শত্রু যখন ভুল করছে, তাকে থামিও না- নেপোলিয়ন বোনাপার্টের এই লাইনটিকে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছেন পশ্চিমা দুনিয়ায় খ্যাত কাগজ ইকোনমিস্ট। এতে ছবি দেয়া হয়েছে ডনাল্ড ট্রাম্প আর শি জিনপিংয়ের। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যদিকে চীন। দুই পরাশক্তি বা মোড়ল। প্রচ্ছদে ব্যবহৃত ছবি বা ইমেজের আড়ালে একটি কঠিন সত্য তারা বলতে চেয়েছে। ট্রাম্পের ছবিটি ব্লার বা অস্পষ্টতার বিন্যাস আর শি’র ছবিটি হাস্যোজ্জ্বল। মার্কিন-ইসরাইল-ইরান সংকটেও লাভবান হচ্ছে চীন আর দুর্বল হচ্ছে আমেরিকা- এটাই ছিল মূল বার্তা।
এই যখন আমেরিকা আর চীনের অবস্থা তখন দুনিয়ার অন্যান্য দেশের অবস্থা কী? বাংলাদেশের অবস্থাই বা কী? মার্কিন-ইসরাইল-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় দ্রুতই বদলে যাচ্ছে বিশ্ব পরিস্থিতি। চলমান এই যুদ্ধ যদি প্রলম্বিত হয় তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে তেল আমদানিকারক দেশগুলো। বিশেষত বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো যাদের পুরোটাই জ্বালানি আমদানিনির্ভর।
জ্বালানির ওপর নির্ভর করছে দেশের বিদ্যুৎ খাত, পরিবহন খাত, উৎপাদন খাত, কৃষি খাত। এর বাইরে রয়েছে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। চলমান সংকটে সবচেয়ে বেশি টালমাটাল মধ্যপ্রাচ্য। আর এই মধ্যপ্রাচ্যেই রয়েছে আমাদের বিশাল আকারের প্রবাসী শ্রমিক। যারা এখন ছাঁটাই, বেতন কমে যাওয়া, নতুন করে কর্মসংস্থান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর বাইরে খাদ্যপণ্য পরিবহন, কৃষির অতি দরকারি সারের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবমিলিয়ে সুখবর নেই। সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতিতে জেরবার হবে এই যুদ্ধের ফলে। সবশেষ ট্রাম্পের দেয়া ভাষণেও নেই যুদ্ধ শেষের কোনো ইঙ্গিত।
সবকিছুর পরও এতটুকু স্বস্তির খবর হচ্ছে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চলমান এই সংকট উত্তরণে অগ্রসর হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য না বাড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। সাধুবাদ দিতে হয় সরকারকে। সামনের দিনেও সংকট উত্তরণে মুন্সিয়ানার পরিচয় দেবে সরকার- এমনটাই প্রত্যাশা।