর্থে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সম্ভব? ন্যায়বিচারের একটি মৌলিক নীতি হলো-কেউ নিজের মামলার বিচারক হতে পারে না।
অতএব, গুমের বিচার চাইলে শুধু নতুন আইন করলেই হবে না; প্রয়োজন স্বাধীন তদন্ত, সাক্ষীর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগী পরিবারের সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর কার্যকর জবাবদিহি। নইলে গুমবিরোধী আইনও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আত্মরক্ষার আইনি আবরণে পরিণত হতে পারে।
 

তৃতীয়ত, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন- ঝজই আইন, ২০২৬। এই আইনটি সবচেয়ে গভীর রাষ্ট্রদার্শনিক প্রশ্নটি সামনে এনেছে।
র‌্যাব বিলুপ্ত করে ঝজই গঠনের আইন সংসদে পাস হয়েছে। সরকারের বক্তব্য-নতুন বাহিনী হবে আধুনিক, পেশাদার, বিশেষায়িত ও জবাবদিহিমূলক এবং সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
কিন্তু আইনের সমালোচকদের প্রশ্ন-র‌্যাবের জনবল, সম্পদ, অবকাঠামো ও দায়-দায়িত্ব নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরিত হলে এটি কি প্রকৃত অর্থে নতুন বাহিনী, নাকি পুরনো কাঠামোরই নতুন নাম?
আইন পাসের পর র‌্যাবের জনবল ও সম্পদ নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। পরে গেজেটের মাধ্যমে ঝজই কার্যক্রমও শুরু করেছে।
এখানেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাষ্ট্রদর্শনের সঙ্গে সবচেয়ে বড় সংঘাতের সম্ভাবনা। কারণ রাষ্ট্রের সংস্কার মানে শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন নয়। নাম বদল সংস্কার নয়।
পোশাক বদল সংস্কার নয়। প্রতীক বদল সংস্কার নয়।
সংস্কার হলো ক্ষমতার দর্শনের পরিবর্তন।
 

একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী কতোটা শক্তিশালী-এটি একমাত্র প্রশ্ন নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সেই শক্তির ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ কতোটা?
কাকে আটক করা যাবে?
 

কোন পরিস্থিতিতে অভিযান পরিচালিত হবে? কার কাছে জবাবদিহি করতে হবে?
অভিযোগের তদন্ত কে করবে?
 

নির্যাতন বা বেআইনি বলপ্রয়োগের অভিযোগ হলে তদন্ত কি স্বাধীন হবে?
বাহিনীর বিরুদ্ধে নাগরিকের অভিযোগের প্রতিকার কোথায়?
 

এবং সর্বোপরি-রাষ্ট্রীয় শক্তি কি নাগরিককে রক্ষা করবে, নাকি নাগরিকের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে ঝজই কেবল নতুন একটি প্রতিষ্ঠান, নাকি পুরনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নতুন অবয়ব।
তাই তিনটি আইনকে আলাদা আলাদা করে দেখলে চলবে না। মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা, গুমের তদন্তের স্বাধীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি-এই তিনটি আসলে একই রাষ্ট্রদর্শনের তিনটি স্তম্ভ।
একদিকে নাগরিকের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান যদি স্বাধীন না হয়, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অপরাধের তদন্ত যদি স্বাধীন না হয় এবং তৃতীয় দিকে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ যদি না থাকে-তাহলে রাষ্ট্রের নাম বদলালেও রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক বদলায় না।
 

এখানেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।
জুলাই কি শুধু পুরনো সরকারকে সরিয়ে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার নাম?
নাকি জুলাই ছিল রাষ্ট্রের চরিত্র পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক আহ্বান?
 

যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতিটি আইন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিকে জুলাইয়ের সেই নৈতিক মানদণ্ডে পরীক্ষা করতে হবে।
জনগণ এমন রাষ্ট্র চায়নি যেখানে শুধু শাসকের মুখ বদলাবে, কিন্তু ক্ষমতার কাঠামো একই থাকবে।
জনগণ চেয়েছে এমন রাষ্ট্র যেখানে ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হবে, প্রতিষ্ঠান স্বাধীন হবে, আইন নাগরিকের ঢাল হবে এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনী আইনের অধীন থাকবে।
জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল-রাষ্ট্র জনগণের মুখোমুখি হবে; জনগণ রাষ্ট্রের ভয়ের মুখোমুখি হবে না।
সুতরাং প্রশ্নটি আজ আর কেবল তিনটি আইনের নয়।
 

প্রশ্ন হলো-জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা কি সত্যিই নতুন রাষ্ট্র নির্মাণ করছি, নাকি পুরনো রাষ্ট্রকাঠামোকেই নতুন ভাষা, নতুন আইন ও নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুনর্গঠন করছি?
যদি রাষ্ট্রের ক্ষমতার দর্শন না বদলায়, তাহলে সরকার বদলালেও রাষ্ট্র বদলায় না।
আর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-
 

সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র  কাঠামো বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনই ছিল জনগণের ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষা।
সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায় আজকের সরকারের ওপরই সবচেয়ে বেশি।
 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারকে সরিয়ে দেয়ার জন্য ছিল না; এর গভীরে ছিল রাষ্ট্রকে নতুন করে নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা। জনগণ চেয়েছিল এমন একটি রাষ্ট্র-যেখানে ক্ষমতা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ হবে, রাষ্ট্র নাগরিকের মর্যাদা রক্ষা করবে, আইন হবে ন্যায়ের ভিত্তি, এবং ক্ষমতার কাঠামো আর জনগণের ওপর আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হবে না।
কিন্তু আজ প্রশ্ন উঠছে-জুলাইয়ের সেই ঐতিহাসিক সম্ভাবনার পর আমরা কেমন রাষ্ট্র পেলাম?
 

রাষ্ট্র কি পুরনো ক্ষমতার সংস্কৃতি থেকে সত্যিই বেরিয়ে এসেছে, নাকি শুধু ক্ষমতার কেন্দ্র ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির পরিবর্তন ঘটেছে? রাষ্ট্রের ক্ষমতা কাঠামোর পুনর্বিন্যাস কি হয়েছে? জনগণের অংশগ্রহণ কি বেড়েছে? প্রতিষ্ঠানগুলো কি আরও স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক হয়েছে? নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা কি আরও সুরক্ষিত হয়েছে?
 

নাকি জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার ঐতিহাসিক সুযোগ আবারো পুরনো রাষ্ট্রচিন্তার কাছে পরাজিত হয়েছে?
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক 
faraizees@gmail.com

 

এক্সক্লুসিভ'র অন্যান্য খবর