একাল-সেকাল

কেমন কাটবে ২০২৬, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বছর

পিয়াস সরকার | মতামত
জানুয়ারী ১০, ২০২৬
কেমন কাটবে ২০২৬, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বছর

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ঊর্ধ্বে গিয়ে জ্যোতিষিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ২০২৬ সাল বাংলাদেশ ও বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের বছর হতে পারে। জ্যোতিষ মতে, ভাগ্য নয়, মানুষের কর্মই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তবে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান সময়ের প্রবণতা ইঙ্গিত দেয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার পরিবর্তন, দল পুনর্গঠন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আলোচনা বাড়বে। আন্তর্জাতিকভাবে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা কম থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছায়াযুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপড়েন চলবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।
 

বাংলাদেশে এ বছর কাঠামোগত পরিবর্তন, পুনর্গঠন ও অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশের কল্যাণে সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বেকারত্ব বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ চলবে। ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে সতর্ক নজর প্রয়োজন। মুদ্রাস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হলেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও রিজার্ভ বাড়তে পারে।
 

জ্যোতিষবিদ ড. কে সি পাল বলেন, মানুষের কর্মই ভাগ্য নির্ধারণ করে। অনেকেই ভাগ্যচক্র ও জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করেন, আবার অনেকে করেন না। বিশ্বাস-অবিশ্বাস শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়। ২০২৬ সালের গ্রহাবস্থান অনুযায়ী বাংলাদেশে কাঠামোগত পরিবর্তন, পুনর্গঠন ও অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা নেতৃত্বে থাকবেন, তাদের কাছ থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনা চলবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে ঘিরে বিভিন্ন ইতিবাচক ও সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশ পেতে পারে।
 

তিনি আরও বলেন, দেশে বেকারত্বের হার বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, বাণিজ্য, ধর্ম, ক্রীড়া, তথ্যপ্রযুক্তি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়বে। ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে সতর্ক দৃষ্টি রাখার প্রয়োজন দেখা দেবে। জনশক্তি রপ্তানি কিছুটা কমার শঙ্কা থাকলেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়তে পারে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।
 

এই জ্যোতিষবিদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা এবং নাশকতায় জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বরেণ্য ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবনাবসান দেশবাসীকে আবেগতাড়িত করতে পারে। প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগোবে। সমরাস্ত্র, জাহাজ ও গোলাবারুদের মজুত বাড়তে পারে। তৈরি পোশাক, পাট, চিংড়ি, চামড়া, সিমেন্ট ও ওষুধ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জ্বালানি তেল, কয়লা, বিদ্যুৎ, খাদ্যপণ্য ও আমদানিনির্ভর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়তে পারে।
 

ড. কে সি পাল বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা ও কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে পারে। সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রগতি হবে। কৃষি খাতে সরকারি ও জনসাধারণের আগ্রহ বাড়বে। ভেজাল ওষুধ, খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান, মাদক ও জাল নোটের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও দ্রুত সমাধান নাও আসতে পারে। রাজনৈতিকভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সরকার পরিবর্তন, দল পুনর্গঠন ও নতুন রাজনৈতিক মেরূকরণ আলোচনায় থাকবে।
 

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী বড় যুদ্ধের আশঙ্কা কম। তবে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছায়াযুদ্ধ ও শক্তি প্রদর্শন চলবে। পর্তুগাল, ঘানা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কলম্বিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জিম্বাবুয়ে ও ফিলিপাইনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি দেশে অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকট তীব্র হতে পারে। জ্বালানি তেল, স্বর্ণ, ইউরেনিয়াম, লিথিয়ামসহ মূল্যবান খনিজের বাণিজ্য বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। বিজ্ঞান, চিকিৎসা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগতি হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো আন্তর্জাতিক সহায়তা পাবে। বিশ্ববাজারে ডলার সংকট, নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন চললেও বড় ধরনের বিশ্বযুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হতে পারে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সাল চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার এক যুগান্তকারী সময় যেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও মানুষের কর্মই ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে।
 

বছরটি কেমন যাবে তার একটি ধারণা দিয়েছেন জ্যোতিষী ড. মাধব আচার্য। তিনি ধারণা দেন যে, ১লা জানুয়ারি ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যোদয় হয়েছে শক্তিশালী ও অশুভ শনির প্রভাবে। শনির এই প্রভাব প্রায়ই মানুষের ভালো কাজে বাধা দেয় এবং মন্দ কাজে উৎসাহিত করে। ফলে বাংলাদেশসহ শনির প্রভাবযুক্ত দেশগুলো- বিশেষ করে মীন, মেষ, মিথুন, কন্যা, তুলা ও কুম্ভ রাশির দেশগুলো নানাভাবে রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সমস্যার মুখোমুখি হবে। চীন, রাশিয়া ও আমেরিকার মতো রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মনোভাব ও নীতি মিলতে পারে না।
 

বাংলাদেশ জ্যোতিষ গবেষণা উন্নয়ন বোর্ডের এই চেয়ারম্যান আরও বলেন, নতুন সমরাস্ত্রের উদ্ভাবন ও প্রয়োগ বিশ্ব জুড়ে অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে। মুসলিম দেশগুলোতে অশান্তি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও মানবতার ক্ষেত্রে সংকট দেখা দেবে। আন্দোলন, খণ্ডযুদ্ধ, ভূমিকম্প, যানজট, অগ্নিদুর্ঘটনা ও জটিল রোগের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের জীবনেও ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হবে। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে এবং তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ অব্যাহত থাকবে। ড. মাধব উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারকে তিনটি শনির ধারাবাহিক প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগোতে বাধ্য করেছে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অভিজ্ঞ জ্যোতিষীরা রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। 
 

মতামত'র অন্যান্য খবর