সা ফ ক থা

সর্বনাশের পথ থেকে সুশাসন ও গণতন্ত্রে

হাসান মামুন | মতামত
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
সর্বনাশের পথ থেকে  সুশাসন ও গণতন্ত্রে

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রায় সব শঙ্কা কাটিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলো। একানব্বই সালে এর কাছাকাছি একটা পরিস্থিতিতে আমরা আরেকটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করেছিলাম। সেটার মধ্যদিয়ে সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করি। এর একটা পর্যায়ে এসে আবার হোঁচট খেতে হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে এলেও এমন এক শাসক দলের হাতে আমরা পড়ি, যারা কঠোরতম কর্তৃত্ববাদী শাসন চালায় সাড়ে ১৫ বছর। রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান সেটা থেকে মুক্ত করে আমাদের। সেই প্রেক্ষাপটে মাঠে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার মাঝে কিছু বিতর্কে জড়ালেও তারা একটি সফল নির্বাচন করে এখন বিদায় নেয়ার পথে। 
গণ-অভ্যুত্থানের সময় থেকে জনগণের পাশে থাকা সশস্ত্রবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়াও এ অর্জন সম্ভব হতো না। সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনকেও আমরা ধন্যবাদ দেবো পক্ষপাতমুক্ত নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য। তারপরও পরাজিত পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি করতে হবে তাদের। অভিযোগ ৩০টির মতো আসন ঘিরে এবং সেগুলোর সব গুরুতর নয়। পরাজিত পক্ষ নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছে, এটা হলো বড় কথা। 
বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি ও তার মিত্রদের জয়যুক্ত করে ‘মধ্যপন্থি রাজনীতি’তে তাদের আস্থা প্রকাশ করেছে। এ নির্বাচনের ভেতর দিয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটেরও বড় উত্থান হয়েছে, এটা স্বীকার করতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জামায়াত জোট বিএনপি’র প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। এক সময় তারা ছিল পরস্পরের মিত্র। একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন আর সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতাও তাদের রয়েছে। পরস্পরের কাছে তারা অচেনা নয়। তবে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক-আদর্শগত প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর তা বেড়েছে আরও। নির্বাচনে উভয় পক্ষই আবার চেয়েছে জনকল্যাণের দাবিকে ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে। রাজনৈতিকভাবে তারা দেশকে কোন পথে নিতে চায়, সে বিষয়ে অবশ্য অমিলই প্রকাশ পেয়েছে বেশি। নির্বাচনে যাওয়ার আগে রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় আবার তাদের মধ্যে দুই উপাদানই দেখা গিয়েছিল। এবারের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ববহ ছিল সংস্কার প্রশ্নে একইসঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলেও ‘না’ ভোট কম পড়েনি। বড় ধরনের সংস্কারের ক্ষেত্রে আগামী সংসদ কতোখানি এগোবে, সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের। কিছু না কিছু ‘মৌলিক সংস্কার’ হবে এবং এতে করে রাজনীতিতে নতুন কিছু দেখা যাবে বলে আশাটুকু অন্তত করতে পারছি এবার। এটা কম নয়। 


বিএনপি একাই এক-তৃতীয়াংশ আসন পাবে, এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। আত্মবিশ্বাসী হলেও বিএনপি নিজেও হয়তো এ ধরনের বিজয়ের কথা ভাবতে পারেনি। তবে যে পদ্ধতিতে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল তৈরি হয়ে থাকে, তাতে খুব বেশি ভোট না পেলেও অনেক বেশি আসন পাওয়া সম্ভব। আগের গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোয়ও দুই-তৃতীয়াংশ আসন জেতার ক্ষেত্রে এটা আমরা দেখতে পেয়েছি। এ অবস্থায় একটি দল বা জোট সারা দেশে কতো ভোট পেয়েছে, সেটা বিবেচনায় নেয়া জরুরি। বিশেষ করে বিজয়ী পক্ষ সেটা মাথায় নিয়ে দেশ পরিচালনা করলেই গণতন্ত্রের জন্য হিতকর। এ নিবন্ধ লেখা পর্যন্ত কোন দল নিজ মার্কায় ঠিক কতো ভোট পেয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তারপরও যতটা খবর মিলেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর আসন কয়েকগুণ বেড়েছে; শুধু তা-ই নয়; তার ভোটও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি; বিশেষত অনলাইনের বিপুল প্রচারে তারা এবার ক্ষমতায় চলে আসবে বলে ধারণা তৈরি করেছিল। অনেক আগে থেকে প্রচারণায়ও এগিয়ে ছিল দলটি। তারা ‘আশানুরূপ ফল’ না পেলেও নির্বাচনে ভালো করেছে জামায়াত ও তার সঙ্গে থাকা দলগুলো। গণ-অভ্যুত্থানের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা নতুন দল এনসিপিও আশাতীত ভালো করেছে। দলটির প্রধান নেতাদের কয়েকজন সংসদে আসছেন, এটা বড় ঘটনা। নানা দিক দিয়ে নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ চলছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের ভোটাররা কতোখানি অংশ নিয়েছে এবং সেই ভোট কোনদিকে গেছে, এসব নিয়ে আলোচনাও কম হচ্ছে না। দলটি বরাবরই ভালো করতো, এমন সব আসন বিএনপি বেশি করে দখল করে নিয়েছে বলে খবর রয়েছে। এতে একটা বার্তা পাওয়া যায়। 
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও অনুকূল পরিবেশ পেতো না- এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তার দীর্ঘদিনের মিত্র জাতীয় পার্টিও প্রচণ্ড চাপের মুখে নির্বাচন করেছে এবং কোনো আসনেই জয় পায়নি। এর ভেতর দিয়ে তারা মুছে গেল কিনা, সে প্রশ্নও উঠবে। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা উল্লেখযোগ্য মাত্রায়ই দেশে অবস্থান করছে এবং তাদের একাংশ নির্বাচনী ফল নির্ধারণে একটা ভূমিকা রেখেছে। মুখে যা-ই বলুক; লীগ সমর্থকদের ভোট টানতে কোনো পক্ষই পিছিয়ে ছিল না। তাদের জন্যও অন্তত মাঠের বক্তৃতায় কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। আর ইশতেহারে রয়েছে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনঃবন্ধুত্ব স্থাপনে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা। এনসিপিও এমন ঘোষণা দিয়েছে, এটা শান্তিপূর্ণ উত্তরণে বিশ্বাসীদের মনে স্বস্তি জোগাবে। বিএনপি নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরেই বিপুল জনসমাগমে দাঁড়িয়ে ‘শান্তি’ শব্দটির ওপর জোর দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে তিনি এমনকি নির্বাচনের কথাও কম বলেছেন। সব শঙ্কা মিথ্যা প্রমাণ করে তার প্রত্যাবর্তন অবশ্য নির্বাচনের বিষয়ে আশাবাদ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল। লন্ডনে তার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের পরই নির্বাচনের দিনক্ষণ স্থির হয়, এটাও স্মরণ করা যেতে পারে। খালেদা জিয়া তখনো বেঁচে ছিলেন এবং তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে যতটা দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আদায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এর সুফল পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। যারা বিএনপি কিংবা তার মিত্রদের ভোট দেয়নি, তারাও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হয়ে যাওয়ার সুফল পাবে বলে এ মুহূর্তে আশাবাদী হতে পারবে। নির্বাচনের পর কিছু অরাজক ঘটনা অবশ্য ঘটছে; তবে সেটা মাত্রার দিক দিয়ে এমন নয় যে, শান্তি ও স্বস্তি লাভের আশা নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। 


নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। নিবন্ধটি লেখার সময় কারা এতে স্থান পাবেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। ভোটের পর এটা কিছুদিন চলাই স্বাভাবিক। মন্ত্রিসভা দেখে মানুষের একটা ধারণা জন্মাবে সরকারটির বিষয়ে; তবে সবাই তাদের কাজ দেখার জন্য কিছুদিন অন্তত অপেক্ষায় থাকবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, এটা ধরেই নেয়া হয়েছে। সত্যি বলতে, বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় তাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ‘ভাবি প্রধানমন্ত্রী’ বলেই বর্ণনা করা হচ্ছিল। সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা তার নেই; তবে সংকটকালে দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা যথেষ্টই রয়েছে। চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে তিনি দলকে বিপুলভাবে জয়যুক্ত করতেও সক্ষম হয়েছেন। এরপর সরকার পরিচালনায় কতোটা সফল হন, সেটা এক বড় প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভের চাইতেও বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সফলভাবে সরকার পরিচালনা। তবে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা বিপুল নয়। ঐতিহাসিকভাবেই তারা অল্পে তুষ্ট। তাছাড়া এ পর্যন্ত এত কম পেয়েছে যে, বেশি প্রত্যাশা পোষণের কথা তারা ভুলেও গেছে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জনপ্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে, সন্দেহ নেই। এতে কিছু নতুন মাত্রাও যোগ হয়েছে। 
সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান সব দল-মতের মানুষই দেখতে চায়। এতে ‘জাতীয় প্রত্যাশা’ই প্রকাশ পাচ্ছে। মানুষ চায় কাজের সুযোগ, ভালো মজুরি; ব্যবসার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ। চাঁদাবাজির অবসান দেখতে চায় মানুষ। তেমন পরিবেশ পেলে জনগণ নিজেই তার ভাগ্য বদলাতে পারবে। দেশের স্বার্থ অটুট থাকছে, এটাও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রদর্শন করতে হবে পররাষ্ট্রনীতিতে। আর পণ্যবাজার রাখতে হবে সুনিয়ন্ত্রণে। মোটা দাগে এসব ক্ষেত্রে দৃষ্টি থাকলে কোনো সরকারেরই ব্যর্থ হওয়ার কারণ নেই। 


সরকারের সঙ্গে সংসদ সুষ্ঠুভাবে চলছে, এটাও দেখতে চায় মানুষ। অতীতে কখনোই সংসদ তার ভূমিকা পালন করতে পারেনি বলে এক্ষেত্রে প্রত্যাশা অবশ্য সীমিত। এবার সেই প্রত্যাশার দাম দিতে হবে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলকে। প্রয়োজনে রাজপথ ব্যবহার সঙ্গত হলেও এর অপব্যবহার থেকে নিশ্চয় বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। ‘কার্যকর সংসদ’ সেই পথ দেখাতে পারে। জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এবারই প্রথম উঠে এসেছে। সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে তারা নতুন করে নিজেদের উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। রাষ্ট্র সংস্কারে তারা অনেক বেশি আগ্রহ দেখিয়েছিল। বিএনপি অবশ্য বারবারই মনে করিয়ে দিয়েছিল, এ ক্ষেত্রে ধীরে এগোতে হবে এবং হঠকারিতা পরিহার করা দরকার। গণভোট অনুযায়ী সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নে আগামী সংসদ কতোখানি বাধ্য, সেটা নিয়ে কিন্তু বিতর্ক রয়েছে। তবে ‘জুলাই সনদে’ সই করা দলগুলোর রাজনৈতিক দায় অনস্বীকার্য। সংসদে তাদেরকে নতুন করে এ বিষয়ে আলোচনা করতে হতে পারে। হতে পারে বিতর্ক। তবে আমরা আশা করবো, রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নের দ্রুত নিষ্পত্তি তারা করবেন। পাশাপাশি নতুন পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে সংসদ এবং এর বাইরে। যে ‘মবতন্ত্র’ আমাদের পেয়ে বসেছিল, সেটা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে আইনের শাসন জোরদার করতে হবে। পুলিশ সংস্কারে সফল হয়নি অন্তর্বর্তী সরকার, যদিও এটা ছিল তার প্রথম কর্তব্য। নতুন সরকারকে এ কাজে দ্রুত হাত দিতে হবে। জননিরাপত্তা জোরদার করতে হবে সেনাসদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে। দীর্ঘদিন অপ্রথাগত দায়িত্ব পালন করে তারা ক্লান্ত। দেশরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিন ব্যারাকের বাইরে রাখাটা দেশের নিরাপত্তার জন্যও ইতিবাচক নয়। তবে নির্বাচন শেষে তারা মূল দায়িত্বে ফিরছেন আনন্দ ও স্বস্তি নিয়ে। এটা কম নয়। 


এখন অঙ্গীকার করতে হবে যে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মান্য করে চলার পথেই আমরা থাকবো। অতীতের দিনগুলোয় আর ফিরে যাবো না। তবে নির্বাচনই গণতন্ত্র নয়; বরং এটা হলো গণতন্ত্র অনুশীলনের সুযোগ সৃষ্টির উপায়। বাকিটা সবার জন্যই চ্যালেঞ্জের। মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করেও আমরা গণতন্ত্রকে সফল করতে পারিনি, এটা মনে রাখা ভালো। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরও অনেক বিরূপ অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছি। আদৌ নির্বাচন হবে কিনা, সেই প্রশ্নও আমাদের জর্জরিত করেছে অনেকদিন। বাস্তবে নির্বাচন হয়েছে এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও বলছেন, এ ক্ষেত্রে ‘নতুন মানদণ্ড’ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে সেটা রক্ষা করতে হবে এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। সেই নির্বাচন কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে এবং এটা হবে তারেক রহমান সরকারের এক বড় পরীক্ষা। 
জাতীয় নির্বাচনকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে অবশ্য একটা গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে দ্রুত। এটা ঘিরে আর কোনো জটিলতা নয়। ক্ষতিগ্রস্ত সাংবিধানিক সংস্থাগুলোও গড়ে তুলতে হবে সুশাসন ও গণতন্ত্র জোরদার করতে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিচার বিভাগ ও মিডিয়ার স্বাধীনতা বলতে যা বোঝায়, তা নিশ্চিত করার পথেও হাঁটতে হবে সরকারকে। এসব দীর্ঘ উপেক্ষিত অঙ্গীকারের ৫০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারলে পরবর্তী নির্বাচনেও জয়যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে ক্ষমতাসীন দলের। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে একই দল ক্ষমতায় ফিরে আসা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ কিছু নয়। তবে কোনোভাবেই ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সংকুচিত করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, এটাই ছিল আমাদের সর্বনাশের মূলে। 


লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

মতামত'র অন্যান্য খবর