বিশ্বকাপ বিতর্ক

মেসি, ট্রাম্প এবং ষড়যন্ত্র থ্রিলার

মোহাম্মদ আবুল হোসেন | মতামত
জুলাই ১১, ২০২৬
মেসি, ট্রাম্প এবং ষড়যন্ত্র থ্রিলার

বিশেষজ্ঞরা বলেন লিওনেল মেসি ফুটবলের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ তারকা। ইংরেজিতে কথাটি এভাবে বলা হয়- গ্রেটেস্ট অব অল দ্য টাইমস। অর্থাৎ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ। বিশ্বকাপ ২০২৬-এও মাঠের নায়ক নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি। ম্যাচের গতি বদলানো, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অ্যাসিস্ট করে দলকে তৈরি করা। সবকিছুর কেন্দ্রেই তিনি। অবিশ্বাস্যভাবে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন তিনি। তার পায়ে বল মানে, এলোমেলো শট নয়। একেবারে গাণিতিক হিসাব কষে বলে আঘাত করতে জানে তার পা। পেনাল্টি কিকের ক্ষেত্রে তাকে নিয়ে সমালোচনা আছে। কিন্তু মাঠের বাইরে আরেকটি নাটকও সমান তালে চলছে। সেখানে আছেন ফিফা সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, ক্ষুব্ধ কোচরা, সোমালি রেফারি ওমর আরতানকে ভিসা না দেয়া, ইরানের সঙ্গে বৈষম্য, রেফারিরা এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, দুর্নীতির অভিযোগ এবং খেলা সাজিয়ে দেয়ার দাবি। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ যেন এক গোয়েন্দা থ্রিলার। এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় যখন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান আর্জেন্টিনার ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর মন্তব্য করেন, টুর্নামেন্টে মেসিকে ধরে রাখতে ম্যাচ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ ছিল। তিনি বলেন, হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন টুর্নামেন্টে টিকে থাকে। ফুটবলে কখনো কখনো এমন কিছু বাহ্যিক প্রভাব থাকে, যা কৌশলগত বিষয়েরও বাইরে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সব স্তরেই সমর্থন পেয়েছে। তার অভিযোগ ছিল দু’টি সিদ্ধান্ত নিয়ে। প্রথমটি, আর্জেন্টিনার তারকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজের ওপর ফাউলের কারণে তার খেলোয়াড় মোস্তাফা জিকোর করা গোল বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়টি, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে পেনাল্টি বক্সে মোহাম্মদ সালাহকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার টেনে ধরেছিলেন বলে অভিযোগ। ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল এসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণাত্মক ধাপ ভিএআরের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। যদি ‘স্পষ্ট ও পরিষ্কার’ ফাউল ধরা পড়ে, তাহলে রেফারি মাঠের পাশের মনিটরে গিয়ে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে পারেন। কিন্তু মারওয়ান আতিয়ার ফাউল এবং সালাহর ওপর সম্ভাব্য ফাউল- দু’টিই ছিল এমন ঘটনা, যেগুলো রেফারির ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থেকেই গেছে। হতাশ হোসাম হাসান বলেন, জীবন অন্যায়। পৃথিবী অন্যায়। 

 

কিন্তু খেলাধুলাতেও কেন ন্যায়বিচার থাকবে না? এই ফল এবং ম্যাচের ঘটনাপ্রবাহ আমি মেনে নিতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, রেফারি অন্যায় করেছেন। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক। একটি জাতির পরিশ্রম নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে। হোসাম হাসানের বক্তব্যের পর ফুটবল বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ব্রাজিলের হোসে মরিনহো বলেন, কখনো কখনো যোদ্ধারাও হেরে যায়। কারণ শয়তানরা গল্পের সমাপ্তি অন্যভাবে লিখতে চায়। অন্যদিকে দাবার কিংবদন্তি গ্যারি কাসপারভ ফিফাকে কড়া সমালোচনা করে বলেন, ফিফা তারকা খেলোয়াড়দের জন্য পক্ষপাতদুষ্ট একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি এর আগে ক্রোয়েশিয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করে লিখেছেন, আগে ক্রোয়েশিয়া, এখন মিশর। কিন্তু নির্লজ্জদের লজ্জা দেয়া যায় না। ফলে পুরনো ঘটনাও আবার আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আর্জেন্টিনার পক্ষে যাওয়া আগের সিদ্ধান্তগুলোর ভিডিও প্রকাশ করতে শুরু করেন। সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় উদ্বোধনী ম্যাচে মেসির একটি ট্যাকল, যেখানে তার বুটের স্টাড আইসা মান্দির পায়ে লাগে। আলজেরিয়া তখন অভিযোগ করলেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি। আলজেরিয়ার কোচ ভøাদিমির পেতকোভিচ বলেন, কাল্পনিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করা অর্থহীন। তবে সবাই ঘটনাটি দেখেছে, আমিও। প্রশংসায় ভাসছে মিশর বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া যাত্রার সমাপ্তি হয়েছে মিশরের। তবে তাদের বিদায়টি ছিল তিক্ত, বিতর্কিত এবং আবেগঘন। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও, ফারাওরা মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে বিতর্কের ঝড় ওঠে। ছিল চরম উত্তেজনাও। মিশরের অভিযোগ, আর্জেন্টিনার একাধিক ফাউল রেফারি উপেক্ষা করেন। অন্যদিকে মোস্তাফা জিকোর করা একটি গোল ভিএআরের পর বাতিল করে দেয়া হয়। এ ছাড়া ম্যাচে মিশরের খেলোয়াড়দের চারটি হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এর মধ্যে কোচ হোসাম হাসানও একটি হলুদ কার্ড পান। মাঠের উত্তেজনার মধ্যে অনেকের চোখ এড়িয়ে যায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। হোসাম হাসান দুই হাত দিয়ে ‘এক্স’ চিহ্ন তৈরি করেন, যা ফিফা’র বর্ণবাদবিরোধী প্রটোকল সক্রিয় করার আন্তর্জাতিক সংকেত। এই সংকেত দেয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী রেফারির খেলা থামিয়ে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচ বন্ধ না করে কয়েক মিনিট পর সরাসরি শেষ বাঁশি বাজানো হয়। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশরের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থনের ঢল নামে। অনেকেই রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মিশরের প্রতি হওয়া ‘অন্যায়ের’ সমালোচনা করেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠার মাধ্যমে মিশর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ে। মিশর ফুটবল ফেডারেশনও এক্সে লিখেছে, তোমরা দায়িত্বশীল মানুষের মতো খেলেছো। আমরা তোমাদের নিয়ে গর্বিত। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও দলকে অভিনন্দন জানান। 

 

তিনি এক্সে লিখেছেন, তোমাদের সম্মানজনক পারফরম্যান্স এবং ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযানের জন্য আমরা গর্বিত। ভবিষ্যৎ তোমাদের জন্য আরও উজ্জ্বল হোক। অনেক সমর্থক হোসাম হাসানের ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির কথাও স্মরণ করেন। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর উদ্যাপনের সময় তিনি মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে প্রবেশ করেন। এক সমর্থক লিখেছেন, কোচ হোসাম যেভাবে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনি তোমরাও মাথা উঁচু রাখো। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর হাসান বলেন, এই জয় আমি মিশরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের জনগণÑ সেই মহান ও সম্মানিত মানুষদের উৎসর্গ করছি। বৃটেনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত মিশরের ‘ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স’-এর প্রশংসা করেন এবং রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। একজন গাজাভিত্তিক সমর্থক এক্সে লিখেছেন, ভাবতে পারেন, ফিলিস্তিনে আমরা কতোটা অবিচারের মধ্যে বাস করি? কল্পনা করুন, একটি দল শুধু ফিলিস্তিনের পতাকা ও গাজার কথা বলেছে বলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো। তিনি আরও লিখেছেন, গাজার সবাই রাস্তায় নেমে ম্যাচ দেখছিল। কিছু সময়ের জন্য তারা প্রতিদিনের অসহনীয় বাস্তবতা ভুলে গিয়েছিল। হয়তো এই ফুটবল ম্যাচই ছিল বিশ্বের কাছে তাদের কণ্ঠ পৌঁছানোর একমাত্র আশা। তার ভাষায়, মিশরের প্রতিটি গোলের পর আনন্দে আমাদের চোখে অশ্রু চলে এসেছিল। কিন্তু ফিফা এমন একজন দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিকে দায়িত্ব দিলো, যিনি তাঁবুতে বসবাস করা ফিলিস্তিনিদের সামান্য আনন্দটুকুও কেড়ে নিলেন। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বোমায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখছেন ফিলিস্তিনিরা। উপরে টাঙানো ছিল মিশরের পতাকা। ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার জেমি ক্যারাঘারও জিকোর বাতিল হওয়া গোল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, গোলটি যদি অন্য কোনো দলের বিপক্ষে হতো, তাহলে সেটি বাতিল করা হতো না। তিনি আরও বলেন, এটি যদি প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা কিংবা সেরি আ’তে ঘটতো, তাহলে ভিএআর পর্যালোচনার পরও গোলটি বহাল থাকতো। এই টুর্নামেন্টে অনেক অসঙ্গতি দেখা গেছে। 

 

বিশ্বকাপে বিতর্ক নতুন নয় বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিতর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০০২ সালে স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়াকে সুবিধা দেয়ার অভিযোগ আছে। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক শাসক হোর্হে বিদেলার পেরুর ড্রেসিংরুমে যাওয়ার ঘটনা আলোচনায় আছে। ব্রাজিলের কিংবদন্তি গ্যারিঞ্চাকে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচাতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ আছে। কিংবা কুখ্যাত গিহনের লজ্জা। এর সঙ্গে আছে ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত তারকা দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত দিয়ে গোল দেয়ার বিতর্ক। তবে এবারের বিশ্বকাপে রাজনৈতিক, ক্রীড়া ও নৈতিক বিতর্ক একসঙ্গে এত বড় আকারে আগে খুব কমই দেখা গেছে। ইরানকে ঘিরে বিতর্ক টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বিতর্কে ছিল ইরান। দলটি মেক্সিকোতে অবস্থান করলেও প্রতিটি ম্যাচের আগে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতো এবং ম্যাচ শেষে দ্রুত ফিরে যেতো। দলের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের অনেকেই ভিসা পাননি। কোচ আমির গালেনোয়ি তার দলকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নিপীড়িত দল বলে অভিহিত করেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, টিম ইরানের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এক পর্যায়ে বলেছে, তারা শুধুই ফুটবল খেলতে গিয়েছে। রাজনীতি করতে নয়। বিদায়ের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে লিখেছেন, বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ তাদের পরিচিত পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন। নিয়ম নিজেদের মতো করে বদলানো, প্রতিপক্ষকে বাধা দেয়া এবং প্রতারণা করা। এটাই তাদের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নীতির অংশ। ইরান এসব খেলা মেনে নেবে না। সোমালি রেফারি ওমর আরতানের দুর্ভাগ্য ফিফা’র রেফারি ওমর আরতান তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে মায়ামিতে পৌঁছান। তিনি হতে যাচ্ছিলেন বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা প্রথম সোমালি রেফারি। কিন্তু বিমানবন্দর থেকেই তার যাত্রার ইতি ঘটে। যুুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা তাকে প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর একটি কক্ষে আটকে রেখে যে ইস্তাম্বুল থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, সেখানেই ফেরত পাঠানো হয়। পরে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিশ্বকাপের রেফারিদের তালিকা থেকে বাদ দেয়। 

এ নিয়ে এমএস মস্কো অনলাইনে মতামত কলামে হারিস তারিন লিখেছেনÑ আমি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে প্রায় এক দশক সন্ত্রাসবাদ দমন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তথাকথিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের অজুহাতে আরতানকে দেশে প্রবেশ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই। এর একমাত্র কারণ তিনি সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন। সরকার ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্যকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিরীহ রূপ দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে নতুন ঝড় রাউন্ড অব ৩২ পর্যন্ত বিতর্ক মূলত মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারে ফিফাকে প্রভাবিত করেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ নিয়ে ফিফা সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেন। পরে নিজেই বালোগানের খেলার বিষয়ে নিজের হস্তক্ষেপের কথা স্বীকার করেন। এমনকি ট্রাম্প বলেন, তিনি ফুটবলের সব বোঝেন। কথার এক পর্যায়ে বলে ফেলেন লাল কার্ড কি তা তিনি জানতেন না। তার সফল হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। শুরুতে বিষয়টি হাস্যরসের মতো দেখানো হলেও, বেলজিয়াম যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারানোর পর এটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন রাষ্ট্রনেতা কীভাবে ফিফা সভাপতির সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে ফুটবল মাঠের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন? বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া রসিকতার সুরে বলেন, মনে হয় ফিফা’র কাছে ৫ই জুলাই আর ১লা এপ্রিল (এপ্রিল ফুল) একই দিন। পরে তার ফুটবল ফেডারেশন এবং উয়েফা উভয়ই ফিফা’র কাছে কড়া ভাষায় প্রতিবাদপত্র পাঠায়। উয়েফা-ফিফা সম্পর্কে টানাপড়েন এ ঘটনার পর উয়েফা ও ফিফা’র সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বহু আইনপ্রণেতা গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়ে সমর্থন সংগ্রহ শুরু করেছেন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, আবারো আমরা দেখলাম, ইনফান্তিনো এবং ফিফা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছে। তবে নাটক এখনো শেষ নয়। বেলজিয়ামের জয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নেয়ায় একটি বিতর্কের ইতি ঘটলেও আরেকটি ঝড় ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপ এখন কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। মাঠের লড়াই যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনি মাঠের বাইরের রাজনৈতিক নাটকও আরও জটিল হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু ফুটবলের টুর্নামেন্ট নয়Ñ এটি যেন ষড়যন্ত্র, ক্ষমতার লড়াই এবং বিতর্কে ভরা এক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক থ্রিলারে পরিণত হয়েছে। 

মতামত'র অন্যান্য খবর