আগামী ৫ই আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূতি। দিনটিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে সারা দেশ। টানা আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতন আন্দোলনে। জুলাইয়ে শুরু আন্দোলনে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আন্দোলনের অর্জন ও অপূর্ণতা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পরও আন্দোলনের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র, কার্যকর সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের প্রত্যাশার বড় অংশই অপূর্ণ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তরুণদের মধ্যে হতাশা ও অনাস্থা বাড়ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, স্বৈরশাসনের অবসানই জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন, আর বাকি যেসব সংস্কার ও প্রত্যাশাগুলো পূরণ হবে তা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার মধ্যদিয়েই। গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা ও প্রাপ্তি নিয়ে ‘জনতার চোখ’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশ্লেষকরা।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হওয়ার পথে তো এগুচ্ছে না। জুলাই সনদের প্রধান বিষয়টা ছিলÑ যাতে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে। এজন্য আইনগত যে সমস্ত ফাঁকফোকর আছে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া। ‘রিটার্ন অফ ফ্যাসিজম ইন কনস্টিটিউশনাল সাপোর্ট উড বি ইম্পোসিবল’ (এমন ব্যবস্থা নেয়াÑ যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সহায়তায় ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসতে না পারে)। সেই অর্থে সেটা করা যায়নি।
তিনি বলেন, এটি অবশ্য খুব সহজ কাজও নয়। তবে একই সঙ্গে জুলাই সনদে যেসব বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কারের যে উদ্যোগ নেয়ার কথা ছিল, তারও বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি।
মান্না আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং বিচারক নিয়োগে স্বাধীন ও কার্যকর পদ্ধতি চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি বলেন, তবে সরকার বলছে, তারা বিষয়গুলো আরও উন্নতভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাবে না এখন পর্যন্ত। এই ব্যাপারে ইতিবাচকভাবে বলবার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। আমরা অপেক্ষা করবো, ভবিষ্যতে সেরকম কিছু হবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, একটা পর্যায়ে আমাদের গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধেই অবস্থান নিতে হয়েছে। রাষ্ট্র প্রশাসন, রাষ্ট্রের সব বাহিনী এবং সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন কার্যত সশস্ত্রভাবেই ছাত্র-জনতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। এটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণেই এত বড় রক্তপাত ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিলÑ শেষ পর্যন্ত সশস্ত্রবাহিনী কী ভূমিকা নেবে। মানুষের ঐক্য, আন্দোলনের ব্যাপকতা এবং স্বতঃস্ফূর্ততার মুখে সামরিক বাহিনী শেষ পর্যন্ত জনগণের বিপক্ষে দাঁড়ায়নি। আমার মনে হয়, তারা অতীতের মতো আওয়ামী লীগের পক্ষও নেয়নি। যদি সামরিক বাহিনী সরাসরি জনগণের মুখোমুখি দাঁড়াতো, তাহলে সেটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত অনাকাক্সিক্ষত ও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতো। সেই দিক থেকে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মানুষের ঐক্য এতটাই দৃঢ় ছিল যে, আমাদের সামনে বিজয় ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। অবস্থা ছিল ‘ডু অর ডাই’Ñহয় বাঁচবো, না হয় মরবো।
সাইফুল হক বলেন, আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সমাজে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে কিনা। ৫ই আগস্টের পরপরই আমরা বঙ্গভবনের বৈঠকে ছিলাম। আমি প্রথমেই জানতে চেয়েছিলাম, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন কিনা এবং তার পদত্যাগপত্র আছে কিনা। তখন মিলিটারি চিফ জানান, তাদের কাছে পদত্যাগপত্র রয়েছে। এরপর আমি পাঁচ-ছয়টি বিষয় উত্থাপন করি। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং দেশে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেই। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, কোনো প্রতিশোধের রাজনীতি করা যাবে না। কারণ প্রতিশোধের রাজনীতি শুরু হলে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হবে, আরও রক্তপাত হবে এবং গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বঙ্গভবনের সেই বৈঠক শেষে রাত ১০টার পর প্রেসিডেন্ট, তিন বাহিনী প্রধান, আমি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা সবাই জনগণের উদ্দেশ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাই। আমরা সবাই প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমি মনে করি, এ সিদ্ধান্তই আমাদের বড় ধরনের সংকট থেকে রক্ষা করেছে।
আমরা দু’টি জায়গায় ভুল করেছি উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, প্রথমত, অন্তর্বর্তী সরকার কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি আমরা যথেষ্ট জোরালোভাবে উত্থাপন করিনি। দ্বিতীয়ত, এই সরকারের মেয়াদ কতোদিন হবে, সে বিষয়েও আমরা স্পষ্ট কোনো প্রস্তাব দেইনি। আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ছিল তিন মাস। কিন্তু এই সরকারের মেয়াদ নিয়ে আমরা কেউই সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলিনি। ফলে প্রায় দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকার চলেছে।
কীভাবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়Ñ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাস্তবে ছাত্রনেতারা, ড. ইউনূস এবং তার ঘনিষ্ঠরা মিলে সরকার গঠন করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত যথাযথভাবে নেয়া হয়নি। যদি আমরা তখন স্পষ্টভাবে বলতাম যে প্রেসিডেন্ট, সেনাপ্রধান এবং ছাত্রদের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য নির্ধারণ করতে হবে। তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। কিন্তু আমরা সে আলোচনা যথেষ্ট দৃঢ়ভাবে করিনি। ফলে ড. ইউনূস তার পছন্দমতো অনেককে সরকারে যুক্ত করেছেন, যাদের অনেকেরই সরকারে থাকার কথা ছিল না।
সাইফুল হক আরও বলেন, একইভাবে সরকারের মেয়াদের বিষয়েও যদি আমরা ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রস্তাব করতাম এবং সেটি জোরালোভাবে তুলতাম, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। এ দু’টি জায়গাতেই আমাদের বড় ধরনের ব্যত্যয় ছিল।
বর্তমানে ছাত্র-তরুণদের অবস্থার দিকেও তাকাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের অন্য কোনো গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্ররা সরকারে অংশ নেয়নি, কিন্তু এবার তারা সরাসরি সরকারে অংশ নিয়েছে। হয়তো সাময়িকভাবে কেউ কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে, তাদের মধ্যে এক ধরনের লোভও তৈরি হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা লাভবান হয়নি। বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে তাদের অনেকের নাম যেভাবে এসেছে, তাতে তাদের রাজনীতির নৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে গত দেড় বছরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া ছাত্র-তরুণদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা, অনাস্থা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এখন বড় প্রশ্ন হলোÑনির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার আসার পর কীভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই হতাশা কাটিয়ে রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস করা যাবে। এটি এখন আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান আকাক্সক্ষা ছিল একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সরকারি চাকরিতে বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি সমাজে বিদ্যমান সব ধরনের অসমতা দূর হবেÑ এমন প্রত্যাশাই ছিল মানুষের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পর এসে বলতে হচ্ছে যে, বৈষম্যের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি। অর্থাৎ সমাজে বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখছি, মানুষের বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে মানুষ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, সাংস্কৃতিক ভিন্নতার কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, জেন্ডারের কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, এমনকি মানুষের জাতিগত পরিচয়ের কারণেও বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। তাহলে সমাজে বৈষম্য তো দূর হয়নি।
কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, তরুণদের প্রত্যাশা ছিল কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর হবে। কিন্তু সেই বৈষম্যও দূর হয়নি। একইভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে যে পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা ছিল, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হওয়া তো দূরের কথা, কার্যকরভাবে সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজই করা হয়নি। ফলে তরুণদের মধ্যে হতাশা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। তাদের মধ্যে বড় ধরনের আশা ভঙ্গের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের যে প্রত্যাশা ছিল তাদের নিজেদের নেতৃত্বের প্রতি, সেই তরুণ নেতৃত্বও তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকারও তাদের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সরকার এখনো খুব অল্প সময় ধরে দায়িত্বে রয়েছে, তাই এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক লক্ষণও আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
মানুষ অবশ্যই এই হতাশা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে উল্লেখ করে কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, তরুণরাই সেই চেষ্টা সবচেয়ে বেশি করবে। কিন্তু এজন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। প্রথমত. আমাদের একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে, যা মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। সেই অর্থনীতির উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত করতে হবে।
আমাদের সিলেবাস হালনাগাদ করতে হবে এবং পুরো উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তরুণরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে, তাদের সৃজনশীলতা কাজে লাগাতে পারবে এবং নতুন উদ্যোগ নিতে পারবে। এর জন্য একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কেউ অকারণে হয়রানির শিকার হবে না, রাষ্ট্রের কোনো সংস্থার অন্যায় হয়রানির মুখে পড়বে না এবং আইনের কাছে সবাই সমান সুযোগ পাবে। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা না গেলে তরুণদের হতাশা কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন বলেন, শেখ হাসিনার বিদায় এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতি-এটাকেই আমি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করি। এই অর্জনের সুফল এখন সবাই ভোগ করছে। বর্তমানে সরকারি দল হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বিরোধী রাজনীতির শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এমনকি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের যে সুযোগ পেয়েছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এখন বাকিটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিষয়। সেখানে আওয়ামী লীগের কোনো স্থান নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে দলটি ক্ষমতা থেকে বিদায় হয়েছে, আর সর্বশেষ নির্বাচনেও জনগণ গণতান্ত্রিকভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি তাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র বলে পরিচিত জাতীয় পার্টিও ২০২৬ সালের নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পায়নি। তাই আমার কাছে জনগণের ত্যাগের মধ্যদিয়ে অর্জিত এই পরিবর্তনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপরের বিষয়গুলো ট্রানজিশনাল প্রসেস এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। গণতান্ত্রিক দলগুলো গণতান্ত্রিকভাবেই কাজ করবে। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণে সময় লাগবে-এটা সব রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদই বোঝেন। তাই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এগোতে হবে।
সামান্থা শারমিন বলেন, আমার মনে হয়, গণ-অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আমরা দেখতে চেয়েছিলাম শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিচার ব্যবস্থায়। অন্তত ১১টি সংস্কার কমিশনের যে সুপারিশ এসেছে, সেগুলো যদি দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের পরিবর্তে কার্যকর করা যেত, তাহলে আমরা আরও ভালো একটি ট্রানজিশন দেখতে পেতাম। বিশেষ করে জনপ্রশাসন ও জনমুখী খাতগুলোতে সংস্কার বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে এক সরকার থেকে আরেক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও আরও মসৃণ হতো। তাই আমার দৃষ্টিতে অনেক কিছুই হয়তো এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। তবে এর বাস্তব কারণও রয়েছে। ভবিষ্যতে সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে এসব সংস্কার বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেয়া এনসিপি’র এই নেত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে আমি মনে করি, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই জাতীয় ঐক্যকে ভাবতে হবে। এটিই প্রথম শর্ত। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য এখনো বিদ্যমান। এই ঐক্যকে ফলপ্রসূ করতে হলে বিচার প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা দেখেছি, অতীতে অনেক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হয়েছে। তাই বর্তমান সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, বিচার ও মামলার প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং যথাযথভাবে পরিচালিত হয়।