কূটনীতি

আল জাজিরার বিশ্লেষণ, যে কারণে থমকে আছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ‘রিসেট’

জনতার চোখ ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
আগস্ট ২৯, ২০২৬
আল জাজিরার বিশ্লেষণ, যে কারণে থমকে আছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ‘রিসেট’

এ বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর নিয়ে নীরবে প্রস্তুতি চলছিল ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে। কিন্তু একটি সংবাদ সম্মেলন সেই প্রচেষ্টাকে হঠাৎ করেই থামিয়ে দেয়। 
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত। তিনি ৫ই আগস্ট ভারতের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি, তার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা গণ-অভ্যুত্থানের সমালোচনা করেন।
 

বাংলাদেশ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ভারতের মাটিতে হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়ায় তারা ‘ক্ষুব্ধ’। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে হাসিনা ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন। এর আগে ঢাকা স্পষ্টভাবে নয়াদিল্লিকে সতর্ক করেছে, এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না দিতে যা দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এরপর বাংলাদেশ জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নয়াদিল্লিকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায় ঢাকা। ভারত বলছে, এসব অনুরোধ ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার’ মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথোপকথনে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তাৎক্ষণিক বিরোধটি শুধু হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে নয়। মূল প্রশ্নটি সম্ভবত 

ভারত কখন হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে, সেটি নয়; বরং হাসিনা ভারতে অবস্থান করার সময় তাকে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেয়া হবে, সেটিই বড় বিষয়।
 

‘মেগাফোন’ সমস্যা
 

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার ফয়সাল মাহমুদ মনে করেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আলাদা বিষয় হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অচলাবস্থার বড় কারণ হলো, ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনার হাতে নয়াদিল্লি আক্ষরিক অর্থেই একটি মেগাফোন তুলে দিয়েছে- যা করতে নিষেধ করেছিল ঢাকা। তার মতে, প্রত্যর্পণ ‘সম্পূর্ণ আলাদা এবং অনেক বেশি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি বিষয়’, যা তারেক রহমানের সরকারও বোঝে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর কিংবা বৃহত্তরভাবে দুই দেশের শীতল সম্পর্ক পুনর্গঠনের অচলাবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হাসিনার প্রত্যর্পণ নয়। কেন্দ্রবিন্দু হলো, ভারত তাকে নিজেদের মাটি থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। এই উদ্বেগ অবশ্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের আগেরই।
 

২০২৫ সালের ৪ঠা এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় নোবেলজয়ী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূস নয়াদিল্লিকে ভারতীয় মাটি থেকে হাসিনার ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ দেয়া ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির আল জাজিরাকে বলেন, ঢাকা ‘আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি ভালো ও কার্যকর সম্পর্ক’ চায়। তবে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার মতো অপরাধীকে ভারত থেকে আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়।’ তার ভাষায়, দুই দেশের নেতৃত্ব চাইলে সম্পর্ক ‘নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করতে পারে। তবে নয়াদিল্লিকে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে। হুমায়ুন কবির বলেন, কোনো সার্বভৌম ভূখণ্ড থেকে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে না। যারা আমাদের মানুষ হত্যা করেছে, তাদের ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশে সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার সুযোগ দেয়া অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, ঢাকা অপরাধে অভিযুক্ত অন্যান্য বাংলাদেশিকেও ফেরত চায়। এর মধ্যে রয়েছেন হাসিনা ও ভারতের সমালোচক শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও। ২০২৫ সালে হাদি হত্যার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে ভারতে চলে যায়। সেখানে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যে এটিও স্পষ্ট যে, হাসিনা ইস্যুর কারণে ঢাকা অনির্দিষ্টকাল উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বন্ধ রাখতে চায় না। তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে বলে জানান তিনি। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষ পর্যন্ত ‘অনিবার্য’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি সপ্তাহান্তে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যা দেখে মনে হয়েছিল তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি প্রত্যাহার করা হয়। হুমায়ুন কবির বলেন, বৈঠক অবশ্যই হতে হবে। তবে তা হতে হবে আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে। তিনি আরও বলেন, এটি আগামী সপ্তাহে হতে পারে, দুই সপ্তাহ পরে হতে পারে কিংবা দুই মাস পরেও হতে পারে। 
 

ভারত কি হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে?
 

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা এবং তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা- দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। হাসিনা এই বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনার প্রত্যর্পণ চায়। দুই দেশের ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে এই অনুরোধ জানানো হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের পর ঢাকা আবারও প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। এরপর ভারত জানায়, বিষয়টি ‘পরীক্ষাধীন’ রয়েছে। গত ১১ই আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানায়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ ভারতের ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া’ অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে। আরও অগ্রগতি হলে বাংলাদেশকে জানানো হবে বলেও জানানো হয়। এ বিষয়ে আল জাজিরার বিস্তারিত জানতে চাওয়া প্রশ্নের জবাব দেয়নি এমইএ। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, প্রত্যর্পণের বিষয়টি চুক্তির বিধান এবং ভারতের আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এগোতে হবে। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণের জন্য বিচারিক আদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে সব আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। তার মতে, চুক্তিতে এমন কিছু শর্তও রয়েছে, যার ভিত্তিতে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। 
 

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই কূটনীতিকে প্রভাবিত করছে
 

কিছু বিশ্লেষক প্রত্যর্পণের দাবিতে একটি রাজনৈতিক বৈপরীত্য দেখতে পাচ্ছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষক সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের মতে, ঢাকা হাসিনাকে ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে ভারতকে, অথচ একই সময়ে সম্ভবত তাকে বাংলাদেশের বাইরে রাখতেই বেশি আগ্রহী। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, বাংলাদেশ জানে যে ভারত সরকার কখনোই হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না। তবু তারা প্রত্যর্পণের দাবি জানাচ্ছে। তার মতে, এটি বাংলাদেশের জনমতকে সন্তুষ্ট করার জন্য রাজনৈতিক প্রদর্শন হতে পারে। বার্গম্যান বলেন, একই সময়ে সরকার আসলে হাসিনাকে দেশে ফেরত চায় না। অন্য বিশ্লেষকরাও একই ধরনের দ্বিধার কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে ঢাকা যে সমস্যার সমাধান করবে, তার পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক ও আইনি সমস্যাও তৈরি হতে পারে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হেফাজত বাংলাদেশের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তাকে কারাবন্দি করা এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিণতিও মোকাবিলা করতে হবে সরকারকে। তবে হাসিনা ইস্যু ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বৃহত্তর পুনর্মূল্যায়নের মাত্র একটি অংশ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, ঢাকার বর্তমান অবস্থানকে সরাসরি ‘ভারতবিরোধী’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বাংলাদেশের এখনো ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের সম্পর্ক প্রয়োজন। তার মতে, সরকারের অবস্থানের পেছনে দুটি বিষয় কাজ করছে- বাংলাদেশের আইনি ও সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং গত দুই দশকে নয়াদিল্লির সঙ্গে হাসিনার আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া মনোভাব। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে প্রধান রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে ভারত ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিল এবং ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে নয়াদিল্লি ধীরগতির ছিল। তার মতে, ভারত এখন ‘ক্রমবর্ধমানভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিচ্ছে’। তবে ঢাকা এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়। 
 

কোনো পক্ষই সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না
 

রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও বাস্তব যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এই মাসে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)-এর একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে মন্ত্রী ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। একই সময়ে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকার তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ১০.৫৬ বিলিয়ন ডলার। ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, এর পেছনে একটি অনিবার্য বাস্তবতা কাজ করছে। তিনি বলেন, ভূগোল ভূরাজনীতিতে একটি অপরিবর্তনীয় বিষয়। এটি ভারত ও বাংলাদেশকে এমনভাবে আবদ্ধ করেছে, যা দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা উপেক্ষা করতে পারবেন না। 
 

তবে তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের সমালোচনা করেন। চক্রবর্তী বলেন, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কোনো একজন ব্যক্তির কাছে জিম্মি করা উচিত বলে আমি মনে করি না। 
ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতার আরেকটি দিক তুলে ধরেন। তার মতে, বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বহুমুখী করার চেষ্টা করলেও তাতে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব কমেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক বাড়ানো, তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগের ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, চীন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও পররাষ্ট্রনীতির হিসাব-নিকাশে বেইজিংয়ের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা তার ভূমিকা বাড়িয়ে তুলছে। তবুও তার মতে, বাংলাদেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ভারতের কাঠামোগত গুরুত্বকে কমিয়ে দিতে পারবে না। তিনি বলেন, দুই পক্ষই দীর্ঘ সময় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কহীন অবস্থায় থাকতে পারবে না। ভূগোলের কারণেই ভারত বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দুই দেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার (২ হাজার ৫৪৬ মাইল) দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে।
 

শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী নীতিতেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে সমর্থন করছে ৭০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া ও কাঠামো। এই কাঠামোগত নির্ভরশীলতাই ব্যাখ্যা করে কেন রাজনৈতিক অচলাবস্থা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। গত ১৮ই আগস্ট পর্যন্তও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী’ সম্পর্ক চায় ভারত। 
 

তবে এখনো মূল প্রশ্ন রয়ে গেছে- কোন প্রকাশ্য বা গোপন সমঝোতা দুই সরকারকে এমন একটি রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করে দিতে পারে, যাতে কেউই নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটেছে বলে মনে না করে এবং শেষ পর্যন্ত দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পথ খুলে যায়?
 

লেখক: মওদুদ আহমেদ সুজন
(অনলাইন আল জাজিরা থেকে অনুবাদ)

 

আন্তর্জাতিক'র অন্যান্য খবর