শুক্রবার ছুটির দিন। সকালের আড়মোড়া তখনো ভাঙেনি। ঢাকায় ছুটোছুটি। চারপাশে উদ্বিগ্ন মানুষের ভিড়। ভীতিকর কাঁপুনি। ভবন দুলছে। ভূমিকম্প? সেকেন্ডের কাঁপুনি থামলেও আতঙ্ক গ্রাস করেছে সর্বত্র। এক অজানা আশঙ্কায় ছেয়ে গেছে চারপাশ। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার কাছাকাছি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা বেজে ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নরসিংদীর মাধবদীতে এর উৎপত্তি। ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে নগরবাসী। আতঙ্কে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা গেছে। এক ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দিলো গোটা দেশ। ভূমিকম্পের এই ঝাঁকুনিকে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ বলা হচ্ছে। এতে ৬ জন মানুষের প্রাণহানিসহ দু’ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এমন ভূমিকম্পের শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা আগেই প্রকাশ করে আসছিলেন। এই ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্য সজাগ হওয়ার বার্তা বলে মনে করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে এমন ভূমিকম্প হওয়ারই কথা। রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলে সবকিছু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আছে। উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি কতোখানি? যেকোনো দুর্যোগ হলেই আমরা আলোচনা করি করণীয় নিয়ে? কিছু সময় পর আমরা ভুলে যাই। তা ভবন ধস হোক, অগ্নিকাণ্ড হোক, সড়ক দুর্ঘটনা হোক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি। না হলে বড় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা সম্ভব হবে না। প্রকৃতির ভূকম্পন থেকে রাজনীতির মাঠে চোখ ফেরালে দেখি তেমনি এক টালমাটাল পরিস্থিতি। ৫ই আগস্ট ২০২৪ থেকে এখন নভেম্বর ২০২৫। সংস্কার, গণভোট, নির্বাচন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছেই। সময়ের আলোচিত খবর জুলাই গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা। এ নিয়ে তামাম দুনিয়ার মিডিয়া নানাভাবে বিশ্লেষণ করছে। বলা হচ্ছে, ঢাকা-দিল্লি নতুন কূটনৈতিক যুদ্ধের মুখোমুখি। ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে দু’দেশের সম্পর্কে। এরমধ্যেই হাসিনার রায়। সামনের দিনগুলোতে এ সম্পর্ক কোনদিকে যাবে তা নির্ভর করছে দু’দেশের গতি-প্রকৃতির ওপরই।