ইংরেজিতে একটি কথা আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। দিনের শুরুটাই বলে দেবে দিনটি কেমন যাবে? কথাটি নতুন সরকারের বেলায় শতভাগ সত্য। ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফিরে জনতার ভিড়ে আওয়াজ তুলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। তখন তা ছিল আলোচনায়। নির্বাচনের প্রচারণার মাঠেও ছিল অভিনবত্ব। মানুষ তার প্রতিদানও দিয়েছে। বিএনপি বিপুল ভোটে জিতেছে। জনমানুষের প্রত্যাশার পারদও বেড়েছে বহুগুণ। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে বেশ কিছু চমক দেখিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে উপলব্ধি করছেন, কী চায় আমজনতা?
কিন্তু সরকারের সামনে মোটাদাগে চ্যালেঞ্জগুলো কী? ইশতেহার বাস্তবায়ন। সেটা তো দলীয়। এর বাইরে বিবদমান বা পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলোর দৃশ্যমান সমাধান দেখতে চায় মানুষ। দিনের পর দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চলেছিল মবের মাধ্যমে। মবোক্রেসির বদলে মানুষ চায় সত্যিকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। রমজান চলছে, মানুষ চায় দ্রব্যমূল্যের দামে সহনশীল পরিস্থিতি, চায় বাজার সিন্ডিকেটের মূল উৎপাটন। চায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, চায় ন্যায়বিচার। বিনা বিচারে কাউকে যেন আদালতে দৌড়াতে না হয়। চায় সুশাসন। চায় একটি সুস্থির গতিশীল অর্থনীতি। যেমনটা বলছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনটি বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন সরকার এমনটাই বলেছেন তিনি। এগুলো হলো, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা, অন্তর্বর্তী সরকারের অসমাপ্ত সংস্কার প্রক্রিয়া এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা। তিন চ্যালেঞ্জের বাইরে রয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি বিশ্লেষণপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া। আশার কথা হচ্ছে, সরকার ১৮০ দিনের হানিমুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইশতেহার নিয়ে কাজ শুরু করেছে। মব চলবে না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সরকার আন্তরিকভাবেই দেশের সামগ্রিক অস্থিরতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এবং জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।