আন্তর্জাতিক

বিশ্বকাপেও রাজনীতি বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত

মোহাম্মদ আবুল হোসেন | আন্তর্জাতিক
জুন ১৩, ২০২৬
বিশ্বকাপেও রাজনীতি বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত

বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত পুরোবিশ্ব। কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে তা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড়। পাড়া, মহল্লায়, শহরে, অফিসে শুধু বিশ্বকাপের আলোচনা। এবারের বড় আয়োজনের এই বিশ্বকাপ নিয়ে যেমন আছে আনন্দ, তেমনি আছে হতাশা, ক্ষোভও। কারণ, এই বিশ্বকাপ আয়োজনে বড় রকমের রাজনীতি করা হয়েছে। আগের বিশ্বকাপগুলোতেও কমবেশি রাজনীতিকরণ হয়েছে। তবে এবার তা অনেকটা বেশি। সর্বশেষ সোমালি রেফারিকে ভিসা দেয়া হয়নি। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্টাফকে ভিসা দেয়া হয়নি। ইরাকি স্ট্রাইকারকে কঠিন জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। ফলে এই বিশ্বকাপ আনন্দের উৎস হওয়ার চেয়ে বেশি রাজনৈতিকীকরণ, প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ায় মার্কিন প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতার প্রথম মেয়াদ শেষে ভেবেছিলেন তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়ামঞ্চে আর সুযোগ পাবেন না। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে সেই সুযোগই তাকে বিশ্বকাপে এনে দিয়েছে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০১৮ সালে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার পাওয়ার পর তিনি হয়তো থাকবেন না। কিন্তু তার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন তাকে আরও রাজনৈতিক সময় ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এনে দেয়। ট্রাম্প সবসময়ই বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেকে যুক্ত করার প্রবণতা দেখিয়েছেন। এবারো তিনি সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেননি। তিনি গর্বের সঙ্গে একটি ঝকঝকে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিলিপি তার ওভাল অফিসের সোনালি সাজসজ্জার সঙ্গে প্রদর্শন করেন। বিষয়টি মানানসইও। তিনি ফিফা প্রধান গিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে নিজের ‘গ্লোবাল মাগা’ বলয়ে স্বাগত জানান। এমনকি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত একটি ফিফা ক্লাব টুর্নামেন্টে চেলসিকে ট্রফি দেয়ার পর তিনি দলের সঙ্গে তা উদ্‌যাপন করেন, যেন তিনি নিজেই জয়সূচক গোল করেছেন।

 

তবে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো তার ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার চেয়ে বরং তার রাজনৈতিক বিভাজনকেই বেশি সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও ট্রাম্প বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের নতুন সুযোগ খুঁজছেন, অনেক বিদেশি সমালোচকের কাছে তার কর্মকাণ্ড তার দ্বিতীয় মেয়াদের অস্থিরতা ও বিভাজনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে। এই বিশ্বকাপ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দেশে ও বিদেশে ক্রমবর্ধমান অজনপ্রিয়তার কারণে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে যে ‘প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেন, তা এখন অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে। কারণ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী দেশ ইরানে একই প্রেসিডেন্ট সামরিক হামলা চালিয়েছেন। ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি অনেক বিদেশি দর্শকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে মনোভাব তৈরি করেছে। এক সোমালি রেফারিকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। এটা ঘটেছে এমন এক সময়ে যখন প্রশাসন মিনেসোটায় সোমালি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলছে। সেনেগালের দল বিশ্বকাপ-পূর্ব ক্যাম্পে পৌঁছানোর সময় কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখোমুখি হয়, যদিও ফেডারেশন এটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করে। এদিকে ইরান জানিয়েছে যে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি গ্রুপ ম্যাচের টিকিট বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর ম্যাচ চলাকালে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে অভিযান চালাতে পারে, যদিও প্রশাসন এই আশঙ্কা প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম অনেক সমর্থককে মাঠের বাইরে ঠেলে দিয়েছে। এর ফলে অভিযোগ উঠেছে যে, ফিফা বিশ্বকাপকে ফুটবলের চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে। উচ্চমূল্যের টিকিট এখন পশ্চিমা সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর আর্থিক অসাম্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এমনকি ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্র দলের প্রথম ম্যাচের জন্য ১০০০ ডলারের টিকিট দেখে হতবাক হন। তিনি নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেন, আমি খেলা দেখতে যেতে চাই। কিন্তু সত্যি বলতে আমি এত টাকা দিতেও রাজি নই।
আরও বিস্তৃতভাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ একটি তীব্র বৈশ্বিক উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করেছে, যা ফিফা’র ঐক্য ও আনন্দ প্রচারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এক পর্যায়ে ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরের দাবি জানানোর পর ইউরোপীয় বয়কটের কথাও আলোচনায় আসে। এটি প্রথমবার নয় যে, কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর রাজনৈতিক ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আক্রমণের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র মস্কো অলিম্পিক বয়কট করেছিল। সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও স্টেডিয়াম নির্মাণে অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর অভিযোগে বিতর্কিত হয়।
প্রতিটি বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগেই রাজনীতি, বাণিজ্যিকীকরণ ও প্রবেশাধিকারের সমস্যা নিয়ে সমালোচনা দেখা যায়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে একটি অতিরিক্ত উপাদান রয়েছে। তা বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর তা হলেন ডনাল্ড ট্রাম্প।
 

পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের পরপর কয়েকটি আসরে ফিফা ব্যয়বহুল অভিবাসন ও প্রবেশ-নিয়মকে অনেকটাই পাশ কাটিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পেরেছিল। ২০১৪ সালে ব্রাজিল একটি আইন পাস করেছিল। তারা টিকিটধারীদের জন্য বিনামূল্যে অস্থায়ী ভিসা দিয়েছিল। রাশিয়া ও কাতারের ক্ষেত্রে, স্বৈরশাসিত রাষ্ট্রগুলোর সীমান্ত-সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে ‘ফ্যান আইডি’ এবং ‘হায়া কার্ড’ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা কার্যত ভিসার বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে এবং বিনামূল্যে গণপরিবহন সুবিধাও দিয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালে এমনটা হয়নি। এবার ফিফা এমন এক বিশ্বকাপে পড়েছে, যেখানে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সীমান্ত নীতির সঙ্গে সরাসরি সংঘাত তৈরি হয়েছে। নিচে এমন কিছু ব্যক্তির কথা তুলে ধরা হলো যারা এর প্রভাবের শিকার হয়েছেন।
 

ওমর আরতান: ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যে ৫২ জন রেফারি নিয়োগ দিয়েছে, তাদের একজন ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি মায়ামিতে পৌঁছানোর পর প্রবেশে বাধার মুখে পড়েন। তিনি প্রথম সোমালি রেফারি, যিনি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। ফিফা নিশ্চিত করেছে যে, তিনি ‘প্রশিক্ষণ ও ম্যাচ পরিচালনায় অংশ নিতে পারবেন না’। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে- ‘ফিফা আয়োজক দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জড়িত নয়, যার মধ্যে ভিসা অনুমোদনও অন্তর্ভুক্ত। শেষ পর্যন্ত কোন ব্যক্তিকে ভিসা দেয়া হবে এবং কে দেশে প্রবেশ করতে পারবে, তা সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার।’ সোমালি রেফারি ওমর আরতান নিজেও তার অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। মায়ামি হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৪ বছর বয়সী আরতান ২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)-এর বর্ষসেরা রেফারি নির্বাচিত হন। শনিবার ইস্তাম্বুল থেকে মায়ামিতে পৌঁছান তিনি। তবে মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার প্যাট্রোল তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে তিনি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমি ইতিবাচক মনোভাবেই আছি এবং আমার রেফারিং ক্যারিয়ারের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছি; তিনি আরও বলেন, আমি ফিফা ও সিএএফ’কে তাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতে আবার বড় টুর্নামেন্টে ফেরার আশায় আছি।
 

ইরানি দল: রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কমপক্ষে ১৫ জন ইরানি কর্মকর্তা ও স্টাফকে ভিসা দেয়া হয়নি। দলীয় কার্যক্রমে তাদের ‘অত্যাবশ্যক ভূমিকা’ আছে বলে বলা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা সব প্রয়োজনীয় সহায়তাকারী স্টাফকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, আয়োজক দেশ ইরানি দর্শকদের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করতে তাদের ম্যাচ টিকিট বরাদ্দও বাতিল করেছে। দলের কোচ আমির গালেনোয়ি বলেন, আমরা এই আচরণে খুবই হতাশ। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। ইরানকে বাধ্য হয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় তাদের প্রশিক্ষণ ঘাঁটি স্থানান্তর করতে হয়েছে। ফলে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো (ইঙ্গলউড ও সিয়াটল) খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আবার একই দিনে ফিরে যাওয়ার মতো জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বের হয়ে যেতে হবে, যা ফিফার বাধ্যতামূলক প্রি-ম্যাচ মিডিয়া কার্যক্রমকে অসম্ভব করে তুলতে পারে। 
 

ইরাকি স্ট্রাইকার ও টিম ফটোগ্রাফার: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব ইরাকের ফুটবলেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকের কনস্যুলার সেবা বন্ধ থাকায় ভিসা আবেদন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। যাদের কাগজপত্র আগে থেকেই ছিল, তাদের ক্ষেত্রেও প্রবেশে বাধা দেখা গেছে। আল-কারমা ক্লাবের ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার আয়মান হুসেইনকে শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপর তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। অন্যদিকে দলের ফটোগ্রাফার তালাল সালাহকে ১০ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা হয়। তার ফোন তল্লাশির পর শেষ পর্যন্ত তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকা দল: দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ যাত্রা দলীয় কাগজপত্রের ভুলের কারণে গুরুতরভাবে বিলম্বিত হয়। জোহানেসবার্গ থেকে মেক্সিকো সিটির উদ্দেশ্যে তাদের চার্টার্ড ফ্লাইট উড্ডয়নের ঠিক আগে স্থগিত করা হয়। কারণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের মেক্সিকো প্রবেশের নথিপত্র ঠিক ছিল না। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী গেইটন ম্যাকেঞ্জি এই পরিস্থিতিকে লজ্জাজনক এবং খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের প্রতি চরম অন্যায় বলে অভিহিত করেন। তিনি এর দায় দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল এসোসিয়েশনের ওপর চাপান।
 

সুইস ফরোয়ার্ড: সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতার কারণে পরে দলে যোগ দেন। বিষয়টি মূলত ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে দেয়া এক দণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা যায়। ওই মামলায় তিনি একাধিক হুমকি দেয়ার ঘটনায় শর্তসাপেক্ষ জরিমানা পেয়েছিলেন। ক্যামেরুনে জন্ম নেয়া এই স্ট্রাইকারকে শেষ মুহূর্তে সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরের মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে ভিসা অনুমোদন নিতে হয়।
স্কটিশ সমর্থকরা: যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইএসটিএ) ব্যবস্থাও বৃটিশ সমর্থকদের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে। বিবিসি স্কটল্যান্ড নিউজ জানায়, স্কটল্যান্ডকে সমর্থন করতে যাওয়া দু’টি পরিবার তাদের ইএসটিএ অনুমোদন হঠাৎ করে বাতিল করা হয়েছে, যদিও তারা আগে অনুমোদন পেয়েছিল। কির্ককালডির স্পিয়ার্স ভাইরা ১৪ই ডিসেম্বর আবেদন করেন এবং পরদিন অনুমোদন পান। কিন্তু ৩রা জুন তাদের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে ‘ভ্রমণ অনুমোদিত নয়’ দেখানো হয়।
 

প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ খরচ:  ইএসটিএ-যোগ্য দেশের বাইরে যেসব দেশের সমর্থকরা আছেন, তাদের জন্য ভিসা জটিলতার পাশাপাশি আর্থিক বাধাও আছে। ইএসটিএ খরচ ৪০ ডলার। কিন্তু সাধারণ ভিজিটর ভিসার খরচ ১৮৫ ডলার। টিকিট ও বিমানের খরচের আগে এটি বড় চাপ। ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ আরও কঠিন হয়ে গেছে। ৩৯টি দেশের নাগরিকদের আংশিক বা সম্পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মোট ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই বিশ্বকাপে। এর মধ্যে হাইতি ও ইরান যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার মুখে। আর আইভরি কোস্ট ও সেনেগাল আংশিক নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে। উজবেকিস্তান ও ইকুয়েডরসহ কিছু দেশের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৪০ শতাংশেরও বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি আফ্রিকান দেশের (আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল ও তিউনিসিয়া) জন্য প্রস্তাবিত ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ড প্রত্যাহার করেছে। সব মিলিয়ে সমর্থক, সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপটি একইসঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিনভাবে প্রবেশযোগ্য টুর্নামেন্টে পরিণত হচ্ছে। ্ত

 

 

 

আন্তর্জাতিক'র অন্যান্য খবর