হালচাল

অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় যুদ্ধের সুকঠিন প্রভাব

হাসান মামুন | মতামত
এপ্রিল ১৮, ২০২৬
অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় যুদ্ধের সুকঠিন প্রভাব

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীদের প্রায় সবাই বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও কমে যাবে। সময়ে সময়ে তারা প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সেটা পরিবর্তিত হয়। এখন যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে, সেটা প্রধানত ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিবেচনা করে। 
 

ইরানের ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র, তার প্রভাব সারা দুনিয়ার ওপরই কমবেশি পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়ে এবং এর প্রভাবে ভোগব্যয় কমে প্রবৃদ্ধি আরও শ্লথ হবে বলে ধারণা। এটা যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিকারকদের জন্যও খারাপ খবর। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে এর রপ্তানি কমে গেলে আমাদের সংকট বাড়বে। এমনিতেই গত ক’মাসে রপ্তানিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নেতিবাচক। শিল্পের মধ্যে, বিশেষত তৈরি পোশাক খাত খারাপ করতে থাকলে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়াই স্বাভাবিক। 
 

বিবিএস সময়ে সময়ে দেশের প্রবৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরে, তার সঙ্গেও উন্নয়ন সহযোগীদের পূর্বাভাস মোটামুটি সঙ্গতিপূর্ণ। এ সূত্রে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্জিত প্রবৃদ্ধির যে খবর মিলেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, এটা শ্লথ এবং এ ক্ষেত্রে শিল্পের অবদান সবচেয়ে কম। কৃষি আর সেবা খাতই অর্থনীতিকে কিছুটা সচল রেখেছে। তবে প্রবৃদ্ধিতে শিল্পের অবদান কমে এলে বাকি দুই খাত এটাকে উচ্চ পর্যায়ে নিতে পারে না। 
 

আমরা জানি, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের কী অবস্থা। ঋণপ্রবাহ দিয়ে এটা ভালোভাবেই বোঝা যায়। আওয়ামী সরকারের শেষদিকে সুদের হার নিচের দিকে রেখেও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়নি। তারপরও যেটুকু ঋণপ্রবাহ ছিল; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেটা আরও কমে যায়। বাড়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ করে চলার প্রবণতা। এতে ব্যাংকগুলো ব্যবসা চালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ব্যাংকের টাকায় অর্থনীতিতে যে গতি সঞ্চার হতে পারতো, সেটা থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। সরকার ব্যাংক ও অন্যান্য উৎস থেকে অর্থকড়ি সংগ্রহ করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও তাতে কিছু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দায়দেনা পরিশোধসহ প্রশাসন পরিচালনাতেই ব্যয় হয়েছে বেশি। তাতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি; আয়ও বাড়েনি। বেসরকারি ও সরকারি উভয় খাতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি না হলে অর্থনীতি পড়ে যায় সংকটে। 
 

আশা করা হচ্ছিল, নির্বাচিত সরকার এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং সরকার নতুন নীতিকৌশল নিলে এর প্রভাব পড়বে বিনিয়োগকারীদের ওপর। নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ঋণের কিস্তিও ছাড় করছিল না আইএমএফ। এ নিবন্ধ লেখার সময় আবার খবর মিললো, এনবিআরসহ সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে না যাওয়ায় জুনের মধ্যে এটি পাওয়া যাচ্ছে না। খবরটি সত্য হলে তা উদ্বেগজনক এজন্য যে, সরকার তো এখন বরং কিছু বর্ধিত সহায়তা চাইছে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে। কারণ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বেশি দামে জ্বালানি আনতে হওয়ায় এ খাতে ভর্তুকির চাপ বেড়ে গেছে। 
 

এত চাপের মধ্যেও সরকার এপ্রিলের জন্য প্রধান প্রধান জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ায়নি। তারপরও দেশ জুড়ে ফিলিং স্টেশনে কী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে, সেটা সবার জানা। সরকার বিপুলভাবে নির্বাচিত হলেও তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেই বাইরে থেকে আসা এ সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল অন্তত প্রথম দু’বছর গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর। এমন প্রতিশ্রুতি রক্ষা এখন কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। অর্থ ও জ্বালানিমন্ত্রী এরই মধ্যে বলেছেন, ভর্তুকির চাপ সামলাতে মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হতে পারে। 
 

এরই মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর একাধিক প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। দাম বাড়ালেও চাহিদামতো বিদ্যুৎ জোগানো যাবে কিনা, সে প্রশ্ন রয়েছে। বাড়ছে গরম এবং ঘরেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। এ অবস্থায় লোডশেডিং ছাড়িয়ে গেছে দুই হাজার মেগাওয়াট। এর চাপটা গিয়ে পড়ছে গ্রামে। গ্রামেও অনেক খাত এখন বিদ্যুৎনির্ভর। ভরা বোরো মৌসুমে ডিজেল সংকটে উৎপাদন কতোটা ব্যাহত হবে, সে প্রশ্নও রয়েছে। পোল্ট্রি থেকে আসা মুরগির দাম ‘অস্বাভাবিকভাবে’ বাড়ার পর ডিমের দাম বৃদ্ধিরও খবর রয়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতে সবজির সংকট থাকে। জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের সংকটও মোকাবিলা করছে মানুষ। 
এসব কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কমে আসা মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এখন জ্বালানি তেল ও গ্যাস এবং এটা দিয়ে তৈরি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে মূল্যস্ফীতি পুনরায় ডাবল ডিজিটের দিকে যাত্রা করলেও অবাক হওয়া যাবে না। উন্নয়ন সহযোগীরা সেই পূর্বাভাসও জানিয়েছে। 
 

এর মধ্যে সামনেই বাজেট পেশ করতে হবে সরকারকে। এ সম্পর্কে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আবার দেখা যাচ্ছে, বাজেটের আকার বাড়বে উল্লেখযোগ্যভাবে। নতুন সরকার বড় বাজেট দেবে, রাজনৈতিক দিক থেকে এটা স্বাভাবিক বটে। তবে অর্থনৈতিক বিবেচনা এ ক্ষেত্রে অনুপস্থিত হলে বিপদ। সরকারের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি ক্রমে খারাপ। কর-জিডিপি অনুপাত হালে সাতের নিচে নেমে গেছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজস্ব পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছিল আর সে কারণেই বেড়েছিল ঋণ করে চলার প্রবণতা। আশা ছিল, নির্বাচিত সরকারের সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে রাজস্ব আহরণও বাড়বে। 
 

এ ক্ষেত্রে শুরুতেই ধাক্কা খেতে হলো ইরান যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়ায়। সরকার জ্বালানির দাম না বাড়ালেও এর আমদানি ও প্রাপ্যতায় যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার প্রভাবেই অর্থনীতি হয়ে পড়েছে শিথিল। যানবাহন চালকদের দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হচ্ছে ফিলিং স্টেশনে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে কালোবাজার থেকে। ফেসবুক গ্রুপ খুলে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির খবর এসেছে দৈনিক মানবজমিনে। ‘প্যানিক বায়িং’ও চলছে। যেকোনো পণ্যের সংকটে এটা ভোক্তার স্বভাবজাত আচরণ। সংকট মোকাবিলা করে আস্থা জাগাতে পারলে অবশ্য এটা কেটে যেতে দেখা যায়। নতুন সরকার যে কারণেই হোক, সেটা পারছে না। 
 

এ ক্ষেত্রে আমাদের ‘কৌশলগত মজুত’ না থাকাতেও পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে জ্বালানির কৌশলগত মজুত গড়ে তোলাও কঠিন। আমাদের বরং বেশি করে নজর রাখতে হয় খাদ্য মজুতে। একাধিক উৎপাদন মৌসুম সামলাতে সারের জোগান সন্তোষজনক রাখাটাও জরুরি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরিয়া সার আনতে গিয়েও আমরা বিপাকে পড়েছি। সেখানেও সংকট সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। নতুন উৎস থেকে বেশি দামে এমনকি সারও আনতে হচ্ছে সরকারকে। এ খাতেও বাড়াতে হচ্ছে ভর্তুকি; কেননা সারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও রাজনৈতিকভাবে কঠিন। এর সরাসরি প্রভাব রয়েছে খাদ্য উৎপাদনে, যেখানে বোরো হচ্ছে প্রধান। 
বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে আবার সেইসব প্ল্যান্টে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে সার কারখানা বন্ধ রেখে। সক্ষমতা অনেক বাড়ানো হলেও যথেষ্ট বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করতে পারছি না গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংকটে। এদিকে অপরিশোধিত তেল আনা যাচ্ছে না বলে একমাত্র রিফাইনারিটি চালু রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। ইরান যুদ্ধ বন্ধ না হলে এটাকে পূর্ণমাত্রায় চালু রাখা কঠিন। এতে করে জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সরকার অভয়বাণী উচ্চারণ করলেও লোকে আস্থা পাচ্ছে কম। উদ্যোক্তারা অনাস্থায় থাকলে আরও মুশকিল। ইরান যুদ্ধ তাদের আস্থায় ধস নামালে অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে সরাসরি। শেয়ারবাজারে এরই মধ্যে পড়েছে কিছু প্রভাব। 
 

অর্থনীতিকে সচল রাখে বেসরকারি খাত। আমাদের দেশেও তাই। এ খাত সচল হলে কর্মসংস্থান বাড়ে। সরকারের রাজস্ব সংকটও কেটে যায়। তাতে ঋণ করে চলতে হয় কম। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ধরনাও দিতে হয় না। প্রতিকূল শর্তের বোঝা নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হয় না। তবে তারেক রহমান সরকার বেশ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই দেশের দায়িত্ব নিয়েছে। অর্থনীতি এমনিতেই ছিল সংকটে। বিনিয়োগে গতি ছিল না। এজন্য দায়ী ছিল অনেক কারণ। তাই সুদের হার কম থাকলেও বিনিয়োগ বাড়েনি। দেশি বিনিয়োগ না বাড়ায় আগ্রহ দেখায়নি বিদেশিরাও। অন্তর্বর্তী শাসনামলে এক মব সহিংসতার কারণেই উদ্যোক্তারা ছিলেন আতঙ্কে। কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে কাজও হারায়। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা বাড়ে। তরুণ জনগোষ্ঠীতে বাড়ে পছন্দমতো কাজ না পাওয়ার দুর্গতি। অথচ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমান সুযোগের দাবিতে। এটা শেষে সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। 
 

সরকার পতনের ধরনে অবশ্য তৈরি হয় নতুন করে অস্থিরতা। সেটা প্রলম্বিত হওয়ায় রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও বেড়ে যায় সংকট। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য ছিল হাতেগোনা কয়েকটি ক্ষেত্রে। এক, মূল্যস্ফীতি। দুই, বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ। তিন, ব্যাংক খাত। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে না নিতেই ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এখন বাড়তে শুরু করবে মূল্যস্ফীতি। ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয় মেটাতে রিজার্ভে হাত দিতে হলে এটা ক্ষয়ে যেতে শুরু করবে। এটি বেশি করে ঘটবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাড়তি সহায়তা না পেলে। সেই আলামতও দেখা যাচ্ছে। রাজস্ব পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত করার উপায় কারও জানা নেই। 
 

এ অবস্থায় সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে তো পারবেই না; উল্টো প্রশাসনে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে কৃচ্ছ্র সাধনের কর্মসূচি। জ্বালানি খাতে এই নীতির প্রয়োগ আবার ব্যবসার গতি কমিয়ে দেবে। ইরান যুদ্ধ সহসা না থামলে বিদ্যুৎ ও কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রেখে অন্যান্য ক্ষেত্রে জ্বালানির ব্যবহার কমানোর নীতি গ্রহণ করতে হতে পারে সরকারকে। তাতে অর্থনীতি আরও বেশি করে গতি হারাবে। কোরবানি ঈদ পর্যন্ত প্রবাসী আয়ের প্রবাহ হয়তো ভালো থাকবে। কিন্তু এর পরেই দেখা যাবে যুদ্ধের প্রভাব। যুদ্ধ পুনরায় শুরু ও বিস্তৃত হলে জনশক্তির বাজারে আমাদের সংকট বাড়বে। অবশ্য এটা দ্রুত বন্ধ হলে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অবকাঠামো পুনর্গঠনে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ মিলবে। পাল্লা দিয়ে সেই সুযোগ নিতে পারার সক্ষমতা আমাদের কতোটা আছে, সেই প্রশ্ন অবশ্য রয়েছে। তবে যুদ্ধ বন্ধ হলেও জ্বালানির বাজার শান্ত হতে সময় লাগবে। অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় থাকবে এর চাপ। 
 

চালসহ খাদ্যশস্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা না গেলে এগুলোর আমদানি ব্যয়ও সংকট তৈরি করবে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলে শিল্প খাতে কাঁচামাল ও মেশিনারিজ আমদানিতে ডলারের চাহিদা বাড়বে, সন্দেহ নেই। সেজন্য রিজার্ভ ও ডলার বাজারকে স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই যাচ্ছে। সরকারকে বড় বাজেট গ্রহণের ক্ষেত্রেও সংযম দেখাতে হবে। নতুন সরকার সামাজিক সুরক্ষায় নতুন কিছু কর্মসূচি নিয়ে এসেছে। ধাপে ধাপে চালু করলেও এর ব্যয়ের চাপ অস্বীকার করা যায় না। অর্থনীতিতে এর সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু ব্যয়ের চাপটা এই মুহূর্তের। 
 

এ অবস্থায় অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও ভর্তুকি কমাতে উন্নয়ন সহযোগীদের চাপ সামাল দিয়ে চলা কঠিন। পাঁচ বছরের জন্য আসা সরকার রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নেও বড় চাপের মুখে রয়েছে। অর্থনীতিতেও বাড়তি সংকট সামলাতে হচ্ছে তাকে। দেশটি ক্ষমতার স্বাভাবিক হাতবদলের ধারায় থাকলে এসব সংকট মোকাবিলা হয়তো অত কঠিন হতো না। এটা নির্বাচিত সরকারের দুর্ভাগ্য। জনগণও দুর্গতির শিকার। 
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

মতামত'র অন্যান্য খবর