নতুন একটি পর্ব শুরু হয়েছে রাজনীতিতে। তা হচ্ছে ঐকমত্য কমিশনের ঠেলে দেয়া মতানৈক্য মিল করতে হবে রাজনীতিকদেরই। নয় মাসের সিরিজ বৈঠক। সংস্কারের মাধ্যমে সংবিধানের আমূল বদল। জনসমক্ষে জুলাই সনদ সই। কিন্তু এরপরই ঘটে বিপরীতচিত্র যা ছিল অমূলক। নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদের চূড়ান্ত নথি প্রধান উপদেষ্টাকে তুলে দেয়া। সবচেয়ে বড় দল বিএনপি ইতিমধ্যেই প্রতারণার অভিযোগ করেছে। বলেছে, রেফারি নিজেই গোল দিয়েছে। গণভোট নির্বাচনের আগে না পরে- এ নিয়ে বিতর্ক। একদিকে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা আর অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বে আট ইসলামী দল। মুখোমুখি দু’পক্ষই। ইতিমধ্যেই বিএনপি’র মহাসচিব বলেছেন, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। অন্যদিকে জামায়াতের নায়েবে আমীর বলেছেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকা করবেন। সাধারণ মানুষ আছে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায়। ৫ই আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে যে ধরনের স্বস্তি ও শান্তি মানুষ চেয়েছিল, দেশ একটি গণতান্ত্রিক পথে হাঁটবে- তা নিয়ে দিন যত যাচ্ছে শঙ্কা তত বাড়ছে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সর্বত্র প্রশ্ন একটাই- ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হচ্ছে তো?
আশার কথা হচ্ছে, সেনাসদর এক ব্রিফিংয়ে দেশের নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছে। সেনা তরফে বলা হয়েছে, নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও স্বাভাবিক হবে। সেনাবাহিনী তখন সেনানিবাসে ফিরে যেতে পারবে। সরকার এখন পর্যন্ত যেই রূপরেখা প্রণয়ন করেছে, দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সেই রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, একটি সুষ্ঠু, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে দেশকে শান্তির পথে এগিয়ে নিতে।