জনপ্রত্যাশা

জনতাচোখ ডেক্স | মতামত
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
জনপ্রত্যাশা

দু’দশক পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপি। দুই- তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে দলটি। ইতিমধ্যে ৬০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদও গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব নেয়ার পরদিনই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার গঠনের দু’সপ্তাহ ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত। সরকারের নেয়া বেশ কিছু ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে শপথ নিয়েই প্রথম বৈঠকগুলোতে সরকারের ইশতেহারে বর্ণিত ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার উদ্যোগ, দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর শনিবার অফিস করা, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার, সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা সত্যিই ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে মানুষ দেখছে। তবু কথা থাকে, আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কি তা নিয়ে। নতুন সরকারের সামনে দৃশ্যমান বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা- এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া জনতুষ্টিবাদী পদক্ষেপ এড়িয়ে ব্যয়ে সংযম, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও মব জাস্টিস বন্ধ এবং কাঠামোগত সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদও দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থনৈতিক দায়-দেনা ও পূর্ববর্তী চুক্তি পর্যালোচনা করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)’র ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে- তিনটি বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে। এগুলো হলো- পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা, অন্তর্বর্তী সরকারের অসমাপ্ত সংস্কার প্রক্রিয়া এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, এ বাস্তবতায় সরকারকে এখনই জনতুষ্টিবাদী কোনো উদ্যোগ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি। সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার কথা বলেছে। তবে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধরতে হবে। চলতি অর্থবছরে বড় কোনো নতুন উদ্যোগ না নিয়ে বরং আগামী অর্থবছরের জন্য সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নেয়াই হবে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সহজ হবে। দেশের অর্থনীতিবিদ, চিন্তক ও গবেষকরা যেভাবে নানামুখী চ্যালেঞ্জ দেখছেন ঠিক তেমন ভাবনা রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শহরে আমাদের প্রতিনিধিরা কথা বলেছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও নানা শ্রেণির পেশাজীবীদের সঙ্গে। তাদের দৃষ্টিতে সরকারের আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কী? শতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন- পিয়াস সরকার, সাজ্জাদ হোসেন, আফজাল হোসেন, মোহাম্মদ রায়হান, আসাদুজ্জামান খান (ঢাবি), মারুফ হোসেন মিশন (রাবি), আশরাফুল মিয়া (জাবি), নাঈম আহমদ শুভ (শাবি), গাজী আজম হোসেন (বেরোবি), মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর (বাকৃবি), মাহমুদুল হাসান মামুন (জবি) ও সিফাতুল্লাহ আমিন (শেকৃবি)।

 

সরকারের জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস রোধে সরকার কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে- এক. পণ্য উৎপাদনকারী থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছানোর পথে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো। কৃষকরা যাতে সরাসরি বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারে, সেজন্য বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। দুই. পণ্যবাহী পরিবহনে পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। বড় আমদানিকারক বা ব্যবসায়ীর কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা বা ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিতে প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় সংস্থা দিয়ে সরাসরি আমদানির পরিমাণ বাড়াতে হবে। ৩. প্রতিটি বড় বাজারে পণ্যের মূল্য প্রতিদিন অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা। ৪. আমদানিকৃত পণ্যের এলসি মূল্য এবং খুচরা মূল্যের মধ্যে যৌক্তিক ব্যবধান আছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা। 

এডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান 
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা মহানগর


নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো জননিরাপত্তা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন এবং বিচারহীনতার দীর্ঘকালব্যাপী সংস্কৃতি থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিমুক্তি। একজন আইনপেশাজীবী হিসেবে আমি মনে করি, বিচারিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ব্যতিরেকে রাষ্ট্রের কোনো কাঠামোগত সংস্কারই দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে সক্ষম হবে না। আইনশৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। ১৮৬১ সালের সেকেলে পুলিশ আইনের আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব ও পেশাদার আইনি কাঠামো বিনির্মাণ এখন সময়ের দাবি। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনগণকে আইনি সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। মনে রাখতে হবে, বিচারিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা ব্যতীত কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্কারই তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না।

​এডভোকেট সৈয়দ মো. গোলাম রাব্বী
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা মহানগর
 

নতুন সরকারের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে আমার মনে হয়, সেগুলো মূলত জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করাসহ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ ও জনবল সংকট দূর করতে হবে। সরকারকে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার আরও কমানোর জন্য কাজ করতে হবে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের মান ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা, প্রতিটি জনসাধারণ কে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা। সরকারকে স্বাস্থ্য সেবাকে ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।

ডা. সুমাইয়া রহমান
ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ, ঢাকা 
 

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে মূল চ্যালেঞ্জ। এছাড়া দলের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বিএনপি’র তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেন দলের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জনগণের উপর কেউ অত্যাচার না করে। দলীয় অন্তঃকোন্দল ও কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীদের অপকর্মের জন্য পুরো দল ও সরকারের জনপ্রিয়তা যেন হুমকিতে না পড়ে।

আকরাম হোসেন প্রিন্স
শিক্ষার্থী, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা 
 

মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডা প্রতিরোধে সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় ভুয়া তথ্যর উপর ভিত্তি করে মব সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা হাসিল করতে পারে দেশবিরোধী সন্ত্রাসীরা। বিশেষ করে বিরোধী দল তথা জামায়াত-এনসিপি’র পক্ষ থেকে নির্বাচনের পরপরই বিএনপি’র বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নোয়াখালীর হাতিয়ার ঘটনা ও যাত্রাবাড়ীর লেগুনাচালকের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর আসল সত্য লুকিয়ে বিএনপি’র বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের বিষয়গুলো সত্যি অপরাজনীতির উদাহরণ। এ সব মোকাবিলা করে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা হবে সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। 

মেহেদী হাসান জিয়া
শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা 
 

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদী হাসিনা সহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার করা এবং শাস্তি দেয়া সরকারের জন্য হতে পারে একটি চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগের ব্যাপারে একদিকে জনগণের তীব্র ঘৃণা ও অপরদিকে একটি বড় সমর্থক গোষ্ঠীর আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার মধ্যে সরকারকে অবশ্যই বিচক্ষণতার প্রমাণ দিতে হবে। এ ছাড়া জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে আমি মনে করি। সরকারকে প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

নজিবুদ্দিন খান তামিম
কাগজ ব্যবসায়ী, পল্টন 
 

নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নই হবে নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের নেয়া খাল খনন কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এর মতো উদ্যোগগুলো যথাযর্থভাবে বস্তবায়ন করতে হবে। প্রায় ১৭ বছর পরে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করায় জনগণ খুশি। বিএনপি’র দুঃসময়ে সাধারণ জনগণ যেমন তাদের পাশে ছিল। ক্ষমতা গ্রহণের পরে জনগণের আকাক্সক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সরকার পরিচালনা করতে হবে। বিভিন্ন সরকারি গুরত্বপূর্ণ পোস্টে দলীয়করণ না করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে।

হাবিবুর রহমান সিজান
শিক্ষক, বেসরকারি কোচিং
 

রাজনৈতিকভাবে যেকোনো দলের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রেখে নতুন পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ নিয়ে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে। বিগত ফ্যাসিবাদী ও  শেকলবন্দি পররাষ্ট্রনীতি এ দেশের জনগণ আর মেনে নেবে না। একইসঙ্গে সরকারকে চীন, ভারত, আমেরিকার মতো বড় দেশগুলোর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার মতো নীতি  গ্রহণ করতে হবে। 

মো. বায়েজিদ
শিক্ষার্থী, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা 
 

বেকার সমস্যা সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারিগরী শিক্ষা ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে এ সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। বেকারত্ব নিরসনে ক্ষুদ্রঋণ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যমান সমাজে তরুণরা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়, বেকার সমস্যা ও হতাশার কারণে। সুতরাং নতুন সরকারকে এখনই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্যোগী হতে হবে। 

নাজিমুদ্দিন নাজিম
পশু খাদ্য ব্যবসায়ী, ঢাকা
 

নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ফ্যাসিস্ট না হয়ে ওঠা। গত নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হওয়ায় নতুন আইন প্রণয়ন করা সরকারের জন্য খুবই সহজ হবে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আর কোনো কালো আইন এ দেশের জনগণ চায় না।                                           

মোরসালিন আহমেদ আশিক
রাজনৈতিক কর্মী, ঢাকা 
 

প্রথমত, আমি চাই বর্তমান নির্বাচিত সরকার সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় ভূমিকা পালন করুক। জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দ্বিতীয়ত, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদের জন্য বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া সময়ের দাবি। তৃতীয়ত, দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। প্রশাসনে রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি পরিহার করতে হবে, দক্ষ লোকবল নিযুক্ত করা গেলে বাংলাদেশ পূর্বের তুলনায় অনেক এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে একটি আধুনিক ও দক্ষ রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন সরকার যেন আগের সকল ফ্যাসিবাদী নিয়ম পরিহার করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যায়- আমাদের এই বাংলাদেশ এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা। 

শাহরিয়ার ইকবাল বান্না
শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা
 

নতুন সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা হলো, সরকার শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন না, সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাক। এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠুক যেখানে সততা হবে যোগ্যতার শর্ত আর তরুণদের স্বপ্ন হবে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় মানোন্নয়ন-এই তিনটি জায়গায় দৃশ্যমান পরিবর্তনই আমার প্রধান প্রত্যাশা। নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের ভরসা ফিরিয়ে আনা। অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক বিভাজন-এ সবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সহজ হবে না। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই অনেক চ্যালেঞ্জ নিজে থেকেই কমে আসবে।

জুহায়ের আনজুম নাফিস
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ঢাকা 
 

নতুন সরকারকে ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। স্টার্টআপের জন্য সহজ ঋণ সুবিধা চাই। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। এছাড়া থানাগুলোকে জনবান্ধব করতে হবে। মানুষ যেন ঘুষমুক্তভাবে সেবা পায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কার্যক্রম যেন না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। 

এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন পণ্ডিত
জেলা ও দায়রা জজ আদলত, ঢাকা
 

নতুন সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জানমালের নিরাপত্তা জোরদার করা। একই সঙ্গে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মাদক নির্মূলে কঠোর উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানাচ্ছি।

আশিকুর রহমান
ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী
 

আমি চাই, নতুন সরকার যেন সুস্থ সবল অথনৈতিক ভিত্তিক বাংলাদেশ, নারী নিরাপত্তা ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি উন্নতমানের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত,  যেন যুবসমাজকে বেকার থাকতে না হয়। 

মোরশেদা হোসেন মুক্তা
শিক্ষনবীশ আইনজীবী, জর্জ কোর্ট, ঢাকা
 

সরকার যেন ওয়ান-স্টপ সরকারি সেবার উদ্যোগ গ্রহণ করে। কাউকে যেন সরকারের যেকোনো সেবা নিতে হয়রানির শিকার না হতে হয়। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলে। চাঁদাবাজি কঠিন হাতে দমন করে এবং শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলতে হবে।

আজিজুল হাকিম শুভ
সিভিল ইঞ্জিনিয়ার
 

নবনির্বাচিত সরকারের কাছে আমার প্রথম প্রত্যাশা দেশে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস যেন না থাকে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যেন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে থাকে। পুলিশের মধ্যে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। পুলিশকে দেখে যেন জনগণ ভয় না পায় বরং কাছে এগিয়ে যায়। এ ছাড়া সরকারি আমলাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। 

খন্দকার বিপ্লব হোসেন
ব্যবসায়ী, ঢাকা 
 

সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা, সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া বেকারত্ব দূর, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। এ ছাড়া ঢাকার অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। 

তামিম ইসলাম
ওয়েব অফিসার, ঢাকা 
 

আমি প্রথমত চাই, কেউ যেন জোর করে কারও জমি দখল করতে না পারে। দেওয়ানি মামলাগুলো যেন ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনের সুশাসন নিশ্চিত করে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে। রাজনৈতিক সহিংসতা যত হবে ততই দেশের জন্য খারাপ হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি থাকতে হবে। অতীতের মতো কোনো দেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি যেন না হয়। 

মোরশেদ আলম
সিমেন্ট ব্যবসায়ী, ঢাকা 
 

আমরা চাই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন শান্তিপূর্ণ থাকে। চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাস না থাকে। দ্রব্যমূল্য যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে। পুলিশের মধ্যে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে তাহলেই দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। আমাদের আয় বাড়ানোর সুযোগ চাই। স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা ও বাসস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। 

মাহিম মোশাররফ
চাকরিজীবী, বিদ্যাবাড়ি প্রিপারেশন, ঢাকা 
 

দেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আর চাঁদাবাজি বন্ধ হলেই দেশের মানুষের ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নতি করতে হবে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায় না। সরকারি হাসপাতালগুলোতে যেন বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় সেটি নিশ্চিত করলেই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা চিন্তামুক্তভাবে জীবনযাপন করতে পারে। 

মুনির হোসেন
এনজিও কর্মকর্তা
 

দ্রব্যমূল্য আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেই আমরা খুশি। এর চেয়ে বেশি কিছু সাধারণ মানুষ চায় না। এ ছাড়া জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ভোগান্তি পোহাতে হয়। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে মানুষকে যেনো আর হয়রানির শিকার না হতে হয় সেদিকে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। 

রাজু হোসেন
মুদি দোকানদার, শনির আখড়া, ঢাকা  
 

চাঁদাবাজি, দখলবাজি বন্ধ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করলেই খুশি হবো। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যেন সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। এ ছাড়া পুলিশকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের মধ্যে ঘুষ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। অতীতের পুলিশ আর আমরা দেখতে চাই না। গ্যাসের দাম কমানো অত্যন্ত জরুরি সবাই সিন্ডিকেট করে গ্যাসের দাম বাড়ায় এটা বন্ধ করতে হবে। 

গফুর আলম
চা বিক্রেতা, যাত্রাবাড়ী
 

বিমানবন্দরে যেন প্রবাসীদের হয়রানির শিকার না হতে হয়। বিদেশি দূতাবাসগুলোর সেবা যেন আরও উন্নত করা হয়। স্বল্প খরচে মানুষ যেন বিদেশে যেতে পারে সেটি যেন নতুন সরকার নিশ্চিত করে। এ ছাড়া স্বচ্ছ স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। যোগ্যতার ভিত্তিতে যেন মানুষ চাকরি পায়, কোনো দল বা ব্যক্তির সুপারিশে চাকরি যেন না হয়। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যখাতে বিগত কোনো সরকারই কাজ করেনি। তাই আমরা চাই নতুন সরকার যেন এদিকে ফোকাস করে। 

তানভীর হাসান
প্রবাসী
 

তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান তিনি যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, সাধারণ মানুষ যেনো দুই বেলা ঠিক মতো খেতে পারে তাতেই মানুষ খুশি। পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতি যেন হাসিনার মতো কোনো দেশকেন্দ্রিক না হয়। সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করতে হবে।

হারুন অর রশীদ
কোনাপাড়া, ডেমরা, ঢাকা
 

আমরা চাই নারীরা যেন নিরাপদে চলতে পারে। নতুন সরকারের কাছে প্রধান চাওয়া সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যেন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে। তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এ ছাড়া ঢাকার বর্জ্য ও পানির ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা উচিত সরকারের। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড দেশে আর হোক তা আমরা আর চাই না। এইবার চাই দেশটা যেন শান্তিপূর্ণভাবে চলে। 

ইভা আক্তার
গৃহিণী, ঢাকা 
 

আমরা চাই সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যেন মানুষ হয়রানিমুক্ত ভাবে সেবা পায়। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি বন্ধে সরকারকে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। শক্তিশালী অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। বিদেশে কেউ যেন টাকা পাচার না করতে পারে। সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।

সাইফুল আলম
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ঢাকা
 

আমরা গরিব মানুষ আমাদের খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভালো মতো চিকিৎসা পেলেই আমরা খুশি। নতুন সরকার যেন এই তিনটি বিষয়ে প্রধান গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি চাঁদাবাজি বন্ধ করলে অধিকাংশ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। প্রশাসন থেকে যদি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কোনো স্পেশাল হটলাইন চালু করে সেটি সবচেয়ে ভালো হয়।

আব্দুল্লাহ
কেয়ারটেকার, ঢাকা
 

সরকারের কাছে প্রথম প্রত্যাশা থাকবে যেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি থানাগুলোতে যেন নাগরিকরা ঘুষ ছাড়া সেবা পায়। পুলিশকে যেন টাকা দিয়ে কোনো কাজ না করাতে হয়। পুলিশকে যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করা না হয়। সরকার যেন তার সমালোচনাকারীদের সাধুবাদ জানায়, তার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

জাকিয়া সুলতানা
কুমিল্লা মহিলা কলেজ শিক্ষার্থী
 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো জরুরি। বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ চাই। পাশাপাশি সরকার যেন আইনের সুশাসন নিশ্চিত করে। জায়গা-জমি সংক্রান্ত মামলাগুলো যেন তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি করা হয়। গ্রামে ৯০% মানুষ জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়ায়। তাই কেউ যেন কারও জমি জোর করে দখল করতে না পারে সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছি। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। 

আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি ইঞ্জিনিয়ার
 

আমাদের মজুরি যেন বাড়ায় এটা সরকারের কাছে প্রত্যাশা। সরকার হাসপাতালগুলোতে যেন বেসরকারি হাসপাতালের মতো সেবা পাওয়া যায়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সবাই সরকারি বেতন-ভাতা সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পায় তাহলে আমরা সেবা পাই না কেন? প্রাইভেট হাসপাতালে গেলেই অনেক টেস্ট ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করলে আমরা সবচেয়ে বেশি খুশি। 

হালিমা আক্তার
গার্মেন্টস কর্মী
 

সরকার তিনটি কাজ করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন নিশ্চিত ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা। এই তিনটি কাজ অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া জন্মনিবন্ধন সহ নাগরিক সেবাগুলো যেন আমরা হয়রানি ছাড়া পাই, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সরকারকে কাজ করতে হবে। 

জেসমিন আক্তার
বাড়ির মালিক
 

আমরা গরিব মানুষ আমাদের বেশি কিছু সরকারের কাছে চাওয়ার নেই। যা ইনকাম করি তা দিয়ে যাতে দুই বেলা ঠিক মতো খাইতে পারি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সঠিকভাবে পেলেই আমরা খুশি। এর বেশি কিছু চাই না সরকারের কাছে। 

আলমগীর হোসেন
রিকশাচালক
 

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা উচিত সরকারের। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা উচিত। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখা সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।  ঢাকা শহরের  বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনেও সরকারকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। 

শারমিন আক্তার
গৃহিণী
 

সরকারের কাছে প্রথম চাওয়া হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা ও আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করলে আমরা মধ্যবিত্তরা একটু চিন্তামুক্ত থাকি। পাশাপাশি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা উচিত। নতুন সরকার শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে সেই প্রত্যাশা করি। 

অর্ণব হোসেন
ব্যাংক কর্মকর্তা
 

নতুন সরকারকে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যেন যুবসমাজকে বেকার হয়ে বসে থাকতে না হয়। পররাষ্ট্রনীতি ঢেলে সাজাতে হবে এবং এটা হতে হবে দেশের স্বার্থকেন্দ্রিক। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরকারের চিকিৎসাসেবা বাড়াতে হবে। সরকার যে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা যেন সত্যিকার গরিব মানুষের হাতে পৌঁছায় সেই প্রত্যাশা  করি।  এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ এগুলো তো সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে থাকবেই। 

আশরাফ হোসেন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
 

আমরা চাই- আমরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারি সরকার যেন সেটি নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের উন্নত না হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে দেশে ব্যবসার পরিবেশ নেই। এখানে যদি ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারতো তাহলে বাংলাদেশ আরও আগেই উন্নত হতো। এ ছাড়া আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশকে জনবান্ধব করতে হবে। মানুষ যেন ঘুষ ছাড়া থানায় সেবা পায়। 

নূরনবী
ডিম বিক্রেতা
 

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা নিয়োগে দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস ও দলীয় সুপারিশ বন্ধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। চাঁদাবাজি, মব-সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দেয়া। মানসম্মত ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের পরিবর্তে বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে কাজ করবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বেকারত্ব হ্রাসে কার্যকর উদ্যোগ নিবে এবং সাধারণ মানুষের সকল ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবে। 

মাহিম হোসেন সেজান
হেড অব এক্সাম, বিদ্যাবাড়ি
 

সরকার জনকল্যাণমূলক রাজনীতি করবে। পুলিশকে দলীয়করণ থেকে বিরত রাখবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। দেওয়ানি মামলা যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয় সেদিকে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কারণ বর্তমানে অধিকাংশ সংঘর্ষ হয় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। 

তাহরিমা হোসেন
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষার্থী
 

সুশাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি ঢেলে সাজাতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া চুক্তিগুলো যাচাই করে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা। স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা। সবার জন্য এক আইন- এই নীতি যেন প্রতিষ্টা করা হয়। 

খন্দকার মুবিনুর রহমান
সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, বিউবিটি
 

যাগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি চাই। রাজনৈতিক বিবেচনায় যেন প্রশাসনে নিয়োগ না হয়। থানাগুলোকে জনবান্ধব করা দরকার, পুলিশ যেন সত্যিকার অর্থে জনগণের বন্ধু হয়ে উঠে। সরকার খুবই একটা ভালো উদ্যোগ নিয়েছে যেটি ফ্যামিলি কার্ড নামে পরিচিত। এটি যেন যথাযথ গরিব মানুষের হাতে পৌঁছায়- তাহলে দেশের জনগণ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত নতুন সরকারকে। 
 মেহেদী আশরাফ
কলেজ শিক্ষক
 

রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটানো, দুর্বল জবাবদিহি, নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছতার অভাব এগুলো পরিহার করে শক্তিশালী স্বাধীন দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের সমান প্রয়োগ করতে হবে। ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে হবে, আঞ্চলিক কূটনীতি জোরদার করতে হবে। অর্থনৈতিক কূটনীতি সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
 নাহিদ হাসান
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
 

কম খরচে যেন শ্রমিকরা বিদেশে যেতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে এবং বিমান ভাড়া কমাতে হবে। প্রবাসীদের সহজ ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশকে ব্যবসাবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেন বিনিয়োগ বাড়ে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কেউ যেন চাঁদাবাজি না করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কর্মমূখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কূটনৈতিক স¤পর্কের মাধ্যমে  বিদেশে অধিক শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
 ইমন হোসেন
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী
 

আমি চাই এমন এক জনপদ, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর হবে একেকটি স্বাধীন কবিতা। ভাতের ঘ্রাণ যেন বারুদ আর ঘামের চেয়ে সস্তা হয় অর্থাৎ দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে যেন কোনো বাবার স্বপ্ন মাঝপথে ভেঙে না যায়। প্রত্যাশা করি এমন এক ব্যবস্থার, যেখানে মেধা হবে মূলধন আর সততা হবে অলঙ্কার। কোচিং সেন্টারের ভিড় আর প্রশ্নফাঁসের গ্লানি মুছে গিয়ে ক্লাসরুমগুলো হোক জ্ঞানের একেকটি মুক্ত আকাশ। শিক্ষা কেবল সার্টিফিকেট নয়, বরং নৈতিকতা ও মানবতার পাঠশালা হয়ে উঠুক। জরাজীর্ণ সিস্টেমের খোলস বদলে এমন এক প্রশাসনিক কাঠামো চাই, যা হবে স্বচ্ছ আয়নার মতো, যেখানে সাধারণ মানুষ নিজের অধিকারের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট দেখতে পাবে। আমরা চাই বিচারালয় হোক বৈষম্যহীন আশ্রয়ের শেষ সীমানা। নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মানুষ যে মুক্তভাবে চলার পথ সংকীর্ণ মনে করছে বিস্তর প্রশস্ত করা, বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির যে বিশাল পাহাড়, তাকে সরিয়ে সমতলে নামিয়ে আনা বাজারের অদৃশ্য সিন্ডিকেট আর অর্থ পাচারের যে ক্ষতগুলো অর্থনীতিকে রক্তশূন্য করেছে, তা সারিয়ে তোলা হবে এক অগ্নিপরীক্ষা।  

হাওলাদার সায়ীদ
কবি ও গীতিকার 
 

দেশের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে দেশের বিশৃঙ্খলা; যেমন- খুন, ছিনতাই, মাদক ইত্যাদি থেকে দেশের জনগণকে রক্ষা করা যায়। নাগরিকদের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার প্রতি সরকারের সদয় দৃষ্টি থাকা লাগবে। চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। চিকিৎসা বাণিজ্য থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে হবে।  দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের জনগণের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বেকারত্ব দূর করাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।  

আব্দুল্লাহ আল মামুন
গাড়ি ব্যবসায়ী
 

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে পূর্বের ন্যায় স্বৈরাচারী কায়দায় রাষ্ট্র যেন পরিচালিত না হয়, জবাবদিহিমূলক একটি স্বচ্ছ জনবান্ধন রাষ্ট্র কাঠামো ব্যবস্থা গঠিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, সচিবালয় সহ অন্যান্য সকল আমলাদেরকে যেন কোনো দলীয় এজেন্ট কিংবা কোনো নির্দিষ্ট দলকে প্রভু মানতে বাধ্য না করা হয়। সকল রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা- কর্মচারীরা যেন জনগণের সেবক হিসেবে তাদের প্রত্যেকের স্ব স্ব জায়গায় অবাধে নিজেদের কাজ করতে পারেন সেটা নিশ্চিত করা। 
অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা দূরীকরণে ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মানিলন্ডারিং সহ অন্যান্য দুর্নীতি ঠেকাতে বিচক্ষণ সৎ লোক নিয়োজিত করা এবং যাদেরকে নিয়োজিত করবে তাদেরকে স্পেশাল মনিটরিং করা, অস্থিতিশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পরিণত করা, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল ঋণের দায় কমিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সঞ্চয় বৃদ্ধি করা, পূর্ববর্তী সরকার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মনে যে একটা নেতিবাচক ধারণা জন্মেছে এটা দূরীকরণ করে বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জন করা, প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে এটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।  

মারুফ মর্তুজা
রাজনীতিবিদ
 

তরুণরা বিগত সময়ের রাজনৈতিক দলগুলোর কাজে বিরক্ত। তারা চায় না বার বার কর্তৃত্ববাদী শাসন ফিরে আসুক। তাই নতুন সরকারকে অবশ্যই বর্তমান প্রজন্মের ভাষা বুঝে কাজ করতে হবে। সকল ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইকে ধারণ করে কাক্সিক্ষত সুষম সংস্কার করতে হবে। নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুটো। প্রথমত, ভঙ্গুর ও বিধ্বস্ত  অর্থনীতি পুনর্গঠন। দ্বিতীয়ত, প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন করে নতুন ধারার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া। দুটো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সরকারকে কাজ করতে হবে। 

আল আমিন মাসুদ
সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা 
 

নতুন সরকারের কাছে আমার প্রথম প্রত্যাশা হলো দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সুশাসন নিশ্চিত করা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে যুবসমাজ শুধু সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে বেসরকারি খাতেও মেধার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন, বেকারত্ব কমানো এবং আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা এগুলোই হবে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ- পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সমতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

ফারহানা আক্তার
উন্নয়নকর্মী 
 

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশার মধ্যে আছে যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, দেশের অর্থনৈতিক সংকট দূর করা, দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্স গ্রহণ, বেকারত্ব মোচনের ক্ষেত্রে কর্ম সংস্থানের জন্য নতুন নতুন প্রগতিশীল সুযোগ সৃষ্টি করা, সৎ ভাবে ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কর্মমুখী শিক্ষা বাড়ানো, ধর্মীয় উগ্রবাদ দমন।  

তাসমিয়া আমিন
গৃহিণী
 

দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিশ্চিত করা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন। আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষা। ডিজিটাল ও প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি অব্যাহত রাখা। যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সহায়তা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা; বেকারত্ব সমস্যা সমাধান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা; দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা; জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা (বিশেষ করে নদীভাঙন ও বন্যা); আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনা করা।   

মো. আহম্মেদ উল্লাহ সিয়াম
অনার্স ২য় বর্ষ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, দনিয়া কলেজ
 

একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ। এমন দেশ চাই যেখানে কেউ অট্টালিকায় আর কেউ গাছতলায় থাকবে না; সবার জন্য সমান সুযোগ, মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত হবে। ন্যায়, সততা ও ইনসাফের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হোক-এটাই নতুন সরকারের কাছে আমার প্রধান প্রত্যাশা। 

মো. সিয়াম খান
শিক্ষার্থী, স্নাতক (নার্সিং) বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় 
 

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা- দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি ও শিক্ষায় বাস্তব সংস্কার। সরকারের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ঋণখেলাপি সংকট, রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। 

মো. খলিলুর রহমান
সম্পাদক, এডুকেশন ওয়াচ 
 

আমার প্রথম প্রত্যাশা হবে বাংলাদেশের শিক্ষার মান উন্নয়ন। শিক্ষার সঙ্গে বিভিন্ন সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম নিশ্চিত করবে বলে আশা করি। কারণ এরা একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের তরুণদের নিয়ে কাজ করবেন বলেও আশা করি। বেকারত্বের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তাদের হার বৃদ্ধির জন্যও কাজ করবে বলে আমি আশা করবো। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনাটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করি। এক্ষেত্রে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে।  

হুমায়রা মুবাশ্বিরা অবন্তি
শিক্ষার্থী, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি
 

বাজারে সব জিনিসের দাম কমানো, অর্থনীতি দ্রুততম সময়ে ফাংশনাল করা, সুশাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জে আছে, শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সেক্টরের পেমেন্ট বাকি আছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতি রোধ, বৈদেশিক বাণিজ্য পরিস্থিতি খুব নাজুক অবস্থায় আছে।  

আসাদ জামান
ঢাকার ব্যবসায়ী
 

সরকার দেশের কারিগরি শিক্ষায় আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে, দেশের স্বাস্থ্যখাত দুর্নীতিমুক্ত করবে, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে, সরকারের সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা থাকবে ইত্যাদি। বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে, দলীয় প্রভাব মুক্ত করা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিদেশি বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করা। 

মেহেদী হাসান শুভ
প্রকৌশলী
 

একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে নতুন সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা শুধুমাত্র ঢাকা শহরে নয় যেন দেশের প্রত্যন্ত এবং মফস্বল এলাকাগুলোতেও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির আওতায় নিয়ে আসা হয় যাতে করে সেখানেও মানুষের আধুনিক স্বয়ংসম্পূর্ণ নিরাপদ স্মার্ট আবাসন নিশ্চিত হয়। এ দেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে একটি শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আরও বহুমুখী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার যথাযথ বাস্তবায়ন করা।  

রুমন রাজ
রিয়েল এস্টেট এক্সপার্ট 
 

আমরা চাই- সরকার হবে জনগণের। দেশে আর কোনো গুম, খুন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হানাহানি এসব চাই না। জনগণের ভোগান্তি হবে এমন কিছু চাই না। চাই সুশৃঙ্খল সমাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারণে মানুষ হয়রানি হোক তা চাই না। তারা যেন জনগণের সঙ্গে থাকে। কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা না হয়। তারা দলমতনির্বিশেষে কাজ করবে। আমি মনে করি, সরকারের অবশ্যই চাপ আছে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া অনেক কিছু এ সরকারের সামলাতে হবে। তারপর ভূ-রাজনৈতিক একটা চাপ থাকে। তারপর সব বিচারকাজ সমাপ্ত করার চাপ। চিন্তা করলে নানাদিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে নতুন সরকার। 

নাহিদ হাসান জাবেদ 
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার
 

আশা করি বাংলাদেশ সরকার আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও সফটওয়্যার রপ্তানিতে সহায়ক নীতি দরকার। আমার মতে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি করা, প্রযুক্তি খাতে সঠিক নীতি বাস্তবায়ন করা এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নত করা। এতে দেশের প্রযুক্তি শিল্প আরও দ্রুত এগোবে।  

আসাদুজ্জামান শিবলু
সফটওয়্যার ডেভেলপার
 

আমি মনে করি, নতুন সরকার নতুন প্রজন্মদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে এবং সামাজিক বিভিন্ন অবক্ষয় থেকে রক্ষার লক্ষ্যে সকল স্কুল, কলেজগুলোর পড়ালেখার দিকে মনিটরিং করা। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি ও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ করে যাতে সরকারি অফিসগুলোতে কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পায়। 
 আবু সুফিয়ান সিদ্দিকী
সরকারি কর্মকর্তা 
 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে দিলে বাংলাদেশের গরিব অসহায় যে মানুষগুলো আছে, যারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না, তারা খেয়ে-পরে চলতে পারবে। যারাই  সরকারে আসুক, তাদের কাছে একটাই দাবি, একটাই চাওয়া, একটাই পাওয়া। 
 কামাল হোসেন
কাপড় ব্যবসায়ী  
 

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দান যেনো সহনশীল পর্য়ায়ে থাকে সেই ব্যবস্থা নেয়া। যা কম রাখতে পারলে মানুষ দু মুঠো খেয়ে শান্তিতে বাঁচতে পারেব। আর কিছু চাওয়ার নেই সরকারের কাছে। গরিব মানুষ; সবচেয়ে বেশি মানের জিনিস কম দামে খাওয়ালে মানুষ খুশি। গরিব মানুষ কিছু চায় না। 
 হারুনুর রশিদ
চা দোকানী, মগবাজার 
 

সরকার হবে জনবান্ধব, জনগণের চাওয়া পাওয়াকে গুরুত্ব দিবে। দেশের সার্বিক উন্নতির দিকে মনোনিবেশ করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো যে, সরকার ক্ষমতায় আসে, সাথে সাথে রাষ্ট্রের সকল সেক্টর যোগ্যতাকে আড়াল করে দলীয়করণ করে থেকে যার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে যায় এবং রাষ্ট্র উন্নয়ন হতে বাধাগ্রস্ত হয়। তাই আশা করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসব থেকে বিরত থাকবেন।
 মোহাম্মদ সালাউদ্দিন
উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থী
 

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এমন রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তুলতে পারলেই জনগণের মনে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসবে বলে মনে করি। তাছাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তরুণদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা তৈরিতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ফলপ্রসূ হবে। নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। 
 হাসনাত আহমেদ

ইংরেজি বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা
 

আমার প্রত্যাশা, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। বিগত কয়েক দশক ধরে দুর্নীতিতে আমরা বিশ্বে উপরের সারিতে অবস্থান করছি, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। সরকারের উচিত প্রতিটি সেক্টরে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া, সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দেশের জনসংখ্যার তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। বিশেষ করে তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে।
 মোহাম্মদ সিহাব সরকার
ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী
 

জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটে জনগণের দেয়া রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা। জুলাই আহতদের পুনর্বাসন ও জুলাই অপরাধীদের বিচার। জনগণের মাঝে দলমতনির্বিশেষে সমান অগ্রাধিকার ও সকল সেক্টরে দলীয়করণ না করে বরং যোগ্যদের প্রাধান্য দেয়া। নিজ দলের কর্মীরা যেন ক্ষমতাকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ কর্মীদের মতো দখলদারি ও চাঁদাবাজি না করে। উন্নত বাস্তবমুখী শিক্ষা কাঠামো তৈরি হোক- এটাই আমি চাই। চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে- দারিদ্রতা বিমোচন; কর্মসংস্থান তৈরি; দখলদারি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা।
 এনামুল হাসান
শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ
 

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা আইনের শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। একজন নাগরিক হিসেবে যেসব প্রত্যাশা রয়েছে তা হলো-  দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সকল নাগরিকের জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাই। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যেন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করা। সরকারকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে অর্থনৈতিক চাপ ও শিক্ষা, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক বাস্তবতা মোকাবিলায়- এটা বর্তমান নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 
 উম্মে রিপা
শিক্ষার্থী, ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট  
 

মানুষ চায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন ও সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি সমঝোতাভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। এখানেই বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ রাখা সহজ কাজ নয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে আস্থা পুনর্গঠন করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নতুন সরকারের কাছে তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। 
 মঞ্জুর আলম নাদিম
তরুণ রাজনীতিবিদ 
 

প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি কর্মস্থলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। সর্বশেষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্তৃতকরণ। দুর্নীতি দমন করা। যেহেতু বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে, তাই এটা নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে বেশি দুরূহ হবে। অর্থনৈতিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত সংস্কার, বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে হবে সরকারকে। 
 হুমাইরা খানম জেরিন
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ
 

বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা শুধু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নয়, পরিবর্তনের প্রমাণ। মানুষ এখন আর ভাষণ শুনতে চায় না, দেখতে চায় দৃশ্যমান উদ্যোগ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগ তৈরি, শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করা এবং স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিকের নাগালের মধ্যে আনা এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। 
 আমান উল্যাহ আল্ভী
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী 
 

দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে বর্তমান সরকারকে। সরকারি দপ্তর ও সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। যুব ও শিক্ষিতদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াক সরকার। আইনের সামনে সবাই সমান- এই নীতি বাস্তবে প্রমাণ করা এবং আইন বাস্তবায়নে কঠোর হওয়া। একটা কেস দীর্ঘায়িত না করা। ট্রাফিক আইন কঠোর করে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে। নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা অর্জন করে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। 
 ফাতেমাতুজ্জোহরা
শিক্ষার্থী 
 

সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জ তার নিজের দলের লোকেরাই। সরকার যদি নিজেদের মানুষদের কোনটা ঠিক আর কোনটা ঠিক না তা বোঝাতে না পারে তাহলে সামনের দিনগুলো এ সরকারের জন্য ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া বেকারত্ব, দুর্নীতি আর চাঁদাবাজি তো আছেই। যা সকল সরকারের সময়েই ছিল। এগুলোর মধ্যে চাঁদাবাজি আর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 
 নওরিন নিশাত
নার্সিং শিক্ষার্থী 
 

দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাই। যেখানে চাঁদাবাজি, মারামারি, কাটাকাটি থাকবে না। আমরা একে অন্যের পরিপূরক হয়ে এই দেশটার উন্নতি করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন থাকবে উনি সরকারি অথবা বেসরকারি উদ্যোগে যাতে বেকারদের কর্মসংস্থানের একটা ব্যবস্থা করে দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বড় চ্যালেঞ্জ। 
 এনামুল হক
বেসরকারি চাকরিজীবী 
 

সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ হোক। বিগত সময়ের শাসকদের যেসব আচরণে সাধারণ মানুষ বিরক্ত-তটস্থ ছিল সেসব খুঁজে বের করে মানুষের পালস বুঝে সরকার সামনে আগাবে-এটাই প্রত্যাশা। 
 সাহেদুজ্জামান সাকিব
টেলিভিশন সাংবাদিক 
 

ইতিপূর্বে আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। এখন বিএনপি সরকার আশায় আমরা আশাবাদী, দেশের পরিস্থিতি ভালো হবে বা দেশটা ভালোভাবে চলবে। অনেক জায়গায় অনেক সমস্যা। এগুলো যাতে সরকার দেখে। তাছাড়া, আমাদের অনেক পণ্যের দাম বেশি। যেমন, কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে চাল; সবকিছুর এখন দাম বেশি। এগুলোর দামটা একটু কমাতে হবে। আমরা চাই, সরকার যাতে চাঁদাবাজি নির্মূল করে। 
 হাফিজুর রহমান 

দই ব্যবসায়ী 
 

আমি চাই, আমার সম্পদ যেন আমি খেতে পারি, আরেকজনে জোর করে ছিনিয়ে না নেয়। জুলুম যেন না চলে। অন্যায়ের প্রতিবাদ যেন সরকার করে। আমি রুজি করবো আমি খাবো। 
 আব্দুল আউয়াল
সবজি বিক্রেতা
 

সরকারের কাছে চাওয়া হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের যে দাম নিয়ন্ত্রণ করা। এখন রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট বাজারে দেখা যাচ্ছে। তারা দ্রব্যমূল্য তিনগুণ চারগুণ বৃদ্ধি করে দিচ্ছে। সুতরাং বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ। 
 ইয়াসির আরাফাত
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী 
 

দুর্নীতি ঠিক করা দরকার আগে। ঘুষ বন্ধ করা দরকার।  বেগম খালেদা জিয়ার সুনাম যেন টিকে থাকে। তিনি কারও কাছে মাথা নত করেননি, দেশ ছাড়েননি। এখন তারেক রহমান দেশে এসেছেন, ইনশাআল্লাহ ভালো কাজই করবেন, এইটা আমাদের আশা। 
 শাহিন 

নিরাপত্তাকর্মী 
 

আমরা চাই, দেশের পরিস্থিতি যাতে শান্ত থাকে। কোনো হানাহানি না হয়। বিশেষ করে আমরা যারা রিকশা চালাই বা গরিব মানুষ, আমাদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়। রাস্তার জ্যামের কারণে আমরা ঠিকমতো রিকশা চালাতে পারি না। সারা দিন জ্যামে বসে থাকা লাগে। এটা যদি সরকার একটু দেখতেন। আর হইলো জিনিসপত্রের দাম। চাল, ডাল, তেল-সবকিছুর দাম তো অনেক বেশি। আমরা যা কামাই করি, তা দিয়া সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়। এইগুলা যদি একটু কমাইতো, তাইলে আমাদের জন্য খুব ভালো হইতো। 
 আলতাফ
রিকশাচালক  
 

আমরা যেন কাজকর্ম ভালোভাবে করতে পারি এটাতেই শান্তি। আমরা মানুষরে ধরপাকড় করে খেতে চাই না, চাঁদাবাজি করেও খেতে চাই না। কাজকর্ম কইরা খাই, কাজকর্ম যদি একটু ভালো হয় ভাই তাহলে আমরা একটু ভালোভাবে চলতে পারি। এই মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সরকারের আগে দেশটারে ঠিক করতে হবে। দেশকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। দেশ যার যেভাবে মন চাইতেছে ওইভাবেই চলছে। কেউ কাউরে মানছে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। 
 শফিক আহমেদ
রাইড শেয়ারিং ব্যবসায়ী
 

অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ বেকারত্ব কমানো, ব্যাংকিং ও বাজেট ঘাটতি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ করা; এসব বাস্তব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। এ ছাড়াও রাজনৈতিকভাবে বিভাজন কাটিয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করাও বড় চ্যালেঞ্জ। 
 শফিকুল ইসলাম সাকিব
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতি মজবুত করা। আর রাজনৈতিক দিক থেকে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন, বিশেষত উচ্চকক্ষ গঠন। ইতিমধ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থা; যা রাজপথে হরতাল অবরোধ ফিরিয়ে আনতে পারে। এ ছাড়াও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস, পুলিশির অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, মুদ্রাস্ফীতি, বাজার সিন্ডিকেট, মাদক এগুলোকেও বন্ধ করতে পারা এবং একই সঙ্গে বাকস্বাধীনতাও সরকারের একটা চ্যালেঞ্জ।
 মুহাম্মাদ জাহিন
নৃবিজ্ঞান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আমি মনে করি, দলের তৃণমূলকে‌ নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমীকরণের আওতায় আনা যাবে। এটা দমন করতে পারলে দেশ অনেক ভালো চলবে। আমার প্রত্যাশা একটাই- কেউ কারও নাগরিক অধিকার হরণ করে যেন কখনোই পার না পেয়ে যায়। একটাই চাওয়া সুবিচার যেন প্রতিষ্ঠিত হয় আমাদের সমাজে।
 মো. জিদান সরকার
দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 
 

বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা। পূর্ববর্তী সরকারের দুর্নীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ফলে জনগণ চাপে রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আংশিক চেষ্টা করলেও স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি কারও জরুরি। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কসহ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে কূটনীতি পরিচালনা করতে হবে। রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড জনগণের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করবে- এটাই আমার প্রত্যাশা।
 মো. আকাশ শাহ্
বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধ করা এবং অর্থনৈতিক খাতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া। 
 মো. নাইমুর রহমান রিদম
আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

নির্বাচিত সরকারের সামনে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাস দমন, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি, বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন- এসবই বড় পরীক্ষা। প্রত্যাশা স্পষ্ট। নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতা রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠাই এখন 

সময়ের দাবি।
 মো. ছাব্বিরুল ইসলাম
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

এ সরকারের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা করা অতীতের চেয়ে তুলনামূলক চ্যালেঞ্জিং হবে। ফ্যাসিস্ট রেজিমে দেশের অর্থ পাচার, আইন ও বিচারের দুর্বলতা ইত্যাদি নতুন সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব ফেলবে। তাছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে জনগণের মধ্যে যেকোনো কারণেই রাজপথে আন্দোলনে নামার যে টেনডেন্সি সেটা সরকারের প্ল্যান ও পলিসি একজিকিউট করতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া সরকার দেশের উপর ২৩ লাখ বৈদেশিক ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। সব মিলিয়ে প্রায় একটা ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে একটা স্ট্যান্ডার্ড পজিশনে নিয়ে যাওয়াটাই এ সরকারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়।
 আহনাফ আহমেদ রাফি
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি চাপ সামলে সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা এবং নিজ দলের জনপ্রিয়তা ধরে রাখা নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ। একজন আশাবাদী তরুণ হিসেবে আমি সবার আগে চাই আইনের প্রয়োগ। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং আগের আমলের সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা, ভালো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্র নীতি আমার প্রাথমিক প্রত্যাশা। সরকার যেন জনগণের হয়ে উঠতে পারে সেটাই আমি চাই।
 আসিফ রহমান
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমানে সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো রমজানে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ঠেকানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিমুক্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে তোলা। বিচার বিভাগের জটিলতা দূর না করলে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার পেতে বছরের পর বছর লেগে যাবে। আমি সবসময়ই বলি দুর্নীতিই বাংলাদেশের সকল সমস্যার মূল কারণ। দুর্নীতি দূর করতে পারলে অটোমেটিক সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার প্রত্যাশা মানুষ যেন সহজেই সরকারি অফিসে কোনো ঘুষ ছাড়াই সেবা পায়, নির্ভয়ে পুলিশের বা আইনের দ্বারস্থ হয়ে হয়রানি ছাড়াই ন্যায়বিচার পায় এবং দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
 আশিকুর রহমান
ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 
 

সরকারে চ্যালেঞ্জ- নিজেদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দুর্নীতি থেকে বিরত রাখা বা আরও একটা আওয়ামী লীগ ২.০ গ্রুপ যেন বিএনপি’র মাধ্যমে উঠে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখা। প্রত্যাশা থাকবে যে, তারা তাদের ইশতেহারে যেভাবে বলেছে সেভাবে সবগুলো কথা যেন যথাযথভাবে রাখে, তবে একটা বাদে সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন।
 রিজিয়া আহমেদ সারা
উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তৃণমূলের কর্মীদের সঠিকভাবে  নিয়ন্ত্রণে রাখা। অনেক সময় দেখা যায়, তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা ঠিকভাবে অনুসরণ করেন না। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মানসিকতা বুঝতে হবে। ২০০৫-২০০৬ সালের ধাঁচের রাজনীতি এখন আর মানুষ চায় না। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হতে হবে। আমার প্রত্যাশা একটি সুন্দর ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ। বিএনপিকে ঘিরে যে পুরনো স্টেরিওটাইপ রয়েছে, সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। দেশে যেন ‘মব কালচার’ না থাকে এবং মানুষ স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ ও ব্যক্তিগত জীবনযাপন করতে পারে। 
 ইফফাত জাহান সামিন
ইংলিশ ফর স্পিকারস অফ আদার ল্যাংগুয়েজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

বিএনপি সরকারের চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি, ক্ষমতাসীন দলের চাঁদাবাজি ঠেকানো, দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান, অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করা, কৃষকদের চাষাবাদ পর্যবেক্ষণ ও বাজারদর নিয়ন্ত্রণ। 
 কাইয়ুম হোসেন
মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, বিদেশি আগ্রাসন থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচানো, আর দেশের সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সরকারের কাছে আমার প্রথম প্রত্যাশা, সরকার জুলাইকে ধারণ করবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করবে। 
 জহির রায়হান
ব্যাংকিং অ্যান্ড  ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের কাছে মূল চ্যালেঞ্জগুলো হলো অর্থনীতি পুনর্গঠন করা, ল’ অ্যান্ড অর্ডার ফিরিয়ে আনা এবং দেশের ভঙ্গুর কাঠামোকে আবার নতুন করে দাঁড় করানো। নতুন সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা সেটি হচ্ছে দেশের বড় বড় যে সকল নিয়োগগুলো রয়েছে এবং সাধারণ যে নিয়োগগুলোও রয়েছে সেগুলো যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়।
 আশফাক আকিব
হেলথ ইকোনমিক্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

সরকারের চ্যালেঞ্জ হলো দেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতার লাগাম টেনে ধরা। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি যা মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করছে। নতুন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বেকারত্ব হ্রাস, আইসিটি খাতকে আরও সমৃদ্ধশালী করে তোলা। 
 

রাজু আহমেদ
ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা ও মব নিয়ন্ত্রণ করা বর্তমানে বিএনপি সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ১৭ বছর পর এই প্রথম মানুষ গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছে; এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। পাশাপাশি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর বিষয়ও আছে। 
 শামীমা শামু
বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, নিত্যপণ্যের বাজার ঠিক রাখা, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থিতাবস্থায় নিয়ে আসা, বিভিন্ন খাত দুর্নীতিমুক্ত করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। এ ছাড়াও দেশের মানুষ বিচার বিভাগের কার্যকারিতা নিশ্চিত এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের উপর ভরসা করে আছে। আমি প্রত্যাশা করি সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করবে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। সর্বোপরি, জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করবে।
 সোলায়মান হোসেন রবি
আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমানে নির্বাচিত সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বৈদেশিক ঋণ যা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে নেয়া হয়েছে সেগুলো কমিয়ে আনা। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের পালস বুঝতে পারা। এদিকে আমাদের প্রত্যাশার বিষয়গুলো হলো অপরাধের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
 আহসান হাবিব
বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ হলো- অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং বেকারত্ব হ্রাস করা। সেই সঙ্গে আমলাতন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার এসব মোকাবিলা করবে বলে প্রত্যাশা করি।
 শহীদুল ইসলাম সাব্বির
অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের কাছে প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতার যেন অপব্যবহার না হয়; যা জনমনে উদ্বেগ ও আক্রোশ সৃষ্টির কারণ হতে পারে। তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটাই মোটাদাগে তাদের চ্যালেঞ্জ। সরকারের কাছে আপাতত প্রত্যাশা যেন তারা যাতে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। 
 ওমর ফাইয়াজ তামিম
নৃবিজ্ঞান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ হলো স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণ, অর্থনীতি, পুলিশ প্রশাসন আর চাঁদাবাজি কমানো। এই সরকারের কাছে প্রত্যাশা হলো- সুষ্ঠুভাবে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ।
 সামিউল ইসলাম শিফাত
ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 
 

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দলীয় কাঠামোকে সুসংগঠিত রেখে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা। অর্থনীতির ভঙ্গুর ভিত মজবুত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বোপরি দুর্বল ব্যাংকিংখাতকে সংস্কারের মাধ্যমে আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।  
 মো. জুনায়েদ হোসেন মিজি
ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
 

সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি মোকাবিলা, বৈদেশিক ঋণ হ্রাস এবং প্রান্তিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। প্রশাসনের সকল ক্ষেত্রে বিদ্যমান যে অব্যবস্থাপনা রয়েছে তার বিরুদ্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা কর্মসংস্থান। সেই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জালিয়াতিমুক্ত করা। 
 তাসবীউল হাবিব নিশাদ
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
 

সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনা, কেননা সরকারের উপরমহলের নেতারা অনেক ভালো কাজ করলেও মাঠপর্যায়ের নেতারা দুর্নীতি এবং অরাজকতায় পর্যবসিত। এরকম চলতে থাকলে সরকার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। 
 মো. আহসান হাবীব রকি
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
 

সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি। পাশাপাশি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন এবং ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নই হবে সরকারের মূল সাফল্য। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা- সুশাসন, শিক্ষায় বিনিয়োগ, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেয়া। 
 কায়েম উদ্দিন
ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় 
 

অবিলম্বে গণভোটে প্রদানকৃত জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন, ভূমি-ইউনিয়নসহ বিশেষ সেবাখাত সমূহের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ রেলসেবা-নেটওয়ার্কের অভূতপূর্ব মানোন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি নিষিদ্ধ করে শিক্ষার্থীবান্ধব সংসদীয় রাজনীতি চালু, প্রচলিত ধারার ন্যয় এমপি নয় বরং আসনের চাহিদাভিত্তিক বাজেট প্রাধান্য এবং সমস্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধের মাধ্যমে জনগণের আস্থা বাস্তবায়ন। 
 

মো. মোকছেদুল মমিন 
বাংলা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ বর্তমানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এক গভীর সংকটের মধে দিয়ে যাচ্ছে। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, লুটপাট, উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচারের ফলে সৃষ্টি আর্থনৈতিক ধ্বংস স্তূপ নতুন সরকারকে অগ্রিম চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রেখেছে।
 মোঃ রবিউল ইসলাম
উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের চাপ নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে হবে। এছাড়া দেশের উন্নয়নের অন্যতম বাধা দুর্নীতি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রায় দুই হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এবারের নির্বাচন এবং বর্তমান সরকার। তাই জুলাই সনদের বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করি। একই সাথে বিরোধী দল ও মতের উপর দমন পীড়নের পরিবর্তে সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পর্ক নিশ্চিত করা ও জনগণের বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করি।
 শিবলী সাদী
পশুপালন অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

প্রথমত, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ কমিয়ে কার্যকর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণে আনা। তৃতীয়ত, আইন-শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। চতুর্থত, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা। 
 ফাহাদ হোসেন ফাহিম
এনিমেল সাইন্স বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

এই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের প্রতি জনগণের হারানো আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন ও আইনের শাসন কার্যকর করা। সরকারের কাছে প্রত্যাশা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
 মো: বেলাল হোসেন 
কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

দেশের সর্বস্তরে দুর্নীতি বন্ধ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং রিজার্ভ শক্তিশালী করা। বর্তমানে মত প্রকাশের যে স্বাধীনতা তৈরি হয়েছে তা বজায় রাখা। প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষা বাড়ানো। অনলাইন নিরাপত্তা ও সাইবার আইনের স্বচ্ছতা আনা। তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা। 
 মোছা. মোতমাইন্না আক্তার
পশুপালন অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত রাখা। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন, সুশাসন নিশ্চিত করা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের কাছে প্রত্যাশা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত।
 সাঈদ আহমদ খান
কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

নতুন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ, ‘মব’ সহিংসতা, রাস্তা অবরোধ ও প্রশাসনিক ভবন ঘেরাওয়ের মতো ঘটনায় জনজীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অবনতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই সরকারের অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা। 
 মো. রফিকুল ইসলাম 
ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ দেশের ভেঙে পড়া আইন শৃঙ্খলা সুন্দরভাবে ঢেলে সাজানো এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। এর বাইরে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা আরেকটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে হয়। তবে সরকারের ইচ্ছে থাকলে সিন্ডিকেট ভেঙে বাজার নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব কিছু নয়। সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা দেশের বিচার ব্যবস্থাকে জনবান্ধব হিসেবে দেখতে চাওয়া। সাথে জীবনমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং নতুন তরুণ উদ্যোক্তাদের সরকারি ঋণের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক উদ্যোক্তা তৈরি করা। এতে দেশে বেকারের সংখ্যা যেমন কমবে, দেশও স্বনির্ভরশীল হবে।
 মো. আজিজুল হক আজিজ
পশুপালন অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব হ্রাস, দুর্নীতি দমন এবং সুশাাসন নিশ্চিত করা সরকারের চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি, কৃষি ও শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাও গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তোলা সময়ের দাবি। 
 মো জহুরুল হক 
সার্জারি ও অবস্টেট্রিকস বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল রাজস্ব আয় ও ঋণের বোঝা সামলানো, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা এবং জনজীবনের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাটা 

বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ। 
ছাব্বির হোসেন রিজন 
কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিশেষত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামাল দেওয়াটা এই সরকারের চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাটা প্রত্যাশা। সর্বোপরি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের বিনির্মাণের প্রত্যাশা রাখি।
 এম মাহাদী হাসান 
ভেটেরিনারি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বৈদেশিক ঋণের বোঝা মোকাবিলা, মামলা-মূল্যায়ণ তুলে ধরা এবং দুর্নীতি ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা সমাধান করা। তবে বিশেষ করে ঋণ, ব্যাংক খাতের সমস্যা ও মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ। প্রত্যাশা থাকবে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা, নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বাস্তবায়ন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।
 মো. মোরসালিন 
ভেটেরিনারি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

ক্ষমতার সদ্ব্যবহার ও দুর্নীতি মোকাবিলা বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, প্রশাসনে পক্ষপাতিত্ব, আইন প্রয়োগে বৈষম্য, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ হ্রাস প্রভৃতি সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া। প্রত্যাশা থাকবে, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থা, দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল কার্যকর করা, স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন, বড় দুর্নীতির মামলায় দ্রুত তদন্ত ও শাস্তির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক করা, সব সরকারি সিদ্ধান্ত ও বাজেট অনলাইনে প্রকাশ করা।
 সাইফুল ইসলাম পলাশ 
ভেটেরিনারি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা মানুষের মনে অনাস্থা সৃষ্টি করেছে। শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, ছাত্রসমাজের আস্থা অর্জন, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এত সহজ হবে বলে মনে হয় না। আমরা চাই শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায্যমূল্যে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা। সরকার সমালোচনাকে সম্মান করবে, দমননীতি না নিয়ে পরামর্শ হিসাবে গ্রহণ করলে দেশ এগিয়ে যাবে। 
 মো. রেজাউল করিম 
কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

আইনের যথাযথ প্রয়োগ, যেন সমাজে কোন দুর্নীতি ও গণদুষ্কৃতির জন্ম না হয়। সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। নাগরিকের মতামত প্রকাশের অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে, যেন সবাই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করবে এবং কেউ ভয় পাবে না। পাশাপাশি দেশের শিল্প ও কৃষিখাত প্রাসারের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করা এবং দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিতের প্রত্যাশা করি।
 হুর-এ-তানহা তামান্না 
পশুপালন অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

দেশের ওপর থাকা বৈদেশিক ঋণের বোঝা হালকা করাটা চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও দেশের মেগা প্রজেক্টগুলোর (মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) ঋণ পরিশোধ শুরু হবে ২০২৬-২৭ সালে। ঋণের সুদহারও দিন দিন ক্রমাগত বাড়ছে। পরিসংখ্যান মতে, দেশের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই বিশাল অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করা নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। 
 ইসরাত জাহান 
কৃষি শক্তি ও যস্ত্র বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

একটি দুর্বল ও ভঙ্গুর তৃণমূল রাজনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করা। আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপর্যস্ত অর্থনীতি একটি বড় চাপ তৈরি করেছে। শিক্ষাব্যবস্থাও নানা সংকটে জর্জরিত, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি জনআস্থা ক্ষুণ্ন করছে। পুরনো রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করাও সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রত্যাশা থাকবে সরকার যেন দৃঢ়তা ও দক্ষতার সঙ্গে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। সরকার একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে জবাবদিহি, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
 আতিকুর রহমান 
কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

এই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি দমন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক আস্থা ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখা বর্তমান সময়ের মৌলিক পরীক্ষা। সুশাসনের দৃঢ় প্রতিষ্ঠা, আইনের নিরপেক্ষ ও সমান প্রয়োগ এবং ন্যায্য সুযোগের নিশ্চয়তা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মানোন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতির ধারাবাহিক বাস্তবায়নই প্রধান প্রত্যাশা।
 মো. গোলাম সাকলায়েন আনাস 
মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় 
 

তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করাটা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কাজ বাগিয়ে নেয়ার মতো জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা। কৃষি কার্ড বা ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকারি সুবিধাগুলো যেন কোনো স্বজনপ্রীতি বা অবৈধ লেনদেন ছাড়াই প্রকৃত অভাবী পরিবারের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা। এমন এক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যেখানে কেবল ভোটদান নয় বরং ভিন্নমতের প্রতিও শ্রদ্ধা থাকবে। এছাড়া দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলে সরকারি সেবার প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 
 মো. আবু হানিফ 
কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের বিশাল অংশের অর্থের যোগান এবং তা মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বিতরণ করা নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করি। কারণ ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে চেয়ারম্যান, মেম্বারগণ মাসিক ৬০০ টাকার বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা প্রদানের জন্য ৪/৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। আর মাসিক আড়াই হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের যে বাণিজ্য হতে পারে যা সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে। 
 মো. বকুল আলী 
উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। একই সাথে অন্তর্কোন্দল ঠেকানো এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মোকাবেলাও কঠিন হবে। প্রত্যাশা থাকবে, অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনা, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা, এলডিসি উত্তরণ পেছানো এবং জুলাই বিপ্লব ও জনগনের আকাঙ্খার প্রতি নজর রাখা। বিচারাধীন বিষয়ের দ্রুত ও সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনা করা, গণভোটের আলোকে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা। 
 মো: রাহাত রায়হান রাফি
ভেটেরিনারি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা। দুর্নীতি একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ চাদাবাজি নির্মূল করা। সরকারের কাছে প্রত্যাশা, প্রশ্নফাঁস রোধ করে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় মেধাবীদের সুযোগ করে দেওয়া। 
 রেদওয়ান আহমেদ 
প্রাণিবিদ্যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি। যেটা শুধু এই সরকার নয়, সকল সরকারের ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপে দুর্নীতি অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করতে পারে। এতে জনদুর্ভোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি, 

মুদ্রাস্ফীতি ঘটতে পারে। 
 মো: মোবাল্লেগ হোসেন  
ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 
 

নির্বাচিত সরকারের প্রতি প্রত্যাশা, দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স রাখা। সকল মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে আন্তরিক প্রচেষ্টা করা। বাক্স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখা।
 এস এম আল মুনজুরুল 
আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 
 

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা রোধ করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাস, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তাছাড়া সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। আমি আশা করি, সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের জনগণের মৌলিক মানবাধিকার চর্চার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে সাম্য ও সমতার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবে।
 মীর মাসুম পারভেজ 
আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও বিনিয়োগ স্থবিরতা দ্রুত সমাধান করা জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দুর্নীতি দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। দেশীয়-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করাও নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
 মো. রায়হান আলী 
রসায়ন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

সবার আগে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা দলীয় নির্দেশনা না মেনে চাঁদাবাজি, খুন, ছিনতাই, হুমকি দেওয়া কিংবা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা। সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয় বরং সকলকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করা। 
 মো. সজিবুর রহমান 
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা। এছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণ, ডলার নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রাস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ। তাছাড়াও রয়েছে আঞ্চলিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিজেরদের স্বার্থ টিকে রাখা।
 মেহেদী হাসান বকুল 
আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 
 

বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা। রাজনৈতিক সহনশীলতা, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাংকিংখাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তরুণ প্রজন্মের আস্থা অর্জন করা। 
 মো. মমিনুর ইসলাম
আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করা। এছাড়াও আরো কতকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে তাদের সামনে, যেমন, বিভিন্ন সেক্টেরে দুর্নীতিরোধ করা, দেশের আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর জনগণের আস্থা সমুন্নত করা, বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা, সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো রোধ করা, স্বচ্ছ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা। 
 জোবায়ের আহম্মেদ 
 

ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব ও দুর্নীতি সেই আগের অবস্থানেই রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান এবং দূর্নীতি প্রতিরোধ করা বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। 
 সজীব আহমেদ 
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

এই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনগণের ফিরে পাওয়া ভোটাধিকার বা ফিরে পাওয়া গণতন্ত্র রক্ষা করা। অতীতের মতন আবারও কোনো স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকার  যেন না জন্মায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা। বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রজনতার উপর যারা গুলি চালিয়েছে তাদের আইনের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা। 
 মো. মুরাদ হোসেন 
ফাইন্যান্স বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 
 

নবনির্বাচিত সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও মহাসড়কে চাঁদাবাজির মতো অনিয়ম পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে। এসব কারণে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানো সরকারের জন্য একটি কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশা করছি, সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনা শক্ত করবে এবং চাঁদাবাজির মতো সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে করবে। 

সিদ্দিকুর রহমান  
অর্থনীতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা সুদৃঢ় রাখা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। পাশাপাশি তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্বের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যেন অতিরিক্ত উৎসাহ বা আবেগপ্রবণ হয়ে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন, যা সরকারকে বিতর্কিত বা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে। এটি নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
 ওমর ফারুক  
সমাজকর্ম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব হ্রাস, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রশাসনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা, কথার চেয়ে কাজে প্রমাণ দেখানো। 
 মো. বদিউজ্জামান 
গনিত বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা, ব্যাংক খাতের অনিয়ম কমানো এবং ডলার সংকট সামাল দিয়ে শিল্পকারখানা সচল রাখা। একই সাথে গ্যাস-বিদ্যুতের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত না হলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 
 মেছবাহুল হাছান রানা 
বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মীদের চেইন অব কমান্ড তোয়াক্কা না-করার সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরানো। এছাড়া শিক্ষাখাতে জেঁকে বসা প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট নির্মূল ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা দূর করা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের প্রতিটিস্তরে কঠোরভাবে ‘মেরিটক্রেসি’ নিশ্চিত করা। সব ধরনের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি ও প্রশাসনিক বৈষম্য বিলোপ করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণই সরকারের কাছে আমাদের চূড়ান্ত ও অনিবার্য প্রত্যাশা।
 গোলাম মুক্তাদির অরণ্য 
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলায় রেখে জনসন্তুষ্টি বজায় রাখা। সরকারের প্রতি আমার প্রত্যাশা জুলাই সনদের সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সুশাসন ও গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবাধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে।
 আব্দুল মান্নাফ 
আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করা, বিচার-ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রায় ২ হাজার জুলাই শহীদদের আকাঙ্খার আলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা।
 সুলতান মো. সালাউদ্দিন 
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি, সরকারি দপ্তরগুলোকে উচ্চ পলিটিসাইজেশনের প্রবণতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়াও বৈদেশিক ঋণ, ব্যাংকিং খাতের অস্থিতিশীলতা এবং বেকারত্ব দূর করা।  
 জি এম মারুফ 
আরবী বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
 

জনগণ জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে এবং ভোট প্রদানের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত করেছে। জনগণের আস্থা ও আকাক্সক্ষা পূরণ করাটাই বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচিত সরকার জুলুম করবে না, সময়মতো সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করবে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশ পরিচালনা করে মেয়াদ শেষে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবে- এই প্রতিশ্রুতিগুলো কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করাই সবচেয়ে জরুরি। 
 আদিবা সালেহা 
সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করছে। বিএনপি’র আগামী দিনের প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে চ্যালেঞ্জ। বর্তমান ও আগামীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষা করা। বিশেষ করে দলীয় নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সামাল দেয়া। পাশাপাশি জনসাধারণ ও তরুণদের প্রত্যাশা থাকবে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। 
 মো. রাকিব মিয়া 
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
 

এই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের পর জনগণ কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রত্যাশা করছে। অতীতের সকল গুম, খুন, হত্যা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা বড় পরীক্ষা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসন ও বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমার প্রত্যাশা হলো বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
 আজাদ শিকদার 
সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
 

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক এই পট পরিবর্তনে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে দেশকে ঘিরে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করি। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া দেশের ১৩.৫৮% শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
 আবেদা খাতুন চৌধুরী 
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
 

দীর্ঘ সতেরো বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে। এই জন্য নতুন সরকারের প্রতি মানুষের অনেক আশা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার স্থিতিশীলতা তৈরি ও বেকারত্ব দূরীকরণ। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়, যা এখনো স্থিতিশীল হয়নি। এর প্রতিকার নতুন সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এর জন্য সরকারকে শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল করতে হবে। 
 তাজুল ইসলাম 
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
 

নির্বাচিত সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।  এই সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন শক্তিশালী করা। তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির পরিবেশ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। জনগণ এমন নেতৃত্ব চায়, যা হবে মানবিক ও দায়িত্বশীল।
 নাদির আহমেদ
সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
 

বর্তমান সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে দায়িত্ব নেয়ার পর হঠাৎ বেড়ে যাওয়া দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। পূর্বঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়ন ব্যয়, বৃহৎ ঋণের চাপ, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে এই সরকারকে। তাছাড়া অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বেড়ে যেতে পারে মুদ্রাস্ফীতির হার। অন্যদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সই হওয়া বিভিন্ন চুক্তি এই সরকারকে বেশ জটিলতায় ফেলতে পারে। সবকিছুর পরও সরকারের কাছে আমার একমাত্র প্রত্যাশা থাকবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার নিশ্চিত করা। এটা নিশ্চিত হলে অনেক কিছুই সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করি। এতগুলো মানুষের আত্মত্যাগ, গণভোটের শক্তিশালী বিজয়ের পর এই প্রত্যাশা অত্যন্ত যৌক্তিক হিসেবেই দেখছি।
 জসিম উদ্দিন 
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
 

সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিবো কোথা? বাংলাদেশ আজ দুর্নীতি, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সহ নানা সংকটে জর্জরিত। নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিগগিরই এসব সমস্যার দায় বিএনপি’র কাঁধে এসে পড়বে। এগুলো সামাল দেয়াই হবে তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি জেন-জি’র সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব কমানো এবং তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রণে রাখাও ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
সকল প্রকার দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম দূর করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে এবং আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ন্যায় অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস না করে সত্যিকারের জনগণের সরকার হয়ে উঠবে, এটাই প্রত্যাশা।
 জুনায়েদ আহমদ (৫০৭)
সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 

দীর্ঘ ১৭ বছর পর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। তবে নির্বাচিত সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জও কিন্তু কম নয়। বিশেষ করে ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা। এসব সংকট দ্রুত সমাধান না হলে জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পেতে পারে। জনগণ চায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন। দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক শাসনের মাধ্যমে নতুন সরকার জনতার প্রত্যাশা পূরণে সফল হবে-এমনটাই সবার আশা।
 

মতামত'র অন্যান্য খবর