সম্পাদকীয়

এরাই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’

কাজল ঘোষ | মতামত
নভেম্বর ৭, ২০২৬
এরাই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’

হঠাৎ অস্থিরতা। রাজপথে শ্রমিক বিক্ষোভ। সড়ক অবরোধ। মেট্রোস্টেশন বন্ধ। পুলিশের টিয়ার শেল। গাড়িতে আগুন। শত শত কারখানা বন্ধ। এই দৃশ্যগুলো সুখকর নয়। না দেশের জন্য। না শ্রমিকের জন্য। মনে রাখতে হবে একটি কারখানা বন্ধ হওয়া বা ধ্বংস হওয়া অসংখ্য পরিবারের রুটি-রুজি বন্ধ হওয়া। একটি পরিবারের একজন কাজ করেন। কিন্তু সেই পরিবারে হয়তো চার থেকে পাঁচজন খোরাকি। যদি এই একজনের বেতন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ঘরের বাকি মানুষগুলোর কী হবে, আমরা কেউ কি ভেবেছি? এইসব শ্রমিকরাই আমার দেশের অহংকার। যাদের হাতে তৈরি পোশাকই দুনিয়ার সর্বত্র ব্র্যান্ডের মর্যাদা পেয়েছে। হয়েছে, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। 
 

প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য যেখানেই যাবেন দেখবেন এই শ্রমিকদের হাতে বোনা পোশাক মর্যাদা পেয়েছে শীর্ষ আসনের। শোনা যাচ্ছে, এই শিল্পের সঙ্গে নানান ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথাও। জড়িয়ে গেছে রাজনীতিও। আসুন, একটিবার আমরা ভাবি, এই শ্রমিকরাই আমার দেশের লাইফলাইন। এই শ্রমিকরাই উন্নয়নের সূচককে নিয়ে গেছে গতিময়তার পথে। শ্রমিকদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিতে হবে। ইতিমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছেন। শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিতে কাজ শুরু হয়েছে। ধ্বংস আর জ্বালাও পোড়াও দিয়ে কারও কল্যাণ হবে না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে যুৎসই ও যৌক্তিক সমাধান খুঁজতে হবে। বসতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে। খুঁজে বের করতে হবে কারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, ঠেলে দিচ্ছে শ্রমিকদের অন্ধকার জীবনের দিকে।
২
 

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় হয়েছে। সাধারণ আমেরিকানরা রায় দিয়েছেন তারা যুদ্ধ চায় না, শান্তি চায়। যেখানে ট্রাম্প চেয়েছিল ইরানে রেজিম চেঞ্জের সেখানে আমেরিকাতেই পরিবর্তনের হাওয়া। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রার্থী হিসেবে ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নতুন একটি যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি দ্রব্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অথচ পেট্রোলের দাম আকাশচুম্বী। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধসের গল্প শুধু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের গল্প নয়, এটি ক্ষমতার সীমাহীন অপব্যবহার ও অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষার গল্পও।

 

মতামত'র অন্যান্য খবর