ডক্টর শরীফ ভূঁইয়া এবং লেখক ফিরোজ আহমেদ বাংলাদেশের সাংবিধানিক চরিত্র নিয়ে দু’টি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তাঁরা উভয়েই সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে তাঁদের মতামত কমিশনের নিকট লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। একটি ছিল রাষ্ট্রপতির পদকে শক্তিশালী করার প্রশ্ন, অন্যটি ছিল সংবিধানে “বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম” ও রাষ্ট্রধর্ম অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন। ফলে এটি কেবল ব্যক্তিগত মতামত নয়; বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার অংশ। তাঁদের আলোচনার বিষয় দু’টিকে কেন্দ্র করে নিচে একটি নৈতিক-প্রজাতান্ত্রিক পর্যালোচনা উপস্থাপন করা হলো।
১. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রশ্ন: ভারসাম্য নাকি দ্বৈত সংকট?
লেখকদ্বয় যথার্থভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতার অতিমাত্রিক কেন্দ্রীভবন দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে নির্বাহী বিভাগের রাজনৈতিক প্রভাবের অধীন হয়ে পড়েছে। জবাবদিহির সংস্কৃতি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, আমলাতন্ত্র ক্রমাগত শক্তিশালী হয়েছে এবং নির্বাচনব্যবস্থা পর্যন্ত দলীয় কর্তৃত্বের ছায়ায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর পরিণতিতে ভোটারবিহীন নির্বাচন, কার্যত একদলীয় আধিপত্য এবং ফ্যাসিবাদী প্রবণতার জন্য একটি কাঠামোগত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংবিধান সংস্কার কমিশনে মূলত দু’টি প্রবণতা আলোচিত হয়েছে। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে সীমিত করা। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতির পদকে ক্ষমতাশালী করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ওপর একটি ভারসাম্য তৈরি করা।
ডক্টর শরীফ ভূঁইয়া ও ফিরোজ আহমেদ দ্বিতীয় পথটির সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, সরাসরি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নতুন এক ক্ষমতাকেন্দ্র তৈরি করতে পারে, যা সংসদীয় ব্যবস্থার অভ্যন্তরে দ্বৈত বৈধতার সংকট সৃষ্টি করবে। রাষ্ট্রপতি যদি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন, তবে তিনিও নিজেকে জনগণের সরাসরি প্রতিনিধি দাবি করবেন; একই সময়ে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও একই দাবি করবেন। তখন রাষ্ট্রে দু’টি সমান্তরাল গণতান্ত্রিক বৈধতার কেন্দ্র তৈরি হবে।
রাজনৈতিক তত্ত্বে এই পরিস্থিতিকে “Dual Democratic Legitimacy Crisis” বলা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রের ভেতরে এমন দু’টি ক্ষমতাকেন্দ্র তৈরি হয়, যারা উভয়েই জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্বের দাবি করে। তখন প্রশ্ন দাঁড়ায়-রাষ্ট্রের প্রকৃত রাজনৈতিক ম্যান্ডেট কার? সংকটকালে সশস্ত্রবাহিনী কার প্রতি অধিক আনুগত্য দেখাবে? রাষ্ট্রের চূড়ান্ত রাজনৈতিক কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে?
লেখকদ্বয়ের আশঙ্কা এখানেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো যথেষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক নয়; বরং ব্যক্তি-নির্ভর। ফলে একটি শক্তিশালী নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি গণতান্ত্রিক ভারসাম্য তৈরির পরিবর্তে নতুন ধরনের ক্ষমতা-সংঘাত, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং এমনকি সামরিক হস্তক্ষেপের সুযোগও সৃষ্টি করতে পারে।
এখানে তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো-তাঁরা “শক্তিশালী রাষ্ট্রপতি” ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে “শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান” ধারণাকে সামনে এনেছেন। কারণ বাংলাদেশের সংকট মূলত “দুর্বল রাষ্ট্রপতি”-র সংকট নয়; বরং “দুর্বল প্রতিষ্ঠান”-এর সংকট। ইতিহাস দেখায়, কেবল রাষ্ট্রপতির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিলেই গণতন্ত্র নিরাপদ হয় না; অনেক ক্ষেত্রে সেটি নতুন এক আধা-স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্ম দেয়।
অতএব, বাংলাদেশের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত-কে বেশি ক্ষমতাবান হবে, এটি নয়; বরং কেউ যেন বিপজ্জনকভাবে অতিরিক্ত ক্ষমতাবান হতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা।
২. ক্ষমতার বিভাজন না ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা?
এই প্রশ্নকে দার্শনিকভাবে বিশ্লেষণ করতে গেলে প্রথমেই আসেন গড়হঃবংয়ঁরবঁ। তাঁর ক্ষমতার বিচ্ছেদ তত্ত্বের মূল বক্তব্য ছিল-যখন রাষ্ট্রক্ষমতা একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তখন স্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে পড়ে। তবে মঁতেস্কুর তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রায়ই ভুলভাবে বোঝা হয়। তিনি ক্ষমতার “দ্বৈত প্রতিদ্বন্দ্বিতা” চাননি; তিনি চেয়েছিলেন “প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য”।
অর্থাৎ ক্ষমতার বিভাজন মানে এই নয় যে, রাষ্ট্রে দুইজন শক্তিশালী ব্যক্তি থাকবে; বরং এমন প্রতিষ্ঠান থাকবে, যারা একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করবে। রাষ্ট্র কেবল ব্যক্তির নৈতিকতার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না; বরং সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই এমন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থাকতে হবে, যা ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ রাখবে।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা দেখায়, আমাদের সংকট কেবল ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; বরং প্রতিষ্ঠানগুলোর ধীরে ধীরে ব্যক্তির আনুগত্যে পরিণত হওয়ার সংকট। এই দিকটি ঐধহহধয অৎবহফঃ-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। আরেন্ট দেখিয়েছিলেন, যখন প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন চরিত্র হারিয়ে ফেলে এবং কেবল শাসকের ইচ্ছার সমপ্রসারণে পরিণত হয়, তখন গণতন্ত্রের কাঠামো বাহ্যিকভাবে টিকে থাকলেও তার নৈতিক প্রাণশক্তি বিলীন হয়ে যায়।
অতএব, বাংলাদেশের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ একজন বিকল্প ক্ষমতাবান ব্যক্তি তৈরি করা নয়; বরং এমন সাংবিধানিক কাঠামো নির্মাণ করা, যেখানে কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে উঠে যেতে না পারে।
৩. নৈতিক প্রজাতন্ত্র:
একটি নৈতিক প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে শক্তিশালী করা নয়; বরং এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা জনগণের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবে।
স্বাধীনতা কেবল বাধাহীনতা নয়; বরং এমন একটি অবস্থা, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের ওপর ইচ্ছামতো আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে-প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র আধিপত্য যেমন বিপজ্জনক, তেমনি ‘জাতির রক্ষাকর্তা’ হিসেবে অতিরিক্ত ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রপতির ধারণাও সমান ঝুঁকিপূর্ণ।
কারণ উভয় ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র ব্যক্তিনির্ভর হয়ে ওঠে এবং প্রজাতন্ত্রের নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন হয়।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত একটি “প্রাতিষ্ঠানিক প্রজাতন্ত্র” নির্মাণ করা-যেখানে ক্ষমতার উৎস জনগণ, কিন্তু ক্ষমতার প্রয়োগ হবে কঠোর সাংবিধানিক সীমারেখার ভেতরে।
৪. ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা:
বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংস্কারের কার্যকর পথ সম্ভবত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অসীমভাবে বৃদ্ধি করা নয়; বরং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ওপর বাস্তব ও কার্যকর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা।
এক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিবেচ্য হতে পারে-
সংসদীয় কমিটিকে অধিক স্বাধীন ও কার্যকর করা;
সাংবিধানিক নিয়োগ কমিশন গঠন;
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ;
সংসদ ভেঙে দেয়ার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা;
বিরোধী দলের সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত করা;
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা;
সাংবিধানিক আদালত প্রতিষ্ঠা;
পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের জন্য নিরপেক্ষ কমিশন গঠন।
এই সংস্কারগুলো রাষ্ট্রকে ব্যক্তিনির্ভরতা থেকে প্রতিষ্ঠাননির্ভরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশের সংকট কোনো ‘একজন শক্তিশালী ব্যক্তির অভাব’-এর সংকট নয়; বরং এমন একটি সাংবিধানিক সংস্কৃতির সংকট, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে ব্যক্তির ছায়ায় বিলীন হয়ে গেছে। অতএব, রাষ্ট্রপতির হাতে নতুন ক্ষমতা সৃষ্টির চেয়ে অধিক জরুরি হলো-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সাংবিধানিক সীমারেখা পুনঃনির্মাণ এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহকে জনগণের প্রতি পুনরায় জবাবদিহিমূলক করে তোলা।
৫. রাষ্ট্রধর্ম:
আলোচনার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো-রাষ্ট্রধর্মের প্রশ্ন। এখানে ডক্টর শরীফ ভূঁইয়া এবং ফিরোজ আহমেদ যে মৌলিক উদ্বেগ উত্থাপন করেছেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাষ্ট্রের নৈতিক নিরপেক্ষতা এবং নাগরিক সমমর্যাদার প্রশ্ন।
তাঁদের যুক্তি হলো-
রাষ্ট্র যখন একটি ধর্মকে সাংবিধানিকভাবে বিশেষ মর্যাদা বা অবস্থান প্রদান করে, তখন তা কেবল একটি ধর্মীয় সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে না; বরং রাষ্ট্রের নৈতিক চরিত্র, নাগরিক সমমর্যাদা এবং প্রজাতান্ত্রিক নিরপেক্ষতার প্রশ্নকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। এর ফলে অন্তত দু’টি মৌলিক নৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়-
প্রথমত, রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ভেতরে এক ধরনের অন্তর্নিহিত অসমতা গড়ে ওঠে। রাষ্ট্র তখন আর সকল নাগরিকের সমান নৈতিক আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিভাত হয় না; বরং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি সাংবিধানিক পক্ষপাতের প্রতীক হয়ে ওঠে। এতে সংখ্যালঘু কিংবা ভিন্ন বিশ্বাসের নাগরিকেরা রাষ্ট্রের সঙ্গে আত্মিক ও নৈতিক দূরত্ব অনুভব করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, নাগরিকদের মধ্যে মর্যাদাগত স্তর বিন্যাসের অনুভূতি জন্ম নেয়। আইনের চোখে সবাই সমান বলা হলেও, সাংবিধানিক স্বীকৃতির এই পার্থক্য বাস্তবে “কেউ অধিক আপন, কেউ কম আপন”-এমন এক মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ধারণাকে শক্তিশালী করতে পারে। ফলে নাগরিকত্বের সমমর্যাদার আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রাষ্ট্রের নৈতিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।
নৈতিক-প্রজাতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে প্রধান প্রশ্নটি হলো: রাষ্ট্র কি কোনো বিশেষ ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতিনিধি, নাকি সকল নাগরিকের সমান মর্যাদার রাজনৈতিক অভিভাবক?
কারণ রাষ্ট্র সকলের; রাষ্ট্রকে সেইভাবে একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা প্রয়োজন। সংবিধান জনগণের যৌথ আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ।
আধুনিক প্রজাতন্ত্রে নাগরিকত্ব কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুগ্রহ নয়; বরং প্রত্যেক মানুষের সমান নৈতিক অবস্থানের স্বীকৃতি।
এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার প্রশ্ন এবং রাষ্ট্রধর্মের প্রশ্ন-দু’টি আলাদা বিতর্ক মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে তারা একই গভীর সংকটের ভিন্ন দু’টি প্রকাশ। উভয় ক্ষেত্রেই মূল প্রশ্ন একটিই: রাষ্ট্রের বৈধতার ভিত্তি কী?
যদি রাষ্ট্রের বৈধতার ভিত্তি কেবল ক্ষমতার ভারসাম্য হয়, তাহলে রাষ্ট্র কেবল একটি প্রশাসনিক যন্ত্রে পরিণত হয়। কিন্তু যদি সেই বৈধতার ভিত্তি হয় সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার, তাহলে রাষ্ট্র একটি নৈতিক প্রজাতন্ত্রে রূপ নেয়।
এই জায়গা থেকেই বোঝা যায়-ডক্টর শরীফ ভূঁইয়া এবং ফিরোজ আহমেদ মূলত ‘সংবিধান কীভাবে পরিচালিত হবে’, সেই প্রশ্ন তুলছেন না; বরং ‘রাষ্ট্র কী হওয়া উচিত’-এই মৌলিক প্রশ্নকে সামনে আনছেন।
ফলে এটি কেবল ব্যক্তিগত মতামত নয়; বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি নৈতিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে।
ডক্টর শরীফ ভূঁইয়া এবং ফিরোজ আহমেদ যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছেন, সেগুলো তাই কেবল সাংবিধানিক বিতর্কের সীমায় আবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রের আত্মপরিচয় ও নৈতিক ভিত্তি নির্ধারণের মৌলিক প্রশ্ন। এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট ও নীতিগত উত্তর ব্যতীত কোনো সাংবিধানিক সংস্কারই শেষ পর্যন্ত তার কাঙ্ক্ষিত অর্থবহতা ও নৈতিক সামঞ্জস্য অর্জন করতে পারে না।
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
faraizees@gmail.com