সম্পাদকীয়

চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো, জনমনে প্রশ্ন

কাজল ঘোষ | মতামত
অক্টোবর ১০, ২০২৬
চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো, জনমনে প্রশ্ন

জনমনে প্রশ্ন ওঠেছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালের দায়িত্ব ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ নামে আবুধাবির একটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানিকে ইজারা দেয়ায়। এর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই। এরপর ইউনূস জামানাতেও নড়াচড়া চলে। আর বর্তমান সরকার এই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও আছে। বেশ কিছু বাম দলও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। এর ক্ষতিকারক দিক নিয়ে সরব আনু মুহাম্মদের মতো অর্থনীতিবিদরাও। তিনি ইতিমধ্যেই উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের চরিত্র দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে। বিশেষ করে সামরিক তো বটেই অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও  গোপনীয়তা, তড়িঘড়ি, অস্বচ্ছতা আর বলপ্রয়োগ দেখা যায়।

 

 সেই পুরনো প্রবণতার সর্বশেষ বড় দৃষ্টান্ত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে সরকারের তৎপরতা। প্রশ্ন ওঠে-এ কোন দায় বা তাগিদ, যার জন্য সকল যুক্তি, তথ্য অগ্রাহ্য করে নির্বাচিত সরকার এরকম জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করতে উদ্যত হয়? তাড়াহুড়োই বা কিসের? শুধু নিউমুরিং টার্মিনাল নিয়ে নয়, বোয়িং থেকে এয়ারবাস কেনাসহ সরকার বেশ কিছু বড় বড় ব্যয়বহুল চুক্তি সম্পাদন করেছে। বিমানের বড় লটবহর আনা নিয়েও প্রশ্ন আছে যে, এত বেশি বোয়িং বা এয়ারবাস আমাদের দ্রুত দরকার কিনা? এই কেনাকাটার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে খুশি করার বিষয় আছে কিনা? অর্থনীতির কোথাও সুখবর নেই। মূল্যস্ফীতি আকাশ ছুঁই ছুঁই করছে। সকল সীমা অতিক্রম করছে বাজার মূল্য। এরমধ্যেই এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে একবারেই ২৫২ টাকা। মধ্যবিত্তের মাথায় হাত। নিম্নবিত্তরা হায় হায় করছে। কর্মসংস্থান বাড়ছে না। বাঁচার তাগিদে রাজধানীতে ছুটছে মানুষ। মানুষের স্বস্তি ও শান্তি, নিরাপদে বাসের নিশ্চয়তা দেয়া সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাতে টান পড়েছে বলেই মনে হয়।

 

মতামত'র অন্যান্য খবর