ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে যেসব মামলা হয়েছিল, তার মাত্র একটির নিষ্পত্তি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) যেভাবে বিচার হওয়ার কথা, সেভাবেই চলেছে এর কার্যক্রম। এ নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাতে রায় বদলাবে না। এ মামলায় যেভাবে আপিল করতে হয়, সে সুযোগও নিতে পারবেন না শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। সে ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই তাদের সাজা কার্যকর হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ ধরনের আর কয়টি মামলার নিষ্পত্তি হবে, কে জানে। তবে আইসিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তির কথা তুলে সরকার এখন বলতে পারবে, জুলাই হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচার অন্তত ‘দৃশ্যমান’ হয়েছে। নির্বাচনে যাওয়ার আগে এটি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছিল বিশেষত গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারের দিক থেকে। মাঠে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোও এর ওপর জোর দিচ্ছিল।
গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের নামে যেভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তার বিচার তো হতেই হবে। নির্বাচিত সরকার এলেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগও কম নেই। শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে একটি মামলার রায় ঘিরে অনেককে নির্বিচারে হত্যার অভিযোগও গুরুতর। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরতন্ত্র গেঁড়ে বসেছিল নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসের মাধ্যমে। তিন-তিনটি বাজে নির্বাচন করে জনগণের ভোটাধিকার নষ্ট করেছিল হাসিনা গং। এজন্য একাধিক বিদেশি শক্তির সহায়তাও গ্রহণ করে সরকার। এর কী বিচার হবে, কে জানে। তবে মনে করা হয়, গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের নজিরবিহীন পতনের ভেতর দিয়ে এর আংশিক বিচার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেয়া, ব্যাংক লুটসহ আর্থিক অপরাধের অভিযোগও প্রচুর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও হাসিনা সরকারের শাসনামলে হওয়া দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর প্রয়াসও চলমান; যদিও এতে সাফল্য অর্জনের আশা কম।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের একটি অংশ এসব ফৌজদারি ও আর্থিক অপরাধে জড়িয়েছিল, সন্দেহ নেই। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে কোনো না কোনো সময়ে অপরাধে জড়িয়েছে, এমন লোক প্রচুর। তৃণমূল আওয়ামী লীগেরও অনেকে কমবেশি অপরাধে জড়ায়। এদের কতোজনকে চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা যাবে, সেই সংশয় রয়েছে। বিচারের দাবি যদিও শেষ হয়ে যাবে না। অপরাধ তামাদি হয় না। তারপরও সব অপরাধের বিচার করা যাবে না, এটাই বাস্তবতা। তবে চিহ্নিত অপরাধীদের বিচার হতেই হবে, এটা ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী সবার দাবি। যে আদালতেই বিচার হোক, সেটা মানসম্মত করাও প্রয়োজন। নইলে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। কম অপরাধে বেশি শাস্তিও গ্রহণযোগ্য হবে না। গণ-অভ্যুত্থানের পর ঢালাও মামলা দায়েরের প্রবণতা কম দেখা যায়নি। এগুলো বাছবিচার করে সত্যিকারের মামলা পরিচালনার কথা বলা হলেও সে ধারায় কাজ হয়নি। জানি না, নির্বাচিত সরকার এলে সেটা হবে কিনা। তবে মনে হয়, প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড কমে আসবে। সরকার অবশ্য দাবি করছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতো।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘কার্যক্রম’ নিষিদ্ধ করে রেখেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একটা পর্যায় পর্যন্ত এ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি অবশ্য। গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষগুলো থেকে বলা হচ্ছিল, আওয়ামী লীগ তার কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করুক। অনুশোচনামূলক বক্তব্য দেয়া হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা না করলেও চলে। এর অর্থ অবশ্য এটা নয় যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থেকে সংশ্লিষ্টদের রেহাই দেয়া হবে। দেশ থেকে কার্যত পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতারা অনুশোচনা প্রকাশ করে বক্তব্য দিলে সরকার হয়তো এমন ঘোষণা দেয়ার সুযোগ পেতো যে, দলের নিরপরাধ অংশটি রাজনীতিতে ফিরতে পারে। তেমন কিছুই এ পর্যন্ত ঘটেনি। অল্প কিছুদিন নিশ্চুপ থাকার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর মুখ থেকে বরং এমন সব বক্তব্য উচ্চারিত হয়েছে যে, তাতে আত্মোপলব্ধির লেশমাত্রও নেই। সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয় ঘিরে চলমান আন্দোলন কেন দ্রুত সরকার পতনের দিকে চলে গেল, সেখানে তারা কেবল ‘চক্রান্ত’ই দেখে গেলেন। নিজেরা যেন এর প্রেক্ষাপট রচনা করেননি! শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় হয়ে যাওয়ার পরও এমনকি তার পরিবার থেকে নতুন কোনো বক্তব্য আসেনি, যাতে দলটির নিরপরাধ নেতাকর্মীরা গঠনমূলক কোনো বার্তা পেতে পারে। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতাকর্মীরাও শেখ হাসিনার বাইরে কারও নেতৃত্বে রাজনীতিতে ফেরার মনোভাব দেখাচ্ছেন না। তাদের মধ্যে এমন মনোভাবও রয়েছে, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সিংহভাগ নেতাদের অচিরেই ফেরার ব্যবস্থা করে দেবে ভারত! নির্বাচিত সরকার এলেও ভারতীয় প্রশাসন একই মনোভাব দেখিয়ে যাবে বলে আশাবাদও হয়তো কম নয়।
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের যথার্থ বাংলা এ ক্ষেত্রে কী হবে, সেটা বলা কঠিন। রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের পর এর জন্য দায়ী রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা কতোখানি সম্ভব, কে জানে। তবে আওয়ামী লীগের নিরপরাধ কর্মী-সমর্থকদের কোনো না কোনো উপায়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দেয়া যেতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারও কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত বলছিল, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করতে ইচ্ছুক নন। মাঠে থাকা একটি বড় রাজনৈতিক দলও এমন বক্তব্য দিচ্ছিল। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এর সুযোগ নিতে পারতো। দলটিতে সুপ্রতিষ্ঠিত শেখ হাসিনার নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে একটি অংশ বেরিয়ে আসবে, এতটা তো আশা করা যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো একটি অংশ থেকে সে লক্ষ্যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে অবশ্য শোনা যায়। তাতে ফল মেলেনি। শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ মহল সেটা বানচাল করে দেয়ার পাশাপাশি প্রত্যাঘাতের ঘোষণা দিলে দলটির সঙ্গে কোনোভাবেই সহাবস্থান না চাওয়া একটি গোষ্ঠী চাপ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার। সরকার তখন এ অবস্থান নেয় যে, দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। আর বিচারে সাব্যস্ত হবে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কিনা। বলা প্রয়োজন, জাতিসংঘসহ কিছু আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় অপরাধের বিচারে জোর দিলেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে। তারা মৃত্যুদণ্ডেরও বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পর তারা এ ধারার বিচার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
বাংলাদেশের বিচার ও রাজনীতি এখানকার মতো করেই চলবে। তবে ভালো হয় এতে কিছুটা পরিবর্তন এলে। সেটা দেশের জন্য মঙ্গলজনক। এ কারণেই বলা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নিরপরাধ অংশের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের কথা। আগামী নির্বাচনে দলটির কেউ আওয়ামী লীগের নামে অংশ নিতে পারছেন না, এটা প্রায় নিশ্চিত। এ-ও সত্য, দলটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার রয়েছে। শত দোষ-ত্রুটি সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, এমন লোকের সংখ্যা অনেক। শেখ হাসিনা কোনো অপরাধ করতে পারেন, এটা বিশ্বাস না করা মানুষও কম নেই। আদর্শের দোহাই দিয়েও অনেকে বলেন যে, তারা ওই কারণে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করছেন। দীর্ঘদিন পর তাদের এমন অবস্থান হয়তো বদলাবে। হয়তো কোনো একদিন তারা ‘পরিশুদ্ধ’ দল গঠনে এগিয়ে আসবেন। প্রশ্ন হলো, এর আগ পর্যন্ত এসব নাগরিক কি রাজনৈতিক অধিকারহারা থাকবেন? ভোটাধিকার থাকলেও তারা কি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন না? আর এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে কি গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে? দেশ হবে উপকৃত?
অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে মাঝে কিন্তু বলা হয়েছিল, দক্ষিণ আফ্রিকা মডেলে আওয়ামী লীগের নিরপরাধ অংশকে ‘রিকনসাইল’ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। আমরা জানি, বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা যুগের পর যুগ শোষণ-নির্যাতন চালানো সাদাদের সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরও কী আচরণ করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা তাতে লাভবানই হয়েছে। ‘অতীতের ক্ষত’ যতটা সম্ভব মুছে তারা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন আজও। বাংলাদেশেও এর প্রয়োজনীয়তা উড়িয়ে দেয়া যাবে না। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সবাই তো অপরাধী নয়। নির্বাচন ব্যবস্থাসহ অনেক কিছু ধ্বংসের পাশাপাশি নির্বিচার হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানকারী শেখ হাসিনাকে বিচার থেকে রেহাই দেয়া অসম্ভব। একথা তার আরও অনেক সহকর্মীর বেলায়ও সত্য। তাদের নেতৃত্বে ফেরার অপেক্ষায় থাকলে আওয়ামী লীগকে আরও ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে। দলটির নিরপরাধ অংশের কাছে এ বার্তা পৌঁছানো প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেটা হয়তো আর সম্ভব হচ্ছে না। তবে নির্বাচিত সরকার এ কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। আওয়ামী লীগের যারা অহেতুক কিংবা অতিরঞ্জিত মামলা অথবা নিগ্রহের শিকার; তদন্ত সাপেক্ষে তাদের রেহাই দেয়া প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট অপরাধ না করেও দলটির নিছক সমর্থক হওয়ার কারণে যারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের নিরাপত্তা জোগানো হলে সেটা গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে না। এতে ন্যায়বিচারের ধারণাই বরং জোরদার হবে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের ভাবমূর্তি হবে উজ্জ্বল। আর এর ভেতর দিয়ে অতিক্রম করা যাবে শেখ হাসিনার সংস্কৃতি, যা স্পষ্টতই ছিল বিভাজন ও ঘৃণার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ঘৃণা যে প্রতিশোধ প্রবণতার জন্ম দেয়, সেটা চক্রাকারে চলতে থাকে। আওয়ামী লীগের যে অংশটি অপরাজনীতির দায় স্বীকার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে রাজি হবে, তাদের বাতিল ঘোষণার তো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় ও দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সে কথাই বলতে চাইছেন। তাদেরকে ‘গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। রাজনীতিতে অংশ নেয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এক শতাংশ মানুষকেও তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা ঠিক হবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যে কাউকেই আবার বিচারে সোপর্দ করতে হবে। ক্ষমা করলেও এর সুযোগ হয়তো আসবে বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর। গণতান্ত্রিক সমাজে এটাই স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি। গণ-অভ্যুত্থানের পর অপরাধী-নিরপরাধ নির্বিশেষে সব আওয়ামী লীগারকে ‘মাইনাস’ করার চেষ্টা তাদের বরং একতাবদ্ধ করেছে; শক্তি জুগিয়েছে। ঢালাও পদক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাচ্যুত দলটির প্রতি সহানুভূতি বাড়িয়েছে মানুষের, যারা হয়তো হাসিনা সরকারের পতনকে স্বাগত জানিয়েছিল। এতে দলটিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ করার চেষ্টাও সফল হয়নি।
রিকনসিলিয়েশন কাউকে বিজয়ী কিংবা পরাস্ত করবে না; তবে এটা শক্তি ও সাহস জোগাবে মতপার্থক্য নিয়েও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে চলার। এরই মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারে যেটুকু অগ্রগতি আনা গেছে, তাতেও অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো যেতে পারে ক্ষমতাচ্যুতদের নিরপরাধ অংশটিকে। তাদের বরং বলা যেতে পারে, সংস্কারের পথে যেতে পারোনি বলেই তোমাদের এমন পরিণতি হয়েছে। এরপরও সত্য উপলব্ধিতে সমর্থ না হলে ইতিহাস তাদের চূড়ান্ত পরিণতি নির্দেশ করবে। লেখক: সাংবাদিক, কলাম লেখক