আন্তর্জাতিক

জুলাই অভ্যুত্থান ও দক্ষিণ এশিয়া

মোহাম্মদ আবুল হোসেন | আন্তর্জাতিক
আগস্ট ১, ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থান ও দক্ষিণ এশিয়া

পুরনো ধ্যান-ধারণাকে ক্রমেই পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে আসছেন দক্ষিণ এশিয়ার নতুন প্রজন্ম বা জেন-জি। সেই যে শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু হলো তা একে একে বাংলাদেশ, নেপাল হয়ে এখন ভারতে আছড়ে পড়ছে। এই উদ্যমী তরুণ সমাজ যখন দেখছে তাদের সামনে ভবিষ্যৎ ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে তখন নিজেরাই সোচ্চার হয়ে উঠছে। নিজেদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে জীবন বাজি রেখে নেমে পড়ছেন রাজপথে। এমনি করে বদলে গেছে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপাল। আর ভারতে তিন দফায় ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ক্ষমতার মেয়াদে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যতটুকু ধাক্কা এসেছে তা তিনি সামলে নিয়েছেন। 

কিন্তু এবার একজন বিচারক এই প্রজন্মকে নিয়ে কটূক্তি করতে গিয়ে তাদেরকে ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশে যেমন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ দিয়ে উচ্চারিত ‘রাজাকার’ শব্দে ঢাকা তথা বাংলাদেশের রাজপথ তেঁতে উঠেছিল, ভারতেও তাই হলো। তবে বাংলাদেশের থেকে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলো হাসিনার সরকার আন্দোলনকারী দেশের সম্পদ তরুণ সমাজকে দমন করতে লেলিয়ে দিয়েছিল তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, নিরাপত্তা রক্ষাকারী সহ প্রশাসনকে। তাতে আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ সহ জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কারফিউ দেয়া হয়েছে। পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে। সমর্থকরা অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এসব যতই করেছে সরকার ততই জনমতের সমর্থন পেয়েছেন ছাত্ররা। কিন্তু এক্ষেত্রে মাথা ঠাণ্ডা রেখেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি শেখ হাসিনার মতো গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। তার বাহিনীর হাতে কোনো শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা ঘটেনি। হাসিনার মতো তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তবে আন্দোলনের মুখে তিনি পার্লামেন্টের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন নিরাপত্তার কারণে। এরপর তিনি ভিডিওতে যে বার্তা দিয়েছেন, বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তাতে মোদিকে বিধ্বস্ত, বিমর্ষ দেখাচ্ছে। 

 

শেষ পর্যন্ত তার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছেড়ে গেলেও যেকোনো সময় তারা আবার পথে নামতে পারেন। তারা বলছেন, এখনো তাদের অনেক দাবি পূরণ হয়নি। তারা বার বার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন। এদিকে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষে ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান। তার কাছে শুধু ছাত্র-জনতা নয়, পুরো দেশবাসীর আকাশসম প্রত্যাশা। তারও আগে প্রত্যাশা জমতে জমতে পাহাড়সম হয়ে গেছে। ক্ষমতার এক বছরও পূরণ হয়নি। এরই মধ্যে সেই ফাঁক সামাল দিয়ে জনপ্রত্যাশা পূরণ করা তার জন্যও কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। এরই মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে তার সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারা দাবি তুলছেন এই সনদ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ, পার্লামেন্টে বিএনপি’র এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। ফলে যেকোনো সময় তারা যেকোনো বিধান পাস করিয়ে নিতে পারে। এর ফলে তারা যে সমতাভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা ব্যাহত হবে। কিন্তু সরকার বলছে অন্যকথা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল নির্বাচনের তাগিদে। এখন সামনের দিনগুলোতে এই সংকট জিইয়ে থাকলো। এতে বাংলাদেশের রাজনীতি কোনদিকে মোড় নেয় সেটা দেখার বিষয়। অন্যদিকে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা।  
এসব নিয়ে ভারতের একটি মিডিয়া লিখেছে- ‘কাহিঁ পেয়ার না হো যায়ে... ইন্ডিয়ার জেন-জেড সে এক রিকোয়েস্ট হ্যায়, আব বাস! এতনা আচ্ছা করোগে তো ম্যায়ঁ নফরত ক্যায়সে করুঙ্গি।’ অর্থাৎ ‘কোথাও প্রেমে পড়ে না যাই... ভারতের জেন-জেডের কাছে একটি অনুরোধ, এবার থামুন! এত ভালো কাজ করলে আমি আপনাদের ঘৃণা করবো কীভাবে?’
 

যন্তর মন্তরে তরুণ বিক্ষোভকারীদের গণতান্ত্রিক উদ্দীপনা ও সহমর্মিতার এই বার্তা মিম ও রিলসের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের অসংখ্য মানুষ দিল্লির তরুণ বিক্ষোভকারীদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং তাদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনেকেই আক্ষেপ করছেন যে, নিজেদের দেশের অনেক বেশি দমনমূলক সরকারের বিরুদ্ধে তারা রাস্তায় নেমে নিজেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গড়ে তুলতে পারছেন না। দিল্লির আন্দোলন যেমন অপ্রত্যাশিত ছিল, তেমনি বিস্ময়কর হলো দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এ নিয়ে নজিরবিহীন আগ্রহ। শুধু দিল্লিই নয়, ভারতের আরও অনেক শহরের ঘটনাও এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে। শ্রীলঙ্কায় ব্যঙ্গচিত্রশিল্পীরা এই আন্দোলন নিয়ে একের পর এক কার্টুন এঁকেছেন। এটি তাদের ২০২২ সালের চার মাসব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটবিরোধী ‘আরাগালায়া’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যে আন্দোলনের ফলে রাজাপাকসে সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। দেশটির একজন বিশিষ্ট আন্দোলনকর্মী ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মুম্বইয়ে এক কিশোরীর সেই ভাইরাল ছবি শেয়ার করেন, যেখানে মেয়েটি পুলিশ ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে সহবিক্ষোভকারীদের নিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। ছবিটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘এটা একেবারেই অন্যরকম অনুভূতি।’ আরাগালায়া আন্দোলনের কর্মী বুওয়ানাকা পেরেরা ইনস্টাগ্রামে ভারতের বন্ধুদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন-  
‘আমাদের দেশে যে তরুণদের বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ জ্বলেছিল এবং যা পরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল- যার প্রভাব থেকে ভারত যেন দীর্ঘদিন দূরে ছিল- আজ কয়েক বছর পর ভারতের তরুণদের এবং সাধারণ মানুষকে তাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের গড়া ন্যায়ভিত্তিক ভারতের জন্য লড়াই করতে দেখে আনন্দে চোখে জল এসে যায়। কখনো ভুলে যেও না, তোমরা সেই মানুষদের উত্তরসূরি, যারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যকে বিদায় করতে পেরেছিল। আমাদের হৃদয় তোমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ব্যাকুল। এক তরুণ আন্দোলনকারী থেকে আরেক তরুণ আন্দোলনকারীর উদ্দেশ্যে বলছি- ‘লড়াই চালিয়ে যাও, কখনো হাল ছেড়ো না। শ্রীলঙ্কা থেকে ভালোবাসা। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’
 

নেপাল থেকেও এসেছে পরামর্শ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সেখানেও জেন-জেডের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলে সরকার পতন হয়েছিল। এক নেপালি তরুণ লিখেছেন- ‘প্রথম কথা, তোমরা যা অনুভব করছো, তা একেবারেই স্বাভাবিক। কেউ যেন তোমাদের না বলে যে, তোমরা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছো। দ্বিতীয় কথা, লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হইও না। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর মানুষ খুব সহজেই আসল উদ্দেশ্য ভুলে যায়।’
তবে সবচেয়ে বেশি বার্তা এসেছে পাকিস্তান থেকে। সেখানে কার্যত সামরিক প্রভাবাধীন শাসনব্যবস্থায় দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিক কারাবন্দি এবং ভিন্নমত কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। পাকিস্তানি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা বলছেন, যন্তর মন্তরের ঘটনাপ্রবাহ থেকে তারা চোখ সরাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রামার শানজানা. সেইড. নো বলেন- ‘এতদিন একে অপরকে ঘৃণা করা খুব সহজ ছিল। কিন্তু এখন তো আমি তোমাদের ভক্ত হয়ে যাচ্ছি। এই যে ভালোবাসা বারবার উথলে উঠছে, এটা নিয়ে আমি কী করবো? তোমরা এই সাহস কোথা থেকে পাও? সত্যিই অসাধারণ সম্মান, বন্ধুরা-অসাধারণ সম্মান।’
অনেকে হয়তো এই বিপুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রশংসার পেছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজবেন। কিন্তু তাতে এসব বার্তার ভেতরের হতাশা ও বেদনা তারা বুঝতে পারবেন না। বিলাল হুসাইন বলেন- ‘আমি তোমাদের প্রতিটি প্ল্যাকার্ড, প্রতিটি ইঙ্গিত, প্রতিটি ভেতরের রসিকতা বুঝতে পারছি- যদিও দুই দেশের মধ্যে এত ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা মোদিকে ফ্যাসিস্ট বলছো, কিন্তু আমার চোখে সেখানে অন্য একজনের মুখ ভেসে ওঠে। তোমাদের ছাত্রদের পেটানো হয়, আমাদের ছাত্রদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।’
 

আরেকজন বলেন, ভারতে যদি বিরোধী নেতাদের আন্দোলন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে কিছু সময় পর অন্তত তারা মুক্তি পান। কিন্তু পাকিস্তানে- ‘তাদের এত নির্যাতন করা হয় যে, তারা আর কখনো কথা বলতে পারেন না, অথবা তাদের আর কখনো মুক্তি দেয়া হয় না। আমরা সবাই জানি আমি কাকে বোঝাচ্ছি।’
 

ইঙ্গিতটি যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দিত্বের দিকেই, তা স্পষ্ট। ইনস্টাগ্রামার জাই-আওরঙ্গজিব লিখেছেন, কেন পাকিস্তানের জেন-জেড একইভাবে সংগঠিত হতে পারছে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮০-এর দশকে জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে ছাত্র ইউনিয়নগুলো কার্যত ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। তিনি লিখেছেন- পাকিস্তানের জেন-জেডও পরিবর্তনের জন্য মরিয়া। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভিন্ন। আমরা প্রকৃত বেসামরিক শাসনের অধীনে নই, বরং সামরিক প্রভাবাধীন ব্যবস্থার মধ্যে বাস করি। এটাই মৌলিক পার্থক্য। পাকিস্তানের তরুণদের দোষারোপ করে যারা অজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের জন্যই এই পোস্ট। সঠিক প্রশ্ন করুন। ইতিহাস পড়ুন।’ তিনি আরও লিখেছেন- ‘স্বাধীনতা এমন কিছু নয়, যা সরকার জনগণকে উপহার দেয়। মানুষ বহু বছর ধরে মূল্য দিয়ে ধীরে ধীরে তা অর্জন করে। কোনো জাতি অপেক্ষা করে কখনো স্বাধীন হয়নি।’ 
 

২০২২ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে ভারত দেখেছে, কীভাবে একের পর এক দেশে জেন-জি আন্দোলনে সরকার বদলে গেছে- প্রথমে শ্রীলঙ্কা, তারপর বাংলাদেশ, এরপর নেপাল। অনেকের ধারণা ছিল, ভারতের তরুণরা অতিরিক্ত শান্ত, সন্তুষ্ট অথবা ক্ষমতাসীন দলের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি অতিমাত্রায় সমর্থনশীল। কিন্তু ভারতের প্রধান বিচারপতির বেকার তরুণদের উদ্দেশ্যে করা অবমাননাকর মন্তব্য থেকে জন্ম নেয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশ জুড়ে যে সংহতি অর্জন করেছে, ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে যে বিশাল বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে- তা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে বিস্ময় ও প্রশংসা দু’টিই জাগিয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় জেন-জি জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ এবং সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে তাদের সংগ্রাম সীমান্ত পেরিয়ে এমন এক সহমর্মিতার জন্ম দিয়েছে, যা মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও কল্পনা করা কঠিন ছিল। কারণ এতদিন ভারতকে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে প্রায়ই ‘বড় ভাই’ হিসেবে দেখা হতো।

 

আন্তর্জাতিক'র অন্যান্য খবর